কাশ্মীরের নির্বাচনে বিপুল সাড়া, রহস্যের চাবিকাঠি কি ৩৭০?

শ্রীনগরের ডাল লেকে শিকারা আর হাউসবোটের সারি। সেপ্টেম্বর ২০২৪
ছবির ক্যাপশান, শ্রীনগরের ডাল লেকে শিকারা আর হাউসবোটের সারি। সেপ্টেম্বর ২০২৪
    • Author, শুভজ্যোতি ঘোষ
    • Role, শ্রীনগর থেকে, বিবিসি নিউজ বাংলা

মাসচারেক আগে ভারত-শাসিত কাশ্মীরে যখন লোকসভা নির্বাচন হয়, তখনই বোঝা যাচ্ছিল ওখানে কিছু একটা বড়সড় পরিবর্তন অবশ্যই ঘটছে!

কারণ যে কাশ্মীর একদা ‘ভোট বয়কট’ আর ‘সেনা জবরদস্তি’র জন্য পরিচিত ছিল, সেখানে মে মাসে গোটা রাজ্যেই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট পড়ে প্রায় ৫৯ শতাংশের কাছাকাছি! ভোটে সেই অকল্পনীয় সাড়া মেলার পর এখন সেপ্টেম্বরে এসে বিধানসভা নির্বাচনে দেখা যাচ্ছে, প্রথম দফায় ভোট পড়ার হার প্রায় ৬২ শতাংশে পৌঁছে গেছে – বিগত প্রায় চল্লিশ বছরের মধ্যে যে জিনিস কখনও ঘটেনি।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর প্রথম দফার ভোটের পরই রাজ্যের প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা পি কে পোলে জানান, কাশ্মীরে লোকসভা আর বিধানসভা নির্বাচন মিলিয়ে গত সাতটা ভোটের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে এই হিসেব। আর বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণেও অভাবনীয় সাড়া মিলেছে, প্রাথমিক হিসেবে সে দিনও ভোট পড়েছে ৫৬ শতাংশর বেশি।

এর মধ্যে জম্মুর মুসলিম-অধ্যুষিত এলাকা কিশতওয়ারে ভোটদানের হার তো ৮০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। জম্মুর রামবান জেলায় ৭০ শতাংশ বা কাশ্মীরের কুলগামেও ৬৫ শতাংশ ভোটার পোলিং বুথে এসেছেন – আর সর্বত্রই ভোট হয়েছে রীতিমতো উৎসবমুখর পরিবেশে।

অথচ এই কাশ্মীরেই মাত্র কিছুকাল আগেও নির্বাচন মানেই ছিল হুরিয়ত কনফারেন্স বা বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদীর গোষ্ঠীর ভোট বয়কটের ডাক। ভোট দিতে গেলে হামলার মুখে পড়তে হবে, ছিল এই আতঙ্কের চোরা স্রোতও।

আর পাশাপাশি অভিযোগ উঠত, বয়কটের ডাক ব্যর্থ করতে ভারতীয় সেনাবাহিনী জোর করে এক-আধটা আস্ত গ্রামকে বন্দুকের মুখে পোলিং বুথে নিয়ে গেছে – যাতে অন্তত এই ছবিটা তুলে ধরা যায় যে কাশ্মীরে ভোট দিতেও মানুষের লাইন পড়ছে!

দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের দিন শ্রীনগরের উপকন্ঠে ভোটারদের লাইন

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের দিন শ্রীনগরের উপকন্ঠে ভোটারদের লাইন

কিন্তু আজ জম্মু ও কাশ্মীরের ভোটাররা যে স্বত:স্ফূর্তভাবে ভোট দিতে আসছেন, তাতে কোনও সংশয় নেই। চেনা-অচেনা কোনও গোষ্ঠীই ভোট বয়কটের ডাক দেয়নি, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধেও জোর খাটানোর কোনও অভিযোগ ওঠেনি।

তবে যে কোনও ‘সাফল্যে’র যেমন একাধিক দাবিদার থাকে – তেমনি কাশ্মীরের এই নাটকীয় পটপরিবর্তনের নেপথ্যে কী, তা নিয়েও অনেকগুলো মতবাদ আছে।

ভারতের শাসক দল বিজেপি যেমন পরিষ্কার বলছে, পাঁচ বছর আগে ৩৭০ ধারা বিলুপ্ত করে তারাই কাশ্মীরকে দেশের মূল ধারায় ফিরিয়ে এনেছে এবং সে কারণেই গোটা অঞ্চলে এখন শান্তি ও সুস্থিরতা বিরাজ করছে। ব্যালট বাক্সে কাশ্মীরিদের সেই আস্থারই প্রতিফলন ঘটছে বলে তাদের দাবি।

শ্রীনগর ও তার আশেপাশে গত সপ্তাহে বহু সাধারণ কাশ্মীরির সঙ্গে কথা বলেছি, তারা আবার অনেকেই বলছেন হ্যাঁ, পরিস্থিতির বেশ অনেকটা উন্নতি হয়েছে এতে কোনও ভুল নেই!

