তীব্র শীতে হাজারো মুরগির বাচ্চার মৃত্যু, কেমন আছে অন্যান্য প্রাণী?

মুরগির বাচ্চা

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, মুরগির বাচ্চা
    • Author, মরিয়ম সুলতানা
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা

"গত দশ দিনে আমার খামারে মরা বাচ্চার সংখ্যা ২০০'র কাছাকাছি হয়ে গেছে। আমি ২০১৩ সাল থেকে ব্যবসা করি এই লাইনে। এর আগে কখনওই এইভাবে বাচ্চা মারা যেতে দেখিনি।"

গত কয়েকদিনে একে একে প্রায় ২০০ মুরগির বাচ্চা মরে যাওয়ার কথা এভাবেই বলছিলেন রাজশাহীর খামারি ইমাম হোসেন। একসাথে এতগুলো মুরগির বাচ্চার মৃত্যুতে এখন রীতিমতো হতবিহ্বল তিনি।

আড়াই হাজার স্কয়ার ফিটের খামারে গত সাতই জানুয়ারি এক হাজার ৬০০ মুরগির বাচ্চা তুলেছিলেন মি. হোসেন। কিন্তু দুদিন পর সেই বাচ্চাগুলো মারা যেতে শুরু করে।

তার মতে, তীব্র শীতের সাথে খাপ খাওয়াতে পারেনি বলেই মুরগির বাচ্চাগুলো এভাবে মারা যাচ্ছে।

“এবারের আবহাওয়াটা খুবই সমস্যার। অনেক চেষ্টা করেও এই শীতকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।”

আরও পড়ুন:

মুরগির মৃত্যুতে সতর্ক খামারিরা

এ বছর শীতে অনেক মুরগি মারা যাচ্ছে

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, এ বছর শীতে অনেক মুরগি মারা যাচ্ছে

“প্রথমদিন একসাথে ১৫টা মরলো। এরপর মরলো ২০টা। তারপর ৩৫টা। এভাবে বেশ কয়েকদিন চলতে থাকলো। বর্তমানে দৈনিক আট থেকে দশটা বাচ্চা মারা যাচ্ছে আমার খামারে”, জানালেন মি. হোসেন।

তিনি জানান, বিরূপ আবহাওয়ার জন্য আরও অনেক খামারে মুরগির বাচ্চা মারা যাচ্ছে। এমনকি, শুধুমাত্র এই কারণে তার আশেপাশের অনেক পোল্ট্রি খামার বন্ধও হয়ে গেছে।

এই এলাকার আরেক খামারি মো. মিজানুর রহমান, তীব্র শীতের কারণে তিনি খামারে নতুন করে মুরগির বাচ্চা তোলা বন্ধ রেখেছেন আপাতত।

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

“রাজশাহীতে তাপমাত্রা কম অনেক। আমার খামারের সব মুরগি বেচে দিয়েছি আমি আগেই। নতুন বাচ্চা তুলছি না, কারণ বাচ্চা তুললে শীতের কারণে সেগুলো মারা যাচ্ছে। শৈত্যপ্রবাহ গেলে বাচ্চা তুলবো।”

ঠিক একই কারণে রাজশাহীর আরেক খামারি মো. হামিমও খামারে নতুন করে মুরগির বাচ্চা তুলছেন না।

তিনি বলেন, “আশেপাশের অনেক খামারে বাচ্চা মারা যাচ্ছে। আমি বাচ্চা তুলছি না। কারণ, প্রচণ্ড শীত।”

তবে শীতে ছোট মুরগির বাচ্চা মারা গেলেও বড় মুরগির ক্ষেত্রে এই সংখ্যা তেমন প্রকট না।

রাজশাহী পোল্ট্রি ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি মো. কামাল হোসেন বলেন, “তীব্র শীতে বাচ্চা মুরগি মারা যাচ্ছে। বড় মুরগিও মারা যাচ্ছে, কিন্তু সেটা কম। সাধারণ সময়ে সপ্তাহে একটা বা দুইটা মারা যায়। আর এখন হয়তো প্রতিদিনই একটা দুইটা করে মারা যাচ্ছে।”

