পশ্চিমবঙ্গে ভোট গ্রহণ দু'দফায়, যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নজরে থাকবে

    • Author, রূপসা সেনগুপ্ত ও প্রচেতা পাঁজা
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, কলকাতা ও দিল্লি
  • পড়ার সময়: ৭ মিনিট

পশ্চিমবঙ্গ সহ চারটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে রোববার। পশ্চিমবঙ্গে আগামী ২৩ এবং ২৯শে এপ্রিল ভোট নেওয়া হবে, ভোট গণনা চৌঠা মে।

দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে রোববার আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ একথা ঘোষণা করেছেন।

পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও আসাম, তামিলনাডু, কেরালা আর কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল পন্ডিচেরিতেও বিধানসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে।

আসাম, কেরালা, তামিলনাডু ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল পন্ডিচেরিতে ভোট নেওয়া হবে নয়ই এপ্রিল, তামিলনাডুর ভোট ২৩শে এপ্রিল। চৌঠা মে এই চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোট গণনা হবে বলে জানানো হয়েছে।

এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার ভোট নেওয়া হয়েছিল আট দফায়। তবে এবারে আগে থেকেই জল্পনা চলছিল যে অত বেশি দফায় ভোটগ্রহণ নাও হতে পারে।

রোববারের সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে এনিয়ে নানা প্রশ্নও করেন জাতীয় সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিকরা।

ওই সংবাদ সম্মেলনে মি. কুমার জানিয়েছেন, চারটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিলিয়ে প্রায় ১৭.৪ কোটি ভোটার রয়েছে। সব মিলিয়ে ৮২৪টা আসনের জন্য ২.১৯ লক্ষ বুথে ভোট গ্রহণ হবে।

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন (এসআইআর) বা বিশেষ নিবিড় সংশোধনের প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি।

কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে ৬০ লক্ষেরও বেশি নাম বিবেচনাধীন অবস্থায় রয়েছে। এই আবহে কীভাবে ভোট হবে সে বিষয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছিল বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।

গত কয়েক মাস ধরে এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও ছিল তুঙ্গে। তবে রোববারের সাংবাদিক বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমার আবারো বলেছেন, "কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না। একইভাবে কোনো অবৈধ ভোটারের নাম তালিকায় থাকবে না।"

ভোট ঘোষণা এবং এসআইআর নিয়ে বিতর্কের মাঝে শনিবার কলকাতা সফরে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ব্রিগেডের জনসভা থেকে মূলত তৃণমূলকে নিশানা করলেও বাম ও কংগ্রেস জমানা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি।

ওইদিন তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। তার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ঘোষণা করা হল ভোটের দিনক্ষণ।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী অবশ্য আগেই ইঙ্গিত করেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সভার পরই ঘোষণা হতে পারে ভোটের তফসিল।

কত আসনে ভোট এবং কত দফায়

পশ্চিমবঙ্গের সপ্তদশ বিধানসভার মেয়াদ আগামী সাতই মে শেষ হতে চলেছে। তার আগে রাজ্যের ২৯৪টি আসনে ভোট হতে হবে।

অতীতে সাত থেকে আট দফায় ভোট গ্রহণ হলেও আসন্ন ভোটে যে তা হবে না তার আগেই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। ভোটগ্রহণের দিন ঘোষণার আগে চারটি রাজ্য ও পন্ডিচেরি সফরে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছিলেন মি. কুমার ও নির্বাচন কমিশনের 'ফুল বেঞ্চ'।

রোববার পশ্চিমবঙ্গে দুই দফায় ভোটের ঘোষণার পর মি. কুমারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, "কমিশন মনে করছে দফা কমানো প্রয়োজন। সকলের পক্ষে সুবিধাজনক এমন একটা পর্যায়ে এটা নামিয়ে আনা দরকার।"

প্রথম দফায়, ২৩শে এপ্রিল ভোট নেওয়া হবে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং ও কালিম্পং, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, পূর্ব এবং পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রাম জেলাগুলিতে।

কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা, হাওড়া, হুগলি, নদীয়া এবং পূর্ব বর্ধমান জেলাগুলিতে ভোট হওয়ার কথা দ্বিতীয় দফায়, ২৯শে এপ্রিল।

অন্য সব রাজ্য আর কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের মতোই পশ্চিমবঙ্গেরও ভোট গণনা হবে চৌঠা মে।

এক নজরে বিধানসভা ভোট

এই নির্বাচনের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে আগামী পাঁচ বছরের জন্য সরকার গঠন হবে রাজ্যে, নির্বাচিত হবেন বিধায়ক বা এমএলএ-রা।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ২৯৪টি আসন আছে, সরকার গঠনের জন্য পেতে হবে অন্তত ১৪৮টা আসন।