“কিন্তু বিজেপির এতে কোনও কৃতিত্ব নেই! বছরের পর বছর ধরে টানা অস্থিরতা আর সহিংসতায় ক্লান্ত হয়ে কাশ্মীরের আমজনতাই এবার স্থির করেছে, ঢের হয়েছে, আমরা নিজেরাই উপত্যকায় শান্তি ফিরিয়ে আনব আর ভোট দিতে যাব”, বলছেন তারা।

কাশ্মীরে ন্যাশনাল কনফারেন্স বা পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মতো পুরনো ও প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলো আবার বিশ্বাস করে ৩৭০ ধারা এখনও ফিরিয়ে আনা সম্ভব – আর বিপুল সংখ্যায় ভোট দিয়ে উপত্যকার মানুষ বিজেপির সেই চরম বিতর্কিত পদক্ষেপের বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

সম্পর্কিত খবর :
ভোট দিতে আসার ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিলেন না কাশ্মীরের মহিলারাও

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ভোট দিতে আসার ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিলেন না কাশ্মীরের মহিলারাও

কাশ্মীরে এখনও ‘নিষিদ্ধ’ জামায়াত-ই-ইসলামীর নেতারা পর্যন্ত বলছেন, মানুষের হাতে আর কোনও প্রতিবাদের পথ নেই বলেই তারা বাধ্য হয়ে ভোট দিচ্ছেন – যাতে কাশ্মীরিদের কন্ঠস্বর দিল্লির কানে পৌঁছয়!

আসল কারণ হয়তো এগুলো সব মিলিয়েই – তবে বাস্তবতা হল ৩৭০ ধারা বিলুপ্ত করার পদক্ষেপের সঙ্গে এই প্রতিটি ফ্যাক্টরেরই কিছু না কিছু সম্পর্ক আছে। জম্মু ও কাশ্মীর যে আজ ভোটের লাইনে এসে দাঁড়াচ্ছে, তার পেছনে সেই সিদ্ধান্তের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা অবশ্যই আছে।

বিশেষ স্বীকৃতি বিলোপের পর গত পাঁচ বছরে কাশ্মীরের ‘গ্রাউন্ড রিয়েলিটি’তে ঠিক কী ধরনের পরিবর্তন হয়েছে, এই প্রতিবেদন আসলে তারই একটা সরেজমিন অন্তর্তদন্ত।

মোবাইল শাটডাউন থেকে ফাইভ জি

২০১৯র ৫ই অগাস্ট ভারতের পার্লামেন্ট কাশ্মীরের বিশেষ স্বীকৃতি কেড়ে নেওয়ার ঠিক পরদিন বিকেলেই শ্রীনগরের বিমান ধরেছিলাম। পুরো উপত্যকায় তখন মোবাইল ইন্টারনেট তো বটেই, সেলফোন বা ল্যান্ডলাইন পরিষেবা পর্যন্ত বন্ধ। সেই অবস্থা চলেছিল মাসের পর মাস।

শ্রীনগরের শেখ-উল-আলম এয়ারপোর্টে ফ্লাইট নামার পর স্পাইসজেটের এয়ারহোস্টেস যখন রোজকার অভ্যেসে বলে ফেলেছেন, “এখন আপনারা মোবাইল ফোন চালু করে ইউজ করতে পারেন” – ওই থমথমে পরিবেশেও গোটা প্লেন হাসিতে ফেটে পড়েছিল!

কাশ্মীরে তখন সর্বাধুনিক আইফোন বা স্যামসুং গ্যালাক্সিও নেহাতই অচল খেলনার চেয়ে বেশি কিছু নয়!

