ভূমিকম্প আতঙ্কে স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, হল খালি ও গ্যাস কূপে খনন বন্ধ করাসহ যেসব ঘটনা ঘটছে

ভূমিকম্পের পর ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা

ছবির উৎস, Anadolu via Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ভূমিকম্পের পর বেশ কিছু ভবনে ফাটল ধরা, হেলে পড়াসহ নানা ত্রুটি-বিচ্যুতির খবর পাওয়া যায়

সাপ্তাহিক ছুটির দুই দিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ ভূমিকম্প আতঙ্কে দিন কাটিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঠিক কী করতে হবে সেই হিসেব-নিকেশ এখন শুধু সাধারণ মানুষেরই নয় বরং সরকারের পক্ষ থেকেও নানা ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছিল, রিখটার স্কেলে পাঁচ দশমিক সাত মাত্রার ভূমিকম্পে শুক্রবার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মানুষ কেঁপে ওঠে। তবে মার্কিন ভুতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস একে পাঁচ দশমিক পাঁচ মাত্রার ভূমিকম্প বলে জানিয়েছে।

ওই ভূমিকম্পের পর বেশ কিছু ভবনে ফাটল ধরা, হেলে পড়াসহ নানা ত্রুটি-বিচ্যুতির খবর পাওয়া যায়। ভূমিকম্পের জেরে সারা দেশে ১০ জনের মৃ্ত্যু হয়।

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বিবেচনায় আগামী মঙ্গলবার সকাল আটটা পর্যন্ত গ্যাস কূপ খনন ও ভূতাত্বিক জরিপ কাজ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভূমিকম্প আতঙ্কে ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছে।

আবার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আগামী ছয়ই ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

একইসাথে ঢাবির চিকিৎসা অনুষদের অধীনে চলমান এমবিবিএস পরীক্ষাগুলো আগামী ২৯শে নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ রোববার ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ ছিল। পরে বিকেলে বৈঠকে সোমবার থেকে ৩০শে নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়।

এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবনে ফাটল দেখা দেওয়ায় অনলাইন ক্লাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, আজ রোববার সচিবালয়ে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে এক ব্রিফিং এ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের আগাম সতর্ক বার্তা পাওয়া যায়, এমন অ্যাপ তৈরি করা যায় কিনা বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য সংবাদ
ঢাবির মুহসীন হলে সংস্কার কাজ চলছে

ছবির উৎস, DU PRO OFFICE

ছবির ক্যাপশান, এর আগে তিন বার ভূমিকম্পের পর এই হলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলেও কখনো ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়নি।

গ্যাস কূপ খনন বন্ধ

সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব গ্যাস ক্ষেত্র রয়েছে, সেগুলোর গ্যাসকূপে আগামী মঙ্গলবার অর্থাৎ ২৫ শে নভেম্বর পর্যন্ত খনন কাজ ও সাইসমিক সার্ভে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

রোববার জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলার একটি সূত্র।

বাংলাদেশে এখন ২৯টি গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের একটি সূত্র জানিয়েছে, এই মুহূর্তে খনন কাজ চলমান রয়েছে তিনটি গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাসকূপে।

ভূমিকম্পের পর উদ্ভুত পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবেই খনন কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

রোববারের বৈঠকে তা আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

যেসব গ্যাসকূপের খনন কাজ বন্ধের কথা জানা গিয়েছে সেগুলো হলো কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় অবস্থিত শ্রীকাইল গ্যাসফিল্ড, হবিগঞ্জ গ্যাসফিল্ড এবং সিলেট গ্যাসফিল্ডের আওতাধীন কৈলাশটিলা গ্যাসকূপ।

বিশেষজ্ঞ দল ঢাবির মুহসীন হলে

ছবির উৎস, DU PRO OFFICE

ছবির ক্যাপশান, বিশেষজ্ঞ দল রোববার সকাল থেকেই ঢাবির মুহসীন হল এবং বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হল পরিদর্শন করেছেন।

