ঈদের দিনে কোথায় কোথায় বৃষ্টির শঙ্কা

ছবির উৎস, AFP via Getty Images
অফিস-আদালত বন্ধ, ঈদের ছুটি শুরু। বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। আর একদিন পরেই মুসলিমদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। তবে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়া এই সময়ে আকাশ কালো করা মেঘ অনেকের জন্যই চিন্তা তৈরি করেছে।
মাত্র কয়েকদিন আগেই প্রায় সারা দেশে টানা বৃষ্টি হয়েছে এক নাগাড়ে কয়েকদিন।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে বৃষ্টি হয়েছিল বলে জানায় আবহাওয়া অফিস। এখন দক্ষিণপশ্চিম মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। ফলে এখনো প্রকৃতির মুখ গোমড়া।
এদিকে দূর-দূরান্তের গন্তব্যে যাচ্ছে মানুষ, অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। একদিন পরেই ঈদের জামাত ও পশুর কোরবানি বিষয়টিও আছে। এর মধ্যে বৃষ্টির শঙ্কা আছে কিনা সেই প্রশ্ন বাড়তি চিন্তা যোগ করেছে।
পাশাপাশি দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সুরমা, কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়ে সিলেট বিভাগের নিম্নাঞ্চলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতিও অনেকটাই অপরিবর্তিত। এই অবস্থার আরও অবনতি হয় কি না সেই দুশ্চিন্তাও আছে।
তবে এখনই বড় কোনো দুর্যোগের শঙ্কা নেই বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক।
আগামী অন্তত তিনদিন অতি ভারী বৃষ্টি বা ঝড়ের সম্ভাবনা না থাকলেও বর্ষাকালের স্বাভাবিক নিয়মে দেশের বিভিন্ন স্থানে কম-বেশি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
বিশেষ করে, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বেশিরভাগ স্থানে ঈদের দিনেও বৃষ্টি হতে পারে, বলেন মি. ফারুক।
এছাড়া সিলেট, সুনামগঞ্জে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি কিছুটা কমে বিপৎসীমার নিচে আসতে পারে এবং আগামী তিন দিনে ওই অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছেন বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান।

ছবির উৎস, Getty Images
ঈদের দিন কোথায়, কতটা বৃষ্টি
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
ঈদের দিন ভোগান্তি কিংবা স্বস্তি দুটিরই কারণ হতে পারে বৃষ্টি।
একদিকে পশু কোরবানির সময় টানা বৃষ্টি দুর্ভোগ বাড়াতে পারে। অন্যদিকে গরমের তীব্রতা কমাতে ও বর্জ্য অপসারণের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে বৃষ্টি।
আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বিবিস বাংলাকে জানান, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর এবং সিলেট বিভাগের বেশিরভাগ স্থানে গত কয়েকদিনের মতো আজ বৃহস্পতিবারও বৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া অন্য বিভাগেরও কিছু জেলায় কম-বেশি বৃষ্টি অব্যাহত আছে।
তিনি বলছেন, শুক্রবার থেকে কমতে শুরু করবে বৃষ্টির মাত্রা।
এরপর শনি, রবি ও সোমবার দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল অর্থাৎ চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ ছাড়া বেশিরভাগ অঞ্চলেই বৃষ্টি অনেকটাই কমে যাবে।
বর্ষাকালের স্বাভাবিক নিয়মে দেশের কোনো কোনো স্থানে কম-বেশি বৃষ্টি হলেও ঈদের দিনে ভারী বৃষ্টির শঙ্কা কম বলেই জানান তিনি।
আবহাওয়াবিদ মি. ফারুক বলেন, "বর্ষাকালে বৃষ্টি হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে বৃষ্টিপাত হওয়ার জন্য যে সার্কুলেশন থাকা লাগে বা লঘুচাপ বা ডিপ্রেশন থাকে, সেটি এই মুহূর্তে অনেক কম বললেই চলে," যা ঝড়ো বৃষ্টির শঙ্কা কমিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঈদের দিন চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।
দেশের বেশিরভাগ স্থানেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে এবং দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে বলেও পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। তবে তাপপ্রবাহের শঙ্কা খুব একটা নেই।

ছবির উৎস, NurPhoto via Getty Images
বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে
গত বছর বন্যা পরিস্থিতির কারণে ম্লান হয়েছিল দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অনেক মানুষের ঈদ আনন্দ। বিশেষ করে সিলেট বিভাগের বেশিরভাগ জেলার মানুষই চরম ভোগান্তিতে ছিলেন।
বৃষ্টির কারণে পশু কোরবানি নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছিলেন পদ্মা, যমুনা নদী অববাহিকার বাসিন্দারাও।
তবে এবছর ঈদ উল আযহার আগে ও পরে বন্যা নিয়ে ইতিবাচক বার্তাই দিচ্ছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলছেন, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে এরই মধ্যে বন্যা কবলিত হয়েছে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বেশ কিছু অঞ্চল। এছাড়া বৃষ্টির কারণে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌছেছে পদ্মা ও যমুনা নদীর পানিও।
তবে, এই সপ্তাহে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে জানান মি. রায়হান। তিনি বলছেন, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি চারটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও আজ বৃহস্পতিবার থেকে পানি কিছুটা নামতে শুরু করেছে।
যার ফলে সিলেট বিভাগের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে জানান তিনি।

ছবির উৎস, NurPhoto via Getty Images
এছাড়া, দেশের উত্তরাঞ্চলে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদী পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টায় স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান মি. রায়হান। দেশের অন্যান্য নদ-নদীর পানিও আগামী তিনদিন বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হতে পারে।
সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর উজানে ভারতের বরাক নদীতে পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে থাকলেও তা হ্রাস পেতে শুরু করেছে বলে জানান মি. রায়হান।
একইসাথে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর উজানে ভারতের আসাম অংশে সব নদীর পানিও নামতে শুরু করেছে।
"সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে যে উজানে নদ-নদীর পানি কমছে এবং ভারি বৃষ্টির শঙ্কাও কমে এসেছে, যেটা আগামী তিনদিন অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে," বলছিলেন মি. রায়হান।
সব মিলিয়ে দেশের দক্ষিণ-পূর্বের নিম্নাঞ্চলে চলমান বন্যা পরিস্থিতির খানিকটা উন্নতি হতে পারে আগামী তিন দিনে । অন্য কোন এলাকায় এই সময়ে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি তৈরির শঙ্কাও নেই বলেই জানান তিনি।








