আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
সুরিয়া কুমার ইয়াদাভ এমন কী পারেন ‘যা অন্যরা কল্পনাতেও পারে না’
- Author, রায়হান মাসুদ
- Role, বিবিসি বাংলা
সুরিয়া কুমার ইয়াদাভে মুগ্ধ ক্রিকেট বিশ্ব।
ভারতের এই টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যানের প্রশংসা করছেন এখন প্রায় সবাই ভারতীয় গণমাধ্যম, ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোর গণমাধ্যম, ক্রিকেট বিশ্লেষক, সতীর্থরা এমনকি প্রতিপক্ষরাও।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচে সুরিয়া ৪৫ বলে শতক হাঁকিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।
যা ভারতের হয়ে দ্বিতীয় দ্রুততম টি-টোয়েন্টি শতক (প্রথমটি রোহিত শর্মার ৩৫ বলে)।
এটি তার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের তৃতীয় শতক।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট আসার পর এমন সব ঝড়ো ইনিংস তো হরহামেশাই হচ্ছে, কিন্তু বিশ্লেষকরা সুরিয়া কুমার ইয়াদাভকে বলছেন, ‘স্পেশাল’।
ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ইরফান পাঠান ছিলেন ধারাভাষ্যকার, তিনি বলেছেন, “এমন সব শট খেলতে আপনার মানসিকভাবে আলাদা হতে হবে। একটা আলাদা মেজাজ সুরিয়ার, কলিজা আছে তার।”
“সামনে যেই থাকুক জফরা আর্চার কিংবা মধুশানাকা বলের গতি যাই থাকুক সুরিয়া শট খেলতে ভয় পান না।”
কেন সুরিয়াকে মি. ৩৬০ ডিগ্রি বলা হয়
মূলত সুরিয়া কুমার ইয়াদাভের ল্যাপ শটের কথা বলা হচ্ছিল এখানে, যেটা বলের গতি কাজে লাগিয়ে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগ বা ফাইন লেগের ওপর দিয়ে অনায়াসে তুলে দেন তিনি।
গত রাতে রাজকোটে এমন তিনটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন সুরিয়া, শটগুলো দেখে স্টেডিয়ামের দর্শকরা মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিল।
প্রায় শুয়ে পড়ে একটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন সুরিয়া, এই ছবিটিই সোশাল মিডিয়ায় সবচেয়ে আলোচিত। উইজডেন ইন্ডিয়া টুইটারে লিখেছে, ‘ইউটিউব থাম্বনেইল’, এমনই অবিশ্বাস্য ছিল সুরিয়া কুমারের শটগুলো।
বিবিসি হিন্দির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “সুরিয়া যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন, এতো আওয়াজ হচ্ছিল যেন মনে হচ্ছিল দর্শকদের প্রতিটি পয়সা উসুল করেছেন তিনি।”
সুরিয়া কুমার ইয়াদাভের ব্যাটে শটের বৈচিত্র্যের কারণে কেন সুরিয়াকে মি. ৩৬০ ডিগ্রি বলা হয়, মি. ৩৬০ ডিগ্রি ক্রিকেটে পরিচিত একটি তকমা।
যার একমাত্র মালিক ছিলেন ক্রিকেট কিংবদন্তী এবি ডি ভিলিয়ার্স।
পাকিস্তানের সাবেক ফাস্ট বোলার শোয়েব আখতার, যিনি এখন ইউটিউবে ক্রিকেট নিয়ে কথা বলেন, নিজের ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিওতে তিনি বলেছেন, এবি ডি ভিলিয়ার্সের চেয়েও তিনি এখন সুরিয়াকে দলে পেতে চাইবেন।
“ডি ভিলিয়ার্স ক্লাস ছিলেন, কিন্তু সুরিয়া ভয়ডরহীন।”
এবি ডি ভিলিয়ার্স পিচের যে কোনও জায়গায় ড্রপ করা বল মাঠের যে কোনও জায়গায় পাঠাতে পারতেন, এই ধরনের ক্রিকেটাররা শরীরের নমনীয়তাকে কাজে লাগান এবং বলের গতি বুঝে ব্যাটের সাথে সংযোগ ঘটান এক্ষেত্রে বল সহজেই বাউন্ডারি পার করে।
