‘বাংলাদেশের শ্রমবাজারে অশনি সংকেত’

‘বাংলাদেশের শ্রমবাজারে অশনি সংকেত’ মানবজমিন পত্রিকার প্রথম পাতার সংবাদ। এতে বলা হয়েছে যে বন উজাড়, কার্বন নির্গমনের ঝুঁকি এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্টগত কারণ দেখিয়ে মালয়েশিয়ার পাম তেলের আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

ইইউ’র দেওয়া এই নিষেধাজ্ঞার উপর মামলা করেছিলো দেশটি। কিন্তু বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা’র (ডব্লিউটিও) একটি প্যানেল কর্তৃক চলতি মাসের শুরুতে দেয়া মামলার রায়ে পরাজিত হয়েছে মালয়েশিয়া।

গত কয়েক বছর ধরে, বিশেষ করে করোনা মহামারীর পর থেকে নানাবিধ কারণে দেশটির পাম অয়েল খাতে উৎপাদনে ঘাটতি ছিলো, ফলে বিদেশি শ্রমিকের সংখ্যায়ও আগের চেয়ে কমেছে। তবে চলতি বছর শ্রমিক ঘাটতি কমানোর জন্য আবার বহির্বিশ্ব থেকে শ্রমিক নিয়োগ করছিলো মালয়েশিয়া।

কিন্তু পাম তেলে ইইউ’র এই নিষেধাজ্ঞার পর মনে করা হচ্ছে যে রাতারাতি তাদের শ্রমিক ঘাটতি কমবে না। এমনিতে বাংলাদেশিদের রিমান্ডসহ মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার নানা অভিযোগে জর্জরিত থাকলেও বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর অনেক মানুষ শ্রমিক হিসেবে মালয়েশিয়া যায়, গিয়েছে। তাই, মালয়েশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশের শ্রমবাজারেও পড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

‘ঢাকায় বৈধ রেস্তোরাঁ আছে মাত্র ১৩৪টি’, এটি প্রথম আলো’র প্রথম পাতার খবর। এখানে বলা আছে, সরকারের সব সংস্থার প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও ছাড়পত্র নিয়ে ঢাকায় রেস্তোরাঁ ব্যবসা করছে মাত্র ১৩৪টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকায় রয়েছে ১২৮টি রেস্তোরাঁ।

ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি ঢাকা জেলায় পাঁচটি উপজেলা রয়েছে। সাভার, ধামরাই, কেরানীগঞ্জ, দোহার ও নবাবগঞ্জ—এই পাঁচ উপজেলার মধ্যে শুধু সাভারের ৬টি রেস্তোরাঁর লাইসেন্স রয়েছে।

যদিও আইন অনুযায়ী, রেস্তোরাঁ ব্যবসা করতে হলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় থেকে অনুমতি ও লাইসেন্স নেওয়ার পাশাপাশি কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন ও সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে, ক্ষেত্রবিশেষে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ও ছাড়পত্র নিতে হয়।

‘২০ মাস ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে বাংলাদেশ’– বণিক বার্তার প্রথম পাতার এই প্রতিবেদনে বলা আছে যে গত অর্থবছরের পুরো সময়ে বাংলাদেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি নয় শতাংশের ওপরে ছিল। কিন্তু চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসেও এ ঊর্ধ্বমুখিতা বজায় থাকতে দেখা গেছে।

সব মিলিয়ে টানা ২০ মাস ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করায় নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি মধ্যবিত্তের জীবনযাপনও কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশের অর্থনীতিতে তিন দশকে আর কখনই এত দীর্ঘসময় উচ্চ মূল্যস্ফীতি স্থায়ী হতে দেখা যায়নি।

তবে বাংলাদেশের বর্তমান মূল্যস্ফীতির পেছনে স্থানীয় কারণের চেয়ে বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে বেশি দায়ী করছে সরকার। বলা হচ্ছে, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা ও ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিয়েছে।

ওই সময় প্রায় বাংলাদেশ ও বিশ্বের অন্যান্য দেশে একসাথে মূল্যস্ফীতি বাড়তে শুরু করে। এরপর ২০২২ সালেই বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম আবার কমতে শুরু করে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসা শুরু। কিন্তু দেশের বাজারে এখনও এর কোনও প্রভাব দেখা যায়নি, বরং সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে।

‘Reverse migration rises twentyfold in five years’– পাঁচ বছরে শহর থেকে গ্রামে ফিরে যাওয়ার হার বেড়েছে বিশ গুণ। এটি দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার প্রথম পাতার খবর।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’র সর্বশেষ সমীক্ষা অনুযায়ী, একসময় যারা জীবন ও জীবিকার তাগিদে শহরমুখী হয়েছিলো, তাদের অনেকেই এখন ক্রমবর্ধমান ব্যয়, নিরাপত্তাহীনতা ও চাকরির অভাবের কারণে শহর থেকে নিজ নিজ গ্রামে স্থানান্তরিত হচ্ছে।

