আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য কি 'দ্বৈত শাসনের ঝুঁকি' তৈরি করবে?
- Author, আকবর হোসেন
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, ঢাকা
বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রকাঠামো, তাদের ভাষায়, মেরামত করার যে ২৭ দফা ঘোষণা করেছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা।
বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের একটি অংশ বেশ কছর ধরেই বলে আসছে প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য দরকার।
তাদের সেই চিন্তা বিএনপির রূপরেখায় উঠে এসেছে। কিন্তু রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য কিভাবে হবে এবং এর সম্ভাব্য পরিণতি কী হতে পারে?
ঝুঁকি কোথায়?
বাংলাদেশে ১৯৯১ সালে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনরায় চালু হয়। সেসময় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সবগুলো রাজনৈতিক দল সর্বসম্মতিক্রমেই সেটি করেছিল।
কিন্তু এর এক দশক পর থেকেই নাগরিক সমাজের একটি অংশ মনে করছে যে প্রধানমন্ত্রীর হাতেই মাত্রারিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছে ।
তখন থেকেই রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্যের কথা বলা হচ্ছে।
১৯৯১ সাল থেকে বিএনপিও তিনবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু তারা কখনো ক্ষমতার ভারসাম্যের কথা ভাবেনি। এখন কেন তারা সেটি মনে করছেন?
বিএনপির সর্বোচ্চ ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, গত পনের বছর যাবত প্রধানমন্ত্রী তার ক্ষমতা যেভাবে ব্যবহার করেছেন সে প্রেক্ষাপটে ক্ষমতার ভারসাম্যের কথা ভাবা হচ্ছে।
“আমাদের সময়ে প্রধানমন্ত্রী সবার সাথে আলোচনা করে সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং কাজ করেছেন। গত ১৫ বছরে আমরা দেখেছি যে তিনি ইচ্ছে মতো কাজ-কর্ম করেছন,” বলেন মি. মাহমুদ।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শেই কাজ করেন। অনেকে মনে করেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য করা হলে ‘দ্বৈতশাসনের’ অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া সরকারের স্থিতিশীলতার সমস্যাও ডেকে আনতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার এক্ষেত্রে পাকিস্তানের উদাহরণ তুলে ধরেন।
“এটা কিভাবে করা হবে সেটা আমি বুঝতে চাই। আমাদের প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানে একভাবে করা হয়। এবং তার ঝুঁকিটা আমরা দেখেছি।”
“প্রধানমন্ত্রী মনোনীত রাষ্ট্রপ্রধান, তিনি কলমের খোঁচায় বিশেষ কোন শক্তির ইন্ধনে হয়তো বা নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে হটিয়ে দিতে পারেন। বেনজির ভুট্টোর ক্ষেত্রে একবার, আমি যদি ভুল না করি, এবং নওয়াজ শরীফের ক্ষেত্রে দুইবার এ ঘটনা ঘটেছে,” বলেন অধ্যাপক মজুমদার।
ক্ষমতার 'অপব্যবহার' কমবে?
অনেকে মনে করেন, রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য থাকলে সেটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্যই ভালো।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ইয়াহিয়া আখতার মনে করেন ক্ষমতা যদি একজনের হাতে বেশি থাকে তাহলে এবং সেখানে যদি গণতান্ত্রিক চর্চা না থাকে তাহলে সেটি একনায়কতন্ত্রে পরিণত হবার ঝুঁকি থাকে।
“একজনের হাতে যদি বেশি ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়ে যায় তাহলে সেটি অপব্যবহারের সম্ভাবনা খুবই বেশি থাকে,” বলেন অধ্যাপক আখতার। বাংলাদেশে গত ৩২ বছরে দেখা গেছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলো তাদের দলীয় কিংবা দলের অনুগত ব্যক্তিদের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন করেছে।
১৯৯৬ সালে বিচারপতি সাহাবউদ্দিন আহমেদ ছিলেন একমাত্র ব্যতিক্রম। অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার বলছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া কেমন হবে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
“এখানে হ্যান্ড-পিক করার কোন সুযোগ আছে বলে আমি মনে করিনা। হ্যান্ড-পিক করা ব্যক্তিটির হাতে অনেকগুলো ক্ষমতা অর্পণ করে দেয়া বিপদজনক বলে আমার মনে হয়,” বলেন অধ্যাপক মজুমদার।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমিয়ে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বাড়ালে বা ভারসাম্য আনলে সিস্টেমটা ঠিকঠাক মতো চলবে এটা আমরা কোথায় পেয়েছি? ”
প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট। তবে তারা মনে করেন, রাজনৈতিকদলগুলো যদি একমত হয়ে সেটি করতে পারে তাহলেই সবচেয়ে ভালো।