নরসিংদী, সিরাজগঞ্জ, ফেনী, চট্টগ্রাম- কয়েকটি জেলায় যেভাবে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে

সরকার পতনের এক দফা দাবীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচি ঘিরে রোববার সারাদেশে অন্তত ৮৩ জন নিহত হয়েছে,আহত হয়েছে বহু মানুষ। রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে দেশের অনেক জেলা-উপজেলা।
রোববার চলা 'সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনে' শুধুমাত্র সিরাজগঞ্জেই ১৮ জন নিহতের তথ্য পাওয়া গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে সোমবার থেকে তিন দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী বুধবার পর্যন্ত এই ছুটি বহাল থাকবে। এছাড়া জঙ্গি হামলার সতর্কতা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে সরকার।
মুন্সীগঞ্জে সংঘর্ষ যেভাবে শুরু
পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল আটটা থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তাদের সাথে অন্যান্য শ্রেণি পেশার অনেক মানুষ সমবেত হয়।
স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, সকাল সাড়ে নয়টার পর থেকে আন্দোলনকারীরা শহরের সুপারমার্কেট এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ ভাস্কর্য চত্বরে জড়ো হন। প্রায় এক হাজার মানুষ এ সময় এখানে উপস্থিত হয়ে সরকার পদত্যাগের এক দফা দাবি আদায়ে স্লোগান দিতে থাকে।
এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সাথে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় বঙ্গবন্ধু সড়ক এলাকায়। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে সুপার মার্কেট এলাকা থেকে কৃষি ব্যাংক মোড় এলাকা পর্যন্ত পুরো বঙ্গবন্ধু সড়কে।
সাংবাদিকরা জানান, কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে আন্দোলনকারীরা সুপার মার্কেট এলাকায় পৌঁছালে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের উপর হামলা চালায়। এ সময় উভয় পক্ষের হাতেই লাঠিসোটা ছিল। বেশ কিছু ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ মুক্তিযুদ্ধ ভাস্কর্য চত্বরের দখল নেয়। কিন্তু পরবর্তীতে আবারো শিক্ষার্থীরা তাদের ধাওয়া দিলে তারা সেখান থেকে হটে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় পুলিশ গোলচত্বরের সামনে অবস্থান নেয়। দফায় দফায় এ এলাকা জুড়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা-ব্যাপী এ অবস্থা চলে।
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
সংঘর্ষের একপর্যায়ে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়া হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার-শেল, কাঁদানে গ্যাস এবং সাউন্ড গ্রেনেড ছোঁড়ে।
এখনও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে মুন্সিগঞ্জ শহরে। বন্ধ হয়ে গেছে সব দোকানপাট, যান চলাচল নেই বললেই চলে।
এদিকে, সকাল সাড়ে দশটার পর থেকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আহত রোগী আসতে থাকে। এই হাসপাতালে দুইজনকে নিহত ঘোষণা করে চিকিৎসকরা। সিরাজদীখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরেকজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।
দুপুর পর্যন্ত শুধু জেনারেল হাসপাতালেই আহত ৮৭ জনকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
মুন্সিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মঞ্জুরুল আলম বিবিসি বাংলাকে তিনজন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, “ সকাল সাড়ে দশটা থেকে অসংখ্য আহত রোগী আসতে থাকে। জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ৮৭ জন আহত রোগী চিকিৎসা নেয়। এদের মধ্যে ২১ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকি ২৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে”।
“২১জনের সিভিয়ার অবস্থা। ম্যাক্সিমাম গুলিবিদ্ধ তাই ঢাকায় রেফার করা হয়েছে। বাকিদের ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে”।
সংঘর্ষ জেনারেল হাসপাতাল পর্যন্ত চলে আসায় এখনও হাসপাতালে যেতে পারেননি বলে জানান মি. আলম। এখনো সেখানে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয় নি বলে তিনি জানান।

ছবির উৎস, Kamol Das
সিরাজগঞ্জে নিহত ১৮ জন
সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় হামলায় অন্তত ১৩ জন পুলিশ নিহত হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে আরো পাঁচজন নিহতের তথ্য পাওয়া গেছে।
দুপুর বারটায় কয়েক হাজার মানুষ এনায়েতপুর থানায় হামলা করে। এছাড়া সরকার পতনের এক দফা দাবিতে সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়।
কারা এই হামলা চালিয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে এই তথ্য জানাতে পারে নি পুলিশ। তবে মৃত্যুর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সেখানকার কয়েকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশের সদস্যদের মাথা থেতলে দেয়া হয়েছে, অনেককে পিটিয়ে মারার চিহ্ন রয়েছে। অনেকের শরীরের কাপড় খুলে ফেলা হয়েছে।
এদিকে, রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাঁচজন নিহতের তথ্য পাওয়া গেছে।
সিভিল সার্জন ডা. রাম পদ রায় বিবিসি বাংলাকে বলেন, “ দুইটা হাসপাতাল থেকে পাঁচজন নিহতের খবর পেয়েছি। এদের মধ্যে একজন ধর্মগাছা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম হাসনাত টিটুর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে”।
এদের মধ্যে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চারজন এবং শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
মি. রায় জানান, “ আহত রোগীর সংখ্যা ৬০ জনের বেশি। কেউ চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছে। কেউ কেউ ভর্তি আছেন”।
এছাড়াও কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার একজন পুলিশ সদস্যসহ মোট ১৪ জন পুলিশ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