ঢাবিতে হল খালি করে জমা দিতে হবে প্রতিটি রুমের চাবি

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

শুক্রবার পাঁচ দশমিক সাত মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আগামী ছয়ই ডিসেম্বর পর্যন্ত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, সাতই ডিসেম্বর থেকে ২২শে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বনির্ধারিত শীতকালীন ছুটি রয়েছে।

বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দলের মতামতের প্রেক্ষিতে ভূমিকম্প পরবর্তী আবাসিক হলসমূহের পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সামগ্রিক ঝুঁকি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার দরকার বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এই ঝুঁকি নিরূপণ ও সম্ভাব্য সংস্কারের স্বার্থেই আবাসিক হলগুলো খালি করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছে কর্তৃপক্ষ।

একইসাথে রোববার বিকেল পাঁচটার মধ্যে সকল আবাসিক হল খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয় গতকাল শনিবার।

ভূমিকম্প ও আফটার শকের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক আঘাত বিবেচনা এবং সার্বিক নিরাপত্তা স্বার্থে রোববারের সকল ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত রেখেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়।

তবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসগুলো খোলা থাকবে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভার্চুয়াল বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শতবর্ষের প্রাচীন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু হল পুরোনো এবং জরাজীর্ণ।

এর মধ্যে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ভেঙে পড়তে পারে এমন আতঙ্কে হল ছেড়ে বেরিয়ে আসে শিক্ষার্থীরা।

এর আগে তিন বার ভূমিকম্পের পর এই হলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলেও কখনো ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়নি।

এমন অবস্থায় পরদিনই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক বৈঠকে, ভূমিকম্প পরবর্তী পরিস্থিতি নিরীক্ষণ ও মূল্যায়নের জন্য বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দলের মাধ্যমে ওই হলের প্রত্যেকটি কক্ষসহ বিভিন্ন হলের পুরাতন ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অবিলম্বে পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এরই মধ্যে, বিশেষজ্ঞ দল রোববার সকাল থেকেই মুহসীন হল এবং বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হল পরিদর্শন করেছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।

পর্যায়ক্রমে অন্যান্য হলও পরিদর্শন করা হবে বলে জানান তিনি।

মি. ইসলাম জানান, আবাসিক হলের প্রতিটি রুমের চাবি হল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করার জন্য শিক্ষার্থীদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে বিশেষজ্ঞ দল প্রতিটি কক্ষ পরিদর্শন করতে পারেন।

কারিগরি মূল্যায়নের পর ভবন ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত হলে শিক্ষার্থীদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় হল নির্মাণের কাজ আগামী মার্চ মাসে শুরু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

নতুন হল নির্মাণের ক্ষেত্রে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

একইসাথে ঢাবির চিকিৎসা অনুষদের অধীনে চলমান এমবিবিএস পরীক্ষাগুলো আগামী ২৯শে নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, ঢাকা ডেন্টাল কলেজ, সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজসহ পঞ্চাশের বেশি প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের অধিভুক্ত।

নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়

ছবির উৎস, north south university

ছবির ক্যাপশান, পূর্ণাঙ্গভাবে চেক করে পরেই শ্রেণি কক্ষে সরাসরি ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা।

নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস

এদিকে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি ভবনে ভূমিকম্পের ফলে ফাটল দেখা গিয়েছে এরকম বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয়ের পরিচালক সৈয়দ মানসুর হাশিমের পাঠানো একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে তেমন কোন ত্রুটির প্রমাণ মেলেনি।

এতে বলা হয়েছে, " পুরো ক্যাম্পাস অনেকগুলো এক্সপ্যানশন জয়েন্ট ব্যবহার করে নির্মাণ করায় এই ভবনগুলো উচ্চমাত্রার ভূমিকম্প সহনশীল। ভূমিকম্পসহ প্রাকৃতিক নড়াচড়ায় ভবনের চাপ সহনীয় করতে নির্মাণের কৌশল হিসেবে - এক্সপ্যানশন জয়েন্ট ব্যবহৃত হয়।"

