পত্রিকা : 'অন্যদেশের সরকার পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমাপ্তি হয়েছে'

পত্রিকা

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনকালে অন্য দেশের সরকার পরিবর্তনের নীতি শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি একরূপ ও ব্যর্থ চক্রের মধ্যে আটকে ছিল। শাসক পরিবর্তনের মাধ্যমে অন্য দেশে হস্তক্ষেপ করলে মিত্রের চেয়ে শত্রু তৈরি হয়েছে এবং দেশকে ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় ও অগণিত প্রাণহানির মুখে ফেলেছে।

তুলসীর বক্তব্য ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ট্রাম্পের নীতিতে এখন মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের পরিবর্তে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে গাজায় ইসরাইল-হামাস যুদ্ধের স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের ১২ দিনের যুদ্ধ সমাপ্ত করা।

তুলসী গ্যাবার্ডের মতে, গাজায় যুদ্ধবিরতি এখনও ভঙ্গুর। তিনি বলেন, আগামি পথ সহজ হবে না, কিন্তু ট্রাম্প এই নীতিতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তিনি দক্ষিণ আমেরিকা বা ভেনেজুয়েলার গোপন অভিযান ও সেনা মোতায়েন বিষয়ে মন্তব্য করেননি।

মানবজমিন
কাক

কালের কণ্ঠ পত্রিকার আজকের প্রধান শিরোনাম- সেই দেশগুলো এখন কী বলছে?

বাংলাদেশের আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ভারত ও পশ্চিমা দেশের অবস্থানের পার্থক্য এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

পূর্বের কয়েকটি নির্বাচনে পশ্চিমা দেশগুলো বারবার অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ওপর জোর দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা অংশগ্রহণমূলক শব্দটি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকছে। কেবল অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলছে। অন্যদিকে ভারত এবার বরং অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা প্রকাশ করছে।

২০১৪ সালের দশম জাতীয় নির্বাচনকে ভারত সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা হিসেবে মেনে নিলেও, পশ্চিমা দেশগুলো তখন থেকেই নির্বাচনের সুষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। পরবর্তী একাদশ ও দ্বাদশ নির্বাচনেও দুই পক্ষের অবস্থান ভিন্ন ছিল।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নির্বাচন নিয়ে পশ্চিমাদের সমালোচনা শোনা গেলেও, সর্বশেষ নির্বাচনের পরে সরকার জানিয়েছিল বিভিন্ন দেশ শুভেচ্ছা জানিয়েছে। তখন সরকারি মন্ত্রীরা বলেছিলেন, নির্বাচন অভ্যন্তরীণ বিষয়, সব দল নির্বাচনে অংশ না নিলে তাকে সুষ্ঠু বলার মানদণ্ড বদলাতে পারে।

তবে এখন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায়, কূটনৈতিক মহলে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। অনেকেই সরাসরি মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকছেন।

নয়া দিগন্ত
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

নয়া দিগন্ত পত্রিকার আজকের খবর - নির্বাচনমুখী মেরুকরণ শুরু

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ঘিরে দেশে আবারও রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়ছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা এবং নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতিই এখন আলোচনার মূল কেন্দ্র।

এক বছরের বেশি সময় ধরে সংস্কারের পর এখন অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনমুখী পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। যদিও দলগুলোর মধ্যে ঐক্যমত এখনও হয়নি, তবুও আড়ালে আলোচনা, এজেন্ডা ঠিক করা এবং আসন সমঝোতার আলাপ শুরু হয়ে গেছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলছেন, তারা জুলাই সনদের যে অংশে সই করেছেন শুধু সেটির দায়িত্বই নেবেন। এ বক্তব্যে তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হলেও দলের ভেতর থেকে জানানো হচ্ছে, তারা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং তারেক রহমান শিগগিরই দেশে ফিরবেন। এদিকে জামায়াতসহ সমমনা ৮ দল গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছে।

অন্যদিকে, তিনটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচন বয়কট করবে। তবে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার বিচারের কারণে দলটির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বাস্তব সুযোগ নেই বলেই মনে করা হচ্ছে।

দ্য ডেইলি স্টার

সরকার নির্বাচন আইনের একটি সাম্প্রতিক পরিবর্তন থেকে সরে আসার কথা ভাবছে। এই পরিবর্তন অনুযায়ী, জোটে থাকলেও প্রতিটি দলকে নিজেদের প্রতীকেই ভোটে লড়তে বাধ্য করা হতো। এখন সরকার আবারও এমন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে যাতে জোটের দলগুলো চাইলে একটি সাধারণ প্রতীক ব্যবহার করতে পারে।

তবে জামায়াতে ইসলামী, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি এবং খেলাফত মজলিশ বলছে, সিদ্ধান্ত বদল হলে নির্বাচনে নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং একটি নির্দিষ্ট দল সুবিধা পাবে।

১৯ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে পাস হওয়া এই সংশোধনী এখনো গেজেট আকারে প্রকাশ হয়নি। সম্প্রতি জামুনা স্টেট গেস্ট হাউসে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠকের পর বিষয়টি পুনর্বিবেচনায় আসে বলে সরকারি সূত্র জানায়।

সংবাদ

জাতীয় নাগরিক পার্টি জানিয়েছে, তারা আগামী ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন দেখতে চায়। পাশাপাশি জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে চায় দলটি। নতুন করে উদ্ভূত রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য বিএনপি ও জামায়াতকে সমানভাবে দায়ী করেছে এনসিপি।

এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি শুরু থেকেই সংস্কারের বিরোধিতা করছে এবং জামায়াত নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে ঐকমত্যে পৌঁছানোর আহ্বান জানান এবং নির্বাচন ও সংস্কার দুটোই নির্ধারিত সময়ে এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেন।

বণিক বার্তা

বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার। এ ঘাটতি কমাতে যুক্তরাষ্ট্রকে গম, সয়াবিন, তুলা ও উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ। এবার একই ধরনের সুবিধা চাইতে এগিয়ে এসেছে জাপানসহ অন্যান্য দেশ। সর্বশেষ ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোও বাংলাদেশি পণ্যের বাজারে সমান সুযোগ চায়।

ইইউর বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, দুই পক্ষের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্পর্কে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। তারা ১৩টি চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেছে, যার মধ্যে আছে শুল্ক বহির্ভূত বাধা ও বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক জটিলতা। এসব বিষয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে ইইউ, যাতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে ন্যায্যতা নিশ্চিত করা যায়।

প্রথম আলো

ছবির উৎস, Getty Images

এই প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, প্রথম আলো বিগত ১৩ মাসের ৪৬টি পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ৬৭ জনের মৃত্যুর বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে দেখেছে, মামলাগুলোতে আসামি গ্রেপ্তারের হার নগণ্য। ৪৬টির মধ্যে ৩৬টি ঘটনায় মামলা হয়েছে। ১০টি ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। যেসব ঘটনায় মামলা হয়েছে, তাতে আসামির সংখ্যা ৯ হাজারের বেশি (অজ্ঞাতসহ)। এর মধ্যে ২৭টি মামলায় ১১৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। আসামি গ্রেপ্তারের হার ১ দশমিক ২৭ শতাংশ। ৬টি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে একের পর এক মব ভায়োলেন্স বা সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য বলছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গত বছরের আগস্ট থেকে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৩ মাসে উচ্ছৃঙ্খল জনতার সহিংসতার শিকার হয়ে ২২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

যুগান্তর

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পরও রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালে আগের মতোই চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। বরং প্রতিবছর ৩৬০ কোটি টাকার বেশি অবৈধভাবে আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মালিক সমিতি থেকে শুরু করে শ্রমিক ইউনিয়ন ও বিভিন্ন কল্যাণ তহবিলের নামে এসব টাকা তোলা হয়।

তদন্তে জানা গেছে, রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল ও প্রশাসনের সহায়তায় কিছু নেতা এ চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন। ক্ষমতার পরিবর্তনের পর নেতৃত্বের হাতবদল হলেও অনেক নিষিদ্ধ দলের নেতা এখনও আড়ালে থেকে প্রভাব খাটাচ্ছেন। সাধারণ বাস মালিকরা বলছেন, রসিদ ছাড়াই জিম্মি করে টাকা আদায় করা হয় এবং এ অর্থের কোনো হিসাব নেই।

ভুক্তভোগীরা প্রায় ১০ মাস আগে সরকারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক জানান, ক্ষমতা বদলের পরও চাঁদাবাজির সংস্কৃতি বদলায়নি এবং এ থেকে বেরিয়ে আসতে সরকারের দৃঢ় ভূমিকা জরুরি।

নিউ এইজ

নিউ এইজ পত্রিকার আজকের প্রধান খবর - Number of trained teachers declines, অর্থাৎ কমছে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের সংখ্যা

বাংলাদেশের মাধ্যমিক স্কুল এবং দাখিল থেকে আলিম পর্যায়ের মাদ্রাসাগুলোতে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের সংখ্যা ও হার দুটোই কমেছে। অথচ এই সময়েই বেড়েছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা।

সরকারি তথ্য বলছে, সবচেয়ে বেশি সমস্যা মাদ্রাসা খাতে। সেখানে অপ্রশিক্ষিত শিক্ষকের সংখ্যা যেমন বেশি, তার মধ্যে নারী শিক্ষকের হারও তুলনামূলক বেশি।

শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো এবং নতুন পাঠ্যক্রম শেখানোর জন্যই প্রশিক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু কলেজ পর্যায়ে ঠিক কতজন শিক্ষক প্রশিক্ষিত, এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস)-এর কাছে। কওমি মাদ্রাসার তথ্যও আপডেট নয়, কারণ এগুলো সরকারি নিবন্ধনে নেই।

দেখা যাচ্ছে, যখন দেশের শিক্ষার মান নিয়ে বড় আকারে আলোচনা চলছে, তখনই দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার মানসম্মত শিক্ষা অর্জন সম্ভব হবে না।

আজকের পত্রিকা

আজকের পত্রিকার প্রধান খবর - কমিশন নিয়ে চিন্তায় পুলিশ

অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এর জন্য তৈরি করা অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে এবং শিগগির উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

এই কমিশন পুলিশ সদস্যদের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি এবং অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেখবে। পাশাপাশি তাদের কর্মকাণ্ডের তদারকিও করবে। আগের নিয়মের মতোই পুলিশের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ মামলা করতে পারবে, এ কারণেই অনেক পুলিশ সদস্য উদ্বিগ্ন। তাদের অভিযোগ, জবাবদিহি বাড়ানো হলেও ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়টি খেয়াল রাখা হয়নি।

এ ছাড়া সরাসরি ৪ হাজার এএসআই নিয়োগের সরকারি সিদ্ধান্তে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। তারা বলছেন, এতে পদোন্নতির সুযোগ কমে মনোবল নষ্ট হবে।