আইসিসি টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এবারের সময়সূচি ও ফরম্যাট কেমন?

ছবির উৎস, Getty Images
যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে হতে যাওয়া ২০২৪ আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ একেবারে দোরগোড়ায়। আগেরবার অস্ট্রেলিয়ায় হওয়া ২০২২ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আসর শুরু করছে ইংল্যান্ড।
তবে এবার তাদের এক উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হচ্ছে, কারণ এবারের আসরে অংশ নিতে যাচ্ছে রেকর্ড সংখ্যক দল।
চলুন টি টোয়েন্টির এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের নবম আসরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।
বিশ্বকাপ কবে শুরু হচ্ছে ও কোন সময়ে খেলা হবে?
এই প্রথমবারের মতো ক্রিকেটের কোন বৈশ্বিক আসর অনুষ্ঠিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে। সেখানকার টাইম জোনের সাথে এই উপমহাদেশের টাইম জোনের বিশাল পার্থক্য রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের যেদিন বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে বাংলাদেশে সেটা হয়ে যাচ্ছে পরদিন।
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৪ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধন পহেলা জুন, টেক্সাসে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় স্বাগতিকরা মুখোমুখি হবে কানাডার। কিন্তু ১১ ঘণ্টা এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশে এই ম্যাচটি শুরু হবে ২রা জুন ভোর সাড়ে ৬টায়।
একইসাথে বিশ্বকাপ চলবে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ ওয়েস্ট ইন্ডিজে। ফলে দেখা যাবে কোনো ম্যাচ বাংলাদেশ সময় রাত এমনকি মধ্যরাতেও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ছবির উৎস, Getty Images
প্রথমে গ্রুপপর্বের খেলা যা চলবে ১৮ই জুন পর্যন্ত, এসময় প্রতিদিন অন্তত একটি ও কখনো কখনো দুই বা তিনটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
এই ম্যাচগুলো সাধারণত শুরু হবে বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৫টা, সাড়ে ৬টা, রাত সাড়ে ৮টা, সাড়ে ৯টা, রাত ১১টা ও রাত ১টা থেকে। আলাদা টাইম জোন বলে কথা।
এরপর সুপার এইট পর্ব, যা চলবে ২৫শে জুন পর্যন্ত। এসময়ও বেশিরভাগ দিন দুটি করে ম্যাচ, তবে খেলার সময়সূচি ভোর সাড়ে ৬টা আর রাত সাড়ে ৮টাতেই নির্দিষ্ট থাকবে।
দুটি সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে একই দিন ২৭শে জুন।
আর ফাইনাল হবে শনিবার, ২৯শে জুন বার্বাডোজে সকাল সাড়ে ১০টায়, যা বাংলাদেশ সময় আসলে রাত সাড়ে ৮টা।
এবারের বিশ্বকাপের ফরম্যাট কেমন?
বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংখ্যক ২০টি দল অংশ নিচ্ছে এবারের টি-টোয়েন্টির বৈশ্বিক আসরে। একই সাথে পুরনো ফরম্যাটও ফেরত এসেছে এবার।
অংশগ্রহণকারী ২০টি দলকে চারটি গ্রুপে ভাগ করে প্রথমে হবে গ্রুপপর্বের খেলা। প্রতি গ্রুপে থাকছে ৫টি করে দল।
গ্রুপপর্বে প্রত্যেক দল খেলবে ৪টি করে ম্যাচ। সেখান থেকে গ্রুপের শীর্ষ দুই দল যাবে পরের পর্ব সুপার এইটে।
এই পর্ব থেকে বিশ্বকাপ পুরোপুরি ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত হবে।

ছবির উৎস, Getty Images
সুপার এইটেও চারটি করে দল নিয়ে দুটি আলাদা গ্রুপ করা হবে।
এক্ষেত্রে আটটি দলকে (ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কা) র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে আগেই বাছাই করেছে আইসিসি যাতে টুর্নামেন্টের পরিকল্পনা ও সূচি নির্ধারণে সুবিধা হয়।
এই দলগুলোই যদি সুপার এইটে যায় তাহলে তারা সেই বাছাইয়ের ভিত্তিতে গ্রুপ এক অথবা গ্রুপ দুইয়ে যাবে। এক্ষেত্রে গ্রুপপর্বে টেবিলের শীর্ষে থাকা অথবা দুইয়ে থাকা কোনো ভূমিকা রাখবে না।
তবে সুপার এইটে যে দুটি গ্রুপের শীর্ষ চার দল সেমিফাইনালে যাবে, সেখানে গ্রুপ রানারআপ মুখোমুখি হবে অন্য গ্রুপের চ্যাম্পিয়নের।
পুরো টুর্নামেন্টে ম্যাচ জয়ের জন্য থাকছে ২ পয়েন্ট, ফলাফল না হলে ১ পয়েন্ট আর হেরে গেলে কোনো পয়েন্ট যোগ হবে না। টি টোয়েন্টিতে ম্যাচ টাইয়ের কোনো সুযোগ নেই, এরকম হলে সুপার ওভারে নিষ্পত্তি হবে ম্যাচ।
কারা অংশ নিচ্ছে বিশ্বকাপে?
