সুইজারল্যান্ডে বারে ৪০ জন নিহতের পেছনে শ্যাম্পেনের আতশবাতি?

মোমবাতি জ্বালিয়ে শোক প্রকাশ করছেন সুইস বাসিন্দারা

ছবির উৎস, EPA

ছবির ক্যাপশান, সুইজারল্যান্ডে অগ্নিকান্ডে হতাহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করছে দেশটি। প্রাথমিকভাবে এটি বিস্ফোরণ ভাবা হলেও এখন সেটি অগ্নিদুর্ঘটনা হিসেবেই ধারণা দেয়া হচ্ছে

সুইজারল্যান্ডের জনপ্রিয় স্কি রিসোর্ট ক্রঁ-মন্তানা'তে একটি বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ৪০ জন নিহত এবং ১১৯ জন আহত হওয়ার পর দেশটির কর্তৃপক্ষ তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে।

ভ্যালাই ক্যান্টনের অ্যাটর্নি জেনারেল বেয়াত্রিস পিলু এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, আগুনের উৎস নিয়ে একাধিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, শ্যাম্পেন বোতলের সঙ্গে লাগানো স্পার্কলার বা ঝলমলে আতশবাতি ছাদের খুব কাছাকাছি চলে যাওয়ায় আগুনের সূত্রপাত হয়।

তার ভাষায়, "আমরা কোনো সম্ভাবনাই বাদ দিচ্ছি না। তবে বর্তমানে যে ধারণা সবচেয়ে জোরালো, তা হলো স্পার্কলার থেকেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।" ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নতুন বছরের প্রথম প্রহরে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনাকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ ট্র্যাজেডি হিসেবে বর্ণনা করছেন কর্মকর্তারা।

সে রাতের দুটি ছবি বিবিসির হাতে এসেছে। বিবিসি ভেরিফাই নিশ্চিত করেছে যে অনলাইনে শেয়ার হওয়া ছবি দুটি সুইজারল্যান্ডের ক্রঁ-মন্তানা স্কি রিসোর্টের নাইটক্লাবের ভেতরে তোলা হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, ছবিগুলো নববর্ষের রাতে আগুন লাগার শুরুর সময়ের।

সুইজারল্যান্ডের ক্রঁ-মন্তানা স্কি রিসোর্টের নাইটক্লাবের ভেতরে তোলা ছবি

ছবির উৎস, সংগৃহীত

ছবির ক্যাপশান, এই দুটি ছবি বিশ্লেষণ করে দেখেছে বিবিসি ভেরিফাই

প্রথম ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কয়েকজন মানুষ বোতল উঁচিয়ে ধরেছে, বোতলে জ্বলন্ত স্পার্কলার লাগানো আছে এবং ছাদের ওপর আগুনের মতো কিছু দেখা যাচ্ছে।

এই ছবিটির পুরনো সংস্করণ বা আগের কোনো কপি পাওয়া যায়নি। ছবির কিছু অংশ বার, দেয়ালের সাজসজ্জা, পাইপলাইন সেগুলোর ক্লাবের পুরনো ছবির সঙ্গে মিলে গেছে।

ছবিটি চারটি এআই শনাক্তকরণ টুলে পরীক্ষা করা হয়েছে, কোনোটি এআই দ্বারা তৈরি বলছে না, তবে একটি টুল বলেছে ছবিটি এডিট করা হয়েছে। ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন টুলে কোনো পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, আহত ১১৯ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১১৩ জনের আনুষ্ঠানিক পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন ৭১ জন সুইস নাগরিক, ১৪ জন ফরাসি এবং ১১ জন ইতালীয়। এছাড়া সার্বিয়া, বসনিয়া, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, পোল্যান্ড ও পর্তুগালের নাগরিকও রয়েছেন। বাকি কয়েকজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি এবং সংখ্যাগুলো পরিবর্তিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন কর্মকর্তারা।

প্রসিকিউটর পিলু বলছেন, বদ্ধ স্থানে স্পার্কলার (জন্মদিনের মোমবাতির মতো আতশবাজি) ব্যবহার করা ঠিক কিনা তা তদন্ত করা হবে।

নববর্ষ উদযাপনের সময় অগ্নিকাণ্ডের পর ফেডারেল প্যালেসে পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। সব সরকারি অফিসেই এখন পতাকা অর্ধনমিত

ছবির উৎস, EPA

ছবির ক্যাপশান, নববর্ষ উদযাপনের সময় অগ্নিকাণ্ডের পর ফেডারেল প্যালেসে পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। সব সরকারি অফিসেই এখন পতাকা অর্ধনমিত
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

নিহত ৪০ জনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে এবং এটিকেই 'সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার' বলে উল্লেখ করেছেন সুইস জুডিশিয়াল পুলিশের প্রধান পিয়ের-অঁতোয়ান লঁজঁ। তিনি বলেন, "কোনো ভুলের সুযোগ নেই। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, সঠিক মরদেহ সঠিক পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।"

এ কাজে ডিজাস্টার ভিকটিম আইডেন্টিফিকেশন (ডিভিআই) কাঠামো ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে পুলিশ, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক ও দন্তচিকিৎসকেরা একসঙ্গে কাজ করছেন।

ভ্যালাই ক্যান্টনের প্রেসিডেন্ট ম্যাথিয়াস রেনার্ড বলেন, উত্তর না পাওয়া প্রতিটি মিনিট নিহত ও নিখোঁজদের স্বজনদের জন্য 'অসহনীয়' বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রমের পাশাপাশি দ্রুত পরিচয় শনাক্তে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। ৯ই জানুয়ারি ক্রঁ-মঁতানায় একটি স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে এবং অনলাইনে একটি শোকবার্তার বইও খোলা হবে।

ভ্যালাই হাসপাতালের মহাপরিচালক এরিক বনভ্যাঁ জানান, ঘটনার রাতে গুরুতর আহত ৫৫ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বাড়ি ফিরেছেন, আবার অনেকে এখনো চিকিৎসাধীন।

চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তারা নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন। প্রায় ৫০ জন আহতকে ফ্রান্স ও ইতালিসহ অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের বিশেষায়িত বার্ন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এর আগে জেনেভার এক চিকিৎসক জানান, গুরুতর দগ্ধ রোগীদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরাও রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, তদন্ত এখনো চলমান এবং কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সময় লাগবে।