আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের জন্য সহায়তা 'আরও সীমিত' করার প্রস্তাব পেন্টাগনের
- Author, ক্লেয়ার কিনান
যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের জন্য "আরও সীমিত" সহায়তা দেবে। পেন্টাগনের নতুন ন্যাশনাল ডিফেন্স স্ট্র্যাটেজি বা জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলে এমনটাই প্রস্তাব করা হয়েছে।
নিরাপত্তা অগ্রাধিকারে বড় ধরনের পরিবর্তনের অংশ হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর এখন চীন নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড ও পশ্চিম গোলার্ধের নিরাপত্তাকেই তাদের প্রধান উদ্বেগ হিসেবে বিবেচনা করছে।
এর তুলনায়, চার বছর অন্তর প্রকাশিত প্রতিরক্ষা কৌশলের আগের সংস্করণগুলোতে চীনের তৈরি করা 'বহুমাত্রিক হুমকি'-কেই যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিরক্ষা অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
নতুন কৌশলটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলোই জোরালোভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার তৈরি হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের আরও বেশি করে "দায়ভার ভাগ করে নেওয়ার" আহ্বানও রয়েছে।
৩৪ পৃষ্ঠার এই নতুন প্রতিবেদনটি গত বছর প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজির পর সামনে এসেছে।
ওই নথিতে বলা হয়েছিল, ইউরোপ সভ্যতাগত পতনের মুখে রয়েছে এবং সেখানে রাশিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হিসেবে দেখানো হয়নি। সে সময় মস্কো বলেছিল, নথিটি তাদের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে "বড় ধরনের সামঞ্জস্যপূর্ণ"।
এর তুলনায়, ২০১৮ সালে পেন্টাগন চীন ও রাশিয়ার মতো 'সংস্কারবাদী শক্তি'কে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য 'কেন্দ্রীয় চ্যালেঞ্জ' হিসেবে বর্ণনা করেছিল।
নতুন কৌশলটি মার্কিন মিত্রদের আরও দায়িত্ব নিতে আহ্বান জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অংশীদার দেশগুলো এতদিন তাদের প্রতিরক্ষা খাতে ওয়াশিংটনের ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়ে 'সন্তুষ্ট' ছিল।
তবে একই সঙ্গে নথিটি অস্বীকার করেছে যে পরিবর্তন আনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র 'বিচ্ছিন্নতাবাদের' দিকে এগোচ্ছে।
এতে বলা হয়েছে, "বরং এর অর্থ হলো, আমাদের দেশের সামনে থাকা হুমকিগুলোর প্রতি একটি মনোযোগী ও সত্যিকারের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি"।
প্রতিবেদনটি বলছে, ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকানদের 'সুনির্দিষ্ট স্বার্থ' উপেক্ষা করেছে।
এতে যোগ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র চায় না আমেরিকার স্বার্থকে "বিশ্বের বাকি অংশের স্বার্থের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলতে।
এর বদলে, এতে বলা হয়েছে, মিত্ররা—বিশেষ করে ইউরোপ—"সেসব হুমকির বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দেবে, যেগুলো আমাদের জন্য তুলনামূলক কম গুরুতর, কিন্তু তাদের জন্য বেশি গুরুতর"।
End of বিবিসি বাংলায় আরো পড়তে পারেন:
এছাড়া, প্রায় চার বছর আগে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন চালানো রাশিয়াকে নেটোর পূর্বাঞ্চলীয় সদস্যদের জন্য "স্থায়ী, কিন্তু নিয়ন্ত্রণযোগ্য একটি হুমকি" হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি বলছে, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালিত হবে "সংঘাত নয়, শক্তির ভিত্তিতে"। এতে লক্ষ্য হিসেবে বলা হয়েছে, "চীনকে দমন করা নয়; কিংবা তাদের টুঁটি চেপে ধরা বা অপমানিত করাও নয়"।
কৌশলপত্রের আগের সংস্করণগুলোয় যেখানে চীনের দাবি করা স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানের নাম থাকতো, এবারেরটায় সেটা উল্লেখ করা হয়নি। তবে নথিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো "চীনসহ কাউকেই যেন আমাদের বা আমাদের মিত্রদের উপর আধিপত্য বিস্তার করতে দেওয়া না হয়"।
গত বছরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে ১১ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের অস্ত্র বিক্রির ঘোষণা দেয়। এর প্রতিক্রিয়ায় চীন দ্বীপটির আশপাশে সামরিক মহড়া চালায়।
কৌশলটিতে উত্তর কোরিয়াকে নিবৃত্ত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের 'আরও সীমিত' ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এই দায়িত্ব পালনে দক্ষিণ কোরিয়া "প্রাথমিক দায়িত্ব নেওয়ার সক্ষমতা রাখে"।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১২ মাসে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করেছে, পূর্ব প্রশান্ত ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌকায় হামলা চালিয়েছে এবং সর্বশেষ গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণে মার্কিন মিত্রদের ওপর চাপ প্রয়োগ করেছে।
কৌশলটিতে পুনরায় বলা হয়েছে, পেন্টাগন "বিশেষ করে পানামা খাল, উপসাগরীয় আমেরিকা ও গ্রিনল্যান্ডে—গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও বাণিজ্যিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে"।
নথিতে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই দৃষ্টিভঙ্গি হবে "শীতল যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের আগের প্রশাসনগুলোর আড়ম্বরপূর্ণ কৌশল থেকে মৌলিকভাবে ভিন্ন"।
এতে আরও বলা হয়েছে, "কাল্পনিক আদর্শবাদের অবসান; কঠোর বাস্তববাদের সূচনা"।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ট্রাম্প দাবি করেন, নেটো থেকে যুক্তরাষ্ট্র "কখনোই কিছু পায়নি" এবং "আমরা কখনো কিছু চাইওনি"।
তিনি আরও সমালোচনা করে ভুলভাবে দাবি করেন, "যুক্তরাষ্ট্রই কার্যত নেটোর প্রায় ১০০ শতাংশ খরচ বহন করছে"।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, পুরোনো বিশ্বব্যবস্থা "আর ফিরবে না" এবং দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো মধ্যম শক্তিধর দেশগুলোকে একত্র হওয়ার আহ্বান জানান।
দাভোসের ওই বৈঠকে কার্নি বলেন, "মধ্যম শক্তিগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, কারণ আমরা যদি টেবিলে না থাকি, তবে আমরা শুধু মেনুতেই থাকব"।
এর মধ্যেই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁও "নিয়মহীন বিশ্বের দিকে সরে যাওয়ার" বিষয়ে সতর্ক করেছেন।