দশ বছর পর আরব লীগে ফিরলো সিরিয়া

আরব লীগের সভা
    • Author, ক্যাথরিন আর্মস্ট্রং
    • Role, বিবিসি নিউজ

গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীদের ওপর দমনপীড়নের অভিযোগে আরব লীগ থেকে বহিষ্কারের এক দশক পর আবারে জোটে ফিরেছে সিরিয়া। ওই নিপীড়নের জের ধরেই দেশটিতে চলমান গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল।

এই পদক্ষেপ দামেস্কের সাথে অন্য আরব দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক নমনীয় হওয়ার বড় প্রমাণ।

এ মাসের শেষদিকে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া একটি শীর্ষ সম্মেলনের আগে সিরিয়ার নতুন করে জোটে ফেরার এই ঘটনা ঘটলো। ফলে এখন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ এতে যোগ দিতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন যে, সিরিয়া নতুন করে জোটে ফিরে যাওয়ার যোগ্য নয়। কিন্তু সিরিয়া সংকট সমাধানে আরব লিগের দীর্ঘমেয়াদী উদ্দেশ্যকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র এবং কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী লর্ড আহমেদ বলেছেন, যুক্তরাজ্য 'আসাদ সরকারের সাথে যুক্ত না হওয়ার' আগের অবস্থানেই আছে, কারণ মি. আসাদ 'নিরপরাধ সিরিয় নাগরিকদের আটক, নির্যাতন ও হত্যা' করা অব্যাহত রেখেছেন।

এক বিবৃতিতে, সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আরব লীগের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবহিত হয়েছে দেশটি এবং 'বৃহত্তর আরব সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের' আহ্বান জানিয়েছে।

কায়রোতে অনুষ্ঠিত যে বৈঠকে সিরিয়াকে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তাতে এ জোটের ২২ সদস্যদের মধ্যে ১৩টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।

তারা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ বন্ধ করা এবং এর ফলে তৈরি হওয়া শরণার্থী ও মাদক চোরাচালান সংকট সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

গত বছর বিবিসির এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য এবং কাজের সুযোগের অভাবে অনেকেই মাদক ব্যবসার দিকে ঝুঁকছেন।

মিশর, সৌদি আরব, লেবানন, জর্ডান এবং ইরাককে নিয়ে একটি এখন কমিটি গঠন করা হবে যার কাজ হবে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ বন্ধ করা এবং শরণার্থী ও মাদক চোরাচালানের মত সমস্যা সমাধানে দেশটিকে সাহায্য করা।

আরব লীগের মহাসচিব আহমেদ আবুল ঘেইত বলেছেন, এ পদক্ষেপ সিরিয়ার সংকট সমাধানের একটি প্রক্রিয়ার সূচনা, যা আসলে ধারাবাহিকভাবে চলবে।

তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্তের মানে এই নয় যে আরব রাষ্ট্রসমূহ সিরিয়ার সাথে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করছে। সে সিদ্ধান্ত প্রতিটি দেশ নিজের মত করে নেবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গৃহযুদ্ধের সময় তিন লাখেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আটক বা নিখোঁজ হয়েছেন আরো এক লাখের মতো মানুষ।

যুদ্ধের আগের সিরিয়ার মোট দুই কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় অর্ধেক হয় সিরিয়ায় বাস্তুচ্যুত মানুষে পরিণত হয়েছেন, নাহলে শরণার্থী হিসেবে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছেন।

ইদলিবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বিদ্রোহী অধ্যূষিত অঞ্চলে বাস্তুচ্যুত সিরিয়ার নাগরিকরা বলেছেন যে, তারা আরব লীগের সিদ্ধান্তে বিস্মিত হয়েছেন।

এমন একজন বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, "আরব নেতারা আমাদের সাহায্য করার পরিবর্তে এবং যে শিবিরে আমরা ভুগছি আর যন্ত্রণা সয়ে বসবাস করছি সেখান থেকে বের করে আনার পরিবর্তে, তারা অপরাধীদের হাত থেকে আমাদের রক্তের দাগ মুছে দিয়েছে।"

অন্য একজন বলেছেন যে, এর জন্য লীগকে 'কড়া মূল্য' দিতে হবে।

মি. আসাদ ২০১৫ সালে রাশিয়ার সহায়তায় দেশটির উপর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে শুরু করেন। এর ফলে প্রতিবেশী দেশগুলো মি. আসাদকে ক্ষমতায় রেখেই ভবিষ্যত পরিকল্পনা করতে বাধ্য করে।

গত ফেব্রুয়ারিতে তুরস্ক এবং সিরিয়ায় বিধ্বংসী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর, আরব লীগের সাথে সিরিয়ার সম্পর্ক পুনস্থাপনের চিন্তাকে ত্বরান্বিত করেছিল।

এ সপ্তাহের শুরুতে, ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি মি. আসাদের সাথে দেখা করেছেন।

অনেক বিশ্লেষক বলছেন যে, এই সফরটি সিরিয়াকে ফিরিয়ে আনার জন্য আরব দেশগুলির উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।

এই সফরের পর মিশর ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও সফর করেছেন এবং তিউনিসিয়ার সাথে সিরিয়ার পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীও সম্প্রতি বেশ কয়েকটি আরব দেশ সফর করেছেন।

পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য বলেছে যে, তারা প্রেসিডেন্ট আসাদ সরকারের সাথে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করবে না।