আদালত বর্জন করবেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা

আদালত
ছবির ক্যাপশান, ঢাকার সিএমএম আদালত

আগামী ১লা জানুয়ারি থেকে ৭ই জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল বিভাগ, হাইকোর্ট বিভাগসহ সারাদেশের সকল আদালত বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম।

দুপুরে ঢাকায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতি ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব কায়সার কামাল ওই সাতদিন আপিল বিভাগ, হাইকোর্ট বিভাগ, সমস্ত জেলা আদালত, সেশন আদালত, মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত, মুখ্য জুডিশিয়াল আদালতসহ সমস্ত আদালত বর্জন করার কথা জানান।

বিএনপির ঘোষিত অসহযোগ আন্দোলনের সাথে সংহতি জ্ঞাপন করে এ কর্মসূচি দেয়া হলো বলে জানান তিনি।

বিক্ষোভ
ছবির ক্যাপশান, বৃহস্পতিবার আদালত প্রাঙ্গণে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের বিক্ষোভ

তিনি বলেন, ৩১ শে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রধান বিচারপতিসহ সকল বিচারকদের কাছে বর্জনের সিদ্ধান্তের চিঠি দেয়া হবে।

শেখ হাসিনার পদত্যাগ, 'ডামি নির্বাচন' বর্জন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুন:প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে লক্ষ্যে এই কর্মসূচী ঘোষণা করা হলো বলে জানান মি. কায়সার।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কায়সার কামাল বলেন, “আগামী ৭ জানুয়ারি সরকার আরেকটি নীলনকশার পাতানো ডামি নির্বাচনের পাঁয়তারা করছে”।

এতে বলা হয়, “কথিত নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক দেখানোর জন্য সরকারি দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী, বিদ্রোহী , অনুগত প্রার্থীসহ হরেক রকমের প্রার্থী দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। কারা ডামি হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকবে তাও ঠিক করে দেয়া হচ্ছে”।

“অবৈধ ফ্যাসিস্ট সরকার রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে হয় আজ্ঞাবহ করেছে, অথবা করায়ত্ত করতে না পেরে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুমড়ে মুচড়ে ভেঙ্গে দিয়েছে” বলে ওই বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়।

গত ২৮ অক্টোবরে ঢাকায় বিএনপির সমাবেশের কথা উল্লেখ করে মি. কামাল বলেন, "বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের উপর সরকারের পেটোয়া বাহিনী ক্র্যাকডাউন করল তখন নেতাকর্মীদের আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার উপেক্ষিত হলো। যা দেশ ও জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক"।

আরো পড়ুুুুন

বিএনপি বলছে, ২৮শে অক্টোবরের ঘটনায় এ পর্যন্ত তাদের ২৩ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৬৮৪ টি মামলা করা হয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে ১৪৮২ জনকে।

যদিও তাদের এ বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সরকার বা সরকারের কোন অনুচরদের 'উস্কানিতে পা না দিয়ে' শান্তিপূর্ণভাবে এই কর্মসূচি সফল করতে আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানায় বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সংগঠন।

ফোরামের মহাসচিব কায়সার কামাল বিবিসিকে বলেন, এ সাতদিন পুরোপুরিভাবে আদালত বর্জন করা হবে। কোন ধরণের কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়া হবে না।

মক্কেলদের মামলার শুনানিতে অংশ নেবেন কিনা এমন প্রশ্নে জানান, পুরোপুরিভাবেই আদালত বর্জন করা হবে।

সারাদেশে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ১৮ হাজারের বেশি সদস্য রয়েছে বলে জানান তিনি।

বিএনপির অসহযোগ কর্মসূচি

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

এর আগে বিএনপি অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। সে কর্মসূচিতে আদালতে নেতাকর্মীদের হাজিরা না দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

বিশে ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিরোধী দল বিএনপি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত ‘অসহযোগ আন্দোলনের’ ডাক দেয়। সাতই জানুয়ারির ভোট বর্জন করা, কর ও ইউটিলিটি বিল না দেয়ার জন্য প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহবান জানায়।

দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্ধৃত করে দলের মুখপাত্র ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন।

“অবৈধ সরকারকে অসহযোগিতার বিকল্প নেই। সাতই জানুয়ারির ডামি নির্বাচন বর্জন করুন। আপনারা ভোট কেন্দ্র যাবেন না, এটা আপনার অধিকার। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকুন,” বলছিলেন রুহুল কবির রিজভী।

একই সাথে সরকারকে ট্যাক্স, খাজনা ও ইউটিলিটি বিল দেয়া স্থগিত রাখা আহবান জানিয়েছে বিএনপি।

তবে কর্মসূচি ঘোষণার পরদিন বিবিসি ঢাকার বিচারিক আদালতে গিয়ে ভিন্ন চিত্র দেখে। বিভিন্ন মামলায় হাজিরা দিতে দেখা গেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের। কারাগারে থাকা দলটির বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা আদালতে হাজিরা দিতে আসেননি সেদিন।

বিএনপি ও সমমনা দলগুলো মূলত গত ২৮শে অক্টোবর ঢাকায় তাদের মহাসমাবেশ পণ্ড হওয়ার পর থেকেই নির্দলীয় সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনের দাবিতে ধারাবাহিক হরতাল অবরোধের কর্মসূচি পালন করে আসছে।