“এটাকে আমরা স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে ধরে নিচ্ছি। হাজারে সাত-আটটা মারা গেলে সেটা অস্বাভাবিক।”

একই বক্তব্য রংপুরের জেলা পোল্ট্রি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরমানুর রহমান লিংকনেরও।

শীতের তীব্রতা বাড়ায় এখন দৈনিক গড়ে পাঁচ থেকে সাতটি মুরগি মারা যাচ্ছে এই জেলায়। কিন্তু এই মৃত্যুকে অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন না তারা।

মোট মৃত মুরগির সংখ্যা কত

শীতে মুরগিকে সতর্কতার সাথে লালন-পালন করতে হয়

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, শীতে মুরগিকে সতর্কতার সাথে লালন-পালন করতে হয়

রাজশাহী পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী জেলা এবং এর আশেপাশে সবমিলিয়ে তিন হাজারের বেশি খামার আছে।

পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে শীতের কারণে নিজের খামারে বাচ্চা তুলেননি জানিয়ে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বলেন, “প্রতিটা খামারে গড়ে ১০-২০টা মুরগি মারা যাচ্ছে। সঠিকভাবে এটার কোনও হিসাব নাই। এটা আমাদের অনুমানভিত্তিক কথা।”

“রাজশাহী এবং এর আশেপাশে মিলিয়ে তিন হাজারের বেশি খামার আছে। এখন যদি গড় করা হয়, তাহলে এই তিন-চারদিনে ২৫-৩০ হাজার মুরগি তো মারা গেছেই। সংখ্যাটা এর উপরে হবে, নীচে না”, জানালেন মি. হক।

“তবে বড় মুরগী কম মরে। কিন্তু ছোট মুরগিগুলো চাপাচাপির কারণে বেশি মারা যায়,” যোগ করেন তিনি।

ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (বিএবি) সাধারণ সম্পাদক ও পিপলস পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমানের জানালেন, “প্রতি সপ্তাহে লেয়ার, ব্রয়লার, সোনালি, কালার বার্ড মিলিয়ে সারাদেশে দুই কোটি বাচ্চা করি। সেখান থেকে এ বছর ২০ শতাংশ পর্যন্ত মুরগির বাচ্চা মারা যাচ্ছে। অর্থাৎ, গড়ে প্রায় ৪০ লাখ বাচ্চা মারা যেতে পারে। এটা সম্ভাব্য, কম-বেশি হতে পারে। অতি ঠান্ডা মূল কারণ।”

প্রতিবছর শীতের সময়ে মুরগির বাচ্চা মারা গেলেও এবার এই সংখ্যাটা দ্বিগুণ হয়েছে বলে জানান তিনি।

“অন্যান্য বছরও তাপমাত্রা কমেছে, বাচ্চা মরেছে। কিন্তু আমরা যারা বাচ্চা বিক্রি করি, এবার আমাদের কাছে মুরগির বাচ্চার মৃত্যু বেড়ে যাওয়ার অনেক খবর আসছে।”

এই হার অব্যাহত থাকলে মাস দেড়েকের মধ্যে মুরগির বাচ্চার সংকটে পড়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এ খাত সংশ্লিষ্টরা।

এই মৃত্যু্র কারণ কী?

তীব্র শীতকে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এত মৃত্যু হতো না

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, তীব্র শীতকে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এত মৃত্যু হতো না

খামারি থেকে শুরু করে সংগঠনের কর্তাব্যক্তি, সবারই মূল বক্তব্য হলো- বাংলাদেশের খামারগুলো ম্যানুয়ালি চলে বলে কোনও পদক্ষেপই খুব একটা কাজে লাগে না।

“প্রচণ্ড শীতে মুরগির বাচ্চার দাম কম থাকে, সেজন্য অনেক খামারি এই সময়টাতে বাচ্চা তোলে। কিন্তু এর জন্য কিছু নিয়ম-কানুন মানা দরকার, যেটা ম্যানুয়ালি করা সম্ভব হয় না। এর ফলে শৈত্যপ্রবাহের সময় বাচ্চাগুলোকে বাঁচানোও যায় না,” বলেন মি. হক।

