আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
খাগড়াছড়ির গুইমারায় বাজারে মধ্যরাতে আগুন, রামসু বাজারের পরিস্থিতি কেমন
বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির গুইমারি উপজেলার জালিয়াপাড়া এলাকার একটি বাজারে গভীর রাতে আগুন লেগে তেরটি দোকান পুড়ে গেছে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে।
যেই বাজারটি আগুন লেগেছে তার সাথেই পুলিশ ক্যাম্প, বিজিবি ক্যাম্প ও এরপর বিজিবির বিগ্রেড ক্যাম্প এবং এরপর সেনা ক্যাম্পের অবস্থান বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. এনামুল হক চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে বলছেন, তাদের ধারণা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
এর আগে গুইমারাতেই গত ২৮শে সেপ্টেম্বর 'জুম্ম ছাত্র জনতার' অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রামসু বাজারে সহিংসতা ও দোকানপাটে আগুন দেয়ার ঘটনায় ৩ জন নিহত হবার ঘটনা ঘটেছিলো।
ওই ঘটনার পর দুষ্কৃতকারীদের হামলায় তিন পাহাড়ি নিহত হওয়ার কথা জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এখন আবার গুইমারাতেই আরেকটি বাজারে মধ্যরাতে আগুন লাগার ঘটনা নিয়ে তাই নানা ধরনের আলোচনা হলেও পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দাবি করছে, শনিবার রাতের আগুন বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই হয়েছে।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গুইমারা উপজেলার জালিয়াপাড়া এলাকায় হাজী ইসমাইল মার্কেটে শনিবার রাত ১টা ৪০ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্র পাত হয়।
মুহূর্তেই তা আশেপাশে ছড়িয়ে পড়লে তেরটি দোকান পুরোপুরি পুড়ে যায় এবং গভীর রাত হওয়ায় মালিকরা কেউ দোকানের মালামাল সরানোর সুযোগ পাননি।
পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. এনামুল হক চৌধুরী বলছেন যে, বাজারে আগুন লেগেছে সেটি বাঙ্গালী অধ্যুষিত বাজার।
গুইমারায় ফায়ার সার্ভিস না থাকায় মাটিরাঙ্গা থেকে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এসে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
মাটিরাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, পুড়ে যাওয়া দোকানগুলোর মধ্যে একটি ওয়াকর্শপও ছিলো এবং সেখানে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট কিংবা সিগারেটের আগুন থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে ধারণা করছেন তারা।
রামসু বাজার এলাকার পরিস্থিতি কেমন
খাগড়াছড়ি সদরে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে জুম্ম ছাত্র জনতার ব্যানারে ডাকা অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে গত ২৮শে সেপ্টেম্বর রামসু বাজারে ব্যাপক সংঘর্ষে তিন পাহাড়ি নিহত হয়েছিলো।
ওই ঘটনায় ১৩ সেনা সদস্যসহ বেশ কয়েকজন বিজিবি ও পুলিশ সদস্য নিহত হবার কথা জানিয়েছিলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বাজারটি মূলত মারমা সম্প্রদায় অধ্যুষিত।
সেখানকার একাধিক অধিবাসী আজ জানিয়েছেন, পুরো এলাকা এখনো থমথমে হয়ে আছে এবং মামলায় অজ্ঞাত আসামি করায় এলাকাটি এখন কার্যত পুরুষ শূন্য।
মারমা নৃগোষ্ঠীর কয়েকজন জানিয়েছেন এবার আতঙ্কময় এক পরিস্থিতির মধ্যেই সেখানকার বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের প্রবারণা পূর্নিমা উৎসব হতে যাচ্ছে।
"এই উৎসব একদম ম্লান! কোন গ্রামেই আমেজপূর্ণ নেই, আতঙ্কিত সবাই," বলেছেন মারমা সম্প্রদায়ের একজন। তিনি নিরাপত্তা জনিত কারণে তার নাম না প্রকাশ করার অনুরোধ করেছেন।
তার মতে, সামাজিক উৎসবের দিক দিয়ে সাংগ্রাই এর পর এটি গুরুত্বপূর্ণ এবং আমেজপূর্ণ এক দিন। আর ধর্মীয় দিক দিয়েও মারমাদের জন্য এটি দ্বিতীয়, স্থানীয়ভাবে যাকে বলা হয় ওয়াগ্যে লাব্রে (প্রবারণা পূর্ণিমা)।
তিনি জানিয়েছেন, খাগড়াছড়িতে প্রবারণা পূর্ণিমার জন্য চেঙ্গী নদীতে রথ ভাসানোর কর্মসূচি এবার তারা বর্জন করছেন।
অবশ্য বান্দরবানের মারমা সম্প্রদায়ের প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসব উদযাপনে নানা আয়োজনের উদ্যোগ বহাল আছে। মূলত আজ রোববার থেকেই উৎসব শুরু হয়েছে।
এদিকে দাবি মেনে নিতে প্রশাসনের আশ্বাসের প্রেক্ষাপটে শনিবারই অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছিলো 'জুম্ম ছাত্র জনতা'।
গত ২৩শে সেপ্টেম্বর মারমা সম্প্রদায়ের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিলো জুম্ম ছাত্র জনতার ব্যানারে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে।
অবরোধ চলাকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এক পর্যায়ে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছিলো, যা শনিবার রাতে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় জেলা প্রশাসন।
কিন্তু এর মধ্যেই গত ২৮শে সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি সদর ও গুইমারায় সহিংসতা ও আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটলে তাতে ৩ জন পাহাড়ি নিহত হয়।