'ছাত্ররা রাজনৈতিক দল গঠন করবে'

ছাত্ররা রাজনৈতিক দল গঠন করবে— কালের কণ্ঠ পত্রিকার প্রথম পাতার শিরোনাম। এই খবরটি আজ দেশের প্রায় সব পত্রিকারই প্রথম পাতায় এসেছে।

মূলত, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের দাভোস সফরকালে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যানশিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ওই কথা বলেছেন।

পত্রিকাটির 'র‍্যাচম্যান রিভিউ' নামক পডকাস্টে বাংলাদেশে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "তিনি নির্বাচনের সম্ভাব্য যে দুটি সময়ের কথা বলেছেন, তা ভালো সময়। কারণ তিনি জাতীয় ঐক্য ধরে রাখছেন। তিনি এটা থেকে বিচ্যুত হতে চান না।"

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, "একটি সম্ভাবনা হলো, ছাত্ররা নিজেরাই একটি দল গঠন করবে।"

"তারা ভালো কাজ করছে। এখন ছাত্ররা বলছে, কেন আপনি আপনার-আমাদের নিজস্ব দল গঠন করেন না, আমরা একটা সুযোগ নেব। তারা বলেছে, আপনার কোনো সুযোগ নেই, এমনকি সংসদে আপনার একটিও আসন থাকবে না। কেন? কারণ কেউ আপনাকে চেনে না। আমি তাদের বললাম, পুরো জাতি তাদের চেনে," আরও বলেন তিনি।

আরও পড়তে পারেন:

সব বিভাগে হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ হতে পারে— দৈনিক প্রথম আলো'র প্রধান শিরোনাম।

এখানে বলা হয়েছে, ঢাকার বাইরে প্রশাসনিক বিভাগীয় সদরে হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালতের কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রস্তাব করতে যাচ্ছে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন।

একই সঙ্গে সুনির্দিষ্ট কিছু জেলা আদালতে প্রয়োজন অনুসারে এক বা একাধিক বাণিজ্যিক আদালত স্থাপন করা যেতে পারে। কমিশনের সুপারিশের খসড়া সারসংক্ষেপে এ কথা বলা হয়েছে।

এর আগে সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশে উচ্চ আদালতের বিকেন্দ্রীকরণ করে দেশের সব বিভাগে হাইকোর্টের স্থায়ী আসন চালুর কথা বলা হয়। এ কমিশন ১৫ই জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।

একটি পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা আইনজীবীসহ অংশীজনদের দীর্ঘদিনের দাবি।

বহুমুখী চাপের মুখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক— যুগান্তর পত্রিকার দ্বিতীয় প্রধান শিরোনাম এটি।

এখানে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি-জুন মেয়াদের দ্বিতীয় দফার মুদ্রানীতি প্রণয়ন নিয়ে বহুমুখী চাপ অনুভব করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) চাচ্ছে‒ মূল্যস্ফীতির হার না কমা পর্যন্ত আরও কঠোর মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হোক বা নীতি সুদের হার বাড়ানো।

কিন্তু ব্যবসায়ীদের দাবি‒ সুদের হার কোনোক্রমেই আর বাড়ানো যাবে না, বিদ্যমান হার স্থিতিশীল রেখে পর্যায়ক্রমে কমাতে হবে। সাধারণ মানুষের চাওয়া-মূল্যস্ফীতি কমানো, টাকার মান ও আয় বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

এক্ষেত্রে অর্থনীতিবিদদের অভিমত‒ অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে একপাক্ষিক পদক্ষেপ না নিয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণ করতে নীতি সুদের হার বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েও বহুমুখী চাপে এখন আবার তা পর্যালোচনা করছে। মুদ্রানীতির উপকরণগুলোর একটি শিথিল করলে অন্যটিতে চাপ বাড়ছে। এতে উভয় সংকটে পড়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এমন পরিপ্রেক্ষিতে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণার জন্য প্রাথমিকভাবে আগামী ১০ই ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রস্তুতির প্রয়োজনে এ তারিখ পরিবর্তনও করা হতে পারে।

বিবিসি বাংলার আরও খবর:

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ভাবনা— আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম।

এখানে বলা হয়েছে, উচ্চ আদালতের রায়ে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরার পথ খুলেছে সম্প্রতি। এই অবস্থায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কবে, কীভাবে আয়োজন করা যায়, তা নিয়ে সরকারের মধ্যে আলোচনা চলছে।

বর্তমান সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারে রূপান্তর করে নির্বাচন করা যায় কি না, এ নিয়েও চিন্তাভাবনা আছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে এ ক্ষেত্রে আপিল বিভাগের রায়ের অপেক্ষা করছে তারা।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন ভোট আয়োজন নিয়ে বিশেষ পর্যবেক্ষণ দিলে অন্তর্বর্তী সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারে রূপান্তর করা যাবে। সে ক্ষেত্রে যেদিন থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যাত্রা শুরু হবে, সেদিন থেকে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে।

চিকিৎসা ব্যয় বাড়বে ১৫%— দেশ রূপান্তর পত্রিকার প্রধান শিরোনাম এটি। এখানে বলা হয়েছে, দেশে রোগীদের অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, রোগ নির্ণয় ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্যবহৃত মেডিকেল ও ডায়াগনস্টিক সরঞ্জামাদি, যন্ত্রপাতি ও রিএজেন্টের ৯৫ শতাংশই আসছে বিদেশ থেকে বৈধভাবে আমদানির মাধ্যমে। বর্তমানে বছরে আমদানি হচ্ছে ১৫ হাজার কোটি টাকার সামগ্রী। ভ্যাট-ট্যাক্স ও লভ্যাংশ মিলে এর বাজার দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকায়।

