আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
‘চিকিৎসাহীন দুর্বিষহ এক দিন মেলেনি জরুরি সেবাও’
সমকালের প্রধান শিরোনাম, ‘চিকিৎসাহীন দুর্বিষহ এক দিন মেলেনি জরুরি সেবাও’।
প্রতিবেদনে চিকিৎসকদের ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতির কথা বর্ণনা করা হয়েছে।
রোববার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনার বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে এই ধর্মঘটের ডাক দেন চিকিৎসকরা।
এ সময় হাসপাতালের টিকিট কাউন্টার থেকে শুরু করে বহির্বিভাগ, রোগ নির্ণয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ এমনকি জরুরি বিভাগেও চিকিৎসা দেয়া বন্ধ ছিল। দিনভর হয়নি কোনো অস্ত্রোপচার।
সকাল নয়টা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত ১০ ঘণ্টা সব ধরনের সেবা বন্ধ রেখেছিলেন চিকিৎসকরা। এতে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েন রোগীরা। চলে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে রোগী ও তাদের স্বজনের ছোটাছুটি।
ঢামেক হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে প্রতিদিন পাঁচ হাজারের বেশি রোগী আসেন। রোববার হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগের ভেতরে শতাধিক রোগীর অবস্থান।
চিকিৎসাসেবা না পেয়ে অনেকের ভেতরে আতঙ্ক। তার রোগীর কী হবে? বিপদ হবে না তো? জরুরি চিকিৎসা বন্ধ করে দেওয়ায়ও অনেকে ক্ষুব্ধ।
শুধু ঢাকা নয়, বাইরের সরকারি হাসপাতালগুলোতেও পরিস্থিতি ছিল কমবেশি একই রকম। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সব ধরনের চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেওয়া হয় দুপুর থেকে।
সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালেও সেবা বন্ধ করে দেন চিকিৎসকরা।
পরে নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত ও হামলাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আশ্বাসে সন্ধ্যায় সারাদেশে সব ধরনের চিকিৎসাসেবা বন্ধের ঘোষণা প্রত্যাহার করেন চিকিৎসকরা।
প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম, ‘ঢালাও আসামি করায় প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে মামলা’।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ছাত্র-জনতার আন্দোলন ঠেকাতে বিগত সরকারের পুলিশ ও কর্মীদের নির্বিচার গুলিতে মানুষ হতাহতের ঘটনায় একের পর এক মামলা দায়ের হচ্ছে।
এসব মামলায় ঢালাওভাবে আসামি করার ফলে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে মামলা। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
কোনো কোনো মামলায় শেখ হাসিনাসহ প্রায় চারশ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে।
মামলার আসামিরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা। কিছু মামলায় সাংবাদিকসহ আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন পেশার মানুষও রয়েছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে প্রথম আলোর হিসাব অনুযায়ী, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের গুলি, সংঘর্ষ ও বিভিন্ন ধরনের সহিংসতায় গত ১৬ জুলাই থেকে পহেলা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে কমপক্ষে ৭৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে শিক্ষার্থী, নারী, শিশু, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ ঘটনাস্থলে আবার কেউ চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরে হাসপাতালে মারা গেছেন।
নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের করা কোনো কোনো মামলায় ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষকে আসামি করা হয়েছে। স্থানীয় বিরোধের জেরেও কোনো কোনো ব্যক্তিকে অন্য অনেকের সঙ্গে মামলায় আসামি করার অভিযোগ আছে।
আইনবিশেষজ্ঞরা বলছেন, হত্যা মামলা করার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকতে হয়। কিন্তু যে মামলাগুলো হচ্ছে, তাতে বেশির ভাগ আসামির ক্ষেত্রে ‘হুকুমদাতা-নির্দেশদাতা’ উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ধরনের মামলা আদালতে টিকবে, এমন সম্ভাবনা কম। তাই ভুক্তভোগীরা যাতে ন্যায়বিচার পান, সে জন্য থানায় বা আদালতে মামলা নেওয়ার ক্ষেত্রে যাচাই–বাছাইয়ের বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে দিকনির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন।
নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম, ‘সংবিধানে সংস্কার আনতে হবে’।
প্রতিবেদনে মূলত, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অধিকার সংগঠন- রাইট টু ফ্রিডমের (আরটুএফ) ‘বাংলাদেশ : দ্য ওয়ে ফরওয়ার্ড’ শীর্ষক ওয়েবিনারে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন অভিমত তুলে ধরা হয়েছে।
সরকারকে জনআকাঙ্ক্ষার কথা মাথায় রেখে দেশে প্রয়োজনীয় সংস্কারের পাশাপাশি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্র তৈরির পরামর্শ রয়েছে তাদের।