উপত্যকায় সহিংসতা বাড়লেই তখন প্রশাসনের প্রথম কাজ ছিল, মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া।

শ্রীনগরের একটি পার্কে মোবাইল ফোন নিয়ে খেলছে কাশ্মীরি শিশুরা

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, শ্রীনগরের একটি পার্কে মোবাইল ফোন নিয়ে খেলছে কাশ্মীরি শিশুরা

ফোনে ডেটা না-পেতে পেতে বিরক্ত কাশ্মীরি তরুণরা ওয়াই-ফাই হ্যাক করায় ওস্তাদ হয়ে ওঠে, বিভিন্ন বাড়ির বা শপিং মলের কোনায় জটলা করে তারা সেখানকার ওয়াই-ফাই দিয়ে নেট চালাচ্ছে – এটা ছিল শ্রীনগরে খুব পরিচিত দৃশ্য।

আর সেই কাশ্মীরেই পাঁচ বছর বাদে এবার গিয়ে দেখলাম, ফোনে ফাইভ-জি ডেটার স্পিড রাজধানী দিল্লির চেয়েও বেশি ছাড়া কম নয়!

বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করতে করতে কাশ্মীরিরা ইউটিউবে প্রিয় পাকিস্তানি সিরিয়াল ‘নূরজাহান’ ইউটিউবে দেখছেন কোনও বাফারিং ছাড়াই। তরুণ-তরুণীরা নেটফ্লিক্স থেকে প্রিয় শো নিজেদের ফোনে ডাউনলোড করে নিচ্ছেন চোখের নিমেষে!

পর্যটকের ঢল, ফুরফুরে আমেজ

পাঁচ বছর আগের সেই অগাস্টে গোটা শহরে জারি ছিল কঠোর কারফিউ, রাস্তায় ছিল অবিরত ফৌজি টহল। শ্রীনগরে ডাল লেকের ধারে শিকারা আর হাউসবোটগুলো তখন যথারীতি খদ্দের পায়নি মাসের পর মাস।

আর সেই শ্রীনগরেই এখন দেশের নানা প্রান্ত থেকে রোজ প্রায় চল্লিশটা ফ্লাইট নামছে, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সামলে কূল করতে পারছেন না ট্যাক্সি-চালক, শিকারাওলা বা হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিকরা।

গত বছরের হিসেব বলছে, প্রায় সত্তর বছরের রেকর্ড ভেঙে শুধু কাশ্মীর ভ্যালিতেই ২৭ লক্ষরও বেশি পর্যটক এসেছেন। এদের মধ্যে যেমন ভারতীয়রা আছেন, তেমনি অনেকেই এসেছেন বিলেত-আমেরিকা বা বাংলাদেশ থেকেও।

কেন্দ্রীয় সরকারের স্মার্ট সিটি প্রকল্পে শ্রীনগর শহরেরও ভোল ফিরেছে, ঝকঝকে রাস্তায় ছুটছে বিদ্যুৎচালিত আধুনিক বাস আর অটো।

কাশ্মীরে প্রধানমন্ত্রী মোদীর জনসভার দিন রাস্তায় পর্যটকরা। ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, কাশ্মীরে প্রধানমন্ত্রী মোদীর জনসভার দিন রাস্তায় পর্যটকরা। ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

শ্রীনগরের প্রাণকেন্দ্র লালচকে যে ক্লক টাওয়ার বা ‘ঘন্টাঘর’ – সেই চত্ত্বরে মধ্যরাতের পরেও এখন আইসক্রিম খাওয়ার ভিড়, পিজা ডেলিভারির ব্যস্ততা কিংবা নিছক জয়-রাইডে আসা তরুণ-তরুণীদের নিশ্চিন্ত আড্ডা।

এ কাশ্মীরকে যেন সত্যিই চেনা যায় না! প্রায় তিরিশ বছর ধরে আসছি শ্রীনগরে, সত্যি কথা বলতে এ দৃশ্য আগে কখনও দেখিনি।

সরকারি পরিসংখ্যানও বলছে, সশস্ত্র হামলা বা বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও তার আগের পাঁচ বছরের চেয়ে অনেক কমেছে। কাশ্মীরি তরুণরা আগে কথায় কথায় পাথর ছুঁড়ে রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতেন, সেই প্রবণতাও একেবারেই উধাও।

তবে বান্দিপোরা বা অনন্তনাগের দুর্গম ও প্রত্যন্ত প্রান্তে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ বা এনকাউন্টারের ঘটনা এখনও বন্ধ হয়নি পুরোপুরি। তবে প্রাণহানির সংখ্যা অবশ্যই কমেছে।

অনেক নিরাপত্তা বিশ্লেষক আবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন, কাশ্মীর উপত্যকা তুলনায় শান্ত হলেও সহিংসতা বা এনকাউন্টারের ঘটনাগুলো এখন সরে গেছে জম্মুর ডোডা, কিশতওয়ার বা রাজৌরির মতো নানা এলাকায়।

তবে সব মিলিয়ে গোটা রাজ্য যে আগের তুলনায় অনেক শান্ত ও স্বাভাবিক, পর্যটকরা ফুরফুরে মেজাজে নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন – এটা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই!

