ঘূর্ণিঝড় মোখার আঘাত আজ, বিএনপি’র বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা আর মা দিবসের নানা খবর

যুগান্তরের প্রধান খবর “সিডরের মতো ভয়ংকর মোখা”। প্রতিবেদনে এই ঘূর্ণিঝড় সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দেয়া হয়েছে যেমন, ঝড়টি ঘণ্টায় ২৪১ কিলোমিটার গতিতে উপকূলে আঘাত হানতে পারে।
শনিবার রাত ৯টায় এটি অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় থেকে সুপার সাইক্লোনে পরিণত হয়। সঙ্গে থাকবে জলোচ্ছ্বাস, এদিন কক্সবাজার এবং এর আশপাশের দ্বীপ ও চরে ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেত জারি করেছে।
উপকূলবর্তী আরও ১১টি জেলা এবং আশপাশের দ্বীপ ও চরে জারি করা হয়েছে ৮ নম্বর মহাবিপৎসংকেত। ঘূর্ণিঝড়টি নাফ নদীর মোহনা দিয়ে স্থলভাগে উঠতে পারে বলে দেশ বিদেশের আবহাওয়া পূর্বাভাসকারী বিভিন্ন সংস্থার মডেলে দেখা গিয়েছে।
যুগান্তরের মত বাংলাদেশ থেকে ছাপা হওয়া আজকের সবক'টি দৈনিকের শিরোনাম এবং প্রথম পাতায় প্রাধান্য পেয়েছে ঘূর্ণিঝড় মোখার খবর।
যেমন প্রথম পাতাজুড়ে খবর ছাপিয়েছে দেশ রূপান্তর। তাদের শিরোনাম “চূর্ণ করা ঘূর্ণি”। খবরে বলা হচ্ছে, বঙ্গোপসাগরের আন্দামান এলাকায় লঘুচাপের প্রভাবে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় মোখা প্রবল শক্তি নিয়ে এগিয়ে আসছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্ক কেন্দ্রের সূত্রমতে, আজ রবিবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে এটি উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এ সময় ১০ থেকে ১২ ফুট জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ‘ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হবে। এতে ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
মোখাকে ঘিরে প্রথম আলোর ভিন্ন আঙ্গিকের প্রধান শিরোনাম “তিন বিপদ নিয়ে আসছে মোখা”। খবরে বলা হচ্ছে, মোখার কারণে তিনটি বিপদের কথা বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর—বাতাসের তীব্র গতি, জলোচ্ছ্বাস ও ভূমিধস।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
ঘূর্ণিঝড় মোখার নানা দিক নিয়ে কালের কণ্ঠকে সাক্ষাতকার দিয়েছেন কানাডার সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক পিএইচডি গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ। খবরের শিরোনাম “শক্তিতে মোখা ২৯ এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড়ের কাছাকাছি”।
সাক্ষাৎকারে মি. কামাল মোখাকে শক্তির দিক দিয়ে ১৯৯১ সালের ২৯শে এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড়ের সাথে তুলনা দিয়েছেন। সেটি নোয়াখালী ও ভোলা জেলায় আঘাত করেছিল। কিন্তু মোখা আঘাত করবে কক্সবাজার উপকূলে।
ঘূর্ণিঝড় মোখার খবরের বাইরে অন্য যেসব খবর গুরুত্ব পেয়েছে তার মধ্যে, ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের পেছনের পাতার খবর, “Nationwide BNP rallies start from May 19”।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আসন্ন নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং "মিথ্যা মামলায়" দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানির প্রতিবাদে ১০ দফা দাবিতে ১৯শে মে থেকে দেশব্যাপী সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।
ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর, “দক্ষিণ এশিয়ায় খেলাপি ঋণে দ্বিতীয় বাংলাদেশ”। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে খেলাপি ঋণের হারে শীর্ষে রয়েছে শ্রীলঙ্কা।
এর পরের অবস্থান বাংলাদেশের, খেলাপি ঋণ প্রায় ৯ শতাংশ। আর সবচেয়ে কম খেলাপি ঋণের দেশ নেপাল। দেশটির খেলাপি ঋণ ২ শতাংশের কম।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের আঞ্চলিক অর্থনৈতিক আপডেটে এসব কথা বলা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দিয়ে প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর, “নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী দেশের কাছ থেকে কিছুই কিনব না”। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী কোনো দেশের কাছ থেকে কিছু কেনা হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেছেন, ‘বর্তমানে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যাদের দিয়ে আমরা জঙ্গিবাদ নির্মূল করি, তাদের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
আমরা একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি বলেছি যে যারা নিষেধাজ্ঞা দেবে, তাদের কাছ থেকে আমি কিছু কিনব না।’ শনিবার ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইইবি) পাঁচ দিনব্যাপী ৬০তম কনভেনশন উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বণিক বার্তার প্রধান খবর, “প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাহত এলএনজির ভাসমান সরবরাহ ব্যবস্থা”। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে ১২ মে রাত থেকে বন্ধ রয়েছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ।
ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সাগরে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনাল সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
এলএনজি সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোয় উৎপাদন কমেছে। লোডশেডিং হচ্ছে ঘন ঘন।
গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ নেই শিল্প-কারখানায়। আবাসিকে গ্যাসের সংকট তীব্র। সিএনজি স্টেশনগুলোয়ও ছিল গ্যাস নিতে আসা যানবাহনের ভিড়।
একই বিষয়ে সমকালের প্রথম পাতার খবর, “বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদনে ধস, চরম দুর্ভোগে মানুষ”।

