ম্যানসিটি বনাম রেয়াল মাদ্রিদের লড়াইয়ে আলোচিত পাঁচটি বিষয়

ছবির উৎস, Getty Images
আজ মঙ্গলবার রাতে মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্বের দুই শীর্ষ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এবং রেয়াল মাদ্রিদ। ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে মাদ্রিদের মাঠ সান্তিয়াগো বার্ন্যাবুতে বাংলাদেশ সময় রাত ১ টায় শুরু হবে খেলা।
এই ম্যাচ ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবল অনুসারীদের মধ্যে তুমুল আলোচনা চলছে।
দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বুধবার রাতে মুখোমুখি হবে ইতালির এসি মিলান ও ইন্টার মিলান, যে দুটো দলই নিজেদের হারানো জৌলুস ফিরে পাওয়ার লড়াই করছে।
তবে ম্যান সিটি এবং রেয়াল মাদ্রিদ এখন ফুটবলের বর্তমান।
দারুণ সব ফুটবলার, বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিভাবান সব তরুণ এবং দুজন মাস্টারমাইন্ড কোচ, যারা ফুটবল বিশ্বে সুপরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত।
ফলে আজ রাতে জমজমাট এক ম্যাচ হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ছবির উৎস, Getty Images
এর্লিং হালান্ডকে থামাতে পারবে মাদ্রিদ?
অনেকের কাছে এ কথা অবিশ্বাস্য লাগতে পারে, কিন্তু এর্লিং হালান্ডকে কিনতে ম্যান সিটির মাত্র পাঁচ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড খরচ করতে হয়েছে।
তিনি ইতোমধ্যে ৪৬ ম্যাচে ৫১টি গোল করেছেন, ভেঙেছেন বেশ কয়েকটি রেকর্ড। যদিও এখনো আট ম্যাচ বাকি আছে মৌসুমের।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও চলতি মৌসুমে তার গোল সংখ্যা ১২টি।
রেয়াল মাদ্রিদের কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলছেন, হালান্ড একটা হুমকি।
“খুব, খুব বিপদজনক ফুটবলার সে, চমৎকার সব গুণ তার এবং সে একজন গোল শিকারি”।
ইউরোপিয়ান ফুটবলে অনেক ঘরানার স্ট্রাইকার দেখা গেছে কিন্তু হালান্ড বিধ্বংসী এবং অপ্রতিরোধ্য এবং তার বয়স মাত্র ২২।
কোচ পেপ গার্দিওলা লিওনেল মেসির পর এই প্রথম কোনও একজন ফুটবলার দ্বারা এতোটা প্রভাবিত হয়েছেন, যে তার কথা ভেবেই তিনি পুরো পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন।
হালান্ড একজন খাঁটি গোল শিকারি এবং শারীরিকভাবে তিনি খুবই শক্তিশালী। ডিফেন্ডারদের ভেদ করে তিনি চলে যেতে পারেন খুব সহজেই।
ছয় ফুট তিন ইঞ্চি উচ্চতার হালান্ড হেডে খুব ভালো এবং তিনি দুই পা দিয়েই জোরালো শট নিতে পারেন।
শুরুর কিছুদিন হালান্ডের মানিয়ে নেয়ার সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কেউ কেউ।
কিন্তু সেসব এখন অতীত।
হালান্ড জার্মান ফুটবল মাতিয়ে এখন ইংল্যান্ডের লিগে সর্বকালের সেরা হওয়ার পথে আছেন।

ছবির উৎস, Getty Images
সিটির জন্য প্রতিশোধের মঞ্চ?
