পাকিস্তান ও আফগান তালেবানের আলোচনায় অচলাবস্থা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

একটি সামরিক যানের ওপর পাঞ্জাবি-পাজামার ওপর সামরিক জ্যাকেট গায়ে ও অস্ত্র হাতে বসে আছে একজন, তার মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা। পেছনে অস্ত্র হাতে বসে আছে আরো কয়েকজন

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা নিরসনের আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে
    • Author, ওমাইর সালেমি
    • Role, বিবিসি উর্দু, ইসলামাবাদ

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিকতম আলোচনাতে অচলাবস্থা দেখা গেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন, ছয়ই নভেম্বর শুরু হওয়া ওই আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানি যে প্রতিনিধি দল ইস্তানবুল গিয়েছিল, তারা ফিরে আসছে। এদিকে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে 'দায়িত্বহীন আচরণের' অভিযোগ তুলেছে তালেবান।

পাকিস্তানের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জিও নিউজ-এর এক অনুষ্ঠানে মি. আসিফ বলেন, "পরের দফার আলোচনার কোনো কর্মসূচি নেই এবং সে বিষয়ে কোনো আশাও নেই।"

খাজা আসিফ দাবি করেন, "আলোচনার সময় আফগান প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের অবস্থান মেনে নেয়, কিন্তু এই বিষয়টা লিখিতভাবে তুলে ধরতে তারা রাজি হননি। তারা শুধু এটাই বলে এসেছেন যে ওদের মুখের কথায় আমাদের বিশ্বাস করতে হবে"।

চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ইস্তানবুলে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে নতুন দফা আলোচনা শুরু হয়। এর আগে একই শহরে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি।

সাম্প্রতিক আলোচনার প্রসঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনার নীতি মেনে সমস্ত কিছু লিখিতভাবে উপস্থাপন করতে হয়।

তিনি বলেন, "এখন মধ্যস্থতাকারীরাও পিছু হটেছেন, কারণ তারা (আফগান পক্ষ) যদি এই (আলোচনায়) বিষয়ে ইতিবাচক থাকত, মনে করত যে (এই বিষয়ে) কোনো অগ্রগতি হতে পারে, তাহলে আমাদের প্রতিনিধি দলকে খালি হাতে ফিরতে হতো না"।

"যদি পরিস্থিতি আবার খারাপ হয় এবং তাদের ভূখণ্ড থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তবে পাকিস্তানও কিন্তু উপযুক্ত এবং কার্যকর জবাব দেবে"।

যুদ্ধবিরতির প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হয়েছিল তার কাছে। তিনি বলেছেন, "বর্তমানে যুদ্ধবিরতি এমন পর্যায়ে রয়েছে যে তাদের (আফগানিস্তানের) দিক থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যদি তেমনটা হয় তাহলে কিন্তু পাকিস্তান ব্যবস্থা নেবে"।

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

তিনি বলেন, "যদি নিষিদ্ধ টিটিপি আফগান তালেবানের নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তাহলে পাকিস্তানকে তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে দেওয়া হোক এবং পাকিস্তান যদি আফগানিস্তানে পদক্ষেপ নেয় তবে আফগানিস্তানের তরফে আপত্তি করা উচিত নয়"।

গত মাসের সীমান্ত সংঘর্ষের পরে, ইস্তানবুলে পাকিস্তান এবং আফগান তালেবানের মধ্যে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২৫শে অক্টোবর। সেই সময় দুই পক্ষের তরফেই কয়েকটা প্রস্তাব পেশ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা প্রস্তাবিত বিষয়গুলোতে একমত হতে পারেনি।

এদিকে, বিবিসি পার্সিয়ান সার্ভিসের খবর, তালেবান সরকার ইস্তানবুল আলোচনার ব্যর্থতার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করেছে। তারা বলেছে, আলোচনায় পাকিস্তানি প্রতিনিধি দল তাদের দেশের নিরাপত্তার দায় আফগানিস্তানের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছে।

তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে বলেন, "পাকিস্তানি প্রতিনিধি দলের দায়িত্বহীন আচরণের কারণে, ইসলামিক আমিরাতের (তালেবান সরকার) সদিচ্ছা এবং মধ্যস্থতাকারীদের সব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, এই আলোচনা কোনো ফলাফলে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে"।

তিনি বলেন, "আফগানিস্তানের জনগণকে রক্ষা করা আফগান তালেবানদের আইনি ও জাতীয় দায়িত্ব এবং যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের পূর্ণ শক্তি দিয়ে জবাব দেওয়া হবে"।

বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ

ছবির উৎস, AFP via Getty Images

ছবির ক্যাপশান, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ইতিমধ্যে তার দেশের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন- ফাইল ছবি

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে তীব্র সীমান্ত সংঘর্ষের পরে, দুই দেশ অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তারপর কাতারে প্রথম দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দুই দেশ যুদ্ধবিরতি বাড়াতে এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ইস্তানবুলে দ্বিতীয় দফা আলোচনার বিষয়ে ঘোষণা করে।

