এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত যেভাবে এগোচ্ছে

আহমেদাবাদে বিধ্বস্ত হওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ গত ডিসেম্বরে মেলবোর্নে দেখা গিয়েছিল।

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, আহমেদাবাদে বিধ্বস্ত হওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ গত ডিসেম্বরে মেলবোর্নে দেখা গিয়েছিল
    • Author, সৌতিক বিশ্বাস
    • Role, ভারত সংবাদদাতা

৪০ সেকেন্ডেরও কম সময়। এটুকু সময়েই এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট ১৭১ আকাশে উড়েছিল। তারপরই সাম্প্রতিককালের অন্যতম বিরল বিমান দুর্ঘটনাটা ঘটে যায়। আহমেদাবাদের এক ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিধ্বস্ত হয় ওই বিমানটি।

এখন তদন্তকারীরা বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে বের করে এবং ককপিট ভয়েস ও ফ্লাইট ডেটা রেকর্ড ঘেঁটে বোঝার চেষ্টা করছেন ওড়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কী হয়েছিল।

ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইসিএয়) বেঁধে দেওয়া আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ করতে হয়।

ক্যাপ্টেন সুমিত সাভারওয়াল এবং কো-পাইলট ক্লাইভ কুন্দরের নেতৃত্বে লন্ডনগামী ওই বিমান গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৩৯ মিনিট নাগাদ যখন আহমেদাবাদ থেকে রওনা হয়, তখন বিমানে উপস্থিত ছিলেন ২৪২ জন। প্রায় ১০০ টন জ্বালানি নিয়ে উড়ান শুরু করেছিল ওই বিমান।

মুহূর্তের মধ্যে ককপিট থেকে একটা 'মে ডে' কল ভেসে আসে। এটাই ছিল ওই বিমানের শেষ ট্রান্সমিশন (পাঠানো বার্তা)।

এর পর বিমানের উচ্চতা কমতে থাকে এবং শেষপর্যন্ত তা বিধ্বস্ত হয়।

ভারতের এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর (এএআইবি) সাবেক তদন্তকারী, ক্যাপ্টেন কিশোর চিন্তা বলেছেন, ওড়ার কয়েক সেকেন্ড পর কোনো নিয়ন্ত্রিত বিমানের বিধ্বস্ত হওয়ার এই ঘটনা 'বিরল থেকে বিরলতমের' পর্যায়ে পড়ে।

বিবিসিকে তিনি বলেন, "আমার মতে, এই জাতীয় ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি।"

কী হয়েছিল- দু'টো ইঞ্জিনই কি পাখির আঘাতে বা জ্বালানিতে দূষণের কারণে বিকল হয়ে পড়েছিল? বিমানের ফ্ল্যাপগুলো কি অনুপযুক্তভাবে প্রসারিত হয়েছিল? ইঞ্জিন সার্ভিসিংয়ের সময় কোনো রক্ষণাবেক্ষণের ত্রুটি ছিল? না কি অসাবধানতাবশত ক্রু অ্যাকশনে দু'টো ইঞ্জিনের জ্বালানি বন্ধ হয়ে যায়?

তদন্তকারীরা এখন এই সমস্ত সম্ভাবনা এবং আরও অনেক বিষয় খতিয়ে দেখছেন।

বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত 'ট্রায়াঙ্গুলেশন অ্যান্ড অ্যাকশনের' ওপর নির্ভর করে রেকর্ড হওয়া বিমানের পারফরম্যান্স ডেটার সাথে ধ্বংসাবশেষ থেকে পাওয়া প্রমাণ মিলিয়ে দেখা হয়। এই সমস্ত কিছু একত্র করে তদন্তকারীরা ঘটনার একটা সুসংগত ছবি তৈরির চেষ্টা করেন যাতে বোঝা যায়, কোথায় সমস্যা হয়েছিল।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন
উড়ান শুরু করার অল্পক্ষণের মধ্যেই বিধ্বস্ত হয় ওই যাত্রীবাহী বিমান

ছবির উৎস, Bloomberg via Getty Images

ছবির ক্যাপশান, উড়ান শুরু করার অল্পক্ষণের মধ্যেই বিধ্বস্ত হয় ওই যাত্রীবাহী বিমান
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

