অস্ট্রেলিয়ার সিডনির সৈকতে বন্দুকধারীদের গুলিতে অন্তত ১১ জন নিহত

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডি বিচে দুই বন্দুকধারীর গুলিতে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে আরো অন্তত ২৯ জন। আহতদের মধ্যে শিশু ও পুলিশ সদস্যরাও রয়েছেন।

রোববার অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

যে দুইজন বন্দুকধারী এই হামলা চালিয়েছে, তাদের একজন পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে। আরেকজনকে আহত অবস্থায় পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

নিউ সাউথ ওয়েলসের সিডনির বন্ডি বিচ অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে সুন্দর সৈকতগুলোর একটি।

রোববার বিকেলে যখন এই সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে তখন সেখানে হাজারেরও বেশি মানুষ উপস্থিত ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বন্দুকধারীদের এই হামলার ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে পুলিশ।

যখন এই হামলার ঘটনা ঘটেছে, তখন বন্ডি বিচে ইহুদি ধর্মীয় উৎসব হানুকাহ উদযাপনের অনুষ্ঠান চলছিল।

নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার বা মূখ্যমন্ত্রী ক্রিস মিনস বলেছেন, সিডনির ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করেই ওই হামলা চালানো হয়েছিল।

সিডনির পুলিশ কমিশনার ম্যাল লানইয়োন বলেছেন, সহস্রাধিক মানুষের জমায়েত লক্ষ্য করে ''এটি ছিল একটি সন্ত্রাসী হামলা''।

ঘটনাস্থল থেকে অদূরে বন্দুকধারীদের গাড়ি থেকে বিস্ফোরক দ্রব্যও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বর্তমানে ওই ঘটনাস্থলে, আর কোনো বিস্ফোরক রয়েছে কী-না সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ওই এলাকায় কাজ করছে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট।

হামলাকারীদের পরিচয় এখনো প্রকাশ পায়নি। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ টেলিভিশনে ভাষণে এই ঘটনায় নিন্দা ও হতাহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন রাজা তৃতীয় চার্লস ও অন্য বিশ্ব নেতারা।

এ নিয়ে আরো পড়তে পারেন

হামলায় অংশ নেয় দুইজন বন্দুকধারী

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায় দুইজন বন্দুকধারী ক্যাম্পবেল প্যারেডের পার্কিং এলাকার একটি ব্রিজ থেকে বিচের দিকে গুলি ছুড়ছেন।

এই ভিডিওটিসহ বেশ কয়েকটি ভিডিওর সত্যতা যাচাই করতে পেরেছে বিবিসি ভেরিফাই।

অস্ট্রেলিয়ায় গত তিন দশকের মধ্যে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা।

১৯৯৬ সালে তাসমানিয়ায় এক বন্দুকধারীর গুলিতে ৩৫ জন মারা যাাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার সরকার কঠোর বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইন জারি করেছিল, যে ঘটনার পর থেকে বন্দুক হামলা অনেকাংশে কমে যায়।

ঐ ঘটনার পর এই প্রথম অস্ট্রেলিয়ায় পাবলিক প্লেসে বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটলো।

সিডনির পুলিশ জানিয়েছে, ওই ঘটনায় মারা গেছে ১১ জন।

যখন গুলির ঘটনাটি ঘটে, সেই সময় ইহুদিদের হানুকাহ উৎসবের প্রথম দিন উপলক্ষে ওই সৈকতে সহস্রাধিক মানুষ সমবেত হয়েছিলেন।

ওই অনুষ্ঠানস্থলে অন্তত সাতজনের অনড় দেহ পড়ে থাকার একটি ভিডিও দেখা গেছে, যা যাচাই করে সত্যতা পেয়েছে বিবিসি।

নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ একে 'সন্ত্রাসী ঘটনা' হিসেবে নেওয়ার কথা জানিয়ে বলেছে, তারা সৈকতের কাছে একটি গাড়ি থেকে সন্দেহজনক বিস্ফোরকও উদ্ধার করেছে, যার সঙ্গে নিহত হামলাকারীর যোগসূত্র রয়েছে।

ওই হামলায় আরো একজন জড়িত থাকার সন্দেহে তদন্ত করছে পুলিশ।

হানুকাহ উৎসব কী?

ইহুদিদের বাৎসরিক 'হানুকাহ' উৎসবের শুরু উপলক্ষ্যে বন্ডি সমুদ্রসৈকতে এদিন সহস্রাধিক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। সেই উৎসবকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ওই ঘটনার সময়ে সেখানে থাকা একজন প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসিকে জানিয়েছেন, গুলিবর্ষণ শুরু হলে তিনি তাঁর সন্তানদের নিয়ে দ্রুত অনুষ্ঠানস্থল থেকে পালিয়ে যান।

হানুকাহ হলো ইহুদি সম্প্রদায়ের একটি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব। যেটি অনেকের কাছে আলোক উৎসব নামেও পরিচিত।

ঐতিহাসিকভাবে প্রায় ২০০০ বছর আগে থেকেই এই উৎসব পালন করে থাকে ইহুদি সম্প্রদায়ের অনুসারীরা।

ইহুদিরা গ্রিকদের বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধ জিতে যাওয়ার পর সেই দিনটিকে স্মরণ করেই এই উৎসবটি পালন করে আসছে অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইহুদি ধর্মের অনুসারীরা।

হিব্রু ক্যালেন্ডারের নবম মাসের ২৫তম দিনে শুরু হয় এই উৎসব। উৎসব চলে আট দিন ধরে। উৎসবের সময় প্রতি রাতে মেনোরা জ্বালিয়ে, ড্রেইডেল খেলাসহ নানা ধরনের উৎসব পালন করা হয়।

এই উৎসবে শিশুদের উপহার এবং হানুকাহ মানি বা 'গেল্ট' দেওয়া হয়। সেই থেকে এই উৎসবের নাম হানুকাহ।

আটদিনের এই উৎসবটি শুরুর প্রথমদিনই বন্দুকধারীদের এই হামলার ঘটনাটি ঘটেছে।

বন্দুকধারীদের হামলার ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ টেলিভিশনে ভাষণে বলেছেন, "একজন অস্ট্রেলীয় ইহুদির ওপর হামলার মানে অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যেক মানুষের ওপর হামলা"।