ছবির উৎস, Kamol Das
ফেনীতে যেভাবে সংঘর্ষের শুরু, নিহত আট
সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে।
তাদের প্রতিহত করার জন্য ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা শহরের ট্রাঙ্ক রোড, কলেজ রোড এবং পিটিআই রোড এলাকায় অবস্থান নেয়।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ব্যাপক সংখ্যক আন্দোলনকারী মহীপাল উড়ালসেতুর পাশে জড়ো হয়। তারা সরকার পতনের এক দফা দাবিতে স্লোগান দেয় এ সময়।
এ সময় আশপাশে থাকা অনেক মানুষ তাদের সাথে মিছিলে যোগ দেয়। এরপর বেলা দেড়টার দিকে সেখানে মিছিল নিয়ে আসেন আওয়ামী-লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সে সময়ই সংঘর্ষের শুরু হয়। স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, এ সময় অনবরত গোলাগুলি এবং ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া।
স্থানীয় সাংবাদিক দিলদার হোসেন স্বপন বিবিসি বাংলাকে বলেন, “এ সময় ওই স্থানে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি কাউকে দেখা যায় নি। শিক্ষার্থীদের সাথে ধাওয়া -পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং গোলাগুলি হয়। আমিসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছে”।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা মহীপালের পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেয়। সকাল থেকে রাস্তায় যাত্রীবাহী বাস বা অন্য কোনও যানবাহন তেমন দেখা যায়নি।
সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ছাড়াও ইট-পাটকেলের আঘাতে অনেকে আহত হন। গণমাধ্যম-কর্মীসহ অন্তত অর্ধশতাধিক জন আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে আটজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
সংঘর্ষে আহত - নিহত ব্যক্তিদের ফেনীর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আসিফ ইকবাল বিবিসি বাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মি. ইকবাল বলেন, নিহতদের সবাই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এসেছেন। সংঘর্ষে নিহত আটজন নিহত হয়েছে। তবে দুইজন বাড়ে কারো পরিচয় জানা যায় নি। সবার বয়স ১৭ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। আহতদের অধিকাংশ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এ প্রতিবেদন লেখার সময়েও এখনও একের পর এক আহতরা হাসপাতালে আসছে বলে জানান মি. ইকবাল।

ছবির উৎস, Moniruzzaman Khan
বগুড়ায় নিহত চারজন
বগুড়ায় বৈষম্য-বিরোধী কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশ ও আওয়ামী-লীগের সংঘর্ষে চার জন নিহত হয়েছে।
স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, অসহযোগ আন্দোলনের ডাকে আন্দোলনকারীরা বগুড়া- নওগাঁ মহাসড়কের দুপচাঁচিয়া উপজেলার সামনে সকাল ১০ টার দিকে অবস্থান নেন। সেখানে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকেন।
এ স্থানেই আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়। এক সময় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা করে আন্দোলনকারীরা।
পরে সেখানে থাকা একটি পুলিশ বক্স ভাঙচুর করা হয়। এছাড়াও সরকারি পোস্ট অফিস, এলজিইডি অফিস, উপজেলা ভূমি অফিস, উপজেলা পরিষদসহ একাধিক সরকারি স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়।
এ সময় পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ দুঁপচাঁচিয়া থানায় অবস্থান নেয়।
তখন আন্দোলনকারীরা থানার গেট ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। পরে থানার মধ্যে থেকে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার-শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
এখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে অন্তত ১২ আহত বলে জানান স্থানীয় সাংবাদিকরা।
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন নিহত হয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. শামসুন্নাহার জানান, মুনিরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তার মাথায় গুলি লেগেছিল।
এছাড়াও শেরপুর থানার গেট ভাঙচুরের চেষ্টা চালায় আন্দোলনকারীরা। তখন তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার-শেল ছোঁড়ে পুলিশ।
বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের (শজিমেক) উপপরিচালক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ বিবিসি বাংলাকে চারজন নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দুইজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
মি. ওয়াদুদ বলেন, “তিনজনকে ব্রড ডেড অবস্থায় আনা হয়। চিকিৎসা দেয়ার সময়ই মারা যান একজন। আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৬৫ জন। বিকেল পাঁচটার পর থেকে আহত রোগী আসছে না”।
বেশিরভাগই রোগীকেই ছররা গুলিতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া চোখে ইনজুরি থাকায় বেশ কয়েকজন রোগীকে অবস্থা বুঝে সোমবার ঢাকায় পাঠানো হতে পারে বলে জানান মি. ওয়াদুদ।