এ সময় পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতা তারার বলেছিলেন যে আলোচনার কেন্দ্রে 'সিঙ্গল পয়েন্ট এজেন্ডা' (এক-দফা এজেন্ডা) ছিল- আফগান তালেবান সরকারকে যাতে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও বালোচ লিবারেশন আর্মিকে (বিএলএ) আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।

তথ্যমন্ত্রীর মতে, দ্বিতীয় দফা আলোচনায় আফগান-তালেবান প্রতিনিধি দল ওই সব সংগঠনের বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য ও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে পাকিস্তানের যৌক্তিক ও বৈধ দাবির সঙ্গে বারবার একমত হয়েছে।

তিনি আরো জানিয়েছেন, এই বিষয়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে প্রমাণও সরবরাহ করা হয়েছে যা আফগান-তালেবান এবং (এই আলোচনা) আয়োজক দেশগুলো স্বীকার করেছে। কিন্তু আফগানিস্তানের পক্ষ এই বিষয়ে পদক্ষেপের কোনো আশ্বাস দেওয়া হয়নি এবং যে মৌলিক ইস্যুতে আলোচনার শুরু হয়েছিল, তা থেকে সরে আসা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, আতা তারার এই অভিযোগও তুলেছেন যে আফগানিস্তান দায় স্বীকার করার পরিবর্তে অভিযোগ তুলেছে এবং কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। তাই তার মতে, আলোচনায় কার্যকর সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, চার বছর ধরে প্রাণহানি ও সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সহ্য করার পর পাকিস্তানের এখন আর ধৈর্য নেই। নিজের দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা পাকিস্তানের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তার কথায়, "পাকিস্তান নিজেদের নাগরিকদের সন্ত্রাসবাদের হুমকি থেকে রক্ষা করতে, সন্ত্রাসী এবং তাদের পৃষ্ঠপোষক ও সহযোগীদের নির্মূল করতে সম্ভাব্য সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জারি রাখবে।"

একটি ভেঙে যাওয়া ভবনের নিচে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করছেন কয়েকজন ব্যক্তি

ছবির উৎস, AFP via Getty Images

ছবির ক্যাপশান, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালীন কাবুলে তোলা ছবি

ইস্তাম্বুল আলোচনায় যে যে বিষয় উঠে এসেছে

পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এপিপি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, পাকিস্তানি প্রতিনিধি দল আলোচনার সময় আফগান তালেবানদের কাছে তাদের 'চূড়ান্ত অবস্থান'-এর বিষয়টা স্পষ্ট করে দিয়েছে।

ওই বার্তা সংস্থার তরফে বলা হয়েছে, "পাকিস্তান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আফগান তালেবানের সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা করাটা একেবারে গ্রহণযোগ্য নয়। পাকিস্তানি প্রতিনিধি দল এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এটা (পৃষ্ঠপোষকতা) বন্ধ করতে তাদের সুনির্দিষ্ট এবং পোক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে"।

পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্রগুলো রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থাকে জানিয়েছে, আলোচনার সময় তালেবানের যুক্তি ছিল পাকিস্তানের তোলা অভিযোগ "অযৌক্তিক এবং বাস্তবের সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। তালেবানরা অন্য কোনো এজেন্ডা নিয়ে চলছে বলেই মনে হচ্ছে"।

নিরাপত্তা সূত্রগুলো এটাও উল্লেখ করেছে যে, "এই এজেন্ডা আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার স্বার্থে নয়। আলোচনার অগ্রগতি আফগান তালেবানদের ইতিবাচক মনোভাবের ওপর নির্ভর করছে"।

বিবিসি পাশতুর তথ্য অনুযায়ী, আফগান-তালেবানের তরফে প্রস্তাবে বলা হয়েছিল পাকিস্তান "আফগানিস্তানের স্থল ও আকাশসীমা লঙ্ঘন করবে না এবং কোনো গোষ্ঠী বা শত্রু বাহিনী আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করবে না"।

আফগান তালেবান সূত্র জানিয়েছে, তাদের প্রতিনিধি দল যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য একটা প্রক্রিয়া তৈরিতে সম্মত হয়েছে।

কোথায় সমস্যা?

আফগান বিষয়ক বিশ্লেষক ইফতিখার ফিরদৌস গত ২৭শে অক্টোবর বিবিসিকে জানিয়েছিলেন যে আলোচনা প্রক্রিয়া চলাকালীন, আফগান তালেবানদের বক্তব্য ছিল- পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই কার্যকলাপ পাকিস্তানের অভ্যন্তর থেকেই চালানো হচ্ছে; তাই তাদের (আফগানিস্তানকে) কীভাবে দোষ দেওয়া যেতে পারে। আবার পাকিস্তানের বক্তব্য ছিল, 'সন্ত্রাসীরা' আফগানিস্তান থেকে এসেছে।

তিনি বলেন, সমাধান হিসাবে পাকিস্তান যে প্রস্তাব দিয়েছিল তা মানতে নারাজ হয় আফগানিস্তান। এর কারণ তারা পাকিস্তানের নীতির বিরোধী।