প্রতিটা পোড়া তার, ক্ষতিগ্রস্ত টারবাইন ব্লেড, বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ-এর লগ (সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ), সিগন্যাল ও শব্দ, ফ্লাইট ডেটা এবং ককপিট ভয়েস রেকর্ড যাকে 'ব্ল্যাক বক্স' বলা হয়- এই সমস্ত কিছু পরীক্ষা করে দেখা হবে।

এই তদন্ত কীভাবে এগোবে, তা বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি।

কমপক্ষে তিনজন তদন্তকারী জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে প্রথম সূত্র পাওয়া যেতে পারে বিমানের দু'টো ইঞ্জিনের ধ্বংসাবশেষ থেকে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের (এনটিএসবি) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পিটার গোয়েলজ বলেন, "ক্ষতির নিদর্শন দেখে বোঝা যায়, ঘটনার সময় ইঞ্জিনগুলো শক্তি উৎপাদন করছিল কি না। উচ্চ গতিতে ঘুরলে টারবাইনগুলো ভিন্নভাবে ভেঙে যায়।"

"কী ভুল হয়েছিল, সেটা জানতে গেলে এটাই তার প্রথম ক্লু।"

টারবাইনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ঘূর্ণায়মান বস্তু যা 'থ্রাস্ট' উৎপন্ন করতে শক্তি আহরণ করে।

মি. গোয়েলজ ব্যাখ্যা করেছেন, "যদি দেখা যায় ইঞ্জিনগুলো শক্তি উৎপাদন করেনি, তাহলে তা গুরুতর। সেক্ষেত্রে (তদন্তকারীদের) ফোকাস ককপিটের দিকে ঘোরাতে হবে।"

ঘটনার সময় ককপিটে কী ঘটেছিল তা বোয়িং ৭৮৭-এর এনহ্যান্সড এয়ারবোর্ন ফ্লাইট রেকর্ডার্স (ইএএফআর) বা 'ব্ল্যাক বক্স' থেকে জানা যাবে। (ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে ওই রেকর্ডারগুলো দুর্ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।)

ফ্লাইট ডেটা এবং ককপিট অডিও রেকর্ড করে ওই যন্ত্র। সেখানে পাইলটের করা রেডিও কল থেকে শুরু করে ককপিটের ভেতরের শব্দও রেকর্ড হয়।

পাইলটের জন্য নির্ধারিত মাইক এবং রেডিও ট্রান্সমিশন থেকে ভয়েস রেকর্ডিং আসে। এছাড়া 'এরিয়া মাইক্রোফোন' থাকে যার মাধ্যমে ককপিটের ব্যাকগ্রাউন্ডের সমস্ত আওয়াজ পাওয়া যায়।

ডেটা রেকর্ডারগুলো একেবারে নির্ভুলভাবে গিয়ার ও ফ্ল্যাপ লিভারগুলোর অবস্থান, থ্রাস্ট সেটিংস, ইঞ্জিন পারফরম্যান্স, জ্বালানি প্রবাহ এবং ফায়ার হ্যান্ডেল অ্যাক্টিভেশন ট্র্যাক করে।

"যদি ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার থেকে জানা যায় যে ইঞ্জিন পুরোমাত্রায় শক্তি উৎপাদন করেছে, তাহলে ফ্ল্যাপ এবং স্ল্যাট নিয়ে ভাবতে হবে। যদি দেখা যায় সেগুলোও প্রয়োজন অনুযায়ীই প্রসারিত হয়েছিল, তাহলে তদন্ত খুবই কঠিন হয়ে যাবে," বলছেন মি. গোয়েলজ।

ফ্ল্যাপ এবং স্ল্যাট কম গতিবেগে বিমানকে লিফ্ট করতে এবং টেকঅফ (উড়ান শুরু) ও ল্যান্ড (অবতরণ) করতে সাহায্য করে। এছাড়া বিমান কম গতিবেগে থাকা অবস্থাতে উড়তে সাহায্য করে।

"যদি (তদন্ত) ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট কন্ট্রোল সিস্টেমে কোনো সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করে, তবে তা শুধু বোয়িংয়ের জন্যই নয়, পুরো বিমান শিল্পের জন্যই একটা গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করবে," বলেছেন মি. গোয়েলজ।

মেডিকেল শিক্ষার্থীদের হোস্টেলে গিয়ে আঘাত করে ওই বিমান

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, মেডিকেল শিক্ষার্থীদের হোস্টেলে গিয়ে আঘাত করে ওই বিমান