“মানুষ ঘরের ভেতর থাকলেই তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে যায়। সেখানে খামার তো খোলা হয়। পলিথিন দিয়ে সেটাকে ঢাকতে হয়। কিন্তু চারপাশে পলিথিন দিলে আবার অক্সিজেনের স্বল্পতা দেখা দেয় এবং মাইক্রোপ্লাজমাসহ বিভিন্ন ধরনের শ্বাসকষ্টের সমস্যা হয়।”

শীতের মাঝে মুরগির বাচ্চার মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণকে এভাবেই ব্যাখ্যা করেন এই সংগঠক।

বিএবি’র সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বলেন, শীতে ছোট মুরগির পরিচর্যা করা কঠিন।

“এ সময় ব্রুডিং করাটা বেশ কঠিন। ছোট বাচ্চাকে খামারে উঠানোর পর তাপমাত্রা যদি ৯৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম থাকে, তাহলে ঠান্ডা লেগে নিউমোনিয়াসহ আরও অনেক সমস্যা হয়।”

“মুরগির খামার তো খোলা ঘর থাকে। সেখানে পলিথিন দিয়ে তারা একভাবে তাপমাত্রাটা নিয়ন্ত্রণ করে। সাধারণ সময়ে এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিন্তু এখন তাপমাত্রা অনেক কমে যাওয়াতে ওটা মেন্টেন করা যাচ্ছে না। এজন্যই ওখানে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা থাকছে না”, যোগ করেন তিনি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম মনিরুল এইচ খান বলেন, “ব্রয়লার মুরগির রেজিসট্যান্স ক্ষমতা খুবই কম। দেশি মুরগির বাচ্চা বা বন্য প্রাণী কিন্তু মারা যায় না সাধারণত।”

কী বলছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর

বাচ্চাকে ওম দিচ্ছে মা মুরগি

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বাচ্চাকে ওম দিচ্ছে মা মুরগি

রাজশাহী প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. জুলফিকার মো. আখতার হোসেন জানান, রাজশাহীতে সব মিলিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার ব্রয়লার, লেয়ার ও সোনালি মুরগির খামার আছে। তবে এখানে নিবন্ধিত খামারের সংখ্যা খুব বেশি হলে ২০০-৩০০টি হবে।

শীতের সময় এইসব খামারে যেন বাচ্চা মুরগি মারা না যায়, সেজন্য শীতের আগে থেকেই অধিদপ্তর সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, “পরিবেশ যখন একটু অস্বাভাবিক থাকবে, তখন লালন-পালন একটু যত্নের সাথে করতে হবে। এ ধরনের পরামর্শ তো আমরা সবসময়ই দেই।”

“আমাদের অফিসে যারা আসছে, তাদেরকে বলছি। এ বিষয়ে আমরা লিফলেট বিতরণ করছি। সেখানে বলা আছে যে শীতকালে, বিশেষ করে শৈত্যপ্রবাহের সময় মুরগিকে ঠান্ডা পানি সরাসরি দেয়া যাবে না। পানিটা খুব ঠান্ডা থাকলে একটু গরম করে দিতে হবে”, বলেন মি. হোসেন।

তার পরামর্শ, “ঠান্ডার বিষয়ে খামারিদের ব্যবস্থা নিতে হবে। পলিথিন দিয়ে চারদিক ঘিরে দিতে হবে। কারণ বাতাস ঢুকলে তাপমাত্রা কমে যাবে, তখন মারা যেতে পারে। আর, তাপমাত্রা ঠিক রাখতে ব্রুডিং-এর স্থানে আলোর পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে।”

তিনি বলেন, যারা পুরনো খামারি, তারা জানেন যে অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরমে মুরগির ওপর দিয়ে কিছু ধকল যায়। তাই, তারা এসব ব্যাপারে ইতোমধ্যে সচেতন।