মি. ফিরদৌসের কথায়, "আফগান তালেবানরা ডুরান্ড লাইনকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত হিসেবে বিবেচনা করে না। তারা যদি একে মেনে নেয় তাহলে দেশের অভ্যন্তরেই তাদের সমালোচনার সম্মুক্ষীন হতে হবে"।

ইফতিখার ফিরদৌসের মতে, পাকিস্তান ইতিমধ্যে তাদের অবস্থান তুলে ধরেছে যে ভবিষ্যতে হামলা হলেই তার জবাবও দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, শনিবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক বিবৃতিতে বলেছেন, "যদি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে আফগানিস্তানের সঙ্গে আমাদে যুদ্ধ হবে"।

এদিকে, ২৭ শে অক্টোবর বিবিসির সঙ্গে কথোপকথনের সময় পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত আসিফ দুররানি জানিয়েছিলেন, আলোচনার সাফল্য এই আশ্বাসের ওপর নির্ভর করছে যে আফগানিস্তান থেকে 'সন্ত্রাসীদের' অনুপ্রবেশ এবং টিটিপির প্রতি আফগান সমর্থন বন্ধ করবে।

তিনি বলেন, "আফগান তালেবানদের এই বিষয়টা স্পষ্ট করে দিতে হবে যে তারা পাকিস্তানের সঙ্গে রয়েছে না কি টিটিপির পাশে"।

বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর
একটি পাহাড়ের ওপর থেকে নিচের রাস্তার দিকে অস্ত্র তাক করে আছে এক তালেবান সেনাকর্মী

ছবির উৎস, AFP via Getty Images

ছবির ক্যাপশান, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে মোতায়েন তালেবান সেনাকর্মী

আফগান তালেবানরা কেন টিটিপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনিচ্ছুক?

পাকিস্তান গত কয়েক বছর ধরে আফগানিস্তানে তালেবানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের বিবৃতি যে- আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না হলে আফগানিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ হবে, তার প্রসঙ্গে গবেষক আব্দুল সৈয়দের মত জানতে চাওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেছেন, "খাজা আসিফের বক্তব্য কোনো ব্যক্তিগত অবস্থান নয়, তবে পাকিস্তানের সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরেই এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে পাকিস্তানে হামলা বন্ধ না হলে তারা আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালাবে"।

"তেহরিক-ই-জিহাদ পাকিস্তানে একটা বড় হামলা চালানোর পর ২০২৩ সালে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এই হুমকি দেন। সেই সময় থেকেই (পাকিস্তানের) অবস্থান স্পষ্ট"।

বিবিসির ইফতিখার খানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আফগান রাজনীতির বিষয়ক গবেষক উইলিয়াম মিলি ব্যাখ্যা করেছিলেন, আফগান তালেবানদের শীর্ষ নেতৃত্ব টিটিপিকে তাদের মতাদর্শগত মিত্র হিসেবে বিবেচনা করে।

তার কথায়, "১৯৮০ এবং ১৯৯০ এর দশক থেকেই তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে"।

তার মতে, এই মতাদর্শগত জোটের কারণে তালেবানরা টিটিপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টা এড়িয়ে যায়।

উইলিয়াম মিলির মতে, পাকিস্তান অতীতে আফগান তালেবানকে আশ্রয় দিয়েছে। তাদের সেই দীর্ঘমেয়াদী নীতির প্রত্যাশিত ফলাফলও পাকিস্তান পেয়েছে। এখন পাকিস্তানের নিরাপত্তাই হুমকির মুখে পড়েছে।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের ভান্ডা ফেলবাব-ব্রাউন মনে করেন, হাক্কানি নেটওয়ার্কের সঙ্গে তালেবানের অপারেশনাল সম্পর্ক রয়েছে যা ভেঙে ফেলা কঠিন।

তিনি মনে করেন, হাক্কানি নেটওয়ার্ক আশঙ্কা করে দমন-পীড়ন চললে টিটিপি তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে জোট গঠন করতে পারে।

ভান্ডা ফেলবাব-ব্রাউন জানিয়েছেন, মোল্লা বারাদারকে কারারুদ্ধ করা এবং মার্কিন হামলায় তালেবান নেতা মোল্লা মনসুরকে হত্যাসহ পাকিস্তানের অতীত কর্মকাণ্ডে কান্দাহারের তালেবান নেতৃত্ব অসন্তুষ্ট।

তার মতে, তালেবান সরকার টিটিপির কর্মকাণ্ডকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে এবং শত্রু তৈরি করতে চায় না।

তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের মতো টিটিপি কখনো আফগান তালেবানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে চ্যালেঞ্জ করেনি।

কিছু বিশ্লেষক অবশ্য মনে করেন যে টিটিপি মতাদর্শগত বা সহিংস হুমকি না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এই কারণেই আফগান তালেবানরা পাকিস্তান সরকারকে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে টিটিপির সঙ্গে তাদের সমস্যার সমাধান করার দাবি জানিয়ে আসছে।