বোয়িং ৭৮৭ এর ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট কন্ট্রোল সিস্টেম একেবারে স্বয়ংক্রিয়। এটা বিমানের নেভিগেশন, পারফরম্যান্স (দক্ষতা) এবং গাইডেন্সের দায়িত্বে থাকে। শুধু তাই নয়, বিমানের পথ এবং জ্বালানি সংক্রান্ত দক্ষতা অনুকূল করতে বেশ কয়েকটা সেন্সর থেকে তথ্য সংহত করে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ২০১১ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী ১,১০০ টারও বেশি বোয়িং ৭৮৭ আকাশে উড়েছে।

তদন্তকারীদের এই বিষয়টা অবশ্যই নির্ধারণ করতে হবে যে ঘটনার পেছনে কোনো পদ্ধতিগত সমস্যা ছিল, না কি শুধু বিধ্বস্ত হওয়া বিমানেই কিছু সমস্যা ছিল। যদি পদ্ধতিগত সমস্যা থেকে থাকলে তা বোইং-এর বিশ্বব্যাপী বহরকে তা প্রভাবিত করতে পারে।

"যদি (তদন্ত) সিস্টেমগত সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করে, তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে খুব দ্রুত কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে," মি. গোয়েলজ বলেছেন।

এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষেরই কোনো দোষের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ভারতের অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার জানানো হয়েছিল, সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজের ৩৩টার মধ্যে ২৪টা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, তাতে "বড় ধরনের কোনো নিরাপত্তা বিষয়ক উদ্বেগ ধরা পড়েনি।" বিমান এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নির্ধারিত মান অনুযায়ী মেনে চলা হচ্ছে।

বোয়িংয়ের প্রেসিডেন্ট ও সিইও কেলি অর্টবার্গ ১২ই জুন বলেন, "জাতিসংঘের আইসিএও প্রোটোকল মেনে এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট ১৭১ সম্পর্কে তথ্যের জন্য বোয়িং ভারতের এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোকে (এএআইবি) সাহায্য করবে।"

দিল্লির এএআইবি ল্যাবে ডেটা ডিকোডিং-এর নেতৃত্বে থাকা ভারতীয় তদন্তকারী দলের সঙ্গে থাকবেন বোয়িং, ইঞ্জিন প্রস্তুতকারক সংস্থা জিই, এয়ার ইন্ডিয়া এবং (ভারতীয়) নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তারা। এনটিএসবি এবং যুক্তরাজ্যের তদন্তকারীরাও থাকবেন।

মি. গোয়েলজ বলেছেন, "আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি (তদন্তকারী) দল মোটামুটি কী ঘটেছিল তা দ্রুত নির্ধারণ করতে পারে, কিন্তু কেন ঘটেছে তা বুঝতে আরও বেশি সময় লাগতে পারে।"

ধ্বংসাবশেষ থেকে অন্য সূত্রও পাওয়া যেতে পারে।

"(বিধ্বস্ত বিমানের) নাট, বল্টুসহ প্রতিটা অংশ যত্ন সহকারে সংগ্রহ করা হবে," বলেছেন মি. চিন্তা।

সাধারণত, বিমানের ধ্বংসাবশেষ নিকটবর্তী হ্যাঙ্গার বা সুরক্ষিত ফেসিলিটিতে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে বিমানের নাক, লেজ এবং ডানাগুলো শনাক্ত করার পর টুকরোগুলোকে একসঙ্গে জুড়ে দেখার চেষ্টা করা হয়।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এক্ষেত্রে ফ্লাইট ডেটা এবং ভয়েস রেকর্ডার কী তথ্য প্রকাশ করে সেদিকে নজর রাখতে হবে। সেই তথ্যের ওপর নির্ভর করে হয়তো সম্পূর্ণভাবে পুনর্গঠনের প্রয়োজন নাও পড়তে পারে।

তদন্তকারীদের মতে দুর্ঘটনার ওপর ভিত্তি করে ক্ষয়ক্ষতি হয়। যেমন ২০১৪ সালের জুলাই মাসে পূর্ব ইউক্রেনে বিধ্বস্ত হওয়া মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট এমএইচ১৭ এর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল বিমানের নোজের পুনর্গঠন করা। তদন্তের সময় লক্ষ্য করা হয়, বিমানের নোজে শ্রাপনেলের আঘাত স্পষ্ট যার জন্য দায়ী ছিল এর রাশিয়ার তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র।

