পত্রিকা: 'বিএনপির ৮৩ শতাংশ প্রার্থী কোটিপতি, শতকোটি ৭ জন'

পত্রিকা

খবরে বলা হচ্ছে,আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদ দেখিয়েছেন ফেনী-৩ আসনের আবদুল আউয়াল মিন্টু।

স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তার সম্পদমূল্য ৫০৭ কোটি ৮০ লাখ ১৮ হাজার ১৭১ টাকা। স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়ালের সম্পদ যোগ করলে তা দাঁড়ায় ৬০৭ কোটি চার লাখ ৬৬ হাজার ৮৬৯ টাকা।

বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে এ রকম শতকোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক রয়েছেন আরও অন্তত ছয়জন। চট্টগ্রাম-৪ আসনের আসলাম চৌধুরী পেশা হিসেবে সাংবাদিকতা ও ব্যবসা দেখালেও তাঁর রয়েছে ৪৫৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকার সম্পদ।

এ ছাড়া জালাল উদ্দিনের (চাঁদপুর-২) ২২০ কোটি টাকা, জাকারিয়া তাহের সুমনের (কুমিল্লা-৮) ২০৪ কোটি, মো. সফিকুর রহমান কিরণের (শরীয়তপুর-২) ১৭৭ কোটি, হারুনুর রশিদের (চাঁদপুর-৪) ১৬০ কোটি ও সাইদ আহমেদের (শরীয়তপুর-১) ১৫০ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য মিলেছে। সারাদেশে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টিতে প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি।

সমকাল

খবরে বলা হচ্ছে, ক্রিকেটার মুস্তাফিজ ঝড় এখন খেলার মাঠ ছাড়িয়ে বাংলাদেশ-ভারতের রাজনীতির মাঠে। আইপিএলে বাংলাদেশের মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় উভয় দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে এখন চলছে পাল্টাপাল্টি।

বাংলাদেশ আর ভারতেই খেলতে যাবে না—সাফ জানিয়ে দেওয়ার পর এখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের খেলার সূচিই পরিবর্তন নিয়ে জোর আলোচনা। এদিকে বাংলাদেশ শুধু খেলতে যাওয়াই বাতিল করেনি; একই সঙ্গে বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচারও নিষিদ্ধ করেছে।

আগের দিন থেকেই বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) খেলা সম্প্রচার বন্ধের সম্ভাবনার কথা হচ্ছিল। তবে গতকাল সেটি বাস্তবতার মুখ দেখে ফেলল।

মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে 'জনস্বার্থে' এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

সরকারি সংস্থার তরফ থেকে এমন সিদ্ধান্ত আসায় মুস্তাফিজ এবং দুই দেশের ক্রিকেটকে ছাপিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্কই এখন রাজনৈতিক বৈরিতার দিকে মোড় নিয়েছে।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন
কালের কণ্ঠ
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

খবরে বলা হচ্ছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের অনেককে হত্যার পর ঢাকার বাইরে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে।

রাজধানীর পাশের জেলা মুন্সিগঞ্জে এ রকম একটি কবরস্থানের সন্ধান পেয়েছে গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকা থেকে গুম করে মানুষকে দক্ষিণাঞ্চলে নিয়ে হত্যার পর নদী ও সাগরে ফেলে দেওয়া হতো।

রাজধানীর গুলশানে গতকাল সোমবার সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় গুমসংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশন।

কমিশন বলেছে, গুমের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে ২৫১ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। প্রায় ২৫ শতাংশ গুমের অভিযোগের সঙ্গে র‍্যাব জড়িত, পুলিশ ২৩ শতাংশে। ডিবি , সিটিটিসি, ডিজিএফআই ও এনএসআই এসব গুমের সঙ্গে জড়িত ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে গুমসংক্রান্ত কমিশনের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের ভাগ্য নির্ধারণে কমিশন বিভিন্ন জেলায় সম্ভাব্য ক্রাইম সিন, তুলে নেওয়ার স্থান, আয়নাঘর ও রেখে দেওয়ার স্থান পরিদর্শন করেছে।

