সিরিজ জয়ে প্রশংসার পরও জাকের আলী অনিককে নিয়ে রয়ে গেছে যেসব প্রশ্ন

ছবির উৎস, Getty Images
আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুটি খেলায় জয় দিয়ে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল।
দুটি ম্যাচেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন আপে ধস নেমেছে এবং বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও আফগানিস্তানকে চেপে ধরতে পারেনি বাংলাদেশ। যে কারণে বাংলাদেশের এই দলটির অধিনায়ক জাকের আলী অনিককে নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
একদিকে অধিনায়কত্ব, আরেকদিকে ব্যাট হাতে দুরবস্থা সব মিলিয়ে ক্রিকেট সমর্থক ও বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন, যিনি দলেই নিশ্চিত নন তিনি কীভাবে অধিনায়ক?
আবার কেউ কেউ বলছেন জাকের আলীর অধিনায়কত্ব ভালো, তবে ব্যাটিং-এ উন্নতি আসা দরকার।

ছবির উৎস, AFP via Getty Images
যে প্রেক্ষাপটে অধিনায়কত্ব পেয়েছেন জাকের
লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশ দলের অধিনায়কত্ব পেয়েছেন জাকের আলী।
পেশিতে চোট পাওয়ায় লিটন দাস সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন।
এর আগেও এশিয়া কাপে লিটন ফিট না থাকায় দুই ম্যাচে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জাকের, যদিও সেই দুটি ম্যাচেই হেরেছিল বাংলাদেশ।
ঘরোয়া ক্রিকেট বা বয়সভিত্তিক দল, এশিয়া কাপে নেতৃত্ব দেওয়ার আগে জাকের আলী কোনো স্তরেই অধিনায়কত্ব করেননি।
ভারতের বিপক্ষে ও পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই দুই ম্যাচে তার ব্যাটে আসে মাত্র ৪ ও ৫ রান।
বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলে নেতৃত্বের বিকল্পের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মে মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত সিরিজের পর মেহেদি হাসানকে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদ নেতৃত্বের সম্ভাব্য বিকল্প হতে পারতেন, কিন্তু তার ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের কারণে সেই সুযোগ আসেনি।
যেসব প্রশ্ন জাকের আলী অনিককে নিয়ে
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
এশিয়া কাপ ২০২৫-এ শ্রীলংকার বিপক্ষে দলের বিপর্যয়ে ৩৪ বলে অপরাজিত ৪১ রান তোলার পরে জাকের আলী অনিক আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৩ বলে ১২, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সুপার ফোরে ৪ বলে ৯, ভারতের বিপক্ষে ৫ বলে ৪ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ডু অর ডাই ম্যাচে করেছেন ৯ বলে ৫ রান।
এখানে প্রায় ৬৬ বল খেলে জাকের আলী একটিও ছক্কা মারতে পারেননি। অথচ তার নামের পাশে 'ফিনিশার' তকমা দেওয়া।
ক্রিকেট সাংবাদিক দেব চৌধুরীর মতে, "একজন ক্রিকেটার যদি দিনের পর দিন পারফর্ম না করেন এবং তাতেও সুযোগ পেতে থাকেন, এটা দলের মধ্যে মন খারাপের আবহ তৈরি করতে পারে। বিশেষত যখন আপনি দেখবেন তার বিকল্প বা সমমানের অন্য খেলোয়াড় আছেন যারা সুযোগ পাচ্ছেন না।"
এক্ষেত্রে তিনি যোগ করেন শুধু জাকের আলীই না, পারভেজ ইমন, তানজিদ তামিম যথেষ্ট সুযোগ পেয়েও এবারের এশিয়া কাপে যে রান করেছেন তা হতাশাজনক।
তাই দেব চৌধুরী বলছেন, "তাদের সম্ভাব্য বিকল্প যারা আছেন তাদের ঘরের মাটিতে সামনে যেসব সিরিজ আছে সেখানে বাজিয়ে দেখা যেতে পারে।"
অধিনায়ক হিসেবে কেমন জাকের আলী, এই প্রশ্নের উত্তরে কেউই একেবারে খারাপ বলছেন না।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে নিয়মিত অনুসারী উদয় সিনা বলেন, "জাকের আলীকে লম্বা সময়ের অধিনায়কত্ব নিয়ে ভাবার প্রশ্নেই আমি আসলে যাবো না। তবে এখন পর্যন্ত যেমন দেখছি জাকের আলীর অধিনায়কত্ব খারাপ না।"
তার মতে, একজন উইকেট কিপার হিসেবে উইকেটের পেছন থেকে যেমন হওয়ার কথা, দলকে উজ্জীবিত করা এবং ফিল্ডের নানা আঙ্গিকে নজর রাখা, ঠিক তেমনই পারফর্ম করছেন জাকের।
বিশেষত ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটার কথা বলছেন তিনি, "ভারত যেভাবে বাংলাদেশের বিপক্ষে এগিয়ে যাচ্ছিল মনে হচ্ছিল রান ২০০ ক্রস করবে, তবে জাকের যেভাবে ফিল্ড ঠিক করেছেন, বোলারদের বদল করেছে তার একটা প্রভাব দেখা গেছে। শেষ পর্যন্ত ভারত ১৭০-ও করতে পারেনি।"

