ওয়ান ইলেভেন নিয়ে বিএনপির ভেতরে কি প্রতিক্রিয়া হয়েছিল?

    • Author, সায়েদুল ইসলাম
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা

সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা ২০০৭ সালের ১১ই জানুয়ারি দুপুরে যখন বঙ্গভবনে প্রবেশ করে রাষ্ট্রপতিকে জরুরি অবস্থা জারি করার জন্য অনুরোধ করেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা তখন ছিলেন ২২শে জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। 

নানারকম গুজব শুনলেও পর্দার অন্তরালে সেদিন কি ঘটতে যাচ্ছে, সেই সম্পর্কে তাদের কোন ধারণা ছিল না।

অক্টোবর মাসে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিলেও সেই সময় বিএনপির মনোনীত রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বে তৈরি হওয়া উপদেষ্টা পরিষদে বিএনপির বেশ প্রভাব ছিল।

নানা সমালোচনা সত্ত্বেও ২২শে জানুয়ারির নির্বাচন আয়োজন বদ্ধপরিকর ছিল রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের সেই উপদেষ্টা পরিষদ।

সেখানে যে বিশাল এক পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে, তা নিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত দলটি ছিল অনেকটাই অন্ধকারে।

বিএনপি নেতাদের প্রতিক্রিয়া

দুই হাজার সাত সালের ১১ই জানুয়ারির কয়েকদিন আগে থেকেই সামরিক বাহিনী কোন পদক্ষেপ নিতে পারে, এরকম একটি গুজব শোনা যাচ্ছিল।

সারা দেশেই এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা ছিল। যদিও বিএনপি নেতারা সেসব উড়িয়ে দিয়েছেন।

সেই সময়ের বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

তিনি বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, ‘’দুই তিনদিন আগে থেকে একটা কথা শোনা যাচ্ছিল যে, সামরিক বাহিনী ক্ষমতা নিতে পারে। আমি তখনকার মহাসচিব আবদুল মান্নান ভুঁইয়া, সাদেক হোসেন খোকা এবং আও কয়েকজন নেতার সঙ্গে এ নিয়ে কথাও বলেছিলাম। কিন্তু তারা বলেছিলেন, এসব গুজব, এর কোন ভিত্তি নেই।‘’

এগারোই জানুয়ারি দুপুরের দিকে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ এবং নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ একদল সেনা কর্মকর্তা দুপুরের দিকে বঙ্গভবনে গিয়েছিলেন।

সেখানেই তারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে রাষ্ট্রপতিকে জরুরি অবস্থা জারি করার জন্য অনুরোধ করেন। সেদিন বিকেল থেকেই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।

ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ

ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে এবং একজন বাদে অন্য উপদেষ্টারাও সেদিন পদত্যাগ করেন। রাতেই শুরু হয় নতুন উপদেষ্টা কমিটির তৈরির কাজ।

কিন্তু এসব প্রক্রিয়ায় বিএনপি বা আওয়ামী লীগ- কোন রাজনৈতিক দলকে রাখা হয়নি। ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ বিএনপির সমর্থনে রাষ্ট্রপতি হলেও সেখানে বিএনপির আর কোন ভূমিকা ছিল না।

বিএনপি নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ বলছেন, ‘’আমি তখন নির্বাচনের জন্য পুরো প্রস্তুতির মধ্যে ছিলাম। সেখানে একটা ফোর্স ঢুকে যাবে, ডেমোক্রেসিকে বিপর্যস্ত করবে, সেটা আসলে আমাদের ধারণায় ছিল না। রাজনৈতিক সংকট রাজনীতির মাধ্যমেই সমাধান হওয়ার কথা। আমরা সবাই খুব অবাক হয়েছিলাম।‘’

‘’আমার দুই-তিনদিন ধরে শুনছিলাম, আর্মি হয়তো টেকওভার করতে পারে। সেটা শোনার পর আমাদের পলিটিক্যাল কলিগদের সঙ্গে আলাপ করেছি। আমরা তো কেউ জানতাম না কি হতে যাচ্ছে। কিন্তু সবাই বলেছেন, এসব গুজব, এর কোন ভিত্তি নেই। তারা তখন শুধু বলেছেন, ওয়েট এন্ড সি,‘’ তিনি বলছেন।

সেনা কর্মকর্তাদের চাপে জরুরি অবস্থা

আগের দিন কুমিল্লায় জনসভায় করছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। তখন খালেদা জিয়ার সাথে ছিলেন বিএনপির সিনিয়র নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

মি: হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, "কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে রাত নয় থেকে ১১টা পর্যন্ত জনসভা করেছেন। আমরা রাত একটার সময় ঢাকায় ফিরে আসি। ১১ তারিখ বিকেলের দিকে জানতে পারলাম যে সেনাবাহিনী থেকে প্রেসিডেন্ট ভবনে গিয়েছেন এবং সেখানে কিছু একটা হচ্ছে। জাতিসংঘের কিছু একটা চিঠি নিয়ে সেনাপ্রধান এবং নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি বঙ্গভবনে গিয়ে প্রেসিডেন্টকে দিয়ে জরুরী আইন ঘোষণা করাচ্ছেন।"