ভারতের ধারাভাষ্যকার সঞ্জয় মাঞ্জরেকার বলেছেন, "সুরিয়া আমাদের গর্ব। যেসব শট তিনি খেলেন সে কারণেই তাকে ৩৬০ ডিগ্রির খেলোয়াড় বলা হয়ে থাকে।"
সুরিয়ার যেসব রেকর্ড
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক ভারতের রোহিত শর্মা, তিনি চারটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন ১৪৮ ম্যাচ খেলে।
মাত্র ৪৫ ম্যাচ খেলেই সুরিয়া কুমার ইয়াদাভের সেঞ্চুরির সংখ্যা এখন তিনটি, কলিন মানরো, গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের সাথে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে আছেন সুরিয়া।
মাত্রই গত বছর অভিষেক হয়েছে সুরিয়া কুমার ইয়াদাভের, এরই মধ্যে এমন সব রেকর্ড নিজের নামে করেছেন যা কোনও ক্রিকেটারের জন্য ভাঙ্গা কঠিন এক কাজ হবে।
ধারাভাষ্যকার এবং ক্রিকেট উপস্থাপক হারশা ভোগলে টুইটারে লিখেছেন, “সুরিয়া কুমার ইয়াদাভ যা করছেন, তা অনেক ব্যাটসম্যান কল্পনাতেও পারবেন না।”
হারশা ভোগলে গত রাতে মুগ্ধ হয়ে সুরিয়ার খেলা দেখেছেন মাঠে বসে এবং ধারাভাষ্য দিয়েছেন। তিনি টুইটারে আরও লিখেছেন, “আমি দুর্দান্ত সব ক্রিকেটারের সেরা ফর্ম দেখার সৌভাগ্য লাভ করেছি। গত এক বছর যাবৎ সুরিয়ার খেলা দেখো তার মধ্যে থাকব।”
সুরিয়া কুমার ইয়াদাভের অভিষেক হয়েছে ত্রিশ পেরোনোর পরে।
ততদিনে তিনি ১৭০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে ফেলেছেন।
ভারতের কোনও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটারকেই অভিষেকের আগে এতো অভিজ্ঞতা নিতে হয়নি।
দেরিতে অভিষেক হওয়ার যে ক্ষুধা সেটা তার মধ্যে স্পষ্ট, সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে চান সুরিয়া।
তিনি এখন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১৫৭৮ রানের মালিক, ৪৩ ইনিংসে তিনি ৩টি শতক এবং ১৩টি অর্ধশতক হাঁকিয়েছেন।
অর্থাৎ প্রতি সাড়ে তিন ম্যাচের কম সময়ে একটি ৫০ বা ১০০ করেছেন।
এই পনেরোশো রান তিনি তুলেছেন ৮৭৫ বলে, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এতো কম বলে কেউই ১৫০০ রান তোলেননি কখনো।
এরই মধ্যে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নটিংহ্যামে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাউন্ট মঙ্গুইয়ে এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রাজকোটে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন সুরিয়া।
সুরিয়ার যেসব শক্তির জায়গা
ভারতের বর্তমান টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া মনে করেন, সুরিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা তিনি নিজের সম্পর্কে ভালো জানেন।
“সে কী করবে, কখন করবে এটা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা রাখেন।”
ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিসিআইয়ের ওয়েবসাইটে কোচ রাহুল দ্রাবিড়ের সাথে সুরিয়া কুমার ইয়াদাভের কথপোকথনে রাহুল দ্রাবিড় বলেছেন, “আমার দেখা সেরা টি-টোয়েন্টি ইনিংসটি দেখলাম মনে হয়।”
সুরিয়া বলেছেন, “আমি কেবলই উপভোগ করার চেষ্টা করি। চেষ্টা করি নিজের মতো থাকার।”
সুরিয়ার আরেকটি বড় শক্তির জায়গা তিনি সময় নেন না উইকেটে সেট হওয়ার।
এটা তার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম বলেই স্পষ্ট হয়েছিল।
জফরা আর্চারের বলে ছক্কা মেরে শুরু করেছিলেন সুরিয়া কুমার ইয়াদাভ, ইংরেজি আদ্যক্ষরে যাকে অনেকেই স্কাই ডাকেন।