আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
সিএনজি অটোরিকশা চালকদের অবরোধের মুখে জরিমানার নির্দেশনা বাতিল
গ্যাস বা পেট্রোলচালিত অটোরিকশা মিটারে না গেলে জরিমানা ও মামলার বিধান নিয়ে পূর্বে নিজেদের দেয়া নির্দেশনা বাতিল করেছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)।
রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সড়কে চালকদের অবরোধ এবং রাস্তায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার কৃত্রিম সংকট দেখা দেয়ার পর নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলো সংস্থাটি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) থেকেও সিএনজি অটোরিকশার চালক মিটারের বেশি ভাড়া আদায় করলে তার বিরুদ্ধে মামলা দেয়ার ব্যাপারে নির্দেশনা বাতিলের কথা জানানো হয়েছে।
ফলে এ ধরনের অটোরিকশায় মিটার ব্যবহার করা এখন বাধ্যতামূলক নয়। আগের নিয়মেই চলবে যানবাহনটি।
ডিএমপির উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমানের (মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশনস) সই করা বিজ্ঞপ্তিতে চালকদের অবরোধ প্রত্যাহার করে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।
End of বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:
এদিকে, আজ ভোর থেকেই ঢাকার সড়কে তেমন একটা দেখা যাচ্ছিল না সিএনজিচালিত অটোরিকশার। অল্পসংখ্যক যেগুলোর দেখা মিলেছে, সেগুলোর চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করেছেন। বাধ্য হয়ে অনেককে বেশি টাকা দিয়ে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।
ঢাকার খিলক্ষেতের বাসিন্দা সানজিদা আলম বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে সকালে বাসা থেকে বের হই। তবে সড়কে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও সিএনজি না পেয়ে পরে বাসে করে গন্তব্যে রওনা দিই।
কেবল তিনি নন, আজ সকালে যারা বাসা থেকে বের হয়েছেন, তাদের মধ্যে যারা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়েন, তাদেরকে এমন ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।
সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাধ্যতামূলক মিটার ব্যবহারে সরকারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে চালকরা রাস্তায় যানবাহনটি নামাননি আজ সকালে। পাশাপাশি ঢাকার বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করেছেন তারা।
সকাল ৭টা থেকে তারা সড়কে অবস্থান নিতে শুরু করেন। ঢাকার দুই প্রবেশপথ মিরপুর ও যাত্রাবাড়ীর বিভিন্ন সড়কের পাশাপাশি আরও বিভিন্ন সড়কে তারা অবস্থান নেন।
তাতে এসব এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। রাস্তা অবরোধের কারণে অনেককে পায়ে হেঁটে রওনা দিতে দেখা যায়। এছাড়া, রাজধানীর তীব্র যানজট দেখা দেয়। বিভিন্ন স্থানে তীব্র যানজট দেখা গেছে।
এ সময় চালকরা বাধ্যতামূলক মিটার ব্যবহারের নিদের্শনা বাতিলের পাশাপাশি ভাড়া বৃদ্ধি ও পুলিশের হয়রানি বন্ধের দাবিও তোলেন।
যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান তালুকদার সকাল সাড়ে নয়টায় বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ যাত্রাবাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় সকাল ৭টা থেকে সড়ক অবরোধ করেন সিএনজিচালিত অটোচালকরা। আমরা তাদেরকে সড়ক ছেড়ে দেয়ার জন্য বুঝানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে দুয়েকটি রাস্তা থেকে তারা সরে পড়েছেন।
বিআরটিএ জরিমানা ও মামলা সংক্রান্ত নিদের্শনা বাতিল করলে সকাল সাড়ে দশটার পর অবরোধ প্রত্যাহার করে সড়ক ছেড়ে দেন চালকরা।
গত সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিআরটিএ নির্দেশ দেয়, গ্যাস বা পেট্রোলচালিত অটোরিকশা চালকরা মিটারের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায় করলে জরিমানা বা কারাদণ্ড দেয়া হবে।
সংস্থাটির নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ৩৫(৩) ধারা অনুযায়ী রুট পারমিটপ্রাপ্ত অটোরিকশাগুলো যেকোনও গন্তব্যে যাত্রী নিতে বাধ্য। চালকরা মিটারের চেয়ে বেশি ভাড়া দাবি বা আদায় করতে পারবেন না।
যদি কেউ এই নিয়ম লঙ্ঘন করেন, তাহলে আইনের ৮১ ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, ৬ মাসের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেয়া হবে। এছাড়া চালকের লাইসেন্স থেকে এক পয়েন্ট কেটে নেয়ার বিধানও রয়েছে।
বিআরটিএর নির্দেশনা সংক্রান্ত চিঠি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনারকেও পাঠানো হয়।
এই নির্দেশনার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলা সিএনজি অটোরিকশার অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অনিয়ম বন্ধ হবে বলে প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিল বিআরটিএ। তবে ছয়দিনের মাথায় সেই আশা বাস্তবায়ন থেকে পিছু হটলো বিআরটিএ।
সিএনজিচালিত অটোরিকশায় মিটার অনুযায়ী ভাড়া নেয়ার নির্দেশনায় গত বৃহস্পতিবারও এর প্রতিবাদে ঢাকার মিরপুর রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছিল চালকরা। সেদিন প্রায় তিন ঘণ্টা তারা সড়কটি অবরোধ করে রাখেন।
সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেন, মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতা, পথে পথে চাঁদাবাজি, স্ট্যান্ডের নামে অবৈধভাবে অর্থ আদায়সহ নানা কারণে তারা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী অটোরিকশা চালাতে পারেন না। তারা বাধ্য হয়েই মিটার ছাড়া সিএনজি চালান।
তারা আরও বলছিলেন, প্রতি শিফটে (রাত ও দিনের হিসেবে শিফট) মালিককে দিতে হয় ৯৫০ থেকে ১০০০ টাকা। ফলে তাদের পক্ষে মিটারে সিএনজি চালিয়ে পরিবার নিয়ে রাজধানীতে বেঁচে থাকা বেশ কষ্টদায়ক।