এবছর ভারতের স্বাধীনতা দিবসে শ্রীনগরের লালচকে ‘ঘন্টাঘর’

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, এবছর ভারতের স্বাধীনতা দিবসে শ্রীনগরের লালচকে ‘ঘন্টাঘর’

কিন্তু এটাও ঠিক, এগুলো সবই বহিরঙ্গের পরিবর্তন ... অথবা আপাত ‘স্বাভাবিকতা’য় ফেরা। ৩৭০ ধারা বাতিলের পর কেন্দ্র কাশ্মীরে উন্নয়ন ও নিরাপত্তার নামে যে জলের মতো টাকা খরচ করেছে বা প্রচুর সেনা মোতায়েন করেছে, এর পেছনে তারও একটা প্রভাব অবশ্যই আছে।

কিন্তু বিশেষ স্বীকৃতি বাতিলের সিদ্ধান্তও কি কাশ্মীরিরা মন থেকে মেনে নিতে পেরেছেন? না কি একটা পুরনো ক্ষতস্থানের মতো তাদের সেই ব্যথাটা আজও রয়েই গিয়েছে?

‘ইমোশনাল কানেক্ট লস্ট’

শ্রীনগরের অভিজাত গোগজিবাগ এলাকায় নিজের প্রাসাদাপোম ভিলায় এখন অবসর জীবন কাটাচ্ছেন কাশ্মীর সরকারের সাবেক শীর্ষস্থানীয় আমলা শেখ বাশারাত হোসেইন।

সকাল-বিকেল বাগানে কাওয়াহ চা-তে চুমুক দিয়ে আর দেশ-দুনিয়ার রাজনীতিতে নজর রেখেই আজকাল দিন কাটে তার। কিন্তু ৩৭০ ধারা বিলোপের সেই দিনটা কিছুতেই ভুলতে পারেন না মি হোসেইন।

“দেখুন, সোজা কথা সোজা বলাই ভাল – কাশ্মীর একটা মুসলিম প্রদেশ। ফলে দেশের সরকার যখন মুসলিম বিরোধী নীতি নিয়ে চলে বা ভারতের অন্য প্রান্তে মুসলিমরা নির্যাতিত হন, কাশ্মীরিরা তাতে ব্যথিত হন”, বিবিসির সঙ্গে আলাপচারিতায় বলছিলেন মি হোসেইন।

তিনি মনে করেন, ৩৭০ ধারার বিলোপ সেই কফিনেই শেষ পেরেকটা ঠুকেছে। এমন কী তার পরিচিত মহলে যে বন্ধুরা পাকিস্তানের বিপক্ষে ও ভারতের পক্ষে গলা ফাটাতেন, তারাও আজকাল আর ভারতের হয়ে বড় একটা কথা বলেন না!

শেখ বাশারাত হোসেইন
ছবির ক্যাপশান, শেখ বাশারাত হোসেইন

“আমি বলব না এই ধারার বিশেষ গুরুত্ব ছিল বা এর ফলে কাশ্মীর বিরাট কোনও সুবিধা পাচ্ছিল। কিন্তু এই বিশেষ স্বীকৃতিটা ছিল কাশ্মীরের একটা গর্বের জায়গা, ভারতভুক্তির শর্ত। সেই সমঝোতাটা আপনি দুম করে ভেঙে দিলে ইমোশনাল কানেক্টটাই তো নষ্ট হয়ে যায়!”, বলেন শেখ বাশারাত হোসেইন।

এর ফলে কাশ্মীরের সঙ্গে বাকি ভারতের যে ‘মানসিক দূরত্ব’টা তৈরি হয়েছে, সেটা কাটিয়ে উঠতেও যে অনেক অনেক সময় লাগবে তা নিয়েও সাবেক এই সরকারি কর্মকর্তার কোনও সংশয় নেই।

“তবু হয়তো একদিন এটাই আমাদের মেনে নিতে হবে, এছাড়া কোনও উপায় যে নেই”, তীব্র আক্ষেপ ও বিষণ্ণতা মেশানো কণ্ঠে বলেন তিনি।

দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অমিত শাহ অবশ্য কিছুদিন আগেই ভ্যালিতে ভোটের প্রচারে এসে বলে গেছেন – ৩৭০ ধারার কথা ভুলে যাওয়াই ভাল, কারণ সেটার ‘দাফন’ হয়ে গেছে!

