নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের কথায় বিএনপির 'বিশ্বাস' নেই

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

ছবির উৎস, BABUL TALUKDER

ছবির ক্যাপশান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

নির্বাচনে অংশ নিলে নির্বাচনকালীন সরকারে বিএনপিকে অন্তভূর্ক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করার যে কথা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দিয়েছেন, তাতে বিএনপির কোন 'বিশ্বাস' নেই।

মঙ্গলবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরিষ্কারভাবেই বলেছেন, আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যে কথা বলেছেন, সেটি 'জনগণকে বিভ্রান্ত' করার চেষ্টা।

এর আগে রবিবার সেতু কর্তৃপক্ষের সভা শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি আগামী নির্বাচনে আসার ঘোষণা দিলে তাদেরকে নির্বাচনকালীন সরকারে রাখার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে আওয়ামী লীগ।

মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে সংলাপে বসেছিল বিএনপি।

তার অভিযোগ, সেই সংলাপে বিএনপিকে যেসব কথা দেয়া হয়েছিল সেগুলোর একটিও রক্ষা করা হয়নি। আর এ কারণেই বর্তমানে ওবায়দুল কাদেরের কথায়ও তারা বিশ্বাস করেন না।

“ওবায়দুল কাদেরের কথায় আস্থা রাখা, বিশ্বাস করার এটার প্রশ্নই উঠতে পারে না। এটা হচ্ছে আরেকটি চক্রান্ত জনগণকে বিভ্রান্ত করবার,” বলেন মি. আলমগীর।

“তারা বলবে যে, এই যে আমরা প্রস্তাব দিয়েছি, তারা শুনছে না, যাচ্ছে না, এইটাই। ”

এর আগে ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগেও বিএনপিকে নির্বাচনে আসলে তাদের নির্বাচনকালীন সরকারে রাখার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সে সময় তা নাকচ করে দেয় বিএনপি।

এবারও নির্বাচনকালীন সরকারে বিএনপির কাউকে মন্ত্রীত্ব দেয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা এমন প্রশ্নর উত্তরে একথা বলেন মি. কাদের।

তিনি বলেন, “বিএনপি যদি বলে আমরা নির্বাচনে আসব। নির্বাচনে আসলে তখন এক কথা। তারা নির্বাচন করবেই না তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া। তারা এই সংসদকে চায় না। মন্ত্রীসভা, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ চায়। এসব শর্তারোপের মধ্যে আমরা কীভাবে বলব যে আপনারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিতে আসুন বা অন্য কোনো মন্ত্রণালয় আপনাদের দিচ্ছি? তাদের তো সম্পূর্ণ উত্তর আর দক্ষিণ মেরুর অবস্থান।”

সংবিধানের মধ্যে থেকে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আওয়ামী লীগের অসুবিধা নেই বলেও জানান তিনি।

২০১৮ সালে আওয়ামীলীগের সাথে সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

ছবির উৎস, PMO

ছবির ক্যাপশান, ২০১৮ সালে আওয়ামীলীগের সাথে সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ বিষয়ে বলেন যে, “আমরা বিএনপিকে ক্ষমতায় নেয়া বা বিরোধীদলকে ক্ষমতায় নেয়ার জন্য আন্দোলন করছি না। আমরা জনগণের ভোটের অধিকার ফেরত চাই।”

বিএনপি এখনো তাদের আগের ঘোষিত ১০ দফা দাবিতেই অটল রয়েছে বলেও জানানো হয়।

এসব দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, বর্তমান সংসদ অবৈধ ঘোষণা করে সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় নির্বাচনকালীন বা অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন, ইভিএম বাতিল ও ব্যালটে ভোট, খালেদা জিয়াসহ সব নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও সাজা বাতিল ইত্যাদি।

তাদের এসব দাবি মেনে নিয়ে বর্তমান সরকারকে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। তা না হলে রাজপথে জনগণের দাবীর ফয়সালা হবে বলে জানান তিনি।

তবে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির তেমন কোন কর্মসূচী কেন নেই এমন প্রশ্নের উত্তরে মহাসচিব মি. আলমগীর বলেন, কর্মসূচী নেই একথাটি ঠিক নয়।

বরং আন্দোলন চলমান প্রক্রিয়া এবং এটি চলছে। এটা কখনো কমবে, কখনো বাড়বে। জনগণের কৌশল বুঝে সেই অনুযায়ী বিএনপি কর্মসূচী ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান তিনি।

বিভিন্ন অংশীদার ও শরীক দলের সাথে আলোচনা করে বিএনপি চূড়ান্ত আলোচনার পর্যায়ে এসেছে এবং খুব শিগগিরই নতুন করে কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে বলেও জানানো হয়।

গত দুইবারের নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি বলেও অভিযোগ করেন মি. আলমগীর।

তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপিকে পুরো রাজনীতির মাঠ থেকে বের করে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এক লাখ এগারো হাজারের বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে মি. আলমগীর দাবি করেন।

একই সাথে 'নীল নকশার নির্বাচন' করে আবার ক্ষমতায় ফিরে আসার জন্য সরকার কাজ করছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

তবে এবারের এই প্রচেষ্টা সফল হবে না উল্লেখ করে মি. আলমগীর বলেন, এবার এরই মধ্যে জনগণ আন্দোলন শুরু করেছে এবং তারা মাঠে আছে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ অবশ্য বরাবরই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।