শুক্রবার ভূমিকম্প হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

একইসাথে, ভবন নিয়ে কোনো ধরনের ভুল ও অপতথ্য না ছড়ানো এবং প্রাকৃতিক দূর্যোগের মতো অনাকাঙ্খিত ঘটনায় সহযোগিতা চেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

তবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষে ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা।

"আজকে আমাদের অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে। কিছু ক্র্যাক হয়েছে কিন্তু এগুলা জয়েন্টের ক্র্যাক, যেগুলোতে আমাদের ইন্সপেকশন চলছে, শেষ হয়নি। টোটাল... এখনও পর্যন্ত ইন্সপেকশন শেষ করতে পারি নাই বিধায় আমরা অনলাইন ক্লাসের দিকে গেছি," বলেন এই কর্মকর্তা।

কিন্তু শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনলাইন ক্লাসের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি।

যে কোনো ধরনের ঘটনা বা দুর্ঘটনা প্রতিরোধে যেসব ভবনে ফাটল দেখা গেছে সেগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চেক করার পরেই শ্রেণিকক্ষে সরাসরি ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

তবে ঠিক কয়টি ভবনে ফাটল সে বিষয়ে তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

অনলাইন ক্লাস কতদিন চলবে এমন প্রশ্নে তিনি জানান, বিশেষজ্ঞ দলের পরিদর্শন শেষে অন্য দিন অনলাইন ক্লাস চলবে কিনা সে বিষয়টি শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটি ঘোষণা

দুই দিনে বেশ কয়েকটি ভূমিকম্পের ঘটনায় আতঙ্কজনক পরিস্থিতিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমে একদিনের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত হলেও পরে চার দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

রোববার ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত ছিল, পরে বিকেলে সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ছুটির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পরে ৩০শে নভেম্বর থেকে চৌঠা ডিসেম্বর পর্যন্ত অনলাইন ক্লাস পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আর সোমবার প্রতিটি বিভাগীয় শহরে নিজস্ব বাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পৌঁছে দেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

প্রতিষ্ঠানটির ফেইসবুক পেইজে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, " ২৪ নভেম্বর সকাল ১০টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র আবাসিক হল নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল ত্যাগের নির্দেশনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পরিচালিত হবে।"

স্কুল বন্ধের বিজ্ঞপ্তি

ছবির উৎস, Viqarunnisa Noon School

ছবির ক্যাপশান, অনিবার্য কারণবশত ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের রোববারের প্রথম থেকে নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা এবং একাদশ শ্রেণির কুইজ পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছিল।

আইডিয়েলসহ কয়েকটি স্কুলে ক্লাস, পরীক্ষা স্থগিত

ভূমিকম্প আতঙ্কে রাজধানীর বেশ কয়েকটি স্কুলে ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিতের খবর পাওয়া গেছে। আবার কোনো কোনো স্কুলে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তবে রাজধানীর অনেক সরকারি ও বেসরকারি স্কুল-কলেজে যথারীতি ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথাও জানা গেছে।

বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেই চলছে বার্ষিক পরীক্ষা।

অনিবার্য কারণবশত ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের রোববারের প্রথম থেকে নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা এবং একাদশ শ্রেণির কুইজ পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছিল।

প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগমের স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

তবে, কলেজ শাখার একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পাঠদান কার্যক্রম চালু রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ওই স্কুলের একজন অভিভাবক জানান, " বিজ্ঞপ্তিতে অনিবার্য কারণবশত স্কুল বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হলেও ভূমিকম্পের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শ্রেণি শিক্ষকদের সাথে কথা বলেছি, তারাই বলেছে। আজ হয়তো আবার রাতে সিদ্ধান্ত জানাতে পারে।"

এই অভিভাবকের দুই জন সন্তান স্কুলটির শিক্ষার্থী বলে জানান তিনি।

এদিকে, ন্যাশনাল আইডিয়েল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আইডিয়েল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আব্দুর রাজ্জাক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কডরোভা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলসহ বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই রোববার স্কুল বন্ধ রেখেছে।

তবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কারণ হিসেবে অনিবার্য কারণে ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিতের কথা জানানো হয়েছে অভিভাবকদের।

আইডিয়েল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বনশ্রী শাখার একজন অভিভাবক জানান, " শুক্রবার ভূমিকম্পের পর স্কুল থেকে পাঠানো টেক্সটে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বলেছে, আমরা একটি সংকটময় সময় অতিক্রম করছি এবং ভূমিকম্পে করণীয় কি কি সেরকম লেখা পড়ে নিজেকে নিরাপদ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।"

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই স্কুলের একজন শিক্ষক জানান, " ক্লাস, পরীক্ষার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্ত রাতে অভিভাবকদের টেক্সটের মাধ্যমে জানানো হবে।"

তবে, স্কুলগুলো শিক্ষার্থীদের পরবর্তী পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে পরামর্শ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা।

শুক্রবারের ভূমিকম্পের পর দুর্ঘটনার স্থান।

ছবির উৎস, EPA/Shutterstock

ছবির ক্যাপশান, বহুতল ভবনে থাকলে ড্রপ, কাভার, হোল্ড পদ্ধতি অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

ভূমিকম্পের আগাম সতর্কবার্তার অ্যাপ নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

ভূমিকম্প হলে করনীয় বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

১০ সেকেন্ড আগে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস পাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "ভূমিকম্প নিয়ে কোনো দেশে আর্লি ওয়ার্নিং(আগাম সতর্কতা) আছে কিনা আমার জানা নেই। কিন্তু আমাদের দেশে ওইরকম কোনো আর্লি ওয়ার্নিং দিতে পারে না।"

"তবে অনেক দেশ কিছু অ্যাপ তৈরি করেছে যার মাধ্যমে ভূমিকম্প সংঘটিত হওয়ার ১০ সেকেন্ড পূর্বে সতর্কতামূলক বার্তা জানানো হয়। আমাদের দেশেও এ ধরনের আগাম সতর্কতামূলক মোবাইল অ্যাপ চালু করা যায় কিনা সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে " বলেন মি. আলম।

রোববার সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

একইসাথে বিল্ডিং কোড বা ভবন নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণ না করলে ভবিষ্যতে অবস্থা আরো খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এছাড়া জলাশয় ভরাট করে ভবন নির্মাণের কারণে অনেক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অনেক এলাকায় উন্মুক্ত জায়গার অভাবে ভূমিকম্প হলে মানুষের দাঁড়ানোর স্থান নেই বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

তাই ভূমিকম্প প্রতিরোধে ভবনের প্ল্যান পাসের সময় রাজউককে নজর রাখার তাগিদ দেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

শুক্রবারের ভূমিকম্পে মোট ১০ জন মারা গেছেন।

এছাড়া সাড়ে চারশোর বেশি মানুষ আহত হয়েছে বলে জানিয়েছিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।

এদিকে, ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত না হয়ে কী করতে হবে সে বিষয়ে আট দফা নির্দেশনা দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।

ভূকম্পন অনুভূত হলে শান্ত ও স্থির থাকা এবং ভবনের নিচ তলায় থাকলে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেওয়া, বহুতল ভবনে থাকলে ড্রপ, কাভার, হোল্ড পদ্ধতি অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

এই প্রক্রিয়ায় ভূমিকম্প অনুভূত হলে প্রথমে নিচু হয়ে, শক্ত টেবিল বা ডেস্কের নিচে ঢুকে খুঁটি শক্ত করে ধরা অথবা কলামের পাশে, বিমের নিচে আশ্রয় নেয়ার পরামর্ম দেওয়া হয়েছে।

একইসাথে সম্ভব হলে বালিশ, কুশন বা এ জাতীয় বস্তু দিয়ে মাথা ঢেকে রাখতে হবে।

ভূমিকম্প চলাকালীন লিফট ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা এবং ভূমিকম্প থামার সাথে সাথে বৈদ্যুতিক ও গ্যাস সংযোগ দ্রুত বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।