তারপরেও ন্যাশনাল কনফারেন্স বা পিডিপি-র মতো দলগুলো ক্ষমতায় এলে ৩৭০ ধারা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, যদিও তারা নিজেরাও জানে কাজটা কতটা কঠিন!

শ্রীনগরের লালচকে পিডিপি-র ঝকঝকে তরুণ প্রার্থী জুহেইব ইউসুফ মীর তবুও নিয়ম করে প্রতিটি পথসভা বা ছোটখাটো র‍্যালিতে বলে যাচ্ছেন, “২০১৯-র ৫ই অগাস্ট যে বেআইনি সিদ্ধান্ত আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই জারি থাকবে।”

জুহেইব ইউসুফ মীর
ছবির ক্যাপশান, জুহেইব ইউসুফ মীর

“যতক্ষণ শরীরে শ্বাস থাকবে, এই ধারা ফিরিয়ে আনার দাবিতে আমাদের আন্দোলন চলতেই থাকবে!”, গলার শিরা ফুলিয়ে চেঁচাতে থাকেন তরুণ রাজনীতিবিদ।

পিডিপি-র সবুজ টি-শার্ট পরা তার অনুগামী ও সমর্থকরা নেতার কথায় নিয়মমাফিক হাততালি দেন ঠিকই, কিন্তু তাতে স্বত:স্ফূর্ততার যেন বড়ই অভাব!

একটু পরে এই প্রতিবেদককেও মি মীর যখন বলছিলেন, “৩৭০ কেড়ে নেওয়ার পর কাশ্মীরিদের কন্ঠস্বরও তো স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আপনার পেশার লোকজন – সাংবাদিকদেরই তো এখানে কোনও স্বাধীনতা নেই!” ... তার সমর্থকরাও তখন নিস্পৃহ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন!

আসলে একদা দেশের সংবিধানে দেওয়া বিশেষ স্বীকৃতি যে এখন শুধুই অতীত – কাশ্মীরও যেন সেই বাস্তবতাকে মেনে নিয়েই ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর জন্য তৈরি হচ্ছে।

৩৭০-পরবর্তী নির্বাচনি রাজনীতি

পাঁচ বছর আগে ৩৭০ ধারার বিলোপ জ্ম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ স্বীকৃতিই শুধু কেড়ে নেয়নি, এই অঞ্চলটিকে তা ভারতের একটি পূর্ণ অঙ্গরাজ্যের বদলে নামিয়ে এনেছিল ‘কেন্দ্রশাসিত’ অঞ্চলের মর্যাদাতেও।

যার ফলে কেন্দ্রীয় সরকার নিযুক্ত একজন লেফটেন্যান্ট গভর্নরই এখন জম্মু ও কাশ্মীরের প্রশাসক বা দন্ডমুন্ডের কর্তা, বর্তমানে যে পদে রয়েছেন সাবেক বিজেপি রাজনীতিবিদ মনোজ সিনহা।

জম্মু ও কাশ্মীরের লে: গভর্নর মনোজ সিনহা

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, জম্মু ও কাশ্মীরের লে: গভর্নর মনোজ সিনহা

সাধারণ কাশ্মীরিরা অনেকেই মনে করেন, ব্রিটিশ আমলে যেমন লন্ডনের নিয়োগ করা ‘ভাইসরয়’ বা বড়লাট ভারত শাসন করতেন, এখন দিল্লিও যেন তাদের ভাইসরয়কে দিয়ে কাশ্মীর শাসন করানোর পথ বেছে নিয়েছে। আর এটা তাদের কাছে বড়ই অপমানের!