গত বিধানসভা ভোট, অর্থাৎ ২০২১-এর নির্বাচনে ভোট গ্রহণের দিন ঘোষণা হয়েছিল ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে। সাধারণত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার মাস খানেকের মধ্যে ভোট শুরু হয়।

সেই ভোটে নক্ষত্রপতন হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আসন থেকে তারই একসময়ের ঘনিষ্ঠ সতীর্থ, বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে যাওয়ায়।

পরে অবশ্য কলকাতায় মিজ. ব্যানার্জী তার বাসভবনের এলাকা, ভবানীপুর আসন থেকে উপনির্বাচনে জিতেছিলেন তিনি।

সেবার ২৭শে মার্চ থেকে ২৯শে এপ্রিল পর্যন্ত আট দফায় ভোট গ্রহণ চলেছিল। সেই সময়ে রাজ্যের ২৯২টা আসনে ভোট গ্রহণ হয়। দুটি আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়ে গিয়েছিল দুটি কেন্দ্রেই একজন করে প্রার্থী করোনা সংক্রমনে মৃত্যু হওয়ার কারণে। পরে সেপ্টেম্বরে ওড়িশার পিপলি আসনের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ওই দুটি আসন - সামসেরগঞ্জ এবং জঙ্গিপুরে উপনির্বাচন হয়।

কেন এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ শেষ হতে চলেছে আগামী ৭ই মে। তার আগেই ভোট সম্পন্ন করে নতুন বিধানসভা গঠন হওয়া দরকার।

পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ভোট-মুখী বাকি চার রাজ্যের মধ্যে তিনটের মে মাসে এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পন্ডিচেরিতে জুন মাসে বিধানসভার মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। এদিকে, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি।

তবে গত আটই মার্চ কলকাতা সফরকালে জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছিলেন রাজ্যে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর কমিশন।

অতীতে নির্বাচনকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে হিংসার ঘটনার কথা মাথায় রেখে রাজ্যে কড়া নিরাপত্তার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।

সেই সময় প্রশ্ন উঠেছিল, যে সমস্ত ভোটারদের নাম 'বিবেচনাধীনে'র আওতায় তারা কি ভোট দিতে পারবেন?

জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের 'পর্যবেক্ষণাধীন' ওই নামের তালিকা। পর্যবেক্ষণের পর শীঘ্রই বৈধ ভোটারদের নাম অতিরিক্ত তালিকায় প্রকাশিত হবে।

এসআইআর নিয়ে বিতর্ক

এদিকে লক্ষাধিক ভোটারের নাম এখনও বিবেচনাধীন অবস্থায় রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তথ্যগত অসঙ্গতি সংক্রান্ত বিষয়ের নিষ্পত্তি করছেন কলকাতা হাই কোর্টের নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তারা।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ই ডিসেম্বরে পশ্চিমবঙ্গে নারী, পুরুষ এবং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ মিলিয়ে ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩০ জন।

এসআইআর-এর ভিত্তিতে তৈরি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল গত বছর ডিসেম্বর মাসে। তখনই প্রায় ৫৮ লাখ মানুষের নাম বাদ যায়।

এরপরে,এবছরের ২৮শে ফেব্রুয়ারি যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়, তাতে নতুন করে বাদ যায় আরও প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের নাম।

এছাড়াও 'বিবেচনাধীন' হিসাবে রয়েছেন ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটার।

কমিশনের তরফে ২৮শে ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত তালিকায় প্রায় ৬কোটি ৪৪ ভোটারের নাম প্রকাশ করা হয়। জানানো হয়েছিল বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখার পর বিবেচনাধীন থাকা বৈধ ভোটারদের নাম যোগ করা হবে।

ক্রমে ধাপে ধাপে কমিশনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। যদিও অতিরিক্ত তালিকা এখনো প্রকাশিত হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন হলো বিবেচনাধীন অবস্থায় থাকা ব্যক্তিরা ভোট দিতে পারবেন কি? নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, 'ভোট গ্রহণের আগে পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া বৈধ ভোটার'রা ভোট দিতে পারবেন।

এদিকে রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে থেকেই তাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ভোটারদের নাম মুছে ফেলার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল সরকার-সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। প্রতিবাদ জানিয়ে ধর্নায় বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে, নির্বাচন কমিশনকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন।

অন্যান্য দলগুলোও বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে রাস্তায় নেমেছিল।

আবার বিজেপির দাবি, তৃণমূল নিজেদের 'ভোটব্যাঙ্কের' কথা মাথায় রেখে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে। কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়বে না।

ভোটের দিন ঘোষণা নিয়ে মিশ্র প্রিক্রিয়া এসেছে। তৃণমূল ও বামদলগুলো যেমন বিবেচনাধীন তালিকার নিষ্পত্তি না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, তেমনই নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিজেপি।

ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পর তৃণমূল কংগ্রেস এই তফসিলকে স্বাগত জানিয়েছে। দলের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ বলেছেন, ভোট এক দফায় হলো না পাঁচ-সাত দফায় হলো তাতে কিছু আসে যায় না।

ক্ষমতা কার দখলে?

তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বে তাঁর দল ২০১১ সাল থেকে টানা তিনবার বিধানসভা ভোটে জয় লাভ করেছে।

উপনির্বাচন মিলিয়ে ২০২১ সালে ২১৫টা আসন ছিল তৃণমূলের দখলে। গত বিধানসভা ভোটে প্রাথমিকভাবে ৭৭টা আসন ছিল বিজেপির দখলে, পরে উপনির্বাচনের পর তা কমে ৭৫-এ দাঁড়ায়। অন্যদিকে, বাম দলগুলি বা কংগ্রেসের কেউই বিধানসভায় আসন পায়নি।

বিধানসভা নির্বাচনের পরে অবশ্য অনেক বিজেপি বিধায়ক দলবদল করে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন।

আসন্ন বিধানসভা ভোটে একদিকে যেমন তৃণমূলের কাছে ক্ষমতায় টিঁকে থাকার লড়াই, তেমনই বিজেপির কাছে ক্ষমতা দখলের লড়াই।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহের মতো নেতারা পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসেছেন, বঙ্গসংস্কৃতির প্রশংসা করেছেন। রাজ্যের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য জনমুখী প্রকল্প ও আগামী পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে বিজেপি শিবির।

অন্যদিকে রাজ্যের বর্তমান শাসক গোষ্ঠীও এই নিরিখে পিছিয়ে নেই। রোববার ভোটের দিন ঘোষণা হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে রাজ্য সরকার পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের ভাতা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছে।

সরকারি কর্মচারীদের পুরনো বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা দেওয়া শুরু হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।

কন্যাশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো একাধিক প্রকল্প রয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকারের। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতার পরিমাণ ১০০০ রুপি থেকে বাড়িয়ে ১৫০০ রুপি করার কথা ইতিমধ্যে বলা হয়েছে।

বেকার যুবকদের কথা মাথায় রেখে যুবসাথীর মতো প্রকল্প চালু করেছে তৃণমূল সরকার, পাশাপাশি একগুচ্ছ উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

ভোটে যে বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে

২০২১ সালে কোভিড মহামারীর আবহে মৃতের সঠিক সংখ্যা নিয়ে কেন্দ্রকে প্রশ্নের পাশাপাশি সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়েও বিজেপির বিরুদ্ধে প্রচারে সরব হয়েছিল তৃণমূল এবং বিরোধী দলগুলো। বিজেপির বিরুদ্ধে মেরুকরণের রাজনীতি করার অভিযোগ নিয়েও ভোট প্রচারে সরব হয়েছিল তারা।

অন্যদিকে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ভোটব্যাঙ্ক তোষণের অভিযোগকে হাতিয়ার করে ভোট প্রচারে নেমেছিল বিজেপি ও অন্যান্য বিরোধীরা।

আসন্ন ভোটেও একাধিক বিষয় আলোচনার কেন্দ্রে। তার মধ্যে অন্যতম হলো এসআইআর ইস্যু।

গত বছর থেকেই বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলা বললেই বাংলাদেশি তকমা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল। গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে বিভাজন ও মেরুকরণের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে তৃণমূল ও অন্যান্য দলগুলো।

সেই অভিযোগ নস্যাৎ করে 'বাঙালি অস্মিতায়' মজেছে বিজেপি, পশ্চিমবঙ্গে 'পরিবর্তনের' ডাক দিয়েছে। প্রসঙ্গত ২০১১ সালের ভোটে এই পরিবর্তনের ডাক দিয়েই ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল।

এদিকে, শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি থেকে রেশন দুর্নীতি, রাজ্যে নারী নিরাপত্তা, ভোটের সময় ও ভোট পরবর্তী হিংসা, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, ভোট ব্যাঙ্ক তোষণের মতো একাধিক ইস্যুকে সামনে রেখে সরব হয়েছে বিজেপি শিবির। বাম ও কংগ্রেসও তৃণমূলকে এই সমস্ত ইস্যুতে নিশানা করতে ছাড়েনি।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীকে সামনে রেখে ২০১১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে লড়েছিল তৃণমূল। ২০২৬-এ ভোটের লড়াইয়েও সেই অবস্থান একই রয়েছে।

আগের বিধানসভা নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সামনে রেখেই পশ্চিমবঙ্গে ভোটে লড়েছিল গেরুয়া শিবির। কোনো প্রার্থীকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে প্রজেক্ট করা হয়নি।

আসন্ন বিধানসভা ভোটে এর পরিবর্তন হয় কি না, সেদিকেও নজর থাকবে।