মুন্সিগঞ্জে বেওয়ারিশ লাশ দাফনের একটি কবরস্থান পাওয়া গেছে। সেখানে গুমের শিকার ব্যক্তিদের দাফন করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। সুরতহাল প্রতিবেদনে এটি প্রমাণিত হয়েছে।

আজকের পত্রিকা

খবরে বলা হচ্ছে, আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে শুরু হয়েছে ক্ষণগণনা। সে হিসাবে নির্বাচনের বাকি আছে আর ৩৬ দিন। এ দিনগুলো দেশের মানুষের জন্য স্বস্তির নাকি উৎকণ্ঠার হবে, তা নির্ভর করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আন্তরিকতার ওপর।

সরকারের হয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে কাজ করার কথা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। তবে পরবর্তী সরকার কে বা কোন দলের হবে, সে হিসাবনিকাশ শুরু হয়েছে পুলিশসহ বেসামরিক প্রশাসনে।

আর এ কারণেই কাজের চেয়ে আগামী সরকারের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছেন অনেকে। পুলিশ তথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রুটিন কিছু কাজ নিয়ে আছে। তবে রুটিন কাজ চললেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধিকাংশ কর্মকর্তা আড্ডায় পার করছেন সময়।

আরও পড়ুন
যুগান্তর

'বিদ্রোহী নিয়ে চিন্তিত শরিকরা সমাধানের আশ্বাস বিএনপি'র' মানবজমিনের শিরোনাম। খবরে বলা হচ্ছে, জোটসঙ্গীদের ছেড়ে দেওয়া প্রতিটি আসনেই বিএনপি'র হেভিওয়েট নেতারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।

শুধু জোটসঙ্গীদের আসন নয়, অন্তত শতাধিক আসনে ধানের শীষের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে রয়েছে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী। তবে নির্বাচনী মাঠে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন জোটের প্রার্থীরা।

এসব প্রার্থীকে প্রত্যক্ষভাবে মেনে নিতে অনীহা দেখা যাচ্ছে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যে। ফলে তারা নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে দ্বারস্থ হয়েছেন বিএনপি'র হাইকমান্ডের।

বিদ্রোহীদের ডেকে সমাধানের আশ্বাসও দিয়েছেন বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। ইতোমধ্যে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় দলের নয়জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিএনপি'র দলীয় সূত্র জানিয়েছে, রোববার ও সোমবার রাজধানীর গুলশান কার্যালয়ে বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করেন জোটসঙ্গীদের ছেড়ে দেওয়া আসনের প্রার্থীরা।

এরমধ্যে রয়েছেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ঢাকা-১২ আসনের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না।

মানবজমিন

'তারেকের ব্যয় নিজের টাকায়, শফিকুরের বড় অংশ দল থেকে' প্রথম আলোর শিরোনাম। খবরে বলা হচ্ছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্ভাব্য ব্যয় ৬০ লাখ টাকা। এই খরচ আসবে তার নিজস্ব আয় (কৃষি খাত ও ব্যাংক আমানত) থেকে।

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের নির্বাচনী ব্যয়ের বড় অংশ আসবে তার দলের তহবিল থেকে। আর নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের মূল ভরসা জনসাধারণ। মূলত ক্রাউড ফান্ডিং বা গণ-অনুদানের মাধ্যমে সংগ্রহ করা টাকায় নির্বাচনী ব্যয় সারবেন তিনি।

নির্বাচনে প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য অর্থ প্রাপ্তির সম্ভাব্য উৎসের বিবরণও দিতে হয়। সেখানে প্রার্থীরা সম্ভাব্য কোন উৎস থেকে নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য কত টাকা পেতে পারেন, তার বর্ণনা থাকে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইটে প্রার্থীদের হলফনামার পাশাপাশি নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য অর্থ প্রাপ্তির সম্ভাব্য উৎসের বিবরণও প্রকাশ করা হয়েছে।

একজন প্রার্থী নির্বাচনে সর্বোচ্চ কত টাকা ব্যয় করতে পারবেন, তা নির্বাচনী আইনে নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। আগে প্রার্থীদের সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা ছিল ২৫ লাখ টাকা। এবার এখানে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