তীব্র শীতে শুধু মুরগি না, অনেক পশু-পাখিও কষ্ট পায়। যারা বেশি নাজুক, তাদের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটে।

সারাদেশের খামারগুলোতে মুরগিসহ কোন কোন প্রাণী কত সংখ্যক মারা যাচ্ছে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সেই তথ্য সংগ্রহ করছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির উপপরিচালক মো. শরিফুল হক।

তিনি বলেন, “আমরা এই তথ্যগুলো সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি। এখনই সংখ্যাটা বলা যাচ্ছে না। কারণ মাঠ পর্যায় থেকে তথ্যগুলো এখনো আসেনি।”

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে নিবন্ধিত গবাদি পশুর খামার আছে ৮৪ হাজার এবং হাঁস-মুরগির খামার আছে প্রায় ৯০ হাজার।

খামারিরা আগের চেয়ে সচেতন হওয়ায় খুব বেশি সংখ্যক প্রাণী মারা যাবে না বলে জানান মি. শরিফ।

তিনি বলেন, “এখন খামারিরা অনেক বেশি সতর্ক। খামারকে কীভাবে রক্ষা করতে হবে, সেই বিষয়ে আমরা প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। খামারও অনেক আধুনিক এবং খামারিরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।”

কেমন আছে চিড়িয়াখানার প্রাণীরা

মিরপুর চিড়িয়াখানায় খড়ের গাদায় বিশ্রাম নিচ্ছে পাখি

ছবির উৎস, মিরপুর চিড়িয়াখানা

ছবির ক্যাপশান, মিরপুর চিড়িয়াখানায় খড়ের গাদায় বিশ্রাম নিচ্ছে পাখি

গত কয়েকদিন ধরে সারাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তীব্র শীতে মানুষের সাথে সাথে কষ্ট পাচ্ছে অন্যান্য প্রাণীও। বিশেষ করে চিড়িয়াখানার প্রাণীরা।

রাজধানীর মিরপুরের জাতীয় চিড়িখানায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার প্রাণী আছে। কিন্তু এসব প্রাণীর সবগুলো তীব্র ঠান্ডাতে ভোগান্তি পোহায় না।

পাখি ও সরীসৃপ জাতীয় প্রাণীদের মাঝে সাপ শীতের সময় কষ্ট পায়। বর্তমানে এই চিড়িয়াখানায় ৬৫টি প্রজাতির এক হাজার ৭৩৬টি পাখি এবং চার প্রজাতির ৩৭টি সাপ আছে।

কিন্তু এসব পাখি ও সাপের সুস্থতার জন্য যথাসম্ভব ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

চিড়িয়াখানার পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, “এই মুহূর্তে শীতের কারণে কোনও প্রাণী অসুস্থ অবস্থায় নাই। শীতের সময়ে পাখি জাতীয় প্রাণী ও সাপ ঝুঁকিতে থাকে। তাই এদের বেশি যত্ন নিতে হয়। কিন্তু আমরা যথাযথা ব্যবস্থা নেয়ায় এরা অসুস্থও হয় নাই, মারাও যায় নাই।”

মিরপুর চিড়িয়াখানার প্রাণীরা যাতে শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে পারে, তাই খাঁচার চারদিকে চট দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে।

পাখিদের ক্ষেত্রে, কোনও কোনও ক্ষেত্রে বক্স তৈরি করা হয়েছে যাতে শীত লাগলে তারা সেখানে ঢুকে আশ্রয় নিতে পারে। অনেক পাখির খাঁচায় হাঁড়ি এবং বালি রাখা হয়েছে।

সাপের আশ্রয়ের জন্য খড় দেয়া হয়েছে, যাতে সাপ খড়ের নিচে থাকতে পারে।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:
চিড়িয়াখানায় খড়ের গাদায় বিশ্রাম নিচ্ছে সাপ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, চিড়িয়াখানায় খড়ের গাদায় বিশ্রাম নিচ্ছে সাপ

