‘দম্ভের পতন, ছাত্র-জনতার জয়’

পত্রিকা

দম্ভের পতন, ছাত্র-জনতার জয়আজকের পত্রিকার প্রথম শিরোনাম এটি। এখানে বলা হয়েছে, গত পহেলা অগাস্ট এক অনুষ্ঠানে দম্ভভরে বলেছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছিলেন, “শেখ হাসিনা কখনো পালিয়ে যায় না।”

কিন্তু তার চার দিন পরই গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে নিভৃতে দেশান্তরি হয়েছেন তিনি। তার এই দেশত্যাগের মধ্য দিয়ে সব দম্ভের পতন হয়েছে। বিজয় এসেছে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার।

আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ‘স্বৈরশাসকের’ পতন ঘটিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে তরুণ প্রজন্ম। রাজনীতি বিশ্লেষকেরা বলছেন, দেশের ইতিহাসে উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের পর এমন শিক্ষার্থী-জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে তীব্র আন্দোলন আর হয়নি।

আন্দোলনের শুরু হয়েছিল গত জুন মাসে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবি নিয়ে। চার দফার এই আন্দোলন ঘটনার পরিক্রমায় নয় দফা এবং সবশেষে সরকার পতনের এক দফায় গড়ায় গত শনিবার।

শুরু হয় অসহযোগের ডাক। আসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চূড়ান্ত কর্মসূচি ‘মার্চ টু ঢাকা’। যার শেষ পরিণতিতে গতকাল প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য হন শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দিয়ে দেশ ছেড়ে পালানোর খবরটি আজ দেশের সকল পত্রিকার প্রধান শিরোনাম।

আরও পড়তে পারেন:
আজকের পত্রিকা

ছাত্র-জনতার রক্তে ভেজা বিজয়— এটি সমকাল পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। এখানে বলা হয়েছে, ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেওয়া বিক্ষোভে সরকারের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে শত শত প্রাণ নিভে যায়।

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের ২০১৮ সালের প্রজ্ঞাপন গত পাঁচই জুন হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করলে তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে অসন্তোষের শুরু হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে গত পহেলা জুলাই থেকে তাদের আন্দোলন শুরু হয়।

কিন্তু গত ১৪ই জুলাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে আন্দোলনকারীদেরকে ‘রাজাকারের বাচ্চা’ অ্যাখ্যা দেন বলে দাবি করা হয় এবং ওই রাতেই সারাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলন জোরালো হয়।

এর দুইদিন পর গত ১৬ই জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরস্ত্র শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে সরাসরি গুলি করে হত্যা করে পুলিশ।

এরপর থেকে বাড়তে থাকে নিহতের সংখ্যা। গত ১৮ই জুলাই থেকে ২১শে জুলাই পর্যন্ত ২১২ জনকে হত্যা করা হয়। এই গণহত্যার পর মানুষ আর কোনোভাবেই শেখ হাসিনাকে মানতে পারছিলেন না।

এরপর গত চৌঠা অগাস্ট রোববার স্বাধীন বাংলাদেশে শতাধিক মানুষের প্রাণ ঝরলেও পরদিন সকালে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসাবে লাখো ছাত্র-জনতা ঢাকায় আসেন।

অবশেষে গতকাল দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে তিনি তার ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে হেলিকপ্টারে করে গণভবন থেকে ভারতের আগরতলার উদ্দেশে যাত্রা করেন।

সমকাল পত্রিকা

শেষ সময়েও বলপ্রয়োগ করে থাকতে চেয়েছিলেন শেখ হাসিনা— এটি দৈনিক প্রথম আলো’র প্রথম পাতার শিরোনাম। এতে বলা হয়েছে, শেষ সময়েও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং আরও রক্তপাতের মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখতে চেয়েছিলেন শেখ হাসিনা।

দেশ ছাড়ার আগে গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের চাপ দিয়েছিলেন তিনি। তবে পরিস্থিতি যে একেবারেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে, সেটা তিনি কিছুতেই মানতে চাচ্ছিলেন না।

পরে পরিবারের সদস্যরাসহ বোঝানোর পর পদত্যাগে রাজি হন। এরপর দ্রুততম সময়ে পদত্যাগ করে সামরিক হেলিকপ্টারে করে গোপনে বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা হয়ে দিল্লি পালিয়ে যান শেখ হাসিনা।

বিবিসি বাংলার আরও খবর:
দৈনিক প্রথম আলো

অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত— কালের কণ্ঠ পত্রিকার প্রধান শিরোনাম এটি। এখানে বলা হয়েছে, ছাত্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর অনতিবিলম্বে দেশে একটি ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গতকাল সোমবার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্বে বঙ্গভবনে এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। রাষ্ট্রপতি জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

এর আগে সকালে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হবে, যার অধীনে দেশের সব কার্যক্রম চলবে।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:
কালের কণ্ঠ পত্রিকা

Khaleda release, JS dissolution, nat’l govt soon: Fakhrul— নিউ এজ পত্রিকার প্রথম পাতার এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার রাতে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সাথে বৈঠক শেষে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনার পর কিছু বিষয়ের সুরাহা হয়েছে। প্রথমটি হল, বর্তমান সংসদ ভেঙে দেওয়া হবে এবং শীঘ্রই একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সেইসাথে, যেসব নেতাকর্মী ও ছাত্র নেতাকে গত পহেলা জুলাই থেকে অন্যায়ভাবে বন্দি করা হয়েছে, তাদেরকে মুক্তি দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