ফলে এবারের নির্বাচনে কাশ্মীরের পূর্ণ অঙ্গরাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি প্রায় সব দলের ইশতেহারেই ঠাঁই পেয়েছে। এমন কী বিজেপি পর্যন্ত অঙ্গীকার করেছে, ‘যথাসময়ে’ জম্মু ও কাশ্মীরকে এই মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

শ্রীনগরে ডাল লেকের উত্তর প্রান্তে হজরতবাল আসনে এবার প্রার্থী হয়েছেন স্থানীয় একটি মাজারের প্রভাবশালী পীরসাহেব বিলাল আহমেদ।

শানপোরা গ্রামের সরু পথ দিয়ে পীরসাহেব যখন বিশাল কনভয় নিয়ে রোড শো করছেন, তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, “আপনিও কেন ভোটের লড়াইতে নামলেন?”

বিলাল আহমেদ জবাব দেন, “আসলে কাশ্মীর হল এমন একটা তালা, যার চাবি এখন দিল্লিতে। এই চাবি ফিরিয়ে আনতেই আমরা ভোটে লড়ছি।”

৩৭০ ধারা বিলুপ্ত হওয়ার পর সাধারণ মানুষের যে দুর্দশা বেড়েছে, গরিব মানুষের ঘরে ঘরেও এক-দেড় লাখ টাকার বিদ্যুতের বিল বাকি বা তারা বাড়তি ট্যাক্স-পানির বিল দিতে হিমশিম – সে কথাও মনে করিয়ে দিতে ভোলেন না পীরসাহেব।

ডিপিএপি নেতা পীর বিলাল আহমেদ (বাঁয়ে) ও সালমান নিজামী
ছবির ক্যাপশান, ডিপিএপি নেতা পীর বিলাল আহমেদ (বাঁয়ে) ও সালমান নিজামী

বস্তুত দিল্লির হাত থেকে কর্তৃত্ব ছিনিয়ে এনে কাশ্মীরিদের হাতেই আবার কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনতে হবে – এই দাবিকে সামনে রেখে অনেকগুলো ছোটখাটো দলই এবারে ভোটের ময়দানে আছে।

এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ইঞ্জিনিয়ার রশিদের আওয়ামী ইত্তেহাদ পার্টি, গুলাম নবি আজাদের ডিপিএপি, আলতাফ বুখারির আপনি পার্টি বা সাজ্জাদ গনি লোনের পিপলস কনফারেন্স।

এছাড়া ইঞ্জিনিয়ার রশিদের দলের সঙ্গে আঁতাত করে প্রার্থী হয়েছেন নিষিদ্ধ জামায়াত-ই-ইসলামীর জনাকয়েক নেতাও।

পিডিপি বা ন্যাশনাল কনফারেন্সের মতো পুরনো দলগুলো অবশ্য বারবার বলে যাচ্ছে, এই দলগুলোর সঙ্গে বিজেপির গোপন সমঝোতা হয়েছে – এমন কী তাদের প্রচারের খরচও না কি বহন করছে দিল্লিই!

গুলাম নবি আজাদের ডানহাত বলে পরিচিত, ডিপিএপি-র প্রধান মুখপাত্র সালমান নিজামী অবশ্য এই সব অভিযোগ নস্যাৎ করে বললেন, “আমরা কখনওই বিজেপির ‘প্রক্সি’ নই। পিডিপি বা এনসি-র মতো যে সব দল আগে বিজেপির সঙ্গে মিলে সরকার গড়েছে, তাদের মুখে অন্তত এসব অভিযোগ মানায় না।”

সালমান নিজামীর বক্তব্য হল – নতুন নতুন দলের হয়ে বা ‘স্বতন্ত্র’ হিসেবে যে সব প্রার্থীরা ভোটে লড়ছেন, তাদেরকে ‘বিজেপির দালাল’ বলে চিহ্নিত না-করে বরং কাশ্মীরে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য তাদের প্রয়াসকেই সম্মান জানানো উচিত।

মনজুর আহমেদ পাঠান (বাঁয়ে) ও ইজাজ আহমেদ
ছবির ক্যাপশান, মনজুর আহমেদ পাঠান (বাঁয়ে) ও ইজাজ আহমেদ

“হুরিয়তের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা সৈয়দ আলি শাহ গিলানিও তো এক সময় বিধায়ক ছিলেন। মূল ধারার রাজনীতি করেছেন ইয়াসিন মালিকও। এখন যিনি পাকিস্তানে গিয়ে হিজবুল মুজাহিদিনের সর্বোচ্চ নেতা, সেই সৈয়দ সালাহউদ্দিনও তো ’৮৭ সালে কাশ্মীরের ভোটে লড়েছিলেন!”