এজন্যে ভেঙে পড়া সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংস্কারে অবিলম্বে কাজ শুরুর ওপর গুরুত্ব দিয়ে গুম, খুন এবং দুর্নীতির সাথে জড়িতদের সুষ্ঠু বিচারের আওতায় আনতে বলা হয়েছে।
একই সাথে সরকারের সংস্কার এজেন্ডা রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি ‘ন্যাশনাল চার্টার’ স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেয়া উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, রাষ্ট্র সংস্কার, অপরাধীদের বিচার এবং নির্বাচনকে অগ্রাধিকারে রাখলেও বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়ে কিভাবে সাড়া দিবে এটা গুরুত্বপূর্ণ।
পররাষ্ট্রনীতি সরকারের অনুকূলে থাকলেও ভারতের সাথে অংশীদারিত্বের সম্পর্ক কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। একই সাথে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা।
ওয়েবিনারে বক্তব্য রাখেন বক্তব্য রাখেন আরটুএফের প্রেসিডেন্ট অ্যাম্বাসেডর উইলিয়াম বি মাইলাম, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এবং উইলসন সেন্টারের সাউথ এশিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান।
ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম, ‘অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ অভিযান বুধবার থেকে’।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আগামী বুধবার থেকে যৌথ অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রোববার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করাহ হয়। এতে বলা হয়েছে, আগামী ৪ঠা সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
ইতোমধ্যে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এসব অস্ত্র ৩রা সেপ্টেম্বরের মধ্য সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেয়ারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
গত ৫ই অগাস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের খবরে সারা দেশের বিভিন্ন থানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে থানায় সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ লুট করে দুর্বৃত্তরা।
বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় বেশ কিছু অস্ত্র ও গোলাবারুদ। তবে সে সংখ্যাটাও খুবই নগণ্য।
এর ফলশ্রুতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দেয়।
দেশের বিভিন্ন স্থানে থানা, ফাঁড়ি ও পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুটের ঘটনায় দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে এমন আশঙ্কাও দেখা দেয়।
সেই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার কার্যক্রমসহ নিয়মিত টহল ও নজরদারি অব্যাহত রাখা হবে বলেও জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম, ‘শিক্ষাগুরুর সম্মানে টান’।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে সারা দেশে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের স্বেচ্ছায় পদত্যাগ ও পদত্যাগে বাধ্য করার হিড়িক পড়েছে।
শিক্ষকদের, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের হেনস্তা, মারধর, এমনকি টেনে চেয়ার থেকে তুলে দফতর থেকে বের করে দেওয়ার বেশ কিছু ঘটনাও ঘটেছে।
তবে ৫ই অগাস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর থেকে রোববার পর্যন্ত সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও বিদ্যালয়ের কত শিক্ষককে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে, তার হিসাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নেই।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হাতে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের এমন লাঞ্ছনার প্রতিবাদও হচ্ছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছেন জোরপূর্বক পদত্যাগ ও লাঞ্ছনার।
শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, শিক্ষক যদি সম্ভ্রম হারান, তাহলে তার আর কিছুই বাকি থাকে না। এতে পুরো শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, শিক্ষকদের জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করা ও হেনস্তা করার ঘটনা খুবই দুঃখজনক, অনভিপ্রেত। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা ফৌজদারি অপরাধ।
অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ক্লাসে যেতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। মারধর, লাঞ্ছনার ঘটনাও ঘটছে। এসব ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তাঁরা পারিবারিক, সামাজিকভাবে হেয় হচ্ছেন। এতে অনেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
নিউ এইজের প্রধান শিরোনাম, ‘Diarrhoea patients soar as floodwater recedes’ অর্থাৎ, ‘বন্যার পানি কমে যাওয়ায় ডায়রিয়ার রোগী বাড়ছে’।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বন্যাকবলিত ফেনী ও নোয়াখালী জেলায় বন্যার পানি কমতে শুরু করায় নিরাপদ খাবার পানির অভাবের মধ্যে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এতে হাসপাতালে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে।