বিদ্ধস্ত বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ার

ছবির উৎস, Bloomberg via Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বিদ্ধস্ত বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ার
বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুর্ঘটনার তদন্তকারী এক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, ধ্বংসাবশেষের মধ্যে তদন্তকারীরা জ্বালানি ফিল্টার, লাইন, ভালভ এবং অবশিষ্ট জ্বালানিও পরীক্ষা করে দেখবেন যাতে সেখানে দূষণ ঘটেছিল কি না তা পরীক্ষা করা যায়। এই ভাবে সম্ভাব্য বিষয়গুলো শনাক্ত বা বাতিল করা সহজ।

ওই বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন তার মতে যাত্রার আগে ব্যবহৃত রিফুয়েলিং সরঞ্জামগুলো "সম্ভবত পৃথক এবং ইতোমধ্যে পরিদর্শন করা হয়েছে।"

তবে এটাই সব নয়। তদন্তকারীরা বিমান সংস্থা এবং বোয়িংয়ের এসিএআরএস (এয়ারক্রাফট কমিউনিকেশনস অ্যাড্রেসিং অ্যান্ড রিপোর্টিং সিস্টেম) থেকে রক্ষণাবেক্ষণ এবং ত্রুটির ইতিহাস রেকর্ড সংগ্রহ করবেন, যা রেডিও বা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বোয়িং এবং এয়ার ইন্ডিয়া দু'পক্ষকেই পাঠানো হয়।

তারা সাম্প্রতিক মাসগুলোয় ওই বিমান এবং ক্রুদের দ্বারা পরিচালিত সমস্ত ফ্লাইটের বিষয়ে পর্যালোচনা করবেন এবং পাইলটের রিপোর্ট করা ত্রুটির প্রযুক্তিগত লগ খতিয়ে দেখবে্ন।

পাশাপাশি ওই বিমান পরিষেবা দেওয়ার জন্য অনুমতি দেওয়ার আগে নেওয়া সংশোধনমূলক পদক্ষেপও পর্যালোচনা করবেন।

তদন্তকারীরা পাইলট লাইসেন্স, প্রশিক্ষণ রেকর্ড, সিমুলেটর পারফরম্যান্স এবং প্রশিক্ষকের মন্তব্যও পরীক্ষা করবেন তদন্তকারীরা। খতিয়ে দেখা হবে পাইলটরা অ্যাডভান্সড ফ্লাইট সিমুলেটরের ক্ষেত্রে ইঞ্জিনের ব্যর্থতার মতো পরিস্থিতিকে কীভাবে সামাল দিয়েছিলেন।

"আমার মনে হয় এয়ার ইন্ডিয়া ইতোমধ্যেই এই নথিগুলো তদন্তকারী দলকে সরবরাহ করে থাকবে," মি. চিন্তা বলেন।

তদন্তকারীরা বিমানের সমস্ত উপাদানগুলোর 'সার্ভিস হিস্ট্রি' বা পরিষেবার ইতিহাস পর্যালোচনা করবেন। কী সরানো হয়েছিল, কোনটা প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল তা খতিয়ে দেখা হবে।

পাশাপাশি, বারবার দেখা দিচ্ছে এমন কোনো সমস্যার বিষয়ে জানানো হয়েছিল কি না অথবা অন্য কোনো ত্রুটির ইঙ্গিত ছিল কি না যা ওই নির্দিষ্ট বিমানকে প্রভাবিত করতে পারে- এমন সমস্ত বিষয় পর্যবেক্ষণ করে দেখা হবে।

"এই তদন্তগুলো অত্যন্ত জটিল। এতে সময় লাগে। তবে কী ভুল হয়েছে তার একটা প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাবে," বলছেন মি. গোয়েলজ।

এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো প্রযুক্তির অগ্রগতি।

মি. গোয়েলজ বলেছেন, "১৯৯৪ সালে আমি যে প্রথম দুর্ঘটনার তদন্ত করেছিলাম তার মধ্যে একটা ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার ছিল যা মাত্র চারটে প্যারামিটার ট্র্যাক করেছিল।"

"এখনকার রেকর্ডারগুলো প্রতি সেকেন্ডে হাজার হাজার না হলেও শত শত সেকেন্ডকে ক্যাপচার করে। এই একটা বিষয়ই আমাদের দুর্ঘটনার তদন্তের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে দিয়েছে।"