আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
সরকারবিহীন বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলায় ব্যাপক অবনতি, সংখ্যালঘুদের উপর হামলা
- Author, তারেকুজ্জামান শিমুল
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, ঢাকা
বাংলাদেশে গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার পতনের পর দুইদিন পেরিয়ে গেলেও নতুন সরকার গঠন করা সম্ভব হয়নি। এতে নেতৃত্ব সংকটে প্রশাসনে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, যার ফলে দেশটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ব্যাপক অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও নেতাকর্মীদের অনেকের বাড়িঘরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে ইতোমধ্যেই দলটির শীর্ষ নেতাদের অনেকে দেশ ছেড়েছেন। যারা দেশে অবস্থান করছেন, নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে তারাও গাঁ ঢাকা দিয়েছেন।
কোথাও কোথাও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজন আক্রান্ত হচ্ছেন বলেও জানা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। বেশকিছু থানা ভাঙচুর করে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটেছে অস্ত্র লুট ও কয়েদি পালানোর মতো ঘটনাও।
এমন পরিস্থিতে নিরাপত্তা শঙ্কায় কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে পুলিশ।
ফলে অনেক এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো ঘটনা বেড়ে গেছে, যা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলেছে।
সবমিলিয়ে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বেশ নাজুক হয়ে পড়েছে।
অরাজকতা ঠেকাতে সেনাবাহিনী ও আনসার সদস্যদের মাঠে নামানো হয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবীরাও অনেক এলাকায় পাহারা দিচ্ছেন।
“কিন্তু দ্রুত সরকার গঠন করে নেতৃত্বের হাল ধরা ছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না,” বিবিসি বাংলাকে বলেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) নুরুল হুদা।
সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা
“শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যাওয়ার ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যেই আমাদের উপর হামলা চালানো হয়,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন যশোরের কেশবপুর উপজেলার বাসিন্দা দীলিপ মোদক।
গত পাঁচই অগাস্ট বিকেলে লাঠি-সোটা হাতে বিশ-পঁচিশ জনের একটা দল হঠাৎ করেই প্রথমে রাস্তার ধারের সংবাদপত্রের দোকানে হামলা করে বলে জানান তিনি।
“সেটা ভেঙে তছনছ করার পর টাকা-পয়সা যা পেয়েছে সব নিয়ে গেছে,” বলেন মি. মোদক।
ঘটনাস্থলের ঠিক পাশেই মি. মোদকের তিনতলা বসতবাড়ি। দোকানের পর সেখানেও লাঠি-সোটা হাতে হামলা চালানো হয়।
“ঘটনার আকস্মিকতায় আমাদের পরিবারের সবাই রীতিমত কাঁপছিলাম। জীবন বাঁচাতে একপর্যায়ে আমরা তিনতলার ছাদে গিয়ে আশ্রয় নিই,” বলছিলেন মি. মোদক।
অবশ্য সেখানে পৌঁছানোর আগেই প্রতিবেশিরা এগিয়ে এসে হামলাকারীদের থামায়।
“আশেপাশের মানুষ এসে না থামালে হয়তো আমরা বাঁচতেই পারতাম না,” বিবিসি বাংলাকে বলেন মি. মোদক।
কেশবপুর ছাড়াও যশোরের মনিরামপুর ও বাঘারপাড়া উপজেলায় হিন্দুদের বেশকিছু বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়েছে।
এরকম ঘটনা ঢাকাতেও ঘটেছে।
সোমবার ধানমণ্ডি এলাকায় লুটপাট চালানোর পর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের খ্যাতনামা ব্যান্ড ‘জলের গানে’র প্রধান গায়ক রাহুল আনন্দের বাড়ি।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের হিসেবে, গত তিনদিনে খুলনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, রংপুর, নোয়াখালী, চাঁদপুর, দিনাজপুরসহ সারা দেশে অন্তত ২৯টি জেলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে।
এসব ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হলেও নিহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সময় হামলাকারীদের মধ্যে অনেকের কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে রেখেছিলেন বলে জানা যাচ্ছে।
“যারা এখানে হামলা চালিয়েছে, তারা কেউই আমাদের এলাকার না,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন খুলনার খানজাহান আলী থানার বাসিন্দা সুভাষ দত্ত।
হিন্দু সম্প্রদায়ের বাইরে রংপুরের তারাগঞ্জে আহমদিয়া মুসলিম জামাতের উপাসনালয়েও হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