বিদেশি কারাবন্দীদের নিয়ে ভিন্ন ধরণের খবর নিউ এইজের প্রথম পাতায়, যার শিরোনাম “Dozens of foreigners in jail after serving out term”।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, কারা অধিদফতরের মতে, বাংলাদেশের কারাগারগুলোয় বড় সংখ্যক বিদেশী নাগরিক রয়েছে, যাদের বেশিরভাগই ভারতীয়।
তাদের দেশের তরফ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেয়ার কারণে কারাগারে তাদের সাজার মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও বছরের পর বছর ধরে এখনও অনেক বন্দী হয়ে আছেন।
অন্যান্য খবর
মা দিবসকে ঘিরে যুগান্তরের পেছনের পাতার খবর “মাকে ভালবাসি বলার দিন”। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আজ বিশ্ব মা দিবস। মাকে জড়িয়ে ধরা-ভালোবাসি বলার বিশেষ দিন।
দেশ রূপান্তরের পেছনের পাতার খবর “কোট গাউন পরতে হবে না বিচারক আইনজীবীদের”। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে চলমান তাপদাহের কারণে অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে মামলার শুনানির সময় বিচারক ও আইনজীবীদের কালো কোট এবং গাউন পরতে হবে না।
প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী শনিবার সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারপতিদের সঙ্গে আলোচনা করে নিম্ন আদালতে মামলা শুনানিকালে পরিধেয় পোশাকের বিষয়ে এই সিদ্ধান্ত দেন।
কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর, “কমেছে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে লোডশেডিং” কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাসমান দুটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বন্ধ রাখায় এর প্রভাব পড়েছে সারা দেশে।
ঘূর্ণিঝড় মোখার ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে গত শুক্রবার রাতে এই এলএনজি টার্মিনাল দুটি থেকে সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে গ্যাসস্বল্পতায় কমে গেছে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন।
রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য অঞ্চলে ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। গ্যাসের অভাবে বাসাবাড়িতে জ্বলছে না চুলা, কমেছে শিল্পের উৎপাদন।

মোখার প্রভাব নিয়ে নিউ এইজের প্রথম পাতার খবর, “All edn instts in several districts to remain closed today”। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে রবিবার থেকে চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার।
একই কারণে ছয়টি বোর্ডে রবিবার ও সোমবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘূর্ণিঝড়ের জন্য রবিবার সারাদেশে নির্ধারিত সমস্ত পরীক্ষাও বাতিল করেছে।
ভারত মহাসাগর সম্মেলনকে ঘিরে সমকালের খবর, “সমুদ্র শৃঙ্খলায় আইনের শাসনে গুরুত্ব আরোপ”।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, মাছ শিকার, সম্পদ আহরণ, দূষণ, জলদস্যু রোধসহ সমুদ্রে সার্বিক শৃঙ্খলা ফেরাতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় জোর দিতে বলেছে ষষ্ঠ ভারত মহাসাগর সম্মেলনে (আইওসি) অংশ নেওয়া দেশগুলো।
একই সঙ্গে জাতিসংঘের সমুদ্রবিষয়ক আইন আনক্লজকে মান্য ও ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল ফর দ্য ল অব দ্য সি বা ইটলসকে আরও কার্যকর করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।











