পুলিশ কর্মকর্তার রাজনৈতিক বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক, পরিবর্তন কি কেবল পোশাকেই সীমাবদ্ধ?

ছবির উৎস, BTV
- Author, তারেকুজ্জামান শিমুল
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, ঢাকা
- পড়ার সময়: ৬ মিনিট
"বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে ১৮ বছরে একের পর এক পদ বঞ্চনা, অপমান, বৈষম্য আর মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। কিন্তু শত প্রতিকূলতার মধ্যেও আমি জাতীয়তাবাদী আদর্শ থেকে একচুলও বিচ্যুত হইনি," পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) রেজাউল করিম মল্লিকের এমন বক্তব্য নিয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মহলে নানান আলোচনা-সমালোচনা হতে দেখা যাচ্ছে।
চাকরিতে কর্মরত অবস্থায় সরকারি একজন কর্মকর্তা নিজের রাজনৈতিক আদর্শ তুলে ধরে এ ধরনের বক্তব্য দিতে পারেন কি-না, সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। একইসঙ্গে, পুলিশ বাহিনী আবারও দলীয়করণের দিকে ঝুঁকছে কি-না, সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।
"এ ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য আমরা দিতে দেখতাম ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে। গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতন ঘটার পর ওই সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আসবে বলে আমরা আশা করেছিলাম। কিন্তু নতুন রাজনৈতিক সরকারের সময় আবারও একই ঘটনা ঘটার বিষয়টা অত্যন্ত হতাশাজনক ও দুঃখজনক ব্যাপার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন।
সাবেক সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকাশ্যে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে ডিআইজি মি. মল্লিক সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।
"এটা বাহিনীর অন্য সদস্যদের এক ধরনের রঙ মেসেজ বা ভুল বার্তা দিচ্ছে। এটা পুলিশকে নিরপেক্ষ বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার যে প্রচেষ্টার কথা সরকার বলছে, সেই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান।
যদিও পুলিশ সদর দফতর বলছে, ডিআইজি মল্লিকের রাজনৈতিক বক্তব্যের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং সেটা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
কিন্তু বিভাগের পক্ষ থেকে কোন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি-না বা নিলে ঠিক কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি।

ছবির উৎস, BTV
আর কী বলেছিলেন ডিআইজি?
ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিকের যে বক্তব্য ঘিরে সমালোচনা ও বিতর্ক হতে দেখা যাচ্ছে, সেটি তিনি দিয়েছিলেন পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষ্যে সোমবার ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে।
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
বক্তব্যের শুরুতে মি. মল্লিক জানান, প্রায় তিন দশকের চাকরি জীবনে তিনি বার বার পদবঞ্চনা, বৈষম্য, অপমান আর মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
"প্রায় ২৯ বছরের চাকরি জীবনে এই প্রথমবার আপনার (প্রধানমন্ত্রীর) কার্যালয়ে আসার সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত। জীবনে দীর্ঘ বঞ্চনা, কষ্ট, অপমান আর অপেক্ষার ইতিহাসের বিপরীতে আজকের মুহূর্তটি আমার কাছে সুন্দরতম প্রাপ্তি," বলেন মি. মল্লিক।
তিনি দাবি করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ছাত্রদলের রাজনীতর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।
"জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম বিধায় চাকরি জীবনের শুরুতেই মাত্র ১৭ মাসের মাথায় ১৯৯৮ সালে আমার ব্যাচ থেকে শুধু আমাকেই তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার অব্যাহতি দেয়।"
"এরপর সাড়ে চার বছর অপমান আর সীমাহীন মানসিক যন্ত্রণা বয়ে বেড়িয়েছি। সমাজ, আত্মীয়-স্বজন এমনকি নিজের পরিবারের কাছেও নিজেকে অসহায় মনে হতো," বলেন ঢাকা রেঞ্জের এই ডিআইজি।
এরপর ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার হস্তক্ষেপে চাকরি ফিরে পান বলে জানান মি. মল্লিক।