ছবির উৎস, BBC/Nagib Bahar
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সংখ্যা পাঁচ
সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সমাবেশ করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, ধানমণ্ডি, মিরপুর, উত্তরাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়।
বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সারাদিনই আহত ব্যক্তিদের নিয়ে আসা হয়। এই হাসপাতাল থেকে মোট পাঁচজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
বিবিসি বাংলার সংবাদদাতারা জরুরি বিভাগে শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা নিতে দেখেছেন।
বিকেল চারটা নাগাদও সংঘর্ষে আহত একের পর এক রোগী প্রতি মুহূর্তে হাসপাতালটির জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসছিল।
বিকেল চারটা নাগাদ অন্তত ৩১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এরপরে গুলিবিদ্ধ এবং গুরুতর আহত ১০৮ জন ব্যক্তির চিকিৎসা করেছেন এই হাসপাতালের চিকিৎসকরা।
তবে, বিকেল পাঁচটার পর আহতের সংখ্যা আরো বেড়েছে এ হাসপাতালে।
তবে, বিকেলের পর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা চারজনের মরদেহ নিয়ে যায়। সেখান থেকে তারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ করে।

ছবির উৎস, Reuters
নরসিংদীতে আওয়ামী-লীগের ছয় নেতাকর্মী নিহত
নরসিংদীর মাধবদীতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে আওয়ামী লীগের ছয়জন নেতা-কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
নরসিংদী জেলা পুলিশের কন্ট্রোল রুম থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, দুপুর বারটা থেকে কয়েক হাজার আন্দোলনকারী ঢাকা- সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে। দুপুর একটার দিকে উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকশ নেতাকর্মী সেখানে যান। তারা আন্দোলকারীদের সেখান থেকে চলে বলেন।
এ নিয়ে তাদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
প্রায় দেড়টা নাগাদ আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে নেতাকর্মীরা এতে আন্দোলনকারীদের অন্তত চারজন গুলিবিদ্ধ হন।
পরে তাদের ধাওয়া করে আন্দোলনকারী মানুষ। এ সময় তারা মাধবদী পৌরসভার বড় মসজিদে ঢুকে পড়ে। পরে মসজিদের অজুখানার ভেতর ঢুকে আন্দোলনকারীরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পিটিয়ে মারেন।
এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানান স্থানীয় সাংবাদিকরা।

ছবির উৎস, Hasan Nayem
রণক্ষেত্রে পরিণত চট্টগ্রামের নিউমার্কেট মোড়
আন্দোলনকারীরা রোববার সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে শুরু করে।
পরে সাড়ে দশটায় বিভিন্ন স্থান থেকে নিউমার্কেট এলাকায় আন্দোলনকারীরা জড়ো হয়। এ সময় শতশত মানুষ এক দফা দাবিতে মিছিল নিয়ে নিউমার্কেট চত্বর এলাকায় জড়ো হয়েছিল। এক পর্যায়ে চার রাস্তার মোড়ের রাস্তা বন্ধ করে দেয় আন্দোলনকারীরা।
সাড়ে এগারটার দিকে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার-শেল ছোঁড়ে।
স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, নিউমার্কেট এলাকা মূলত বরাবরই ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের দখলে ছিল। সিটি কলেজ, ইসলামিয়া কলেজের দিক থেকে তাদের লক্ষ্য করে হামলা হয়।
একই সময় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালালে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
সংঘর্ষ চলাকালীন দুইপক্ষই একে অপরের দিকে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে। আন্দোলনকারীদের হাতে লাঠিসোটা দেখা যায় এবং ছাত্রলীগ ও আওয়ামী-লীগ নেতাকর্মীরাও সশস্ত্র অবস্থায় ছিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউড গ্রেনেড এবং ছররা গুলি ছুঁড়ে। বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ও ঘটে বলে জানা যায়।
এক পর্যায়ে সংষর্ঘ ছড়িয়ে পড়ে জুবিলি রোড, স্টেশন রোডসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতেও।
এ সময় নিউমার্কেট এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।
দুপুর একটায় নিউমার্কেট মোড়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। সে উপলক্ষ্যে তারা যেসব মাইক স্থাপন করে সংঘর্ষের একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা সেগুলো ভাঙচুর করে।
পুলিশ ও ছাত্রলীগের ধাওয়ায় তারা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বকশিরবিদ এলাকায় দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করে। সামনে থাকা ব্যানারে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়।
এদিকে, শহরের কোতোয়ালীতে নুর আহমেদ সড়কে বিএনপির দলীয় কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়। কার্যালয়ের সামনে থাকা বিভিন্ন ব্যানারে আগুন দেয়া হয়।
ছররা গুলিতে অন্তত ৩৩ জন আহত হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭১ জন আহত চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার মো. তসলিম উদ্দিন।
তিনি জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বেশিরভাগ আহতকে হাসপাতালে আনা হয়েছে।
এ হাসপাতাল ছাড়াও বেসরকারি হাসপাতাল পার্কভিউ হাসপাতালে দুই ছাত্রীসহ আরও ছয়জন আহত ভর্তি আছেন।
পটিয়াতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের উপর হামলায় কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে বলে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম।








