থাইল্যান্ডের গুহা থেকে উদ্ধার পাওয়া সেই কিশোর ফুটবল অধিনায়কের মৃত্যু

২০১৮ সালের ছবিতে ডুয়াঙপেচ প্রমথেপ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ২০১৮ সালের ছবিতে ডুয়াঙপেচ প্রমথেপ

থাইল্যান্ডের এক গুহায় ২০১৮ সালে যে কিশোর ফুটবল দলটি আটকে পড়েছিল, সেই দলের একজন ডুয়াঙপেচ প্রমথেপ যুক্তরাজ্যে মারা গেছেন।

১৭ বছর বয়সী প্রমথেপকে গত রবিবার লেস্টারশায়ারে তার হোস্টেলে অচেতন অবস্থায় পাওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। মঙ্গলবার হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে বলে বিবিসি জানতে পেরেছে।

গত বছরের শেষের দিক হতে প্রমথেপ যুক্তরাজ্যের একটি ফুটবল একাডেমীতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন।

প্রমথেপ ছিলেন থাইল্যান্ডের এক গুহায় প্রায় দু সপ্তাহ ধরে আটকে পড়া ফুটবল দলটির অধিনায়ক। থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই প্রদেশে ২০১৮ সালে পথ ভুলে গুহার মধ্যে আটকে পড়া এই দলটির কাহিনী তখন বিশ্বজুড়ে সংবাদ শিরোনাম দখল করে রেখেছিল কয়েক সপ্তাহ ধরে।

যখন এই দলটিকে উদ্ধার কর্মীরা গুহা থেকে বের করে আনে, তখন প্রমথেপের শীর্ণকায় হাসিমুখের ছবি গণমাধ্যমের কল্যাণে দেখেছে সারা বিশ্বের মানুষ। সেই উদ্ধার অভিযানের সবচেয়ে স্মরণীয় ছবি হয়ে আছে এটি।

উদ্ধার অভিযানের সময় উদ্ধারকর্মীরা প্রমথেপের ভিডিও রেকর্ড করেন।

ছবির উৎস, ROYAL THAI NAVY

ছবির ক্যাপশান, উদ্ধার অভিযানের সময় উদ্ধারকর্মীরা প্রমথেপের ভিডিও রেকর্ড করেন।

গত বছরের অগাস্টে প্রমথেপ ইনস্টাগ্রামে ঘোষণা করেন যে, তিনি যুক্তরাজ্যের ব্রুকহাউজ কলেজ ফুটবল একাডেমীতে একটি স্কলারশিপ পেয়েছেন। তখন তার দলের সদস্যরা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন।

“আজকে আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে”, ইনস্টাগ্রামে লিখেছিলেন তিনি।

কিন্তু ছয় মাসের মাথায় এখন তার মৃত্যুতে শোক করছে দলের সদস্যরা।

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

মৃত্যুর খবর প্রথম জানা যায় চিয়াং রাই প্রদেশের ওয়াট ডোই ওয়াও মন্দিরের মাধ্যমে, যেখানে ফুটবল দলটি নিয়মিত যেত। খবরটি দিয়েছিলেন তার মা।

স্থানীয়দের কাছে প্রমথেপ পরিচিত ছিলেন ডোম নামে।

ফুটবল দলটির সঙ্গে সন্ন্যাসীদের তোলা এক ছবি পোস্ট করে মন্দিরটি লিখেছে, ‘ডোমের আত্মা যেন শান্তি পায়।’

এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই তাদের শোক প্রকাশ করেছেন।

প্রমথেপের সাথে গুহা থেকে উদ্ধার পাওয়া এক বন্ধু প্রচাক সুথাম লিখেছেন, “তুমি বলেছিলে, দেখবে, একদিন আমি জাতীয় দলে খেলবো। আমি সবসময় বিশ্বাস করতাম, তুমি এটা পারবে।”