এতদিন এসব সামগ্রী আমদানির জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে কোনো ধরনের লাইসেন্স গ্রহণ, নিবন্ধন বা অনুমতি নিতে হতো না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে সহজ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আমদানি করতে পারতেন আমদানিকারকরা।

কিন্তু ২০২৩ সালে 'ওষুধ ও কসমেটিকস আইন' প্রণয়নের পর এসব সামগ্রী ওষুধ ও কসমেটিকসের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং ওষুধ ও কসমেটিকসের মতো এসবের আমদানি ও উৎপাদনেও বেশকিছু শর্ত বিধিবিধান আরোপ করা হয়। ইতিমধ্যেই এসব শর্ত পূরণে বিভিন্ন হাসপাতালকে চিঠি দিতে শুরু করেছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

এমন অবস্থায় নতুন আইনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আমদানিকারকরা।

তাদের মতে, চিকিৎসা সরঞ্জামাদিকে ওষুধ ও কসমেটিকসের মধ্যে ফেলা যাবে না। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সব প্রক্রিয়া শেষে একটি পণ্য আমদানিতে সময় লাগবে কমপক্ষে তিন মাস। নানা প্রক্রিয়া মেনে আনতে গেলে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাবে ১০-১৫ শতাংশ। এতে একদিকে আমদানি জটিলতা, অপরদিকে চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যাবে রোগীদের।

বলা হয়েছে, বেক্সিমকো গ্রুপের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার বিক্রি করে গ্রুপটির ব্যাংক ঋণের অর্থ পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আবার বেক্সিমকোর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের বকেয়া বেতনভাতাও এ অর্থ থেকে পরিশোধের কথা ভাবা হচ্ছে।

তবে পুঁজিবাজারের সর্বশেষ দর বিশ্লেষণে দেখা যায়, গ্রুপটির তালিকাভুক্ত তিন কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে থাকা শেয়ারের মূল্য সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা।

আর সরকার গঠিত এক উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি জানিয়েছে, বেক্সিমকোর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে-বেনামে নেয়া ব্যাংক ঋণের এখন পর্যন্ত নিশ্চিতকৃত পরিমাণ প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা। আবার এ উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার বিক্রি নিয়েও রয়েছে নানা ধরনের আইনি জটিলতা।

শহরে বেড়েছে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা— খবরটি দৈনিক ইত্তেফাকের। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) 'পভার্টি ম্যাপ অব বাংলাদেশ ২০২২' শীর্ষক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।

বিবিএস-এর হিসাবে, দেশের ১৯ দশমিক দুই শতাংশ মানুষ এখন দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। শহরে দারিদ্র্যের হার সাড়ে ১৬ শতাংশ এবং গ্রামে এই হার ২০ ভাগেরও বেশি।

তবে দারিদ্র্য হার গ্রামে কমলেও শহরাঞ্চলে বেড়েছে। আগে শহরে দারিদ্র্যের হার ছিল ১৪ দশমিক সাত শতাংশ, যা এখন বেড়ে হয়েছে ১৬ দশমিক পাঁচ শতাংশ। দেশের সবচেয়ে দরিদ্র উপজেলার নাম উঠে এসেছে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার নাম।

খেলাধুলা, অনুষ্ঠান করতে নারীদের বাধা জড়িতরা নিয়ন্ত্রণহীন— সমকাল পত্রিকার প্রধান শিরোনামে বলা হয়েছে, বাধা ও হুমকির মুখে একের পর এক বন্ধ হচ্ছে নারীকেন্দ্রিক আয়োজন।

এরই মধ্যে একাধিক অভিনেত্রী উপস্থিত হতে পারেননি তাদের পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠানে। এমনকি দিনাজপুর ও জয়পুরহাটে নারীদের ফুটবল খেলা বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এ নিয়ে হাঙ্গামা বাধে স্থানীয় 'তৌহিদি জনতা' ও আয়োজকদের মধ্যে।

খেলা বন্ধ করতে হামলা-ভাঙচুর করা হয় মাঠে। নারীর প্রতি এমন বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকাণ্ডে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়ে যাচ্ছে প্রতিবাদের ঘূর্ণি।

এদিকে ঢাকায় কওমি উদ্যোক্তাদের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এক নারী সাংবাদিককে সংবাদ সংগ্রহে অনুষ্ঠানস্থলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

Dhaka must focus on people-centric foreign ties— দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। এখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে পারস্পরিক সম্মান ও সুবিধার ভিত্তিতে বিদেশি সম্পর্ক বজায় রাখতে হলে বাংলাশকে অবশ্যই তার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে।

তারা উল্লেখ করেছেন যে, জুলাই বিপ্লব জনগণের সমতা ও মর্যাদার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। তাই, অতীতের ভুল সংশোধনের এখনই সময়।

গতকাল দ্য ডেইলি স্টার কর্তৃক ঢাকায় আয়োজিত এক সভায় এইসব কথা উঠে আসে।

বক্তারা সেখানে উল্লেখ করেন যে, যখন ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বৈশ্বিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অবশ্যই তার পররাষ্ট্রনীতি পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়গুলোকে চিহ্নিত করতে হবে।