নিউ এজ পত্রিকা

ছাত্রজনতার জয়কে দ্বিতীয় স্বাধীনতা বললেন ড. ইউনূস— নয়া দিগন্ত পত্রিকার প্রথম পাতার অন্যতম এই শিরোনামে বলা হয়েছে যে ছাত্রজনতার জয়কে দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলে আখ্যায়িত করেছেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী একমাত্র বাংলাদেশী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

গতকাল শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে পালানোর পর তিনি ভারতের দ্য প্রিন্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন।

“প্রথম কথা হলো, আমরা স্বাধীন হয়েছি। আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এতদিন আমরা ছিলাম দখল হয়ে যাওয়া একটি দেশে থাকার মতো।”

“এখানে শেখ হাসিনা যে আচরণ করছিলেন, তা দখলদার বাহিনী, একজন স্বৈরশাসক, একজন জেনারেল এবং আরও অনেকের মতো।

তিনি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। সোমবার বাংলাদেশের সব মানুষ নিজেদের স্বাধীন মনে করছেন। আবারও তারা দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জন করলেন। সারা দেশে এই স্বাধীনতা উদযাপিত হচ্ছে।”

নয়া দিগন্ত পত্রিকা

ছাত্র-জনতার সরকার ছাড়া আমরা কাউকে সমর্থন করব না— বণিক বার্তা পত্রিকার প্রথম পাতার শিরোনাম এটি।

এখানে বলা হয়েছে, যেসব ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে, সেসব ছাত্র-জনতার সরকার ছাড়া অন্য কাউকে জনগণ সরকার হিসেবে মানবে না বলে মনে করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

সেজন্য অভ্যুত্থানকারী ছাত্র নাগরিকসহ সব শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে প্লাটফর্মটির পক্ষ থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় সরকারের নাম ও রূপরেখা ঘোষণা করা হবে।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, “অভ্যুত্থানকারী ছাত্র নাগরিকের সমর্থিত বা প্রস্তাবিত সরকার ছাড়া আর কোনও সরকারকে আমরা সমর্থন করব না।

সেটা সেনা সমর্থিত সরকার অথবা জরুরি অবস্থায় রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার, যা-ই হোক না কেন, এ ধরনের কোনও সরকারকে বিপ্লবী ছাত্র-জনতা গ্রহণ করবে না।”

বণিক বার্তা পত্রিকা

গণভবন, সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রবেশ করে জনতার উল্লাস— এটি ইত্তেফাক পত্রিকার প্রথম পাতার এই প্রতিবেদনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা দেশ ছাড়ার পর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সংসদ ভবনে প্রবেশ করে জনতার উল্লাসের কথা বলা হয়েছে।

ছাত্রজনতা যখন জানতে পারে যে শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেছেন, তখন আশেপাশে থাকা সাধারণ মানুষ এই তিন স্থাপনার ভেতরে প্রবেশ করে্ন।

সেখানে গিয়ে তারা উল্লাস করেন। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। সেলফি তোলেন।

অনেককে গণভবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিস নিয়ে বেরিয়ে আসতেও দেখা যায়। যেমন— জামাকাপড়, জায়নামাজ, সিসি ক্যামেরা, আলমারি, সোফা, লাইট, ফ্যান, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, পানির ফিল্টার, ফ্রিজে থাকা বিভিন্ন খাবার, সোফা, চেয়ার, হাঁস-মুরগি, কবুতর ইত্যাদি।

সবকিছু নেওয়ার পর যা আনা যায়নি, তা তারা ভেঙ্গে রেখে আসেন।

ইত্তেফাক পত্রিকা

বিজয়ের দিনেও পুলিশের গুলি হামলা, নিহত ১০৩— যুগান্তর পত্রিকার প্রথম পাতার অন্যতম শিরোনামে বলা হয়েছে, সোমবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করার পর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিদের বাসভবন, কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ অন্যান্য কার্যালয়ে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে ধানমন্ডিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, লাকসামে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী, ভৈরবে ক্রীড়ামন্ত্রী, চাঁদপুরে সমাজকল্যাণমন্ত্রী, নওগাঁয় খাদ্যমন্ত্রীর বাসভবনে হামলা হয়েছে।

শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

এছাড়া, সাকিব আল হাসানসহ ১১জন এমপি’র বাড়িতে হামলার খবর পাওয়া গেছে। তৃণমূল পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িতেও হামলা হয়েছে।

এ দিন সকালে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে ছাত্র-জনতার সংঘর্ষ হয়েছে। এসব ঘটনায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ১০৩ জন নিহত হয়েছেন।

যুগান্তর পত্রিকা

Curfew ends today; all educational, pvt institutions, factories also open— দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার প্রথম পাতার শিরোনাম এটি।

পাঁচই অগাস্ট, সোমবার রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এতে বলা হয়েছে, আজ মঙ্গলবার থেকে দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, স্কুল কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে।

কারণ, এদিন রাত ১২টা থেকে শুরু হওয়া কারফিউ শেষ হয়েছে মঙ্গলবার ভোর ৬টায়।

বাংলাদেশে গত ১৭ দিন ধরে কখনও শিথিল, কখনও কঠোর অবস্থায় কারফিউ ছিল।