ফেনীতে ডায়রিয়ার রোগীদের বেশির ভাগই শিশু এবং হাসপাতালে অনেক নার্সকে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হতে দেখা গেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দৈনিক বন্যা পরিস্থিতি প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে ১১টি ক্ষতিগ্রস্ত জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে সাত লাখ ছাড়িয়েছে।
এসব জেলায় আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৫৯ জনেই স্থির রয়েছে কারণ রোববার কোনও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। ফেনীতে সবচেয়ে বেশি ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে আটকে পড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষরা ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তার জন্য মরিয়া হয়ে অপেক্ষা করছেন।
বন্যায় এসব জেলায় কৃষি ও মাছের খামার, বাড়িঘর, মহাসড়ক ও রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য অবকাঠামো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
বন্যায় বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ। তাদেল অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন।
এদিকে ফেনী জেলার সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর ভিড়ে সয়লাব হয়ে গিয়েছে। এত রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।
বিভিন্ন উপজেলা হাসপাতালে মোট ১২২ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছেন, যাদের ৯০ শতাংশই শিশু।
দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর, ‘সরকারি কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব দেওয়ার নির্দেশ’।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার এবার সরকারি কর্মচারীদের সম্পদ বিবরণী দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে।
রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোখলেস উর রহমান এ নির্দেশনা দেন, যা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি আকারে গণমাধ্যমকর্মীদের জানানো হয়।
তবে কোন প্রক্রিয়ায় এবং কত দিনের মধ্যে সম্পদ বিবরণী জমা দিতে হবে, তা বলা হয়নি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সভা করে শিগগিরই বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
দেশে বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মচারী রয়েছেন। চাকরিজীবীর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পাঁচ বছর পরপর সম্পদ বিবরণী নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার বিধান থাকলেও তা কার্যকর নেই।
কর্মচারীদের নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর বা সংস্থারও হিসাব নেওয়ার ব্যাপারে গরজ দেখা যায় না। উল্টো হিসাব বিবরণী জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
নির্দিষ্ট সময় পরপর হিসাব বিবরণী জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে আচরণবিধিতেও। এ বিধান বাতিলসহ আরও কিছু প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করে তা আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়।
কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত না নিয়ে তা ঝুলিয়ে রাখে আইন মন্ত্রণালয়। এ অবস্থায় দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার কাজ শুরু করল অন্তর্বর্তী সরকার।
মানবজমিনের পেছনের পাতার খবর, ‘কারখানায় মিলছে মানুষের হাড়গোড়, এখনও নিখোঁজ ১২৯’।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর মালিকানাধীন গাজী টায়ার্স কারখানার ধ্বংসস্তূপ থেকে পাওয়া যাচ্ছে মানুষের পোড়া হাড়গোড়, কলিজা, মাথার খুলিসহ বিভিন্ন আলামত।
ঘটনার আটদিন পর নিখোঁজের স্বজনেরা কারখানা তল্লাশি করে এসব আলামত উদ্ধার করেছেন। পরে তা ফরেনসিকের জন্য সংশ্লিষ্ট স্থানে পাঠিয়েছে পুলিশ।
এদিকে পুরো প্রতিষ্ঠান তল্লাশি চালানোর দাবি উঠেছে নিখোঁজদের পরিবারের পক্ষ থেকে।
রোববার নিখোঁজদের তালিকা প্রস্তুত ও ঘটনার সূত্রপাত উদঘাটনে আয়োজিত গণশুনানিকালে এসব মালামাল উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।
এদিকে ১২৯ জন নিখোঁজের তালিকা লিপিবদ্ধ করেছেন তদন্ত কমিটি।
ত ২৫ আগস্ট গাজী টায়ার্স কারখানায় আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। টানা ৩২ ঘণ্টার আগুনে সেখানে সব পুড়ে অঙ্গার হয়ে যায়।
ভবন ও লোহার অবকাঠামোও যে কোনো সময় ধসে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়ায় বুয়েট বিশেষজ্ঞের মতামতে গত ৩০ আগস্ট থেকে উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখা হয়।
অবশ্য শুনানি চলাকালে কয়েকজন অতিরিক্ত ঝুঁকি নিয়ে কারখানার ভেতরে ঢুকে যায়। সেখান থেকে তারা মানুষের পোড়া অঙ্গপ্রত্যঙ্গ উদ্ধার করেন। সেগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, যেহেতু মানুষের পোড়া অংশবিশেষ পাওয়া গেছে তাই নিখোঁজের ব্যাপারটি গুজব নয়। আমরা যে কোন পক্রিয়ায় আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু করবো।