বিবিএস সারা দেশের তিন লাখেরও বেশি পরিবারের ওপর জরিপ করেছে এবং জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে যে ২০২৩ সালে প্রতি এক হাজার জনের মধ্যে ১৩ দশমিক ৮ জন মানুষ গ্রামে ফিরে এসেছে। ২০১৯ সালে এই ধরনের অভিবাসন বা স্থানান্তর প্রায় ২০ গুণ বেড়েছে।

‘নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে খাদ্যাভাস বদলেছে ৭০ ভাগ পরিবারের’, এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। এতে বলা হয়েছে, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে ৭০ শতাংশ পরিবার অনিচ্ছাকৃতভাবে তাদের খাদ্যাভ্যাসের ধরন পরিবর্তন করেছে।

তবে মূল্যস্ফীতির চাপ ছাড়াও খাদ্যভাস পরিবর্তনের পেছনে কৃষি উপকরণের উচ্চ মূল্য, ফসল, গবাদি পশুর রোগ, পরিবারের সদস্যের উপার্জন হ্রাস, বন্যা, ফসলের কম দাম ইত্যাদির প্রভাব ছিল। তবে শুধু খাদ্যভাসেই পরিবর্তন না, এর ফলে মানুষের সঞ্চয় কমে গেছে এবং ঋণ গ্রহণ করতে হচ্ছে।

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) এবং ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের এক যৌথ সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

‘ধর্মীয় শিক্ষায় আগ্রহ বাড়ছে’, এটি মানবজমিন পত্রিকার প্রথম পাতার খবর। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’র (বিবিএস) এক প্রতিবেদনের তথ্যের ভিত্তিতে এখানে বলা হয়েছে যে তিন বছরের ব্যবধানে মাদ্রাসা শিক্ষায় দুই দশমিক ৩১ শতাংশ শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পেয়েছে।

একই সময়ে সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ কমেছে ২ দশমিক ২৫ শতাংশ।

শিক্ষাবিদদের মতে, অর্থনৈতিক দুরবস্থার মধ্যেই সাধারণ শিক্ষায় খরচ বৃদ্ধি ও নানা সময়ে শিক্ষাক্রমে সংস্কারের ফলে বিভ্রান্তির কারণে অভিভাবকদের মধ্যে সাধারণ শিক্ষার প্রতি অনীহা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষায় খরচ কম হওয়ায় অনেকে এই শিক্ষা বেছে নিচ্ছে।

আড়ালে ৪০% ‘অলস তরুণ’– দেশ রূপান্তর পত্রিকার এই খবরে বলা হয়েছে দেশের যেসব তরুণদের বয়স ১৫ থেকে ২৪ বছরের মাঝে, তাদের প্রায় ৪০ শতাংশই এখন অলস বসে আছেন।

বর্তমানে দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর দুই তৃতীয়াংশই তরুণ। কিন্তু কোনও কাজের সাথে সম্পৃক্ত না হয়ে ঘরে বসে থাকায় তারা এখন দেশের সম্পদ না হয়ে বোঝাতে পরিণত হচ্ছে।

স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকসের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, দেশের মোট ৩৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ ‘তরুণ কিন্তু অলস’ জনগোষ্ঠীর কোনও শিক্ষা, প্রশিক্ষণ কিংবা কাজ নেই। আর, এদের অধিকাংশই নারী। ছেলেদের মাত্র ১৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ অলস, আর মেয়েদের মধ্যে এই হার ৬০ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

‘সরকারের নানা পদক্ষেপেও বাগে নেই চালের বাজার’, এটি সমকাল পত্রিকার প্রথম পাতার খবর। এতে বলা হয়েছে– সারাদেশে অভিযান, কোটি টাকার বেশি জরিমানা, এর পর শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা, সবশেষ ৩০ প্রতিষ্ঠানকে ৮৩ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি দেওয়ার পরও চালের চাম এখনও চড়া।

রমজানে বেশির ভাগ নিত্যপণ্যের বাড়তি দরে এমনিতেই সাধারণ মানুষ দিশেহারা। তার মাঝে গত এক সপ্তাহে সব ধরনের চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপদে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতারা।

