পত্রিকা: 'রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে'

 সংবাদপত্র
ছবির ক্যাপশান, আজ ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন পত্রিকা

'রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে' সমকাল পত্রিকার প্রথম পাতার শিরোনাম। আজ বেশিরভাগ পত্রিকায় গণ অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে মূল কাগজের বাইরে বিশেষ সাময়িকী প্রকাশ করেছে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে 'কর্তৃত্ববাদী সরকার' বিতাড়িত হলেও দলীয়করণের সেই ধারাবাহিকতা সব খাতে অব্যাহত রয়েছে বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ।

এ খবরে বলা হয়েছে, সংস্থাটি বলছে কয়েকটি দলের চাপে যে প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তা ভবিষ্যতে প্রতিপক্ষ দমনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরির ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।

বিচার, নির্বাচন, রাষ্ট্র সংস্কারসহ নানা ক্ষেত্রে উদ্যোগ নেওয়া হলেও অন্তর্বর্তী সরকার গত এক বছরের বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

টিআইবি মনে করে, সুশাসনের আলোকে বিচার, প্রশাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে বেশ কিছু ঘাটতি দেখা গেছে।

এতে দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিতামূলক সরকার গঠনের যে প্রত্যাশা ছিল, তা বাস্তবে পূরণ হয়নি।

জুলাই সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর মতপার্থক্যের পরও যেসব সংস্কারে ঐকমত্য হয়েছে সেগুলোর সাংবিধানিক ও আইনি বাস্তবায়ন কিভাবে হবে সে প্রশ্ন এখনো অনিশ্চিত।

এ পরিস্থিতিতে সংস্কারের আশায় ধাক্কা লাগতে পারে। রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে বলে মনে করছে টিআইবি।

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দেশের এক বছরের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে টিআইবির এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে।

গবেষণার শিরোনাম 'কর্তৃত্ববাদী সরকার পতন-পরবর্তী এক বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি'।

গতকাল রোববার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:
সমকাল
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

'ভোট ১২ ফেব্রুয়ারি!' কালের কণ্ঠ পত্রিকার শিরোনাম।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আজ পাঁচই অগাস্ট ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের বর্ষপূর্তিতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঘোষণা করতে পারেন বলে এ খবরে বলা হয়েছে।

এ দিন তিনি বিকেল পাঁচটায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই ঘোষণাপত্রও পাঠ করবেন।

সরকারের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ সংবাদে বলা হয়েছে, পাঁচ অগাস্ট অথবা আট অগাস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের বর্ষপূর্তিতে প্রধান উপদেষ্টার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জাতীয় নির্বাচনের সময় ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের তারিখকে বেশি গুরুত্ব দিতে আগ্রহী নন প্রধান উপদেষ্টা। সে কারণে আজ পাঁচ অগাস্টই এই ভাষণ দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

সুত্রের বরাত দিয়ে খবরটিতে বলা হয়েছে, "আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হবে" এই ঘোষণা দিতে পারেন। পরে ভোট গ্রহণের তারিখসহ নির্বাচনের বিস্তারিত সময়সূচি এখতিয়ার অনুসারে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করবে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাসুদ বলেন, সাধারণত ভোট গ্রহণের ৫০ থেকে ৬০ দিন আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়। সে ক্ষেত্রে আগামী ডিসেম্বরে তফসিল ঘোষণা হতে পারে।

নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রস্তুতি চলমান। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো সমস্যা হবে না।

কালের কণ্ঠ

জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন ঢাকা কলেজের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল ইমরান।

আন্দোলনের সময় তিনি রাজধানীতে পায়ে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর চিকিৎসা নিতে গিয়ে কেমন অভিজ্ঞতা হয়েছিল, সেই বর্ণনা সোমবার তুলে ধরেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।

সাক্ষ্যে ইমরান বলেছেন, তিনি হাসপাতালে থাকার সময় তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের দেখতে যান।

কথাবার্তা বলে আন্দোলনকারী বুঝতে পেরে তিনি হাসপাতালের কর্মীদের 'নো রিলিজ, নো ট্রিটমেন্ট' নির্দেশ দিয়ে যান।

স্বাভাবিক হাঁটার ক্ষমতা হারানোয় হুইলচেয়ারে করে এসে ট্রাইব্যুনালের সামনে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি।

এ দিন তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে পুলিশের গুলিতে চোখ হারানো গৃহকর্মী পারভীন (২৭) সাক্ষ্য দেন।