ছবির উৎস, NurPhoto via Getty Images
"এরপর পেশাগত জীবনে নিষ্ঠা, সততা আর নিরপেক্ষতার সাথে চাকরি করে গেলেও বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের ১৮ বছরে একের পর এক পদ বঞ্চনা, অপমান, বৈষম্য আর মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। কিন্তু শত প্রতিকূলতার মধ্যেও আমি জাতীয়তাবাদী আদর্শ থেকে একচুলও বিচ্যুত হইনি," বলেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।
তিনি এটাও দাবি করেন যে, শৈশবে স্কুলে পড়ার সময়েই বিএনপি'র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে দেখে তিনি দলটির আদর্শ ও রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন। মি. রহমানের মৃত্যুর খবরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।
সেইসঙ্গে এটাও দাবি করেন যে, তার জীবনের কঠিন সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আশ্বাস ও স্নেহ তাকে "নতুন করে বেঁচে থাকার শক্তি দিত"।
বক্তব্য প্রদানকালে পুলিশের ডিআইজি মি. মল্লিক প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপার্সনকে "মাদার অব ডেমোক্রেসি" এবং "আপসহীন দেশনেত্রী" হিসেবে উল্লেখ করেন।
সাধারণত বিএনপি'র দলীয় নেতাকর্মীরাই খালেদা জিয়াকে এসব উপাধিতে বর্ণনা করে থাকেন।
মি. মল্লিক যখন এমন বক্তব্য দেন তখন তার পেছনে মঞ্চে বসে ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এছাড়াও ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

ছবির উৎস, AFP via Getty Images
'অশনি সংকেত'
আওয়ামী লীগ সরকারের টানা দেড় দশকের শাসনামলে পুলিশসহ প্রশাসনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে দলীয়করণ এবং রাজনৈতিক স্বার্থে প্রশাসনকে ব্যবহার করার অভিযোগ আছে।
তখন বিভিন্ন সময় পুলিশসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে, এমনকি নৌকার পক্ষে ভোট চাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে, যা নিয়ে সমালোচনাও হতে দেখা যায়।
"ওইসব নানান ঘটনায় আওয়ামী লীগ সরকার ও পুলিশ-প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে, যার বর্হিপ্রকাশ আমরা দেখেছি পাঁচই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
হাসিনা সরকারের পতনের পর পুলিশসহ প্রশাসনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে ঢেলে সাজানো এবং দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার দাবি ওঠে।
এ লক্ষ্যে ডজনখানেক সংস্কার কমিশনও গঠন করা হয়, যারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে মৌলিক ও গুণগত পরিবর্তন আনার জন্য নানান প্রস্তাবনা জমা দেন।
সেখানে পুলিশ বাহিনীর ওপর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে একটি স্বতন্ত্র পুলিশ কমিশন গঠনের সুপারিশ করা হয়।
একইসঙ্গে, রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ বন্ধ করে পুলিশ বাহিনীকে নিরপেক্ষ ও জনবান্ধব করে গড়ে তোলা, প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ও পুলিশের আচরণে পরিবর্তন আনা, পোশাক ও মনোগ্রাম পরিবর্তনসহ আরও বেশকিছু সুপারিশ করা হয়।