সেদিনের ঘটনা নিয়ে ‘যেমন দেখেছি ওয়ান ইলেভেন’ নামে একটি বই লিখেছেন লেখক ও সাংবাদিক আহমেদ মুসা। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আহমেদ মুসা সেই সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-প্রচার সম্পাদক পদে ছিলেন।

সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন, সেনা কর্মকর্তাদের চাপে জরুরি অবস্থা জারির খবর পেয়েই তিনি বিএনপি মহাসচিব আবদুল মান্নান ভুঁইয়ার গুলশানের বাসায় যান পরিস্থিতি বোঝার জন্য।

‘’গিয়ে দেখি ড্রইংরুম ভর্তি মানুষ। মান্নান ভুঁইয়া এর-ওর কথায় মাথা নাড়ছেন, কখনো ডানে-বায়ে, কখনো উপরে-নিচে। এক পাশে কালো চশমা-পরা হারিস চৌধুরী। ...আরও কিছুক্ষণ কথাবার্তার পর সবাই উঠে গেলেন আস্তে আস্তে। ‘’ 

বিএনপি নেতা ড. আবদুল মঈন খান বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, ‘’আমি ছিলাম নরসিংদীতে আমার নির্বাচনী এলাকায়। সেই সময় চারিদিকে বিভিন্ন রকমের গুজব, আলোচনা এবং অনিশ্চয়তা চলছিল নির্বাচনকে ঘিরে।"

"সংবাদটি পেয়েই আমি তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের বিএনপির অফিসে টেলিফোন করি। সেখান থেকে আমি বঙ্গভবনের ঘটনার ব্যাপারে জানতে পারি। তখন সবাই প্রায় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল।"

মন্ত্রিসভা নিয়ে তদবির

বাতাসে যখন নানারকম গুঞ্জন ভেসে বেড়াচ্ছে, তখনও হাওয়া ভবন এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের দপ্তরে মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে তোড়জোড় ভালোভাবেই চলছিল।

দেড় সপ্তাহ পরেই ২২শে জানুয়ারির নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে তারা ছিলেন নিশ্চিত। শীর্ষ নেতাদের অনেকেই কে কোন মন্ত্রণালয় পাবেন, তা নিয়ে তদবির এবং আলোচনা করছিলেন।

আহমেদ মুসা তাঁর বইতে লিখেছেন, ‘’ওয়ান ইলেভেনের আগের দিন আমি বিএনপির আরেক গুরুত্বপূর্ণ নেতার বাড়িতে গিয়েছিলাম দলের কাজে। কথায় কথায় সেই নেতা আমার কাছে জানতে চাইলেন, এবার তথ্যমন্ত্রী কাকে করা হলে ভালো হবে? আমি বিএনপির তথ্যের সঙ্গে জড়িত ছিলাম বলেই হয়তো ভদ্রতাসূচক জিজ্ঞাসা।‘’

বিএনপির নেতারা মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও সেই সময় সারা দেশে ছিল এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতি।

একদিকে যেমন ২২শে জানুয়ারি নির্বাচন বিরোধী কর্মসূচী দিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট, তেমনি দেশের সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে একের পর এক উদ্বেগ জানিয়ে যাচ্ছে পশ্চিমা দেশগুলো দূতাবাস।

আগের দিন ১০ই জানুয়ারি নির্বাচন প্রতিরোধের ডাক দিয়েছিল মহাজোট। ২২শে জানুয়ারি ভোটের দিন ও আগের দিন সারা দেশে হরতাল ডাকা হয়েছিল।

পল্টনে একটি জনসভায় শেখ হাসিনা ঘোষণা দেন, এরপরেও যদি নির্বাচনের কাজ চলে, তাহলে ২২শে জানুয়ারির পর থেকে লাগাতার হরতাল চলবে। 

অন্যদিকে ১০ই জানুয়ারি কুমিল্লার চান্দিনায় একটি নির্বাচনী পথসভায় খালেদা জিয়া বলেন, ‘’এই নির্বাচন যারা বাধা দিতে আসবে, তাদের এমনভাবে প্রতিহত করতে হবে, যেন ভবিষ্যতে আর ভোট চাওয়ার সাহসই তারা না পায়।‘’

রাষ্ট্রদূত প্যাট্রেসিয়া বিউটেনিস

এর আগে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত প্যাট্রেসিয়া বিউটেনিস এবং ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরী বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার সাথে তার হাওয়া ভবন কার্যালয়ে দেখা করেন। এই বৈঠকটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়।

তারা শেখ হাসিনার সাথেও বৈঠক করেন ধানমন্ডিতে তার বাসায়।

রাষ্ট্রদূতরা নির্বাচন এক থেকে দেড় মাস পেছানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপি নেত্রী তাতে রাজি হননি।

দুই হাজার সাত সালের চৌঠা জুন, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানা যায়, খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনার সাথে বৈঠকে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রেসিয়া বিউটেনিস বলেছিলেন, পরিস্থিতির অবনতি হলে সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করতে পারে।