তিনি জবানবন্দিতে বলেন, "শেখ হাসিনার কারণে আমার চোখ হারিয়েছি। সবকিছুর জন্য শেখ হাসিনা দায়ী।"

তিনি যাত্রাবাড়ী এলাকায় আহত হন।

যুগান্তর

'পতনের আগের রাতেও দমনের চেষ্টায় ছিলেন শেখ হাসিনা' প্রথম আলো পত্রিকার প্রথম পাতার শিরোনাম।

এ খবরে বলা হয়েছে, সরকার পতনের আগের রাতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে শেখ হাসিনার কাছে খবর পাঠানো হচ্ছিল, পরদিন পাঁচ অগাস্ট লাখ লাখ মানুষ ঢাকার রাজপথে নেমে আসবে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সামর্থ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর থাকবে না, এমন ইঙ্গিতও ছিল গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলোতে।

পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও আসন্ন পরিস্থিতির কথা জানিয়েছিলেন।

কিন্তু শেখ হাসিনা ক্ষমতা ধরে রাখতে ছিলেন অনড়। তিনি আরও রক্তপাত ঘটিয়ে হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাহিনীগুলোকে চাপ দেন।

চৌঠা অগাস্ট অনেক রাত পর্যন্ত তিনি আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোকে ব্যবহারের চেষ্টায় ছিলেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে গত বছর চৌঠা ও পাঁচই অগাস্টের শেখ হাসিনার কার্যক্রম ও পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে বলে এ খবরে বলা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সরকার পতনের সব ধরনের বাস্তবতা থাকার পরেও শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়তে চাননি।

বরং আগের দিন এ প্রসঙ্গ ওঠায় ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন তিনি। দেশ ছেড়ে পালানোর আগের রাতেও বলেছিলেন, যে কোনোভাবেই হোক আন্দোলন দমন করতে হবে।

প্রথম আলো

জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে করা মানবজমিন পত্রিকার শিরোনাম 'এক বছরেও হাসপাতাল ছাড়তে পারেননি তারা'।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তি যারা এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাদের সাথে কথা বলে এ খবরটি প্রকাশ করা হয়েছে।

গত বছরের চৌঠা অগাস্ট রাজধানীর কাওরান বাজারে গুলিবিদ্ধ জাবেদ ইকবালের মতো অনেকের ঠিকানা এখনও হাসপাতালের বেড।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এক বছর হয়ে গেছে, কিন্তু সময় যেন থমকে আছে হাসপাতালের প্রতিটি করিডোরে, যেখানে এখনো চিকিৎসাধীন অবস্থায় পড়ে আছেন জাবেদের মতো অনেক আহত।

কেউ হাঁটতে পারেন না, কেউ কথা বলতে পারেন না, কারও শরীরের অর্ধেকটা প্যারালাইজড হয়ে গেছে, আবার কেউ চোখে দেখতে পারেন না।

বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজে এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪০ জন জুলাই যোদ্ধা।

'জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের' মিডিয়া অ্যান্ড পিআরও কর্মকর্তা মো. জাহিদ হোসেন বলেন, "এখন পর্যন্ত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মোট ভেরিফাইড আহত সংখ্যা ১৪৫৪১ জন এবং শহীদের সংখ্যা ৮৫২ জন। জুলাই অভ্যুত্থানের এক বছর পরেও পিজি হাসপাতালে ৪০ জন, নিটোরে ১০ জন এবং সিএমএইচে ভর্তি আছে ১২ জন। এদের সবাই গুরুতর আহত। এ ছাড়া আন্দোলনে আহত অনেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।"

মানবজমিন

হাসিনা পালানোর এক বছর শীর্ষক বিশেষ ক্রোড়পত্র করেছে নয়া দিগন্ত। পাশাপাশি মূল পত্রিকার শিরোনাম 'অনৈক্যের সুবিধা নিতে তৎপর ফ্যাসিবাদীগোষ্ঠী'।

এ খবরে বলা হয়েছে, ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে গত বছরের পাঁচ অগাস্ট পতন হয় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের। অবসান ঘটে দীর্ঘ ১৫ বছরের স্বৈরশাসনের। দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা।

তার সাথে দেশ ছাড়েন মন্ত্রী-এমপিসহ অনেকে।

হাসিনা সরকারের পতনের দিনটিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস ঘোষণা করে।

আজ মঙ্গলবার বিভিন্ন কর্মসূচিতে সারা দেশে পালিত হচ্ছে দিনটি।

স্বৈরাচার পতনের এই দিনটিতে আজ বিকেল পাঁচটায় রাজধানীর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