“এই মুহূর্তে দেশে কোনও সরকার না থাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজন ভীষণ অসহায় বোধ করছে। দ্রুত সরকার গঠন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি,” বিবিসি বাংলাকে বলেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় অনেক জেলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয় পাহারার উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয়রা।
ঘরছাড়া আ’লীগ নেতাকর্মীরা
প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে শেখ হাসিনা বিদেশে পাড়ি জমানোর পর থেকেই দেশের বেশিরভাগ জেলাতেই আওয়ামী লীগ কার্যালয় ও নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
ক্ষমতা ছাড়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই ঢাকায় শেখ হাসিনার বাসভবন ও ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন দেওয়া হয়।
প্রায় কাছাকাছি সময়ে ভাঙচুর করে আগুন দেওয়া হয় যশোরের আওয়ামী লীগ নেতা শাহিন চাকলাদারের মালিকানাধীন একটি বিলাসবহুল হোটেলে।
সেখানে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ২০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছে।
চাঁদপুরে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম খান ও তার ছেলে শান্ত খান।
এছাড়া ঢাকা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, সিরাগঞ্জ, লালমনিরহাটসহ আরও বেশ কিছু জেলায় আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীর প্রাণ গেছে।
নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দলটির শীর্ষনেতাদের অনেকেই ইতোমধ্যে দেশ ছেড়ে গেছেন।
দেশ ছাড়তে গিয়ে দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সদ্য সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এবং সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বিমানবন্দরে আটক হয়েছেন।
এছাড়া যারা এখনও দেশে অবস্থান করছেন, আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে তারাও বাড়িঘর ছেড়ে এখন আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।
“দলের বড় বড় নেতারাই যেখানে দেশ ছেড়ে চলে গেছে, সেখানে জীবন বাঁচাতে গাঁ ঢাকা দেওয়া ছাড়া আমাদের আর কী করার আছে?,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন দলটির তৃণমূলের একজন নেতা।
কারাগার থেকে বন্দী পলায়ন
নির্বাচন ছাড়াই ক্ষমতার হঠাৎ পালাবদলের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে কারাগার থেকে বন্দী পালানোর মতো ঘটনাও ঘটতে দেখা গেছে।
বুধবার দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা কারাগার থেকে ১০ থেকে ১৫ জন কয়েদি পালিয়েছে বলে বিবিসি বাংলাকে নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা।
“রাজনৈতিক কারণে বন্দী বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের মুক্তি দেওয়ার সময় কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। তখন সুযোগ বুঝে তারা পালিয়ে গেছে বলে জানতে পারেছি,” বলছিলেন মি. রেজা।
তারা কারা এবং কী ধরনের সাজা ভোগ করছিলেন, সেটি তিনি জানাতে পারেননি। তবে পালিয়ে যাওয়া কয়েদিদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
“আসলে দেশে সরকার না থাকার কারণে প্রশাসন ও সমাজে এক ধরনের অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। চেষ্টা করেও অনেক সময় সেটি নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না। নতুন সরকার দায়িত্ব নিলেই আশাকরি সব ঠিক হয়ে যাবে,” বিবিসি বাংলাকে বলেন মি. রেজা।
এরআগে, কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে গত ১৯শে জুলাই নরসিংদী কারাগারে হামলার ঘটনা ঘটে। তখন সেখানে বন্দী নয় জন জঙ্গিসহ আট শতাধিক কয়েদির সকলেই পালিয়ে যায়।
পরে তাদের অনেকে আত্মসমর্পণ করলেও বেশ কয়েক জন এখনও পলাতক রয়েছে।
ডাকাতি ঘিরে আতঙ্ক
দেশের চলমান অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে ঢাকাসহ বেশকিছু এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা বেড়ে গেছে বলে জানা যাচ্ছে।
কোথাও কোথাও গণডাকাতি চালানোর খবরও পাওয়া যাচ্ছে।
মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় গত দুইদিনে অন্তত দুইবার গণডাকাতির চেষ্টা হয়েছে বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
“আন্ধার হইলেই অস্ত্রপাতি নিয়া হেরা মাঠে নাইম্মা যায়। গেল দিন বাড়ির সামনে থম মোর ফোনডা নিয়া গ্যাছেগা,” বলছিলেন ওই এলাকার একজন নৈশপ্রহরী মোজাম্মেল হোসেন।
