রুশ সেনা-ঘাঁটিতে ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কয়েকশ' নিহতের দাবি

ইউক্রেনের সেনাবাহিনী দাবি করছে তারা পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্কে এক রকেট আক্রমণ চালিয়ে কয়েক শত রুশ সৈন্যকে হত্যা করেছে।

ইউক্রেন নিহতের সংখ্যা প্রায় ৪০০ বলে দাবি করলেও রুশ কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের ৬৩ জন সৈন্য নিহত হয়েছে।

এসব সংখ্যা নিশ্চিতভাবে যাচাই করা যায়নি। দোনেৎস্কের রুশ-সমর্থক কর্তৃপক্ষ হতাহতের কথা স্বীকার করলেও প্রথম দিকে কোন সংখ্যা নিশ্চিত করেনি।

রুশ অধিকৃত মাকিইভকা শহরে একটি স্কুল ভবনে – যা রুশ সৈন্যরা একটি ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছিল – ইউক্রেনীয় রকেটটি আঘাত হানে।

সোমবার রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইউক্রেনীয় বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া হিমার্স রকেট সিস্টেম ব্যবহার করে ৬টি রকেট নিক্ষেপ করে তবে দুটি রকেট গুলি করে ভূপাতিত করা হয়।

এতে বলা হয়, আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু ছিল একটি ভবন যাতে রুশ সৈন্যরা থাকতো। একজন রুশ কর্মকর্তা বলেন, এটি ছিল এক বড় আঘাত।

দোনেৎস্কের একজন রুশ সমর্থক কর্মকর্তা দানিল বেজসোনভ বলেছেন, নতুন বছর শুরুর দিনে মধ্যরাতের দু’মিনিট পরই ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানে।

টেলিগ্রাম মেসেজিং এ্যাপে পোস্ট করা এক বার্তায় তিনি বলেন, আক্রমণে হতাহতের সংখ্যা এখনো গণনা করা হচ্ছে।

কিছু রুশ ভাষ্যকার এবং ব্লগার আক্রমণের কথা স্বীকার করেছেন, তবে তারা আভাস দেন যে নিহতের সংখ্যা যত দাবি করা হচ্ছে তার চেয়ে কম।

রুশ অনুষ্ঠান উপস্থাপক ভ্লাদিমির সলোভিয়ভ টেলিগ্রামে এক বার্তায় বলেন, অনেক প্রাণহানি হয়েছে - তবে তা “৪০০-র ধারেকাছেও নয়।“

তবে রুশপন্থী ভাষ্যকার ইগর গিরকিন বলেন, নিহতের সংখ্যা শত শত, যদিও সঠিক সংখ্যা এখনো অজানা কারণ অনেকে এখনো নিখোঁজ রয়েছে। ভবনটি প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে, এবং এতে গোলাবারুদ মজুত করা ছিল বলে ক্ষতি আরো বেশি হয়েছে বলে তিনি জানান।

ইউক্রেনের সেনাবাহিনী দাবি করেছে যে তাদের আক্রমণে ৪০০ নিহত ও আরো ৩০০ জন আহত হয়েছে।

কিয়েভের ওপর পাল্টা রকেট ও ড্রোন হামলা

মি. গিরকিন আরো জানান যে আক্রমণের শিকার সৈন্যদেরকে সম্প্রতি রুশ বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

"ভবনের পাশেই কোন ঢাকনা ছাড়া সামরিক সরঞ্জাম রাখা ছিল এবং তার প্রায় সবই ধ্বংস হয়ে গেছে" - টেলিগ্রামে লেখেন তিনি।

মি. গিরকিন একজন সুপরিচিত সামরিক ব্লগার এবং ২০১৪ সালে তিনি পূর্ব ইউক্রেনে রুশ সমর্থক বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সম্প্রতি তিনি এমএইচ১৭ নামের মালয়েশিয়ান বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় তার ভূমিকার জন্য দোষী সাব্যস্ত হন।

মাকিভকায় এই আক্রমণের কয়েকঘন্টার মধ্যেই রুশ হামলার শিকার হয় কিয়েভ।

গত রাতে কিয়েভে জরুরি অবকাঠামো লক্ষ্য অনেকগুলো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রুশ বাহিনী।

অবশ্য ইউক্রেনীয় বাহিনী দাবি করছে, তারা ইরানে-তৈরি ৩৯টি শাহেদ ড্রোনের সবগুলোকেই গুলি করে ভূপাতিত করেছে।

তবে কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎস্কো বলেছেন, রুশ ড্রোন আক্রমণে বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটেছে।

ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ একটি রুশ ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে যাতে রুশ ভাষায় “শুভ নববর্ষ” লেখা দেখা যায়।

গত কিছুদিনে রাশিয়া ইউক্রেনের রাজধানীর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইরানে-তৈরি ড্রোন দিয়ে অনেকগুলো আক্রমণ চালিয়েছে।