বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান পরিদর্শনের সময় ঢিলে হয়ে যাওয়া স্ক্রু খুঁজে পেয়েছে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স

ছবির উৎস, Getty Images
ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৯এস পরিদর্শনের সময় ঢিলে হয়ে যাওয়া স্ক্রু খুঁজে পাওয়া গেছে, যেগুলো আরও শক্তভাবে লাগানো অবস্থায় থাকা প্রয়োজন ছিল।
আলাস্কা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট জরুরি অবতরণে বাধ্য হওয়ার পর এই পরিদর্শন হয়।
ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, বিমানগুলো পুনরায় চলাচলের উপযোগী করার আগে এর দরজার প্লাগ সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধান করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচলকারী সংস্থা রোববার এরকম ১৭১ টি বিমান গ্রাউন্ডেড করার নির্দেশ দেয়।

ছবির উৎস, Reuters
ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “শনিবার আমরা প্রাথমিক পরিদর্শন শুরু করেছি, আমরা দরজার প্লাগ প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত ইস্যু দেখতে পেয়েছি, উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, এগুলোর বল্টুগুলো আরও শক্ত করা প্রয়োজন”।
ডোর প্লাগ হলো জানালার সঙ্গে এমন একটি অংশ যা অতিরিক্ত জরুরি বহির্গমন পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এটি আলাস্কা এয়ারলাইন্সের ওই অংশ যা নাটকীয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অরিগন রাজ্যের মাঝপথে ছিটকে পড়ে; পরে একজন শিক্ষকের বাড়ির পেছনে বিমানটি জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়। তবে এ ঘটনায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত বেশিরভাগ বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৯ এস বিমানগুলো ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স ও আলাস্কা পরিচালিত।
টার্কিশ এয়ারলাইন্স, পানামা কোপা এয়ারলাইন্স ও অ্যারোমেক্সিকোর একই মডেলের বিমানগুলোও পরিদর্শনের জন্য গ্রাউন্ডেড করা হয়।
ইউনাইটেড জানিয়েছে, সোমবারে দুইশ' ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং মঙ্গলবারও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল করা হবে বলে আশা করছে তারা।
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
“সোমবার ও মঙ্গলবার আমরা ৩০ টি ফ্লাইট বাতিল এড়িয়ে অন্য এয়ারক্রাফটে স্থানান্তর করে পূর্বনির্ধারিত ফ্লাইট পরিচালনা করেছি,” জানিয়েছে ইউনাইটেড।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা দ্যা ফেডারেল এভিয়েশন এডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, পরিদর্শনের সময় বিমানগুলোকে মেনে চলার জন্য বেশ কিছু চেক-লিস্ট দেয়া হয়েছে”।
এক বিবৃতিতে এফএএ জানিয়েছে, বোয়িং ৭৩৭ এয়ারক্রাফটগুলো ততক্ষণ পর্যন্ত গ্রাউন্ডেড থাকবে যতক্ষণ না অপারেটররা বাম ও ডান কেবিনের দরজার উপাদান, বের হওয়ার প্লাগ আর ফাস্টেনারগুলো সম্পূর্ণরূপে পরিদর্শন শেষ করবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, “বিমানগুলোকে আবার চলাচলের উপযোগী করে তুলতে পরিদর্শকদের দেয়া সব ধরনের চাহিদা পূরণ করতে হবে অপারেটরদের।”
ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে ১৬ হাজার ফুট উচ্চতায় ওঠার পর ফ্লাইট ১২৮২ জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়।
অনলাইনে এর বিভিন্ন ছবি শেয়ার করা হয়েছে এবং পরে তদন্তকারীরা এয়ারক্রাফটের একপাশে একটি বড় গর্ত দেখিয়েছে, এছাড়া সিলিং থেকে একটি অক্সিজেন মাস্কও ঝুলতে দেখা গেছে।
ওরিগনের সংবাদপত্রগুলো যাত্রীদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যে স্থান থেকে জরুরি দরজা ছিটকে পড়েছে সেখানে একটি ছেলে বসেছিল যার শার্ট ডি-কমপ্রেশনের চাপে ছিঁড়ে গেছে।
এ ঘটনায় তদন্ত পরিচালনাকারী সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেইফটি বোর্ড (এনটিএসবি) জানিয়েছে, পাইলটরা এর আগে তিনটি ফ্লাইটে সতর্কতামূলক বাতির চাপের কথা রিপোর্ট করেছিলেন। ওই তিনটি ঘটনার সাথে আলাস্কা এয়ারলাইন্স ম্যাক্স ৯ এস বিমানই জড়িত।

ছবির উৎস, Getty Images
এনটিএসবি'র প্রধান জেনিফার হোমেডি বলেছেন, “বিমানটিকে দীর্ঘ যাত্রায় পানির উপর দিয়ে যেতে বাধা দেয়া হয়েছিল যাতে এটি খুব দ্রুত একটি এয়ারপোর্টে ফিরে যেতে পারে।”
তবে, এর আগে বিভিন্ন সময় যে সতর্কতা দেয়া হয়েছিল, ৫ই জানুয়ারির দুর্ঘটনার সাথে সেসব সতর্কতা বা ইস্যু জড়িত কিনা এ বিষয়টি এখনও পরিষ্কার নয়।
আলাস্কা এয়ারলাইন্স সর্বশেষ বিবৃতিতে জানিয়েছে, "এফএএ এবং বোয়িং এর পরিদর্শনে দেয়া ক্রাইটেরিয়া অনুযায়ী আমরা বাতাসের মানদণ্ড যাচাইয়ের জন্য যখন অপেক্ষা করছিলাম, তখন আমাদের রক্ষণাবেক্ষণ দল ৭৩৭ ম্যাক্স ৯ এর মাঝখানে বের হওয়ার দরজার প্লাগ পরিদর্শনে প্রস্তুত ছিল।
“৭৩৭ ম্যাক্স ৯ গ্রাউন্ডিং আমাদের অপারেশনকে তাৎপর্যপূর্ণভাবে প্রভাবিত করেছে। আমরা রোববার ১৭০ টি ফ্লাইট বাতিল করেছি এবং আরও ৬০ টির বেশি ফ্লাইট বাতিলের আশা করছি,” বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
আলাস্কা এয়ারলাইন্সের এই বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, “নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং এ ঘটনা আমাদের কাস্টোমার ও যাত্রীদের উপর যে প্রভাব ফেলেছে তার জন্য আমরা গভীরভাবে দু:খিত।”
নিরাপত্তার ইস্যুতে এমন ধারাবাহিক ঘটনার পর এই ৭৩৭ ম্যাক্সকে “বিমানের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি যাচাই-বাছাই করা পরিবহন” বলে বর্ণনা করা হচ্ছে।
এর আগে ২০১৮ সালের শেষের দিকে ও ২০১৯ সালের শুরুতে একই ধরণের ঘটনায় ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে এবং ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় দু'টি বিমান হারিয়ে যায়।
মোট ৩৪৬ জন মানুষ সেই সময় নিহত হয়। দু'টি দুর্ঘটনাই ফ্লাইট নিয়ন্ত্রণে ত্রুটিপূর্ণ সফটওয়্যারের কারণে ঘটেছিল এবং সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও পাইলটরা বিপর্যয়কর অবতরণে বাধ্য হয়েছিলেন।