তবে দাম বাড়ানোর এই প্রতিযোগিতায় যারা কলকাঠি নাড়ছেন, তারা একে অন্যের ঘাড়ে দায় চাপাচ্ছেন। খুচরা ও পাইকাররা দুষছেন মিলারদের। তারা বলছেন, রোজার সময় বাজারে চালের ক্রেতা থাকে কম। তাই দামও স্বাভাবিক থাকার কথা। তবে বাজারে সেই চিত্র নেই। তাদের দাবি, কোনও কারণ ছাড়াই মিলগেটে বস্তাপ্রতি চালের দর ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।

অন্যদিকে মিলারদের দাবি, ধান সংকট। এ জন্য তারা দায়ী করছেন মৌসুমি মজুতদারদের। তাদের ভাষ্য, কৃষকের কাছ থেকে কম দরে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ধান কিনে রেখেছেন। ফলে কৃষকের কাছে ধান নেই। মিলারা বাধ্য হচ্ছেন বেশি দামে মজুতদারের কাছ থেকে ধান কিনতে।

‘পেনশনের টাকা নিতে সরকার মরীয়া’, এটি আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার একটি খবর। এতে বলা হয়েছে, সর্বজনীন পেনশন স্কিমে নাগরিকদের সাড়া নেই, প্রত্যাশা অনুযায়ী চাঁদা জমা পড়ছে না।

স্কিম চালুর ছয় মাস হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ২৭ হাজার মানুষ হিসাব খুলেছেন। এ অবস্থায় পেনশন স্কিমে সর্বস্তরের জনগণকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তৎপর হয়ে উঠেছে সরকার।

এ জন্য প্রচারে জোর দেওয়া হচ্ছে। পেনশন স্কিম বাস্তবায়নে ১৪টি নির্দেশনা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। তার মাঝে উল্লেখযোগ্য হলো- সিনেমা হলগুলোতে শো শুরুর আগে ও মধ্যবিরতিতে পেনশন স্কিমের ভিডিও দেখাতে হবে, স্থানীয় কেবল টিভি নেটওয়ার্কে এ সম্পর্কিত টিভি স্ক্রল দিতে হবে। এমনকি, মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও এ নিয়ে আলোচনা করতে বলা হয়েছে।

‘১৪ দলে ভাঙনের সুর’, এটি কালের কণ্ঠ পত্রিকার প্রথম পাতার সংবাদ। এতে বলা হয়েছে, ১৪ দলের প্রধান শরিক আওয়ামী লীগের কাছ থেকে ‘উপেক্ষা’র শিকার হয়ে যে যার মতো পথ চলার নীতি নিয়েছে শরিক দলগুলো। তারা মনে করছে, এখন আর ১৪ দল কার্যকর নেই।

তবে শরিকরা কেউই নিজে থেকে জোট ছাড়ার ঘোষণা দেবে না। তারা যে যার সামর্থ্য অনুসারে নিজেদের মতো করে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করবে। ১৪ দলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতা কালের কণ্ঠকে এমনটা জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

‘বিনিয়োগে ভাটা গ্রামীণ শিল্পে’- এটি নয়া দিগন্ত পত্রিকার একটি খবর। এতে বলা হয়েছে যে জাতীয় পর্যায়েই শুধু বিনিয়োগ কমছে না, পল্লী এলকার ক্ষুদ্র শিল্পেও বিনিয়োগে ভাটা পড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান মতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) এ খাতে (নন-ফার্ম রুরাল ক্রেডিট) বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ঋণাত্মক প্রায় ৮ শতাংশ।

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, শহরের চেয়ে গ্রামে অবকাঠামোর সুবিধা কম। শহরে যে হারে বিদ্যুৎ বিতরণ করা হয়, গ্রামে ওই হারে বিদ্যুৎ বিতরণ করা হয়না। এর বাইরে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগবিমুখীতো রয়েছেই। সবমিলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগে ভাটা পড়েছে।

‘ভয়াবহ যানজটের শঙ্কা’- এটি যুগান্তরের প্রথম পাতার একটি খবর। এখানে বলা হয়েছে, ভাঙাচোরা ও সরু সড়ক, সড়ক সম্প্রসারণ ও নানা অব্যবস্থাপনার কারণে ঈদযাত্রায় বাড়িফেরা মানুষের এবারও যানজটের ভয়াবহ দুর্ভোগ পোহাতে হতে পারে।

ঈদযাত্রায় একত্রে অনেক মানুষ সড়কে নেমে পড়ার কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এসব কারণ চিহ্নিত, বছরের পর বছর সরকারের বিভিন্ন স্তরের নীতিনির্ধারকদের বৈঠকে আলোচনা হয়, সিদ্ধান্ত হয়, কিন্তু সমাধান হয় না। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে প্রতিবছর আনন্দের ঈদযাত্রা দুর্ভোগে পরিণত হয়।