বোয়িং-এর বিরুদ্ধে এয়ার ইন্ডিয়া দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের মামলা

    • Author, অসমন্ড চিয়া
    • Role, বিজনেস রিপোর্টার, বিবিসি নিউজ

ভারতের আহমেদাবাদে বিধ্বস্ত হওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার লন্ডনগামী বিমানের নিহত চারজন যাত্রীর পরিবার বিমানটির নির্মাণকারী সংস্থা বোয়িং এবং যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারক সংস্থা হানিওয়েলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। এই বছরের ১২ই জুন বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।

ওই দুই সংস্থার বিরুদ্ধেই দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দায়ের করা ওই মামলার নথি বিবিসি দেখেছে – এবং তাতে বলা হয়েছে ওই দুর্ঘটনার কারণ ছিল বিমানের 'ত্রুটিপূর্ণ ফিউয়েল সুইচ'।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, এয়ারক্র্যাফটের ডিজাইনে এই ঝুঁকির কথা উভয় কোম্পানিই অবগত ছিল, কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা 'কিছুই করেনি'।

গত ১২ই জুন এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট ১৭১ লন্ডন গ্যাটউইক অভিমুখী একটি বিমান আহমেদাবাদ থেকে টেক অফ করার কয়েক সেকেন্ড পরেই ভূপাতিত হয়, যে দুর্ঘটনায় মোট ২৬০জন ব্যক্তি নিহত হন। ওই প্লেনটি ছিল একটি বোয়িং ৭৮৭।

সম্পর্কিত খবর :

ওই বিমান দুর্ঘটনার পরে হওয়া প্রাথমিক এক তদন্তে বলা হয়েছিল, প্লেনটি মাটি থেকে ওড়ার অল্পক্ষণ পরেই ইঞ্জিনে জ্বালানির সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।

তখন থেকেই বিমানটির ফিউয়েল সুইচের দিকে তদন্তকারীরা মনোযোগ দিয়ে আসছেন।

তবে আমেরিকার ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এর আগে জানিয়েছিল যে বোয়িং এরোপ্লেনগুলোতে ফিউয়েল কন্ট্রোল সুইচগুলো 'নিরাপদ'।

এই মামলার ব্যাপারে বোয়িং ও হানিওয়েল-এর বক্তব্য জানতে চেয়ে বিবিসি-র পক্ষ থেকে উভয় সংস্থার সঙ্গেই যোগাযোগ করা হয়েছে।

মার্কিন বিমান নির্মাতা বোয়িং-এর পক্ষ থেকে মামলার ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

তবে দুর্ঘটনার পর ভারতের 'এয়ারক্র্যাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো'র পক্ষ থেকে যে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছিল, তারা সে দিকে বিবিসির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

চলতি সপ্তাহে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে, বোয়িং ও হানিওয়েল যখন থেকে ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমান তৈরি করেছে এবং বাজারে সেটি বিপণন করছে, তখন থেকেই তারা জানত যে এই বিমানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আছে।

ওই মামলায় ২০১৮ সালে জারি করা এফএএ-র একটি নির্দেশিকাও উদ্ধৃত করা হয়েছে, যাতে অপারেটরদের বলা হয়েছিল তারা যেন বিমানের ফিউয়েল সুইচের লকিং মেকানিজমটি পরীক্ষা করে নেন – যে সেটি ভুল করে সরে গেছে কি না।

লকিং মেকলানিজম ঠিক জায়গায় না থাকলে তা বিমানের জ্বালানি সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তবে এফএএ-র ওই নির্দেশিকাটি মানা বাধ্যতামূলক ছিল না।

ভারতে এএআইবি-র প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট অনুসারে, এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট ১৭১ বিমানটিতে ফিউয়েল সুইচ 'রান' পোজিশন থেকে 'কাট-অফ' পোজিশনে সরে গিয়েছিল – যার ফলে প্লেনটির মাটি থেকে ওপরে ওঠার জন্য যে 'থ্রাস্ট' দরকার হয় তা সাংঘাতিকভাবে ব্যাহত হয়।

দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারগুলো এখন বলছে, এই অবস্থা হলো আসলে একটি ডিজাইনের 'ডিফেক্ট' বা ত্রুটি – যা 'অনিচ্ছাকৃতভাবে ফিউয়েল সাপ্লাই বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে এবং তার ফলে প্লেনটির প্রপেল করার জন্য যে 'থ্রাস্ট' দরকার ছিল তা সম্পূর্ণ নষ্ট করে দিয়েছে।'

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন :

এর পরেই এই পরিবারগুলো প্রশ্ন তুলেছে : "এই অনিবার্য বিপর্যয় রোধ করার জন্য হানিওয়েল ও বোয়িং-এর পক্ষ থেকে কী করা হয়েছিল? কিচ্ছু না!"

মামলার নথিতে আরও দাবি করা হয়েছে, এই ফিউয়েল সুইচগুলোর যে নিয়মিত পরীক্ষা ও মেরামত দরকার, সেটা এয়ারলাইন কোম্পানিগুলোকে জানানোর ব্যাপারেও বোয়িং ও হানিওয়েল সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

এমনকি বোয়িং তার ক্রেতাদের সুইচের 'রিপ্লেসমেন্ট পার্টস'ও সরবরাহ করেনি, যে তারা নিজেরা সেগুলো বসিয়ে নিতে পারবে।

নিহতদের পরিবারগুলোর বক্তব্য, বোয়িং ও হানিওয়েল উভয় সংস্থাই একটি 'নরম গোছের নির্দেশিকা'র আড়ালে 'চুপচাপ বসেছিল' – যে নির্দেশিকায় শুধু ফিউয়েল সুইচগুলো মাঝে মাঝে পরীক্ষা করার কথা বলা হয়েছিল।