'বড় প্রকল্পের আয়ে উঠছে না পরিচালন ব্যয়, ভর্তুকি দিয়ে কিস্তি শোধ'

আজ বণিক বার্তার প্রধান খবর— বড় প্রকল্পের আয়ে উঠছে না পরিচালন ব্যয় ভর্তুকি দিয়ে কিস্তি শোধ । খবরে বলা হয়েছে, কক্সবাজারে নতুন রেলপথ, ঢাকায় মেট্রোরেল, চট্টগ্রামে টানেল ও পদ্মা সেতু সংযোগ রেলপথ—এই চার বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণের টাকায়।

গত দুই বছরের মধ্যে চালু হওয়া এসব প্রকল্পের আয়ের চেয়ে পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেশি। এর মধ্যে যুক্ত হয়েছে ঋণ পরিশোধ ব্যয়। চার প্রকল্পে ঋণের পরিমাণ প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকা।

সুদ ছাড়া বছরে গড় কিস্তি দিতে হচ্ছে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। আয় থেকে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান না হওয়ায় ঋণ পরিশোধে সরকারকে দিতে হচ্ছে ভর্তুকি।

অন্তর্বর্তী সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, বিশেষ করে কর্ণফুলী টানেল ও পদ্মা সেতু রেল সংযোগ বর্তমান সরকারের বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে, সময় গড়ানোর সাথে সাথে চট্টগ্রামে টানেলের আয় ও ব্যয়ের পার্থক্য ধীরে ধীরে কমে আসবে এবং এক সময় লাভজনক অবস্থায় চলে যাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পদ্মা রেল প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য উচ্চাভিলাষী প্রাক্কলন করা হয়েছে। পণ্য পরিবহনকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা উচিত ছিল।

নাগরিকত্ব ছাড়ার হার বাড়ছে — আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম এটি। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশিরা নানা কারণে নাগরিকত্ব ত্যাগ করে অন্য দেশের নাগরিকত্ব নিচ্ছেন। এছাড়া, বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বহাল রেখে দ্বৈত নাগরিকত্ব নেওয়ার হারও বাড়ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ছয়ই নভেম্বর পর্যন্ত দুই হাজার ৬০৬ জন বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছেড়েছেন।

এই আট বছরে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়েছেন ১৪ হাজার ৬৮৫ জন।

মূলত দেশের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের কারণে নাগরিকত্ব ত্যাগের হার বাড়ছে বলে পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন।

গত আট বছরে যারা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছেড়েছেন, তাদের মধ্যে জার্মানির নাগরিকত্ব নেওয়ার হার সবচেয়ে বেশি। এর পরে আছে দেশটির প্রতিবেশী অস্ট্রিয়া, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া। এই সময়ে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছেড়ে ৪০টির বেশি দেশের নাগরিকত্ব নিয়েছেন বাংলাদেশিরা।

এছাড়া, ১৯৮৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৩৩ হাজার ৮৭৫ জন বাংলাদেশির দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়েছেন, সংখ্যায় যা চার হাজার ১৩৩।

3 surprise picks sworn in as advisers — এটি দ্য ডেইলি স্টারের প্রধান শিরোনাম। উপদেষ্টা পরিষদে তিন চমকের কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। অন্তর্বর্তী সরকারে আরও তিন উপদেষ্টা যুক্ত হওয়ার সংবাদটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত সব পত্রিকায় এসেছে আজ।

চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, আকিজ বশির গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেখ বশির উদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম গতকাল রোববার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন। এ নিয়ে উপদেষ্টার সংখ্যা বেড়ে ২৪ হলো।

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, সেখ বশির উদ্দিনকে বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। গতকাল রাত পর্যন্ত মাহফুজ আলমকে কোনো মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়নি।

এছাড়া, প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার তিনজন বিশেষ সহকারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারা হলেন পুলিশের সাবেক আইজি খোদা বখশ চৌধুরী, ড. সায়েদুর রহমান ও অধ্যাপক এম আমিনুল ইসলাম।

তিন উপদেষ্টা শপথ নেয়ার পর দফতর পুনর্বন্টন হয়।

অক্টোবরে রফতানি আয় বেড়েছে ২০.৬৫ শতাংশ— নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার একটি খবরের শিরোনাম এটি।

গত অক্টোবরে রপ্তানি আয় ২০ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়ে ৪ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে যা ছিল ৩ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার।

এর মধ্যে অক্টোবরে বরাবরের মতো পোশাক খাত থেকে সর্বোচ্চ রফতানি আয় এসেছে ৩ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার। যা গত বছরের চেয়ে ২২.৮০ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবরের মধ্যে রপ্তানি ১০ দশমিক ৮০ শতাংশ বেড়ে ১৫ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৪ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবরে মাসে তৈরি পোশাক খাতেও বাড়ে রপ্তানি আয়। যা ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১২ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলার হয়েছে।

গত বছর একই সময়ে এটি ছিল ১১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার।

দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর— শেখ হাসিনাকে ধরতে রেড নোটিস জারি হচ্ছে। এ খবরে বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্টে গণহত্যার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিদেশে থাকা পলাতকদের ধরতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘রেড নোটিস’ জারি হচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের আইন ও বিচার উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল গতকাল রোববার এ তথ্য জানান।

আসিফ নজরুল বলেন, ‘‘যে খুনিগোষ্ঠী জুলাই-আগস্টে গণহত্যা চালিয়েছে, যারা পালিয়ে আছে, তাদের ধরার জন্য আমরা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারি করতে যাচ্ছি।

তারা যেখানেই থাকুক না কেন, আমরা তাদের গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশে নিয়ে আসার জন্য সর্বোচ্চ পদক্ষেপ ও সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করব।’’

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, আসিফ নজরুলসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযোগ দায়েরের বিষয়েও কথা বলেছেন তিনি।

তার দাবি, বিশ্ব জনমতকে বিভ্রান্ত করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে আবেদন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের এ অভিযোগ সরকার আমলে নিচ্ছে না।

বেক্সিমকোর ব্যবস্থাপনায় ‘রিসিভার’ নিয়োগ— প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম এটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বেক্সিমকো গ্রুপে ‘রিসিভার’ নিয়োগ দিয়েছে। এই রিসিভারের কাজ হবে গ্রুপের সব প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।

হাইকোর্টের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের গতকালের সভায় রিসিভার নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়। যদিও রিসিভার নিয়োগে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছে বেক্সিমকো গ্রুপ। এ বিষয়ে আজ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গতকালকের সভায় পাচার করা অর্থ উদ্ধার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক আইনি অথবা অর্থ উদ্ধার প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়ারও সিদ্ধান্ত হয়। একই সভায় ডাক বিভাগের ডিজিটাল আর্থিক সেবা ‘নগদ’–এর কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে ফরেনসিক নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত হয়।

বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এখন কারাবন্দী। তার মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো দেশের পোশাক রপ্তানি ও ওষুধ উৎপাদনে শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি।

জিরো পয়েন্টে ঘেঁষতেই পারেনি আ. লীগ— কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার শিরোনাম এটি।

শহীদ নূর হোসেন দিবসকে ঘিরে ঢাকার জিরো পয়েন্টে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিলেও নির্ধারিত সময়ে সেখানে দলটির নেতাকর্মীদের তেমন দেখা মেলেনি। তাদের এ কর্মসূচি ঠেকাতে পুরো এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা শক্ত অবস্থানে ছিল।

তবে রাজধানীর কিছু এলাকায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতাকর্মীকে ঝটিকা মিছিল করতে দেখা গেছে।

আওয়ামী লীগ ও মহিলা লীগের কয়েকজন জিরো পয়েন্টের নূর হোসেন চত্বরে যেতে চেয়েছিলেন। তবে তাদেরকে চেনে ফেলে ছাত্র-জনতা ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। দু’জন নারীসহ অন্তত ২০ জনকে পিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এছাড়া, গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে যাকেই আওয়ামী লীগ কর্মী বলে সন্দেহ হয়েছে তাকেই হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে।

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর প্রথমবারের মতো তাদের রাজপথের কর্মসূচি ছিল এটি।

বিভিন্ন সময়ে দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিচ্ছে সরকার। শিগগিরই দেওয়া হবে এই নিয়োগ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গতকাল রোববার এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। যোগ্য প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ে বিশ্বব্যাংক ও যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা নেবে বাংলাদেশ।

একই সঙ্গে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে আলাদা একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হবে।

এদিকে, গতকাল প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার ডেরেক লো। বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে এ সময় সহায়তা চান প্রধান উপদেষ্টা।

প্রায় এক ঘণ্টার আলোচনায় অধ্যাপক ইউনূস রাষ্ট্রদূতকে বলেন, বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুরসহ অনেক দেশে প্রচুর অর্থ পাচার হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সিঙ্গাপুরের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে বেশি অর্থ পাচার হওয়া দেশগুলো হলো যুক্তরাজ্য, কানাডা, সংযুক্ত আরব আমিরাত। পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে এরই মধ্যে এসব দেশের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট।

সড়ক ছাড়েনি পোশাক শ্রমিকরা ৩০ কারখানায় ছুটি ঘোষণা— সংবাদের প্রধান শিরোনাম এটি।

গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে পোশাক শ্রমিকদের অবরোধ গতকাল রোববারও ছিল। গত শনিবার সকাল সাড়ে নয়টা থেকে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা।

টানা ত্রিশ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে টানা অবরোধের কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। আঞ্চলিক সড়কে এর প্রভাব পড়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ।

গাজীপুরের বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা তাদের বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে এই বিক্ষোভ করছেন। তারা জানিয়েছেন,বারবার মালিক পক্ষ থেকে বেতন পরিশোধের আশ্বাস দেয়া হলেও তা মানা হয়নি। তাই এবার বেতন ছাড়া তারা মহাসড়ক ছাড়বেন না।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আশপাশের ৩০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করছে।