গণ-অভ্যুত্থানপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতা, সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এবং সরকারি - বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে সংবাদে।

এদিকে, গণ-অভ্যুত্থানের এক বছরের মাথায় ফ্যাসিবাদ বিরোধীদের মধ্যে অনৈক্যের সুর দৃশ্যমান হয়েছে, বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।

নয়া দিগন্ত

জুলাই আন্দোলনে বিপুল সংখ্যক মানুষের হতাহতের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এখন বিচারের মুখোমুখি শেখ হাসিনা।

শুধু তিনিই নন তার সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও সাবেক অনেক আমলাও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি।

ইতিমধ্যে বিচার প্রক্রিয়ায় শেখ হাসিনার মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে। আরো তিনটি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলতি মাসে শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে বেশ কয়েকটি মামলার রায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রসিকিউশন কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, জুলাই গণ অভ্যুত্থান চলাকালে নিরস্ত্র ছাত্র - জনতার আন্দোলনকে দমাতে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এর সঙ্গে যোগ দেয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশে ৫৬ হাজার বর্গমাইলে আন্দোলনরতদের ওপর নির্বিঘ্নে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

দৈনিক ইত্তেফাক

'Sluggish investment joblessness persist' নিউ এজ পত্রিকার প্রথম পাতার এ শিরোনামের অর্থ 'বিনিয়োগে ধীরগতি, বেকারত্ব বাড়ছেই।'

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিকূলতা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

কিন্তু গত এক বছরে বেসরকারি খাতের মন্দা এবং বেকারত্ব কাটিয়ে ওঠার জন্য অর্থনীতিতে যথেষ্ট গতিশীলতা আনতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার।

গতবছরের আটই অগাস্ট ক্ষমতা গ্রহণের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতাচ্যুত সরকারের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভেঙে পড়া অর্থনীতি পুনর্গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী শাসনামলে ব্যাংকে লুটপাট, দুর্নীতি এবং অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা অর্থনীতিকে একেবারে তলানিতে ঠেলে দেয়।

প্রায় এক লাখ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি পূরণের জন্য বহুপাক্ষিক ও দ্বিপাক্ষিক ঋণদাতাদের কাছ থেকে রেকর্ড পরিমাণ তিন দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা নিশ্চিত করায় অর্থনীতিবিদরা অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকদের প্রশংসা করেছেন।

নিউ এজ

'Factories rise as forest falls: Mirsarai's troubling trade-off' দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার এ শিরোনামের অর্থ 'বন ধ্বংস করে গড়ে উঠছে কারখানা, মিরসরাইয়ের আশঙ্কাজনক বাস্তবতা'।

চট্টগ্রামের ২২ হাজার ৩৩৫ একর সংরক্ষিত বনাঞ্চলে গড়ে ওঠা মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল। যা এখন জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এনএসইজেড) নামে পরিচিত। এই অঞ্চলের জন্য এ পর্যন্ত পাঁচ দশমিক পাঁচ কোটিরও বেশি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।

এর মধ্যে ৮৫৩ একর উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বন ধ্বংস করা হয়েছে।

এই শিল্পাঞ্চলে ১৫৫টি কোম্পানি থেকে ১৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেলেও, এর পরিবেশগত ক্ষতি বিপুল।

প্রাকৃতিক আবাসস্থল হারানোর ফলে প্রায় পাঁচ হাজার চিত্রা হরিণ, অসংখ্য উভচর, সরীসৃপ এবং ১০০টিরও বেশি প্রজাতির পাখি হয় প্রাকৃতিক আবাসস্থল ছেড়ে গেছে অথবা মারা পড়েছে।

১৯৬৭ সালে বন বিভাগের গড়ে তোলা এই সবুজ বেষ্টনী একসময় গেওয়া, কেওড়া, ঝাউ, বাইন এবং গরান গাছে পরিপূর্ণ ছিল। কিন্তু এখন তা কারখানা, ধুলাবালি এবং ভেঙে পড়া বাস্তুতন্ত্রের এক ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়েছে।

বন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আট কোটি চারাগাছ রোপণ করা হয়েছিল, যার মধ্যে প্রায় পাঁচ দশমিক পাঁচ কোটি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।

এই গাছগুলো একসময় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রশস্ত একটি সবুজ বেষ্টনী তৈরি করেছিল। যা পাঁচ লাখেরও বেশি উপকূলবাসীকে ঘূর্ণিঝড় এবং জলোচ্ছ্বাস থেকে সুরক্ষা দিত।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড