‘গোয়েন্দার হাতে কেএনএফ অস্ত্রধারীর ছবিসহ তালিকা’

বান্দরবানে কেএনএফ এর তৎপরতা নিয়ে এবং সমন্বিত অভিযান নিয়ে সমকালের প্রধান শিরোনাম, ‘গোয়েন্দার হাতে কেএনএফ অস্ত্রধারীর ছবিসহ তালিকা’।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) অস্ত্রধারীদের ছবিসহ তালিকা এখন গোয়েন্দাদের হাতে রয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তির তদন্ত ও নানামুখী সোর্সের মাধ্যমে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযানও চলছে।
এছাড়া কেএনএফ পাহাড়ের যেসব এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছিল, সেখানে তারা ‘কমিটি’ গঠন করে। এমনকি ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত আলাদা কমিটিও রয়েছে।
সংগঠনটির প্রধান পলাতক নাথান বমের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই নিজেদের বিশ্বস্ত লোকদের মাধ্যমে এসব কমিটি হয়েছিল। বেশ কয়েকটি কমিটির সশস্ত্র সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে সমকাল।
এদিকে, কেএনএফের বান্দরবান জেলার প্রধান সমন্বয়কারী চেওসিম বমকে (৫৫) শহরতলির শ্যারণপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি কেএনএফপ্রধান নাথান বমের ঘনিষ্ঠজন এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। রুমা ও থানচির ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
তবে গত রাতে কেএনএফ'র পরিচয়ে খোলা এক ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে দাবি করা হয়েছে, ‘চেওসিম বম কেএনএফের কেউ নন, তিনি একজন বাগানচাষি।’
পাহাড়ের একাধিক বাসিন্দা ও বম সোশ্যাল কাউন্সিলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেএনএফের পরপর কয়েকটি হঠকারী ঘটনার কারণে সাধারণ বম সম্প্রদায়ের মধ্যে অজানা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
কেএনএফ সদস্যদের সঙ্গে যারা ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তারা মোবাইল ফোন বন্ধ করে গা-ঢাকা দিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নাথান বমসহ সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বম সোশ্যাল কাউন্সিলের নেতারা যোগাযোগের চেষ্টা করছেন।


বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
একই বিষয়ে প্রধান শিরোনাম করেছে যুগান্তর। তাদের প্রথম পাতার আরেকটি খবর, ‘পৃথক পূর্বাঞ্চলীয় রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা!’।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) নামের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতায় অশান্ত হয়ে উঠেছে পাহাড়।
সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, এ তৎপরতার পেছনে বিদেশের সংযোগ আছে। বিশেষ করে এ অঞ্চলে একটি আলাদা পূর্বাঞ্চলীয় রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনার অংশ কেএনএফ-এর তৎপরতা।
এ ধরনের প্রচেষ্টা দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। বান্দরবানের রুমা ও থানচি উপজেলায় ব্যাংক ডাকাতি এবং ব্যাংক ম্যানেজারকে অপহরণের ঘটনার সঙ্গে এ তৎপরতার যোগসূত্র পেয়েছে সরকার।
কেএনএফ-এর তৎপরতার সঙ্গে ভূরাজনীতির কোনো সংযোগ আছে কি না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান রোববার যুগান্তরকে বলেন, ‘এটার তো ইমপ্যাক্ট আছে। নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম নিয়ে ইস্টার্ন স্টেট গঠনের একটা প্রচেষ্টা দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে’।
তিনি জানান, ‘বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে বোম জনগোষ্ঠীর মাত্র কয়েকশ পরিবার রয়েছে। তারা সবাই খ্রিষ্টান। কুকি-চিন গ্রুপটা তাদেরই। এর বেশি বাইরের সংযোগ নেই। এদের তৎপরতায় নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, মণিপুরের লোকেরাও বিরক্ত।’
কুকি-চিনের তৎপরতা দমনে আঞ্চলিক কোনো সহযোগিতা নেওয়া হবে কি না-জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, ‘এসব তৎপরতা দমনে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর ভূমিকা ইতিবাচক।
‘কুকি-চিনের বিরুদ্ধে পুলিশ ও র্যাব অভিযান চালাবে। প্রয়োজন হলে আর্মিও তাতে যোগ দেবে।এ ব্যাপারে সেনাপ্রধান সিদ্ধান্ত নেবেন বলে তিনি জানান।
এদিকে বান্দরবানে থানচি ও রুমায় কয়েক দফা সন্ত্রাসী হামলার পর সেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনে কম্বিং অপারেশন শুরু করেছে যৌথ বাহিনী।

কেএনএফ এর তৎপরতা দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য নিয়ে শিরোনাম করেছে কালের কণ্ঠও। তাদের প্রথম পাতায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খবরের শিরোনাম- ‘জাতীয় পার্টি দুর্বল হয়ে পড়েছে কেন?’
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ১৯৯০ সালে এইচ এম এরশাদ সরকারের পতনের পরও তার দল জাতীয় পার্টি (জাপা) বেশির ভাগ সময় ক্ষমতাসীনদের সঙ্গেই ছিল।
এরপরও ক্রমে দলটি এতটাই দুর্বল হয়েছে যে এককভাবে নির্বাচন করার সামর্থ্যও এখন আর সে রকম নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, জাপা শুধু দুর্বলই হয়নি, পথও হারিয়েছে। সরকার ঘনিষ্ঠ হয়ে টিকে থাকার চেষ্টা দলটিকে ‘জনবিচ্ছিন্ন’ করে ফেলছে।
জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে এখন দুটি বিষয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। একটি হচ্ছে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দলটি গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। এই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না?
অন্যটি হচ্ছে, রওশন এরশাদ ও জি এম কাদের রাজনৈতিক জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসে পড়েছেন। এরপর দলটির নেতৃত্বে কে আসবেন?
গত ৭ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
রওশন এরশাদপন্থী নেতাদের একাংশ দলীয় চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
ফলে নির্বাচনে যাওয়া, সমঝোতার পরও বিগত নির্বাচনে মাত্র ১১ আসনে বিজয়ী হওয়া এবং দলের শীর্ষ পর্যায়ে দ্বন্দ্ব-কোন্দলের কারণে জাপায় সন্দেহ-অবিশ্বাস বেড়েছে।
কোন্দল নিরসন করে দলকে এখন ঐক্যবদ্ধ রাখাটাই দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।
কেন জাপা দুর্বল হয়েছে, এর অন্তর্নিহিত কারণ সম্পর্কে বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, ক্ষমতার কাছাকাছি থাকতে দলীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছে জাপা নেতৃত্ব।
ফলে বিরোধী রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য দলটিতে এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না। ফলে মাঠ পর্যায়ে তাদের জনপ্রিয়তা আরো কমেছে।

কেএনএফ এর বিরুদ্ধে অভিযান ইস্যুতে প্রধান শিরোনাম করেছে দ্য ডেইলি স্টার। তাদের প্রথম পাতার আরেকটি প্রতিবেদন হলো, ‘Road crashes, fatalities rise steeply from January’ অর্থাৎ, ‘জানুয়ারি থেকে সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণহানির হার বেড়েছে’
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে সড়ক দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা নির্দিষ্ট ব্যবস্থা বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির অভাবকে দায়ী করেছেন।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনা ৪৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং মৃত্যু ৩০ শতাংশ বেড়েছে।
এই বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত এক হাজার ৪৬৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে এক হাজার ৩৬৭ জন নিহত এবং এক হাজার ৭৭৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির বিষয়ে "বানোয়াট" প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার তীব্র সমালোচনা করার পর বিআরটিএ তার বিভাগীয় কার্যালয় গত বছরের জানুয়ারিতে প্রথম দুর্ঘটনার তথ্য প্রকাশ শুরু করে।
ওই বেসরকারি সংস্থাগুলো অবশ্য নিয়মিত মিডিয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে তথ্য প্রকাশ করতো। তারা বিআরটিএর তথ্যকে "খুবই রক্ষণশীল অনুমান" বলে অভিহিত করেছেন।
এ বিষয়ে পুলিশের সংগ্রহ করা তথ্য থেকে বিআরটিএ-র তথ্যের পার্থক্য রয়েছে বলে তারা জানান।

দেশের কয়েকটি জেলায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব নিয়ে নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম, ‘চৈত্র শেষে কালবৈশাখীর ছোবল, ১৬ জনের মৃত্যু’।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের পাঁচ জেলাসহ দেশের মোট নয় জেলায় কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কমপক্ষে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন অনেকে।
এর মধ্যে ঝালকাঠীতে দুই নারীসহ তিনজন, পটুয়াখালীতে চার জন, ভোলায় দু’জন, পিরোজপুর, খুলনা, বাগেরহাট, সুনামগঞ্জ, যশোর, বান্দরবান ও নেত্রকোণায় একজন করে মারা গেছেন।
এ ছাড়া গাছপালা, কাঁচা ও আধাপাকা বাড়িঘর ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হওয়া ঘূর্ণিঝড়ে এ তাণ্ডবলীলা ঘটে।
মূলত ঝড়ের প্রভাবে বিভিন্ন জেলায় প্রচুর গাছ উপড়ে যায়, যারা মারা গেছেন তাদের অনেকে উপড়ে পড়া গাছে চাপা খেয়েই মুত্যু হয়েছে।
এছাড়া ঝড়ের সময় বজ্রপাতে এবং নৌকাডুবিতেও মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এছাড়া ঝড়ে উড়ে গিয়ে, গাছের ডালের আঘাতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে কালবৈশাখীর তাণ্ডব নিয়ে প্রধান শিরোনাম করেছে নিউ এইজ, তাদের প্রথম পাতায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খবর হলো: ‘Holidaymakers charged extra fare, some trains run late’ অর্থাৎ, ‘ছুটিতে যাওয়া যাত্রীদের থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, কিছু ট্রেন ছাড়ছে দেরিতে’।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ঈদ-উল-ফিতরের আগে ছুটি কাটাতে বাড়ি যেতে ইচ্ছুক মানুষদের থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ঘটনা তাদের ভ্রমণকে প্রভাবিত করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর নগরীতে দূরপাল্লার বাস সার্ভিস যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া হিসেবে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা নিচ্ছে।
কিছু ক্ষেত্রে, পরিবহন শ্রমিকরা অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার জন্য শেষ সময়ের জন্য টিকিট আটকে রেখেছেন।
ঢাকার গাবতলী, মহাখালী ও সায়দাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালেও বিভিন্ন রুটে অতিরিক্ত ভাড়া হিসেবে ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।
রোববার যাত্রীদের অধিকার সংগঠন প্যাসেঞ্জার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ঈদের ছুটিতে ঢাকা ছাড়ার সময় প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ যাত্রীকে অতিরিক্ত প্রায় ৯৮৪ কোটি টাকা ভাড়া গুনতে হয়।
পুরো দেশকে বিবেচনায় নিলে এর পরিমাণ তিন থেকে চার গুণ বেশি হবে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে সংস্থাটি।
দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের কিছু ট্রেনও এদিন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে ছেড়ে যাচ্ছে।
এ বছর চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১০ বা ১১ এপ্রিল ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার কথা রয়েছে। এজন্য ৪ঠা এপ্রিল থেকে বিভিন্ন জেলায় মানুষ যাত্রা শুরু করেছে।

এদিকে বেইলি রোডের আগুনের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম, ‘শুধু নিজেদের গাফিলতি খুঁজে পেল না রাজউক’
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ওই অগ্নিকাণ্ডের পেছনে রাজউকের তদন্ত কমিটি শুধু ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও ফায়ার সার্ভিসের গাফিলতি খুঁজে পেয়েছে। নিজেদের কোনো গাফিলতি বা দোষ খুঁজে পায়নি তারা।
যদিও কোনো ভবন যে উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয়েছে, ব্যবহার করার ক্ষেত্রে তার কোনো ব্যত্যয় হচ্ছে হচ্ছে কি না, সেটি দেখভালের দায়িত্ব রাজউকের।
অগ্নিকাণ্ডের ওই ঘটনায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গত ২৭ মার্চ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
গত ২৯ ফেব্রুয়ারি রাতে বেইলি রোডে গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে আগুনে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে রমনা থানায় করা মামলার এজাহারে বলা হয়, রাজউকের দোকান-পরিদর্শকদের ‘ম্যানেজ’ করে ভবনটিতে রেস্তোরাঁ ব্যবসা চলছিল।
তবে রাজউকের তদন্তে এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য উঠে আসেনি।
কোনো ভবন ব্যবহার করার আগে রাজউকের কাছ থেকে ‘অকুপেন্সি সার্টিফিকেট’ নেওয়া বাধ্যতামূলক।
তবে আগুনে পুড়ে যাওয়া আটতলা গ্রিন কোজি কটেজ ভবনের অকুপেন্সি সার্টিফিকেট বা ব্যবহার সনদ ছিল না বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে রাজউক।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যবহার সনদ ছাড়াই ১১ বছর ধরে ভবনে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছিল।
ব্যবহার সনদ না থাকা সত্ত্বেও ওই ভবনের পাঁচটি রেস্তোরাঁকে ব্যবসা করার অনুমতি (ট্রেড লাইসেন্স) দিয়েছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।
অন্যদিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর ভবনের একটি রেস্তোরাঁকে অগ্নিনিরাপত্তা-সংক্রান্ত সনদ দিয়েছিল।
এ ধরনের অনুমতি দেওয়ার আগে রাজউক অনুমোদিত নকশা ও ব্যবহার সনদ বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন ছিল বলে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

আইসিইউ সেবা অপ্রতুলতা নিয়ে মানবজমিনের প্রধান শিরোনাম, ‘অর্ধেক জেলায় নেই আইসিইউ সেবা, হাহাকার’
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, তিন বছর আগে প্রতিটি জেলা হাসপাতালে একটি করে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এরপর ৪৩টি জেলা হাসপাতাল ও ১০টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ চালুর একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।
তবে এখনো সেইসব হাসপাতালে কোনো আইসিইউ সেবা চালু হয়নি।
সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক অবশ্য জানিয়েছেন, ১৩টি জেলায় ১০টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপন হয়েছে। বাকিগুলোতে কাজ চলছে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালে মোট শয্যার ১০ শতাংশ আইসিইউ থাকতে হবে। অথচ বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ যেন সোনার হরিণ।
দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩২টি সদর হাসপাতালে আইসিইউ নেই।
এ ব্যাপারে কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যান্ডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস প্রকল্পের পরিচালক ডা. শাহ গোলাম নবী তুহিন বলেন, আইসিইউ’র জন্য ভবন প্রস্তুত করছে গণপূর্ত বিভাগ। যন্ত্রপাতি নভেম্বরের মধ্যে বসানো শেষ হবে।
তিনি দাবি করেন, লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খোলার সমস্যা, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন এবং প্রকল্পটি বিলম্বিত হয়েছে।
তবে একে ব্যবস্থাপনার সমস্যা বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, যেগুলো বানানো হয়েছে সেগুলো তো ভালোভাবে চালু করা যায়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে আইসিইউ শয্যা রয়েছে ১ হাজার ১৮৫টি। এর মধ্যে ঢাকায় ৭২৮টি আর ঢাকার বাইরে ৪৫৭টি।

গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ নিয়ে বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম, ‘শিল্পাঞ্চলের ৬৮% কারখানায় পরিশোধ হয়নি মার্চের বেতন’
প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হবে—সরকারের এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে শিল্প মালিকরা সম্মতি জানালেও ৬৮ শতাংশ কারখানায় শ্রমিকদের বেতন এখনো অপরিশোধিত।
বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে ঈদের ছুটি। অথচ গতকাল পর্যন্ত শিল্প-অধ্যুষিত আট এলাকার কেবল ৩২ শতাংশ কারখানা মার্চের বেতন পরিশোধ করেছে। আর ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে ৭০ শতাংশ কারখানা।
বিজিএমইএ'র সভাপতি জানিয়েছেন ‘মজুরি বেড়েছে, গ্যাসের দাম বেড়েছে, বিদ্যুতের দাম বেড়েছে, ব্যাংকে সুদের হার বেড়ে গেছে। কিন্তু পোশাকের দাম বাড়ছে না। সব মিলিয়ে বেশ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে টিকে থাকতে হচ্ছে।’
এরপরও ঈদের আগেই বেতন-বোনাস পরিশোধ হয়ে যাবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।
আশুলিয়া, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, খুলনা, কুমিল্লা ও সিলেট এই আট শিল্প-অধ্যুষিত এলাকায় মোট কারখানার সংখ্যা নয় হাজার ৪৬৭।
ঈদের আগে প্রায় প্রতি বছরই অস্থিরতা দেখা দেয় দেশের শিল্প-অধ্যুষিত এলাকার কারখানাগুলোয়।
এবারো বেতন-বোনাস পরিশোধে সমস্যা হতে পারে, এমন ৪১৬টি কারখানা চিহ্নিত করে এ বিষয়ে নীতিনির্ধারক ও শিল্প মালিকদের আগেই অবহিত করেছিল শিল্প পুলিশ।
সেই সঙ্গে ঈদের আগে যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া কোনো অবস্থায়ই শ্রমিক ছাঁটাই বা লে অফ না করার বিষয়েও অনুরোধ করা হয় শিল্প মালিকদের।