ছবির উৎস, Getty Images
'ব্যাটার জাকের দলেই সুযোগ পান না'
উদয় সিনা বলেন, "ব্যাটার হিসেবে জাকের যেমন খেলেছেন বা উইকেট কিপার হিসেবে তার যে ধরনের স্কিল, তাতে আমি মনে করি না সে জাতীয় দলের একাদশে নিয়মিত প্লেয়ার হতে পারে।"
একই কথা বলছেন বাংলাদেশের ক্রিকেট বিশ্লেষক ও প্রথম বিভাগ ক্রিকেটার সৈয়দ আবিদ হুসেইন সামি, "ব্যাটার হিসেবে জাকের হয়তো দলে নিয়মিত হওয়ার কথা না। শেষ কয়দিন যা ব্যাট করেছেন, আমি বলবো যাচ্ছেতাই। এর থেকে খারাপ ব্যাটিং হয় না।"
তিনি যোগ করেন, "জাকের যতটা খারাপ ব্যাটিং সর্বশেষ ম্যাচগুলোতে করেছেন, তার চাইতে ভালো গ্রাউন্ড - অনফিল্ড ক্যাপ্টেনসি করেছেন। ফিল্ড প্লেসমেন্ট, বোলিং রোটেশন খুব ভালো করেছেন।"
ভারতকে ১৬৮, পাকিস্তানকে ১৩৫ এ আটকানো এবং আফগানদের সাথে দুই ম্যাচ শারজাহতে ১৫১, ১৪৭ এ আটকানোতে বোলিং রোটেশন বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মি. সামি মনে করেন, "বিশেষ করে শারজাহর মতো ছোট মাঠে মার্জিন অফ এরর খুব কম।"
সামি বলেন, "জাকেরের গ্রাউন্ড ক্যাপ্টেন্সি বেশ ভালো ছিল। তার প্রমাণ শেষ ৪ ম্যাচে প্রতিপক্ষের স্কোরগুলো দেখলেই পাওয়া যায়। ১৬৮, ১৩৫, ১৫১, ১৪৭।"
অধিনায়কে দায়িত্বে জাকের আলীর সবল দিকের প্রসঙ্গে আবিদ হুসেইন সামি বলছিলেন, "কখন কোন ব্যাটার আসলে কোন বোলারকে আনতে হবে, আগের ওভারে ভালো করা বোলারকেও না এনে অন্য বোলারকে আনা, বোলারের প্রান্ত পরিবর্তনের বিষয়গুলো ভালো ছিল। খারাপ পারফরম্যান্স এর সমালোচনা করার সাথে সাথে যে ডিপার্টমেন্টে ভালো করেছেন, ক্রিকেটীয় দিক থেকে সেটা বলতে হবে।"
তবে লিটন দাস দলে ঢুকলে জাকেরকে সহ-অধিনায়ক হিসেবেও দেখেন না মি. সামি।