ছবির উৎস, Getty Images
"এর মধ্যে মৌলিক পরিবর্তন আনার জন্য তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হত পোশাক পরিবর্তনকে। অথচ সেই সুপারিশটাই আগে বাস্তবায়ন করা হয়েছে, বাকিগুলোর বিষয়ে তেমন কোনো উৎসাহ দেখা যাচ্ছে না," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
"ফলে পুলিশের সদস্যরা আবারও আগের মতো ধীরে ধীরে ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্যসহ অন্যান্য অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন," যোগ করেন তিনি।
এর মধ্যে আবার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মুখে রাজনৈতিক বক্তব্য উচ্চারিত হওয়াকে 'অশনি সংকেত' হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
"গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশকে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ এবং জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার যে গণদাবি উঠেছিল, সেটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সোমবারের এই ঘটনা আমি বলবো অবশ্যই একটি অশনি সংকেত," বলছিলেন মানবাধিকারকর্মী মি. লিটন।
পুলিশে দলীয়করণ বন্ধ করা না গেলে পরিস্থিতি আবারও খারাপের দিকে যাবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
"অতি উৎসাহী এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে থামানো না গেলে পুলিশ বাহিনী আবারও আগের মতো দলীয় উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে শুরু করবে। তখন আরেকটি গণঅভ্যুত্থানের প্রয়োজন দেখা দিবে," বলেন মি. লিটন।

ছবির উৎস, NurPhoto via Getty Images
কী বলছে সরকার?
ডিআইজি মি. মল্লিক যখন রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
কিন্তু কেউই মি. মল্লিককে থামাননি, এমনকি পরে বক্তব্য প্রদানকালে বিষয়টি নিয়ে কথাও বলেননি।
"তাদের উচিৎ ছিল ডিআইজিকে থামিয়ে সতর্ক করে দেওয়া। কারণ প্রশাসনে দলীয়করণের ফল কী হতে পারে এবং কতটা ভয়ঙ্কার হতে পারে, বিরোধীদলে থাকাকালে বিএনপি নিজেই সেটি ভালোভাবে দেখেছে," বলছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মি. মোরশেদ।
পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধনের পর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেও গত রোববার ঘোষণা দেন যে, পুলিশ বাহিনী কোনো দলের হয়ে কাজ করবে না।
"ফ্যাসিবাদী সরকার নিজেদের হীন স্বার্থে পুলিশ বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল। সেই অন্ধকার সময় পেরিয়ে এখন সময় এসেছে নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার। জনগণের বিশ্বাস অর্জনই এখন পুলিশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ," বলেন তারেক রহমান।
"পুলিশ কোনো দলের অনুগত হবে না, বরং প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে," যোগ করেন তিনি।

ছবির উৎস, BBC/SAUMITRA SHUVRA
কিন্তু বাস্তবতা হলো প্রধানমন্ত্রী এমন ঘোষণা দেওয়ার তিন দিনের মাথায় আরেক অনুষ্ঠানে একজন ডিআইজি তার সামনে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন।
"প্রধানমন্ত্রী যদি তখনই ওই কর্মকর্তাকে থামাতেন এবং সতর্ক করে দিতেন, তাহলে একটা নতুন নজির স্থাপিত হন। এখনও যদি ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাহলে বোঝা যাবে সরকার পুলিশকে নির্দলীয় ও জনবান্ধব বাহিনী করে গড়ে তোলার ব্যাপারে কতটা আন্তরিক," বলেন টিআইবি'র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
এদিকে, সরকারি কর্মচারীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়ার বিষয়ে স্পষ্ট বিধি-নিষেধ রয়েছে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালায়।
বিধিমালার পঁচিশ নম্বর ধারায বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দলের বা তাদের অঙ্গসংগঠনের সদস্য হতে পারবেন না। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কোনোভাবে যুক্ত হতে বা কোনো প্রকারে অংশগ্রহণ বা সহযোগিতা করতে পারবেন না।
সেখানে আরও বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী আইন পরিষদ নির্বাচনে কোনো প্রকার প্রচারণা অথবা অন্য কোনোভাবে হস্তক্ষেপ বা প্রভাব প্রয়োগ অথবা অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
কেউ এসব বিধি ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
কিন্তু রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও অভিযুক্ত ডিআইজি'র বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।
"বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তর আমাদের নজরে এসেছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে," বিবিসি বাংলাকে বলেন সংস্থার মুখপাত্র এ এইচ এম শাহাদত হোসাইন।