বৈঠকের সূত্র উদ্ধৃত করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ তথ্য দিয়েছে। সে প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে খালেদা জিয়া বলেছিলেন, সে রকম কিছু হলে সেনাবাহিনী তাকেই সমর্থন করবে।

মীমাংসার সম্ভাবনা তলানিতে

‘এক-এগারো বাংলাদেশ ২০০৭-২০০৮’ বইয়ে লেখক মহিউদ্দিন আহমদ লিখেছেন, ‘’পরিস্থিতি দিন দিন ঘোলাটে হচ্ছিল। আওয়ামী লীগ আর বিএনপি- বাংলাদেশের রাজনীতির এই দুই পরাশক্তির যুযুধান অবস্থানের কারণে মীমাংসার সম্ভাবনা তলানিতে ঠকেছিল।‘’ 

'বিএনপি: সময়-অসময়' নামের আরেকটি বইতে মহিউদ্দিন আহমদ ১১ই জানুয়ারির ঘটনাপ্রবাহে বিএনপির অবস্থান নিয়ে লিখেছেন, ‘’যে ভুলের সূত্র ধরে ফখরুদ্দীনের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের সুযোগ তৈরি হয়, সেটাকে বিএনপি বুঝতেই পারেনি।"

"ফলে বিএনপি ফখরুদ্দিন সরকারের বিরোধিতা করলেও শেখ হাসিনা এই সরকারকে তাঁদের ‘আন্দোলনের ফসল’ হিসাবে ঘোষণা দিয়ে নতুন সরকারের প্রতি আস্থা জানিয়ে দেন।‘’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রোষানলে বিএনপি

‘’যেদিন ফখরুদ্দিন শপথ নেন, সেদিন আওয়ামী লীগের নেতারা বঙ্গভবনে উপস্থিত ছিলেন। বঙ্গভবনে অনেকেই বিএনপি নেতারা আসবেন বলে আশা করেছিলেন। সাবেক মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান এবং ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকা বঙ্গভবনের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। পথে তাঁরা একটা ফোন পান। তাঁদের বলা হয়, ‘বঙ্গভবনে কি আর কখনো যাননি?’ বার্তা বুঝতে পেরে তাঁরা বাসায় ফিরে যান।‘’

‘’কেন তাঁদের ফোন করা হয়েছিল এ নিয়ে বিএনপির ভেতরে নানা আলোচনা হয়েছে। জানা যায়, বিএনপির তখনকার থিংক-ট্যাংকের দুজন সদস্য দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে বলেছিলেন,’আমাদের বিরুদ্ধে ক্যু হয়েছে, এখন আমাদের বঙ্গভবনে যাওয়া মানে ওই ক্যুকে সমর্থন করা।’

অনেক পর্যবেক্ষক বলছেন, এটা ছিল একটা ভুল সিদ্ধান্ত। এর ফলে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রোষানলে পড়েছিল,‘’ লিখেছেন মহিউদ্দিন আহমেদ।

'জোর-জবরদস্তি করে পরিবর্তন'

বিএনপির সেই সময়ের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, যখন দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয় এবং প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদসহ অন্য উপদেষ্টারা পদত্যাগ করেন, ঘটনার আকস্মিকতায় বিএনপি নেতারা অনেকটা হতবাক হয়ে যান।

তারা কি করবেন, কার সঙ্গে যোগাযোগ করবে, পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে, সেটা বুঝতে পারছিলেন না।

বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ‘’সেদিন যা ঘটেছে, সেটা সংবিধান অনুযায়ী হয়নি। জোর-জবরদস্তি করে একটা পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে। এটা প্রত্যাশিত ছিল না, গ্রহণযোগ্য ছিল না। সেই জন্য আমাদের দলের কেউই তাদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যায়নি, তাদের স্বাগত জানায়নি। ‘’

‘’সেই সময় কূটনীতিকদের যেসব আচরণ, তৎপরতা চলছিল, আমাদের দেশে গণতন্ত্রের কথা বলেন, তারা যেভাবে কাজ করছিলেন, তাতে কোন একটা পরিবর্তন হয়তো হতে পারে, এরকম আলোচনা ছিল। কিন্তু এভাবে বা এটাই হবে, সেটা অতো স্পষ্টভাবে আমাদের ধারণা ছিল না।‘’

রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ী আটক

তবে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য তখনও অনেক কিছু বাকি ছিল।

জানুয়ারি মাসের ১১ তারিখ সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হওয়ার প্রথম দুই মাসে দেড়শো' জনের বেশি রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ীকে আটক করা হয় দুর্নীতির অভিযোগে।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে কারাগারে যেতে হয়।

তার দু'মাস পার হওয়ার আগেই গ্রেপ্তার করা হয় বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতা হিসাবে পরিচিত সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানকে, যিনি পরবর্তীতে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে লন্ডনে চলে যান।

এরপর আর তিনি দেশে ফিরে আসেননি। যদিও একাধিক মামলায় তার সাজা হয়েছে।

দু'হাজার আঠারো সালের ২৪শে এপ্রিল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথমবারের মতো স্বীকার করেন যে ২০১২ সালে তারেক রহমান ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন এবং এক বছরের মধ্যেই তা গৃহীত হয়েছে।