“সেই ভোটে ব্যাপক রিগিং করে কংগ্রেস আর ন্যাশনাল কনফারেন্সকে জেতানোর পরই তো ভ্যালিতে জঙ্গিবাদের রমরমা শুরু! তো তখন এরাও কি দিল্লির দালাল ছিলেন?”

সালমান নিজামী কথাটা তখনও পুরো শেষ করেননি – উল্টোদিক থেকে চলে এল মেহবুবা মুফতির দল পিডিপি-র বিশাল কনভয়!

সঙ্গে সঙ্গে স্লোগান-যুদ্ধে মেতে উঠল যুযুধান দু’পক্ষ। দশ বছর আগে মেহবুবা মুফতিও যে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন, সেই অস্বস্তিকর প্রসঙ্গ তুলে ডিপিএপি-র কর্মীরা আওয়াজ তুলতে লাগলেন. “মোদী কা যো ইয়ার হ্যায়, গদ্দার হ্যায় গদ্দার হ্যায়!”

কাশ্মীর ভ্যালিতে বিজেপির একটি আসনেও জেতার কোনও সম্ভাবনা নেই – তবু মজার ব্যাপার হল, সেখানে কোন দল বিজেপির কতটা বন্ধু আর কতটা শত্রু, সেই মাপকাঠিতেই কিন্তু চড়ছে নির্বাচনি উত্তেজনার পারদ!

কাশ্মীরিদের কথা

৩৭০ ধারা বিলোপের পর গত পাঁচ বছরে ঠিক কী ধরনের পরিবর্তন হয়েছে, সরাসরি এই প্রশ্নটাই করেছিলাম শ্রীনগরের পথেঘাটে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষজনকে। তারা কী উত্তর দিলেন, নিচে হুবুহু সেটাই তুলে ধরলাম।

শেখ বশির (ডাল লেকের শিকারা চালক) :

এটা ঠিকই যে পরিস্থিতির কিছু উন্নতি হয়েছে, ট্যুরিস্টরাও আসায় আমাদের ব্যবসাপাতিও ভালই চলছে। কিন্তু মুশকিল হল, তরুণদের হাতে কাজকর্ম নেই, চাকরিবাকরি নেই। তারা খাবে কী? দিল্লির শাসকদের তো ছোটখাটো বিষয়গুলোতে মন দেওয়ার সময় নেই ...এদিকে আমাদের ডাল লেক শুকিয়ে যাচ্ছে, মোদী রোজ ‘স্বচ্ছ ভারত স্বচ্ছ ভারত’ করে গলা ফাটান - অথচ এই গোটা এলাকায় পর্যটকদের জন্য একটা শৌচাগার পর্যন্ত নেই!

একটি স্টার্ট আপের প্রতিষ্ঠাতা বিলাল ভাট
ছবির ক্যাপশান, একটি স্টার্ট আপের প্রতিষ্ঠাতা বিলাল ভাট

বিলাল ভাট (শ্রীনগরে একটি স্টার্ট-আপের প্রতিষ্ঠাতা) :

‘পাত্থরবাজি’যাকে বলে, মানে তরুণদের কথায় কথায় পাথর ছোঁড়ার ঘটনা কমেছে। কিন্তু তারা এখন পাথর ছেড়ে ড্রাগস ধরেছে। কাশ্মীরে এই সমস্যা আগে কখনও ছিল না, এখন কিন্তু সর্বত্র মাদকের সমস্যা ছেয়ে যাচ্ছে। জঙ্গিবাদের রাস্তা ছেড়ে তারা যদি ড্রাগসের রাস্তা ধরে, তাহলে আর কী লাভ হল?'

ইজাজ আহমেদ (নিরাপত্তা কর্মী) :

জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ আমি বলব খুবই ভাল কাজ করছে। আগে কারণে অকারণে যুবকদের থানায় তুলে নিয়ে যাওয়া হত, নির্যাতন করা হত। পিএসি (সন্ত্রাস-বিরোধী আইন) লাগিয়ে দেওয়া হবে, কোনও দিন আর চাকরিবাকরি মিলবে না, এই ভয়ে সবাই সিঁটিয়ে থাকত। বাহিনীর নতুন ডিজি সাহেব এসে এগুলো বন্ধ করেছেন।

বিবিসির সঙ্গে কথা বলছেন মুনাজাহ কানওয়াল
ছবির ক্যাপশান, বিবিসির সঙ্গে কথা বলছেন মুনাজাহ কানওয়াল

মুনাজাহ কানওয়াল (নারী সাংবাদিক, ইউটিউবার) :

