ওসমান হাদির দাফন আজ

ছবির উৎস, CA PRESS WING
গুলিতে নিহত জুলাই আন্দোলনের ছাত্র নেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হবে আজ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের কাছেই তার মরদেহ দাফন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
ওসমান হাদির মৃত্যুতে আজ রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে বাংলাদেশে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের ঘোষণা অনুযায়ী দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে শনিবার অর্ধনমিত থাকবে জাতীয় পতাকা।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার দুপুর দুইটার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শরিফ ওসমান হাদির জানাজা সম্পন্ন হবে।
পরে তার মরদেহ নেওয়া হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা এবং তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের কাছেই তাকে সমাহিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচার চাইলেও তার মৃত্যু ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে পত্রিকা অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বাসাবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের যেসব ঘটনা ঘটেছে তার নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
তার হত্যার প্রতিবাদে শুক্রবার ঢাকার শাহবাগে 'আগ্রাসনবিরোধী সমাবেশ' অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় কয়েকটি ইসলামপন্থি দল ও ডাকসু নেতারা শাহবাগকে 'হাদি চত্বর' ঘোষণা করেন। দাবি জানান ওসমান হাদি হত্যার বিচারের।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে অল্প সময়েই আলোচিত হয়েছিলেন শরিফ ওসমান হাদি। জুলাই আন্দোলনে তার ভূমিকা এবং পরবর্তীতে ইনকিলাব মঞ্চ প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে দেশের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর গত ১২ই ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাঙ্কি এলাকার বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তের গুলিতে গুরুতর আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও আগামী সংসদ নির্বাচনের জন্য ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি।
প্রথম ধাপে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নেওয়া হয় তাকে। এরপর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনদিন চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় সিঙ্গাপুরে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ই ডিসেম্বর মারা যান মি. হাদি।

ছবির উৎস, Osman Hadi/facebook
জানাজ ও দাফন কখন, কোথায়
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে শুক্রবার সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় ওসমান হাদির মরদেহ।
বিমানবন্দরে তার মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।
এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি সদস্য সচিব আখতার হোসেনসহ রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতাও উপস্থিত ছিলেন।
মি. হাদির মরদেহ ঢাকায় আসার পর শুরুতে শাহবাগে নেওয়ার কথা জানা গেলেও পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত বদলে নেওয়া হয় ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে। শনিবার দুপুরে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা শেষে তার মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, শরিফ ওসমান হাদির নামাজে জানাজা শনিবার বেলা দুইটায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ওসমান হাদির জানাজায় অংশ নিতে আগ্রহীদের কোনো প্রকার ব্যাগ বা ভারী বস্তু বহন না করার জন্যও বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয় ওই বার্তায়।
এছাড়া জানাজার সময় সংসদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকায় ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষেধ বলেও উল্লেখ করা হয়।

এদিকে পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি চত্বরেই সমাহিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
শুক্রবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের জরুরি অনলাইন বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিবিসি বাংলাকে জানান বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রক্টর ড. সাইফুদ্দীন আহমদ।
বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, ওসমান হাদির পরিবারের চাওয়া এবং সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের চিঠির প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
ওসমান হাদির দাফন ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিরাপত্তাজনিত কী প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন, এসব নিয়ে সিন্ডিকেটের অনলাইন বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান মি. আহমদ।
উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশেই সমাহিত রয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। ওই চত্বরে তিনি ছাড়াও বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীর কবর রয়েছে বলেও জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বিবিসি বাংলাকে বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে তার অবদানকে স্বীকৃতি দিতেই কবি নজরুল ইসলামের কবর দেওয়া হয়েছে যে চত্বরে, সেখানেই ওসমান হাদিকে সমাহিত করা হবে।
"তার পরিবারের ইচ্ছায় সরকারের ক্যাবিনেট ডিভিশন এবং ডাকসুর ছাত্র নেতারা আমাদের কাছে চিঠির মাধ্যমে নজরুলের কবরের পাশেই ওসমান হাদিকে দাফনের অনুমতি চেয়েছিল, আমরা অনুমতি দিয়েছে," বলেন মি. আহমদ।
এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কবি নজরুলের সমাধি চত্বরের একটি অংশে ওসমান হাদির কবরের জন্য নির্ধারণ করেছে বলেও জানান তিনি।
প্রক্টর বলেন, "আমাদের এস্টেট ডিপার্টমেন্ট সমাধি চত্বর ভিজিট করে একটি জায়গা নির্ধারণ করেছে, ওসমান হাদির পরিবার জায়গাটি দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।"








