চট্টগ্রামে নিখোঁজ শিশু আয়াতকে হত্যার বর্ণনা দিলো পিবিআই

ছবির উৎস, Getty Images
চট্টগ্রামের ইপিজেড এলাকা থেকে গত ১৫ই নভেম্বর নিখোঁজ হয়েছিল শিশু আয়াত। ১০ দিনে পর শুক্রবার জানা যায়, হত্যা করা হয়েছে আয়াতকে। আর মরদেহ ছয় টুকরো করে আলাদা ব্যাগে ভরে নালায় ফেলে দেয়া হয়েছে।
আর এসব বর্ণনাই দিয়েছে তাকে অপহরণের অভিযোগ গ্রেফতার আবির নামের একজন। বিবিসি বাংলাকে এতথ্য জানিয়েছে এ ঘটনার তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশের তদন্ত বিভাগ পিবিআই।
তবে এখনো নিহত শিশু আয়াতের মরদেহ উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা জানান, আবিরকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করলে আয়াতকে হত্যা এবং হত্যার পর তার মরদেহ ফেলে দেয়ার বিষয়গুলো স্বীকার করেছে সে।
গত ১৫ নভেম্বর বিকেল থেকে নিখোঁজ হয় আয়াত নামের ওই শিশু। এঘটনায় স্থানীয় পুলিশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তার পরিবারের সমস্যরা।
এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও শিশু আয়াতের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা বেশ আলোচিত হয়।
নাইমা সুলতানা বলেন, আয়াতের নানা তাদের কাছে গত ১৫ই নভেম্বর জিডি করার পরে আসেন এবং জানান যে, তারা একটি শিশুকে খুঁজে পাচ্ছেন না।
এরপর শিশুটিকে কেন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, সেই অ্যাঙ্গেল নিয়ে কাজ করা শুরু করে পিবিআই। যার জের ধরে পুরো ঘটনা উদঘাটিত হয়।
পিবিআই বলছে, গ্রেফতারকৃত আবির হত্যাকান্ডের শিকাড় আয়াতদের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতো।
মূলত তার বাবা-মায়ের সাথে বিচ্ছেদ হওয়ার পর বাবার সাথে আয়াতদের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠে সে।
তবে, নিমতলা আকমল আলী রোডে তার মায়ের বাসাতেও যাতায়াত ছিল তার।
কিভাবে হত্যা করা হয়?
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা ঘটনার বিস্তারিত বলেন।
তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেলে আসরের নামাজের ২৫-৩০ মিনিট আগে আয়াত দাদার হাত ধরে মাদ্রাসায় পড়তে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়।
তবে হাতে বেশ খানিকটা সময় থাকায় বাড়ির সামনেই পাশের আরো কয়েক শিশুর সাথে তাকে খেলা করার জন্য ছেড়ে দেন আয়াতের দাদা।
পুলিশের তদন্তের সময় আয়াতের সাথে ওই সময়ে যে শিশুরা খেলছিল তারা জানায় যে, আয়াতদের ভাড়াটিয়া আবির নামে ওই যুবকের কোলে উঠতে দেখেছে তারা।
এরপর আবিরের গতিবিধি লক্ষ্য করতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ। সেখানে দেখা যায়, আবির একটা ব্যাগ নিয়ে হচ্ছে। ওই ব্যাগে কী ছিল তা বের করতে গিয়েই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উন্মোচিত হয়।
মিজ সুলতানা বলেন, ওই ব্যাগের মধ্যে আসলে আয়াতের লাশ ছিল যেটিকে নিয়ে যাচ্ছিল আবির নামের ওই যুবক।
তিনি জানান, আয়াতকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করতে চাইছিলো সে। তবে তার কাছে শিশুটিকে গোপন করে রাখার কোন ব্যবস্থা না থাকার কারণে অপহরণের দিন অর্থাৎ ১৫ই নভেম্বরই মেরে ফেলে তাকে।
এরপর তার মরদেহ একটি ব্যাগে ভরে সেটি নিমতলা আকমল আলী রোডে তার মায়ের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে মরদেহটি ছয় টুকরা করে দুটি আলাদা স্থানে ফেলে দেয়।
“বডিটাকে ছয় খন্ড করা হইছে, দুইটা অংশে ফেলা হইছে ১৬ তারিখ সকাল বেলা। আজ ২৫ তারিখ। ”

ছবির উৎস, social Media/Facebook
মরদেহের এক অংশ ইপিজেড এলাকায় সমুদ্র পাড়ের একটি নালায় ফেলা হয়েছে। সেই নালাটি সমুদ্রের সাথে যুক্ত এবং সেখানে জোয়ার ভাটা হয়।
আর অন্য অংশটি সাগরে ফেলে দেয়া হয়েছে।
মিজ সুলতানা বলেন, এতোদিন পর মরদেহের টুকরা পাওয়াটা কষ্টকর হয়ে যায়। আর যে পলিথিনের ব্যাগে করে দেহাংশগুলো ফেলে দেয়া হয়েছিল সেগুলো আকারে বেশ ছোট।
“বাচ্চাটাও তো ছোট, তার পাঁচ বছর বয়স হয় নাই,” বলেন পিবিআইয়ের এই পুলিশ কর্মকর্তা।
জোয়ার ভাটা থাকার কারণে ব্যাগগুলো খুঁজে পাওয়া কষ্টকর হচ্ছে জানিয়ে মিজ সুলতানা জানান, তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ভারতীয় টেলিভিশন ক্রাইম শো, ক্রাইম পেট্রোল আর সিআইডি দেখেই অভিযুক্ত আবির এমন অপরাধের পরিকল্পনা সাজিয়েছিল বলে জানায় পিবিআই।
“তারমধ্যে ধারণা জন্মেছিল যে মুক্তিপণ চাওয়া যায় এবং পাওয়াও যায়।”
এ ঘটনায় মুক্তিপণ আদায় করতে সে একটি মোবাইল ফোন ও একটি সিম ব্যবহার করার চিন্তা করেছিল। ওই সিমটি সে ছয়মাস আগে কুড়িয়ে পেয়েছিল বলে জানায় পুলিশ।
পিবিআই বলছে, গত ছয় মাস ধরে সে কোন মোবাইল ফোন ব্যবহার না করার কারণে তার কাছে যে মোবাইল ফোন ও সিম ছিল সেগুলো কনফিগারেশন বা ব্যবহার উপযোগী করতে পারেনি।
যার কারণে পরিকল্পনামাফিক শেষমেশ আর মুক্তিপণ চাইতে পারেনি।
“টেকনিক্যাল জ্ঞানটা তার স্ট্রং ছিল না।”