যেহেতু টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়েছে, তাই মোটামুটি সব বড় দলই আছে এবারের আসরে।
একমাত্র টেস্ট খেলুড়ে দেশ জিম্বাবুয়ে বাদ পড়েছে, তারা বাছাইপর্বের বাধা পার হতে পারেনি।
প্রথম পর্বে ২০টি দলের গ্রুপগুলো দেখে নেয়া যাক:
গ্রুপ এ: কানাডা, ভারত (এ ১), আয়ারল্যান্ড, পাকিস্তান (এ ২), যুক্তরাষ্ট্র
গ্রুপ বি: অস্ট্রেলিয়া (বি ২), ইংল্যান্ড (বি ১), নামিবিয়া, ওমান, স্কটল্যান্ড
গ্রুপ সি: আফগানিস্তান, নিউজিল্যান্ড (সি ১), পাপুয়া নিউ গিনি, উগান্ডা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ (সি ২)
গ্রুপ ডি: বাংলাদেশ, নেপাল, নেদারল্যান্ডস, দক্ষিণ আফ্রিকা (ডি ১), শ্রীলঙ্কা (ডি ২)

ছবির উৎস, BCB
কোন কোন ভেন্যু আর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের বিশ্বকাপ?
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রথম ক্রিকেটের কোনো আইসিসি ইভেন্ট হচ্ছে। মোট ৫৫টি ম্যাচের মধ্যে ১৬টি অনুষ্ঠিত হবে এখানকার তিনটি শহরে।
ফ্লোরিডার সেন্ট্রাল ব্রোওয়ার্ড পার্ক ও ব্রোওয়ার্ড কাউন্টি স্টেডিয়াম (৪০ হাজার ধারণক্ষমতা), নিউ ইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি ইন্টারন্যাশন্যাল ক্রিকেট স্টেডিয়াম (৩৪ হাজার ধারণক্ষমতা) ও টেক্সাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামে (১৫ হাজার ধারণক্ষমতা) হবে ম্যাচগুলো।
এর মধ্যে নিউ ইয়র্কের স্টেডিয়ামটা বিশ্বকাপের জন্য তৈরি করা, যেখানে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড থেকে পিচ এনে বসানো হয়েছে ও অস্থায়ী কিছু আসন বসানো হয়েছে গ্যালারিতে।
অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৬টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে বেশিরভাগ ম্যাচ।
ক্যারিবীয়ানে ভেন্যুগুলো হলো:
অ্যান্টিগা ও বারবুডা – স্যার ভিভিয়ান রিচার্ড স্টেডিয়াম (১০ হাজার ধারণক্ষমতা)
বার্বাডোজ – কেনসিংটন ওভাল (২৮ হাজার ধারণক্ষমতা)
গায়ানা – প্রভিডেন্স স্টেডিয়াম (২০ হাজার ধারণক্ষমতা)
সেন্ট লুসিয়া – ড্যারেন স্যামি ন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়াম (১৫ হাজার ধারণক্ষমতা)
সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড গ্রানাডাইন্স – অ্যারন্স ভেল প্লেয়িং ফিল্ড (১৮ হাজার ধারণক্ষমতা)
ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো – ব্রায়ান লারা ক্রিকেট একাডেমি (১৫ হাজার ধারণক্ষমতা)
২০২৪ বিশ্বকাপের যে নিয়মগুলো জেনে রাখতে হবে
টুর্নামেন্টটি টি টোয়েন্টি ফরম্যাটের, প্রতিটি দল এখানে ২০ ওভার করে ব্যাট করার সুযোগ পাবে, যদি তারা এর আগেই অলআউট না হয়ে যায় অথবা তার আগেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।