মঙ্গলবার রাতেও মোহাম্মদপুর এলাকায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
“ঘরে ঢুকেই আমার ঘেডিতে রামদা ধরছে। ধরে কয়, পাঁচ লাখ টাকা দিবি এখন,” সাংবাদিকদের বলছিলেন ওই এলাকার ভুক্তভোগী একজন বাসিন্দা।
তিনি আরও বলেন, “আমার ভাতিজার কাছে দুই লাখ টাকার মতো সৌদি রিয়াল ছিল। ওই টাকাগুলো সব ডাকাতরা নিয়ে গেছে।”
একইভাবে, আরও কয়েকটি বাড়ি থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণাঙ্কার এবং মোবাইল ফোন নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ডাকাতরা চলে যাওয়ার সময় স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে তাদের পিছু নেয় বাসিন্দারা। যদিও শেষ পর্যন্ত কাউকেই ধরা সম্ভব হয়নি।
এই ঘটনার পুর ঢাকার অন্য এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
“আর্মি নেই, পুলিশ নেই। তাহলে আমাদের নিরাপত্তা দিবে কে?,” প্রশ্ন করেন ফাহমিদা আক্তার নামের একজন বাসিন্দা।
এমন অবস্থায় শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পালাক্রমে এখন প্রতিরাতে পালা করে পাহারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এছাড়া ঢাকার বাইরে কুমিল্লা, গাজীপুর, সিরাগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটের ঘটনার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে।
পুলিশ প্রশাসনে অচলাবস্থায়
কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে পুলিশকে প্রায়ই আন্দোলনকারীদের উপর চড়াও হতে দেখা গেছে। তাদের চালানো গুলিতে অনেকে মারাও গেছেন।
ফলে সেই ক্ষোভ থেকেই সরকার পতনের পর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু থানায় হামলার ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে।
এসব হামলায় বিক্ষোভকারীদের হাতে থানা জ্বালিয়ে দেয়া থেকে শুরু করে, ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সোমবার দেশের ৪৫০টিরও বেশি থানা 'আক্রান্ত' হয়েছে।
সোমবার শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং দেশ ছাড়ার পর বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজিত মানুষজন থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা করেন। কোন কোন থানায় হামলা ঠেকাতে গুলি এবং টিয়ারগ্যাস ছোঁড়ে পুলিশ।
এসময় বেশ কিছু থানা থেকে সরে যায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
ঢাকার যাত্রাবাড়ি, বাড্ডা, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, আদাবরসহ বিভিন্ন থানায় সোমবার রাতভর হামলা, অস্ত্র ও মালামাল লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
এতে বেশ কিছু পুলিশ সদস্য নিহত ও আহত হয়েছেন। ঢাকার মোহাম্মদপুর থানাসহ বেশকিছু থানা আগুনে পুড়ে রীতিমত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
এর বাইরে, হামলার ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তর ও রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সেও।
এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের কনস্টেবল থেকে ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের সংগঠন পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ঘোষণা করেছে, পুলিশ সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মবিরতি পালন করবে।
ফলে কার্যত সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে পুলিশি কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।
এমনকি, গত দু’দিনে ঢাকার কোথাও ট্রাফিক পুলিশ দেখা যায়নি। অনেক স্থানে শিক্ষার্থীদের যানচলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা যাচ্ছে।
“এমন পরিস্থিতিতে সমাজের অপরাধীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। কাজেই দ্রুতই সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন,” বিবিসি বাংলাকে বলেন সাবেক আইজিপি নুরুল হুদা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে যেসব অস্ত্র ও গুলি লুট হয়েছে, সেগুলো উদ্ধারে জোর তৎপরতা শুরু করারও তাগিদ দিয়েছেন মি. হুদা।
তবে বুধবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে পুলিশের ভূমিকার জন্য দুঃখপ্রকাশ করে নবনিযুক্ত আইজিপি মো. ময়নুল ইসলাম সব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
পুলিশ বাহিনীকে একটি পেশাদার বাহিনী হিসাবে তৈরি করা হবে জানিয়ে বৃহস্পতিবারের মধ্যে সব পুলিশ সদস্যকে নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।