অনেকদিন পরে যারা কাশ্মীরে আসছেন, তাদের চোখে অবশ্যই বেশ কিছু উন্নতি চোখে পড়বে। সরকার অনেক ভাল ভাল কাজও করেছে। শ্রীনগর এখন স্মার্ট সিটি হয়েছে, শহরের গণপরিবহনও অনেক ভাল। আমাদের যাতায়াত, যোগাযোগ সহজ হয়েছে। তবে বেকারত্ব এখনও খুব বড় একটা সমস্যা – যে কারণে কাশ্মীর ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি করা ছাত্ররাও ড্রাই ফ্রুটস বেচতে বাধ্য হচ্ছেন!

মহম্মদ শওকত ও পরিবার (রাজৌরি থেকে শ্রীনগরে বেড়াতে এসেছেন) :

আমি তো বলব বিজেপি সরকার খুব ভাল কাজ করছে, নিশ্চিন্তে আমরা ঘুরতে পারছি – পরিস্থিতিও একেবারে শান্ত। তার স্ত্রী পাশ থেকে যোগ করেন : মোদীজি বিনা পয়সায় হেঁশেলে রান্নার গ্যাস দিচ্ছেন, বাচ্চাদের স্কুলেরও কত উন্নতি হয়েছে – আমার তো অন্তত কোনও অভিযোগ নেই!

মনজুর আহমেদ পাঠান (সেনাবাহিনীতে ভর্তি হতে ইচ্ছুক) :

আমাদের গ্রাম একেবারে বর্ডার ঘেঁষে, এলওসি বা নিয়ন্ত্রণরেখার পাশেই। সেনাবাহিনীর সঙ্গে গ্রামবাসীদের সম্পর্ক খুব ভাল, আমরা আর্মি ক্যাম্প থেকে সব ধরনের সাহায্য পাই! ফ্রি রেশন, ফ্রি মেডিক্যাল, বিপদে আপদে আমাদের শহরে পৌঁছে দেওয়া – জওয়ান আর কমান্ডাররা সব সময় সাহায্য করতে প্রস্তুত। তাদের প্রশংসা তো করতেই হবে!

শ্রীনগরের শহরতলিতে ভোটের লাইনে কাশ্মীরিরা। ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, শ্রীনগরের শহরতলিতে ভোটের লাইনে কাশ্মীরিরা। ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন :

মমিনুল মোল্লা ও লতিফ মল্লিক (কলকাতার কাছে বারাসাত থেকে আসা পর্যটক) :

এখানে আসার আগে কত কী গন্ডগোল হতে পারে শুনেছিলাম! তারপর এখন আবার ভোট – সে সব না-জেনেই টিকিট বুক করে ফেলি। এসে অবশ্য দেখছি দারুণ পরিবেশ, গুলমার্গ-সোনমার্গ-পহেলগাম সব দারুণ ঘুরে এলাম। কাশ্মীর এখন সত্যিই ভূস্বর্গ, আমরা তো আবার বেড়াতে আসব।

শেখ ইরফান (হাউসবোট মালিক) :

আমাদের ডাল লেক না কি ‘হিন্দুস্তানের তাজ’ (মুকুট) – সেই লেকের আজ কী দুর্দশা! সামনের ভিআইপি রো ছেড়ে একটু পেছনে গেলেই দেখবেন দুর্গন্ধে টেকা দায়। কয়েক লাখ মানুষ লেকের বুকে বাস করেন, তাদের জন্য হাসপাতাল নেই, স্কুল নেই – দিল্লির গভর্নরের কি এসব দেখার সময় আছে? এই তল্লাটে এখন তিন-তিনটে ওয়াইন শপ খুলে গেছে, আগে একটাও ছিল না! একেই কী উন্নতি বলে?

এই ধরনের টুকরো টুকরো ছবি বা ‘স্ন্যাপশট’ থেকে অবশ্যই কোনও সুনির্দিষ্ট উপসংহারে আসা সম্ভব নয়।

তবে ৩৭০ ধারা বিলুপ্ত হওয়ার পর গত পাঁচ বছরে কাশ্মীরে যে নানা ধরনের পরিবর্তন হয়েছে, সে কথা সবাই একবাক্যে মানছেন।

কিন্তু সে পরিবর্তন ভালর দিকে না কি খারাপের, তা নিয়েও উপত্যকা জুড়ে খুব স্পষ্ট ও তীব্র মতভেদ আছে।