“পাশাপাশি, শীতের সময় এদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আগেই ভ্যাক্সিনেশন করাতে হয়। সেইসাথে, ভিটামিন ও মিনারেলস সাপ্লাই দিতে হয়। যেমন, ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি সাপ্লাই দিলে শীতের স্ট্রেস কমে। সেসব আমরা করেছি”, বলেন মি. রফিক।

এছাড়া, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানাতে প্রায় ৪৫ প্রজাতির ৪০০টি পাখি আছে এবং সেখানেও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ।

তিনি বলেন, “এসময় প্রাণীদের জন্য অতিরিক্ত বেডিং উপাদান দিতে হয়, যাতে শীত কম লাগে। বাড়তি নজরদারির প্রয়োজন পড়ে। লাইটিং, বস্তা দিয়ে খাঁচা ঘেরাও করতে হয়। আমাদের এখানে এখন পর্যন্ত কোনও প্রাণী শীতের কারণে অসুস্থ হয় নাই।”

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ড. এম মনিরুল এইচ খানের মতে, চিড়িয়াখানার প্রাণীরা একদিক থেকে শীতে ভালো থাকে। সেটা হলো, চিড়িয়াখানায় খাবার দেয়া হয় নিয়মিত। তাই, প্রাণীদেরকে খাবারের জন্য ঘুরে বেড়াতে হয় না।

তবে প্রাণী কল্যাণ সংগঠন পিপল ফর এনিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রাকিবুল হক এমিল বলেন, এইসব প্রাণীরা বনে থাকলে গুহায় বা গাছে নিজেদের মতো করে আশ্রয় নিতে পারতো। যতই বালু বা অন্যকিছু দেয়া হোক, চিড়িয়াখানার প্রাণীর জন্য এই সময়টা বেশি কষ্টের।

শহুরে প্রাণীর অবস্থা কেমন

পথকুকুর ঘুমাচ্ছে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, পথকুকুর ঘুমাচ্ছে।

রাত নেমে আসার পর ঢাকার ফুটপাতগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, তীব্র শীতে সারি বেঁধে জবুথবু হয়ে অনেক মানুষ ঘুমাচ্ছে। অনেকের ক্ষেত্রে শীত নিবারণের জন্য একমাত্র সম্বল এক-আধখানা কম্বল।

কিন্তু দীর্ঘ শীতের রাতে খোলা আকাশের নীচে কেবল মানুষই কষ্ট পায় না, এই তালিকায় যোগ করতে হবে কুকুর, বিড়াল, পাখিসহ অন্য প্রাণীদেরও।

যারা বনে থাকে, তারা তো প্রাকৃতিকভাবে একরকম আশ্রয় খুঁজে নেয়। কিন্তু যারা পথে-প্রান্তরে থাকে, অর্থাৎ শহুরে প্রাণী, তাদের অবস্থা করুণ।

প্রাণী বিশেষজ্ঞ বা প্রাণী অধিকার কর্মী, উভয়পক্ষেরই বক্তব্য হলো, এই শীতে মানুষের যেমন কষ্ট হচ্ছে, প্রাণীদেরও তেমনটাই হচ্ছে। কম বা বেশি বলে কিছু নেই।

পিপল ফর এনিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের রাকিবুল হক এমিল বলেন, “খামারের পশু-পাখি আর বন্য প্রাণী, এই দুইয়ের মাঝে কিছু তফাৎ আছে। খামারের মুরগি মারা যাচ্ছে। কিন্তু বন্য প্রাণী, অর্থাৎ যারা খোলা পরিবেশে থাকে, তারা ভালোই আছে।”

তার মতে, কোনও প্রাণী যখন দীর্ঘ সময় মানুষের পাশাপাশি থাকে, তখন তারা পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়। তাই ওদের খুব একটা সমস্যা হয় না।

“কুকুর শহরে থাকলেও ওদেরকে দেখবেন যে শীতের সময় কুণ্ডলী পাকিয়ে থাকে। নড়াচড়া কম করে। যারা দীর্ঘ সময় ধরে কমিউনিটির মাঝে থাকে, ওদের সমস্যা হয় না খুব একটা।”