“ইংল্যান্ডে রওনা হওয়ার আগে আমি যখন তোমাকে বিদায় জানাতে গিয়েছিলাম, আমি রসিকতা করে বলেছিলাম, যখন তুমি ফিরে আসবে, আমাকে তোমার অটোগ্রাফ চাইতে হবে। ঘুমাও, প্রিয় বন্ধু। আমরা ১৩ জন সবসময় একসাথে থাকবো।”

লেস্টারশায়ার পুলিশ বলছে, তার মৃত্যুকে সন্দেহজনক কিছু বলে মনে করা হচ্ছে না। তবে থাইল্যান্ডের কোন কোন খবরে বলা হচ্ছে, তার মাথায় আঘাত লেগেছিল।

প্রমথেপ যুক্তরাজ্যে আসার আগে চিয়াং মাইর ভাচিরালাই বি স্কুলে পড়তেন। তিনি ফুটবল পাগল ছিলেন, চিয়াং মাই যুব ফুটবল দলের সদস্য ছিলেন।

তার ইনস্টাগ্রাম একাউন্ট ভর্তি কেবল ফুটবলের নানা পোস্টে।

২০১৮ সালে গুহায় আটকে পড়া কয়েকজন কিশোরের সঙ্গে তাদের কোচ।

ছবির উৎস, FACEBOOK/EKATOL

ছবির ক্যাপশান, ২০১৮ সালে গুহায় আটকে পড়া কয়েকজন কিশোরের সঙ্গে তাদের কোচ।

২০১৮ সালে কী ঘটেছিল

থাইল্যান্ডে ২০১৮ সালে এক গুহায় আটকে পড়েছিল ওয়াইল্ড বোর্স (থাই ভাষায় নাম মু পা) ফুটবল দলটি। ডুয়াঙপেচ প্রমথেপ ছিলেন এই ফুটবল দলের অধিনায়ক। ২০১৮ সালের ২৩ জুন দলের সদস্যরা তাদের প্র্যাকটিস শেষে সাইকেলে চেপে থাম লুয়াঙ গুহায় যায়। এটি ছিল তাদের প্রিয় একটি জায়গা। কিন্তু সেদিন হঠাৎ করে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর গুহার সরু প্রবেশমুখ পানিতে ডুবে যায়। তখন দলের সদস্যরা এবং তাদের কোচ গুহার ভেতরে আটকে পড়ে।

গুহার ভেতরে অন্ধকারে তারা কোন খাবার ছাড়া নয়দিন আটকে ছিল। তাদের সন্ধানে প্রায় দশ হাজার মানুষ তল্লাশি অভিযানে অংশ নেয়। শেষ পর্যন্ত ডুবুরিরা গুহার ভেতর তাদের সন্ধান পায়।

এই গুহার ভেতরে আটকে থাকা অবস্থাতেই প্রমথেপ ১৩ বছরে পা দেয়। তার দলের অন্য সদস্যদেরও বয়স তখন ১১ হতে ১৬ বছরের মধ্যে। গুহা থেকে বের হওয়ার জন্য তারা পাথর দিয়ে মাটি খুঁড়তো।

যখন এদেরকে গুহার ভেতর থেকে বের করে আনার জন্য উদ্ধার অভিযানের প্রস্তুতি চলছিল, তখন ডুবুরিরা তাদের কাছে খাবার পৌঁছে দিত। পরিবারের কাছ থেকে চিঠিপত্রও নিয়ে যেত। পরে এই ছেলেদের কেটামিন ঔষধ দিয়ে নির্জীব করে তারপর সেখান থেকে বের করে আনতে হয়।

এই উদ্ধার অভিযান তখন বিশ্ব গণমাধ্যমে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিল তাদের উদ্ধারের কাহিনী নিয়ে বই লেখা হয়েছে, ফিল্ম তৈরি হয়েছে। নেটফ্লিক্সে গত বছর এই ঘটনা নিয়ে একটি মিনি সিরিজও ছাড়া হয়।