প্রথম আলো

'আইএমএফের প্রেসক্রিপশন কাজ করছে না, মূল্যস্ফীতি আবার বাড়তে শুরু করেছে' বণিক বার্তার শিরোনাম। খবরে বলা হচ্ছে, সুদহার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের যে প্রেসক্রিপশন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে দেওয়া হয়েছিল, সেটি কাজে আসছে না। দেশে মূল্যস্ফীতি আবারো বাড়তে শুরু করেছে।

গত নভেম্বরের পর ডিসেম্বরেও মূল্যস্ফীতি বেড়ে প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে বলে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) থেকে জানানো হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি এমন এক সময় বাড়ছে যখন দেশের ডলার সংকট অনেকটা কেটে গেছে, ব্যালেন্স অব পেমেন্ট (বিওপি) উদ্বৃত্তের ধারায় ফিরেছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে এবং বিনিময় হারও স্থিতিশীল হয়েছে।

জ্বালানি তেলসহ ভোগ্যপণ্যের মূল্য বিবেচনায় সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সাল ছিল বৈশ্বিকভাবে স্বস্তির বছর। এ সময়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অনেকটা কমেছে। মূল্য কমেছে চাল, গম, সয়াবিন তেল, গুঁড়া দুধ, মসলাসহ বিভিন্ন পণ্যের।

দামের পাশাপাশি গত বছর সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ব্যয়ও কমেছে। যদিও বিশ্ববাজারে দাম ও পরিবহন ব্যয় কমার সুফল বাংলাদেশের মানুষ পায়নি। উল্টো আগের দুই বছরের মতো বিদায়ী বছরজুড়েও তাদের ভুগতে হয়েছে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে।

বণিক বার্তা

ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের শিরোনাম 'No women on tickets of 30 parties' অর্থাৎ '৩০টি দলের কোনো নারী প্রার্থী নেই'।

খবরে বলা হচ্ছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিযোগিতায় নারী প্রার্থীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টি দল কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি। নির্বাচন কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ ধরনের পরিসংখ্যান ব্যাপক ভারসাম্যহীনতা প্রকাশ করে। জনসংখ্যার অর্ধেক নারী হওয়া সত্ত্বেও, প্রার্থীদের মধ্যে তাদের উপস্থিতি এখনও সীমিত।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে দুই হাজার ৫৬৮ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ১০৯ জন নারী প্রার্থী। অর্থাৎ প্রার্থীদের মধ্যে মাত্র চার দশমিক ২৪ শতাংশ নারী। তাদের মধ্যে ৭২ জন দলীয় প্রার্থী, বাকিরা স্বতন্ত্র।

এক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের নাম সবার আগে আসে। দলটি ২৭৬টি আসনে মনোনয়ন দিয়েছে, যার মধ্যে কোনো নারী প্রার্থী নেই। ছোট-বড় বেশ কয়েকটি দলও কেবল পুরুষ প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছে। বিএনপিসহ কোনো দলই ১০ জনের বেশি নারীকে মনোনয়ন দেয়নি।

যে ২১টি দল নারীদের মনোনয়ন দিয়েছে, তাদের মধ্যে সংখ্যাটি খুবই সামান্য। জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের) এবং নতুন নিবন্ধিত বাসদ (মার্কসবাদী) নয়জন করে নারীকে মনোনয়ন দিয়েছে।

দ্য ডেইলি স্টার

ইংরেজি দৈনিক নিউ এজের শিরোনাম 'No respite from chaos on roads'.

খবরে বলা হচ্ছে, দেশের সড়ক পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা ও শৃঙ্খলাহীনতা ২০২৫ সালেও অব্যাহত ছিল। গত বছর মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যানবাহন, বিশেষ করে রিকশার সংখ্যা বৃদ্ধি এই খাতের দুর্দশায় প্রভাব ফেলেছে।

ট্রাফিক নিয়ম না মানার প্রবণতা, দুর্বল গণপরিবহন সুবিধা, রাস্তার বেহাল অবস্থা এবং অবকাঠামোতে ত্রুটিপূর্ণ নকশা ছিল এই খাতের অন্যান্য প্রধান উদ্বেগ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুর্বল প্রশাসন এবং মনোবল হারানো পুলিশ বাহিনীর কারণে অন্তর্বর্তী সরকার সড়ক শৃঙ্খলা অর্জনে লড়াই করে যাচ্ছে। ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া আকাশচুম্বী এবং অযৌক্তিক প্রকল্পের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, 'আমরা অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছি, কিন্তু ফলাফল মোটেও সন্তোষজনক নয়।'

আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাতের পর ২০২৪ সালের ৮ই অগাস্ট অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। সড়ক উপদেষ্টা মনে করেন, দেশের সড়ক পরিবহন খাতের সংকট মোকাবিলায় এই ১৫ থেকে ১৬ মাস যথেষ্ট ছিল না।

নিউ এজ

দেশ রূপান্তরের শিরোনাম 'বাসাবাড়িতে তীব্র গ্যাসের সংকট'।

খবরে বলা হচ্ছে, ঢাকার মিরপুর-১ নম্বর এলাকার বাসিন্দা চামেলী হক। তার বাসায় আগে মোটামুটি গ্যাস থাকলেও গত দুই মাস ধরে সংকট এতটাই বেড়েছে যে, রান্না করতে গিয়ে রীতিমতো তাকে যুদ্ধ করতে হচ্ছে।

তার ভাষায়, 'ভোরে ঘুম থেকেই উঠেই রান্না শুরু করি। দুই চুলার একটাতে কোনোমতে গ্যাস পাওয়া যায়। কিন্তু চাপ এতটাই কম যে, রান্না করতেই দুপুর গড়ায়। সারা দিন এখন রান্নাঘরেই কাটে। অন্যান্য কাজ ঠিকমতো করা যায় না।'

খানিকটা ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'গ্যাস না পেলেও প্রতি মাসে ঠিকই নির্ধারিত বিল দিতে হচ্ছে। এ অত্যাচার শেষ হবে কবে?'

চামেলী হকের মতো এমন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা গ্যাস সংকট নিয়ে চরম দুর্ভোগে পোহাচ্ছেন। বাসাবাড়ির পাশাপাশি সার-কারখানা এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও গ্যাস সংকট তীব্র হয়েছে।

তবে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ অগ্রাধিকার পাওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবারের শীতে কল- কারখানায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে বাসাবাড়িতে বিকল্প হিসেবে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) যারা ব্যবহার করতেন, তাদের সংকটও বেড়েছে। কারণ, বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার।

দেশ রূপান্তর

'শ্রমবাজার ও বেকারত্ব, সংখ্যার আড়ালে কাঠামোগত সঙ্কট' নয়াদিগন্তের শিরোনাম। খবরে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের শ্রমবাজার এক গভীর বৈপরীত্যের ভেতর দাঁড়িয়ে আছে। এক দিকে সরকারি পরিসংখ্যানে বেকারত্ব তুলনামূলক কম, শ্রমশক্তির আকার বড় এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দাবি অব্যাহত।

অন্য দিকে বাস্তব চিত্র বলছে– কাজের গুণমান খারাপ, নিরাপত্তা নেই, নারীরা শ্রমবাজার থেকে সরে যাচ্ছেন এবং তরুণদের বড় অংশ ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় আটকে পড়ছে।

২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে প্রকাশিত শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ (১৩তম আইসিএলএস অনুযায়ী) কেবল কিছু সংখ্যা নয়; এটি আসলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অর্থনীতি, উন্নয়ন মডেল ও সামাজিক কাঠামোর একটি আয়না।

এই আয়নায় তাকালে স্পষ্ট হয়– শ্রমবাজারে যে 'স্থিতিশীলতা' দেখা যাচ্ছে, তা মূলত কাঠামোগত সঙ্কট ঢেকে রাখার এক ধরনের পরিসংখ্যানগত আবরণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শ্রমশক্তি জরিপ স্পষ্ট করে জানায়– বাংলাদেশের শ্রমবাজারে সংখ্যাগত স্থিতি আছে; কিন্তু কাঠামোগত সুস্থতা নেই। এই বাস্তবতায় প্রয়োজন– শিল্প ও উৎপাদনমুখী কর্মসংস্থান, নারী ও যুবদের জন্য নিরাপদ ও লক্ষ্যভিত্তিক কাজ, অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমকে ধাপে ধাপে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় আনা, এবং সামাজিক সুরক্ষা ও শ্রম অধিকার কার্যকর করা।