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
ম্যানচেস্টার সিটির চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা নেই, এটাই এই ক্লাবটির একমাত্র অপূর্ণতা।
গত এক দশকে ইংল্যান্ডের সফলতম এই দলটি আরও একবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে খেলার দ্বারপ্রান্তে, আরও একবার সামনে গতবারেরই প্রতিপক্ষ রেয়াল মাদ্রিদ।
রেয়াল মাদ্রিদ দ্বিতীয় লেগের ৯৫তম মিনিটে গিয়ে কারিম বেনজেমার গোলে জয় নিশ্চিত করে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল।
পেপ গার্দিওলা এসব ভুলে যেতে চাইছেন।
তিনি মনে করেন, প্রতিশোধ কোনও বিষয় নয়, এটা একটা সুযোগ, ফাইনালে যাওয়ার।
পেপ বলেন, “যদি আগের কথা ভাবি সেটা বড় ভুল হবে। আমাদের উচিত গত বছর থেকে শিক্ষা নেয়া। এমন একটা ফলাফল প্রয়োজন যাতে আমরা ম্যানচেস্টারে জয় আশা করতে পারি”।
পেপ গার্দিওলা ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সমাদৃত ও প্রশংসিত কোচদের একজন। কিন্তু তিনি এখনও বার্সেলোনা বাদে কোনও দল নিয়েই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে পারেননি।
এটা নিয়ে হরহামেশাই কথা হয়, প্রশ্ন ওঠে, এই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার আরও একটি সুযোগ তিনি পেয়েছেন।
এবার তিনি অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।
২০২১ সালের ফাইনালে চেলসির কাছে হারা সিটির কোচ গার্দিওলা বলেন, “আমরা জিতবোই একদিন। ফাইনালে খেলবো এবং জিতবো”।
এবারের একটা বড় পার্থক্যের কথা তিনি উল্লেখ করেন, এই মৌসুমে দ্বিতীয় লেগ হতে যাচ্ছে ম্যানচেস্টারে।
রেয়াল মাদ্রিদের সামনে আরও একটি শিরোপার হাতছানি
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এলেই রেয়াল মাদ্রিদ যেন আরও প্রানবন্ত ও ক্ষুরধার হয়ে ওঠে।
গত নয় বছরে পাঁচবার ইউরোপ সেরার শিরোপা জিতেছে দলটি।
এই সময়ে মাত্র তিনবার স্প্যানিশ লিগ জিতেছে।
এবারও স্প্যানিশ লিগে রেয়াল মাদ্রিদ হিসেবের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং বার্সেলোনার শিরোপা অনেকটাই নিশ্চিত।
রেয়াল মাদ্রিদের আরও একটা শক্তির জায়গা ইংলিশ ক্লাবগুলোর বিপক্ষে দলটির সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা।
ইংল্যান্ডের ক্লাবগুলোর বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ ছয় দেখায় পাঁচবারই জয় পেয়েছে রেয়াল মাদ্রিদ।
রুনি বলছেন, মাদ্রিদ উড়ে যাবে
ইংল্যান্ডের সাবেক ফুটবলার ওয়েইন রুনি মনে করেন, মাদ্রিদ সিটির বিপক্ষে শুধু হারবেই না, উড়ে যাবে বলা যায়।
এই কথার বিপরীতে মাদ্রিদের মিডফিল্ডার টনি ক্রুস হেসেই উড়িয়ে দিয়েছেন।
জার্মান ফুটবলার ক্রুস বলেন, “এসব তো গত বছরও শুনেছি তাই না। আমার এখনও মনে আছে গত বছরের আলোচনা। রুনিকে আমি পছন্দ করি, কিন্তু তার কথা আমাদের প্রভাবিত করবে না”।
রুনি ম্যানচেস্টার সিটির প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলেই জনপ্রিয় হয়েছেন।
ভিনিশিয়াস ও রদ্রিগোর দিকে তাকিয়ে মাদ্রিদ
এই শনিবার রাতেই ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড রদ্রিগো দুই গোল করে রেয়াল মাদ্রিদকে কোপা দেল রে শিরোপা জেতালেন।
রদ্রিগো তিনটি আলাদা পজিশনে খেলতে পারেন একই সাথে।
ভিনিশিয়াস জুনিয়র ও রদ্রিগোই এখন মাদ্রিদের আক্রমণভাগের প্রাণ।
রদ্রিগো যখন মাদ্রিদের সাথে চুক্তি করেন তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৭, তার এক বছর পরে তিনি মাদ্রিদের হয়ে খেলার সুযোগ পান।
ধীরে ধীরে রদ্রিগো দলে জায়গা নিয়মিত করেন এবং এখন কোচ তার ওপর ভরসা করেন।
রদ্রিগো কোপা দেল রে জয়ের পরে বলেন, “আমি এখন নিয়মিত খেলি, স্বভাবতই আমি এখন বেশি গোল ও এসিস্ট করতে পারবো”।
চেলসির বিপক্ষে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে দুই গোল করে রেয়াল মাদ্রিদকে সেমিফাইনালে তুলেছেন রদ্রিগো।
রদ্রিগোও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলতে ভালোবাসেন, তিনি প্রতি ৭৪ মিনিটে একটি গোলের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন।