প্রতিটি ইনিংস শুরু হবে ৬ ওভারের পাওয়ার প্লে দিয়ে এবং সেই সময়ে যথারীতি ফিল্ডিংয়ের বাধ্যবাধকতা থাকবে।
প্রতিটি ম্যাচ শেষ হতে হবে ৩ ঘণ্টা ১০ মিনিটের মধ্যে, একেকটা ইনিংস শেষ করার সময় ১ ঘণ্টা ২৫ মিনিট, এর সঙ্গে ইনিংস বিরতি থাকবে ২০ মিনিট।
এই প্রথমবার টুর্নামেন্টে থাকছে “স্টপ ক্লক”, মানে একটা ওভার শেষ হবার পরের ১ মিনিটের মধ্যে ২য় ওভার শুরু করার জন্য বোলার প্রস্তুত থাকবে।
বরাবরের মতোই মুখোমুখি হওয়া দুই দল দুটি করে রিভিউ পাবে।
২০ ওভার শেষে দুই দলের স্কোর সমান হলে খেলা সুপার ওভারে যাবে (প্রতিটি দল ৬টি করে বল খেলবে, যারা বেশি রান করবে তারাই জিতবে)। যদি সুপার ওভারও টাই হয়, তবে কোনো দল জয়ী না হওয়া পর্যন্ত সুপার ওভার চলবে।
খেলার ফলাফল আসার জন্য প্রতিটি দলকে অন্তত ৫ ওভার করে খেলতে হবে, তবে সেমি ফাইনাল ও ফাইনালের জন্য সেটি হবে ১০ ওভার।
আর এই সময়ের পর আবহাওয়ার জন্য খেলা আর শুরু করা না গেলে ডিএলএস পদ্ধতিতে জয়-পরাজয় নির্ধারণ করা হবে।
শুধুমাত্র প্রথম সেমিফাইনাল ও ফাইনালের জন্য একদিন করে রিজার্ভ ডে বরাদ্দ আছে। আর ২য় সেমিফাইনালের জন্য অতিরিক্ত ২৫০ মিনিট রাখা হয়েছে।
যদি ভারত সেমিফাইনালে যায় তাহলে সুপার এইটের ফলাফল যাই হোক না কেন পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা ২য় সেমিফাইনাল খেলবে।

ছবির উৎস, BCB
বিশ্বকাপের আগের চ্যাম্পিয়ন কারা?
টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সাধারণত প্রতি দু’বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয়। তবে নানা কারণে এর ব্যত্যয় ঘটেছে।
২০০৭ সালে শুরু হয়ে এখন পর্যন্ত হয়ে যাওয়া আগের আট আসরে ছয়টি ভিন্ন দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
২০০৭ – ভারত
২০০৯ – পাকিস্তান
২০১০ – ইংল্যান্ড
২০১২ – ওয়েস্ট ইন্ডিজ
২০১৪ – শ্রীলঙ্কা
২০১৬ -ওয়েস্ট ইন্ডিজ
২০২১ – অস্ট্রেলিয়া
২০২২ – ইংল্যান্ড
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স
এখন পর্যন্ত হয়ে যাওয়া ৮টি বিশ্বকাপেই অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত তাদের সেরা সাফল্য প্রথমবার অনুষ্ঠিত ২০০৭ বিশ্বকাপের ২য় পর্ব বা সুপার এইটে যাওয়া।
এরপর টানা তিনবার প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নেয় বাংলাদেশ।
২০১৪ সালে নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপে আবার প্রথম পর্বের বাধা পার হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। কিন্তু পরের পর্বে আর একটাও জয়ের দেখা পায়নি তারা।
এরপর থেকে প্রতিবারই ২য় রাউন্ডের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ।
এবারও বিশ্বকাপে যাবার আগ মুহূর্তে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের কোচ ও অধিনায়ক প্রাথমিক লক্ষ্য হিসেবে ২য় রাউন্ডে যাবার কথাই বলে গিয়েছেন।








