চারদিক থেকে বাখমুট শহর 'ঘিরে ফেলেছে' ওয়াগনার বাহিনী

বাখমুট শহর নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেনীয় সৈন্যরা।

ছবির উৎস, BBC/GOKTAY KORALTAN

ছবির ক্যাপশান, বাখমুট শহর নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেনীয় সৈন্যরা।

রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধরত ওয়াগনার গ্রুপের প্রধান বলছেন, তার বাহিনী ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাখমুট শহরের বেশিরভাগ জায়গাই ঘিরে ফেলেছে।

এই শহর দখলকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইউক্রেনীয় বাহিনীর সঙ্গে তাদের তীব্র লড়াই চলছে যাতে উভয়পক্ষেই ব্যাপক প্রাণহানি ঘটছে।

ওয়াগনার গ্রুপের প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোঝিন বলেছেন এখন এই শহর থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য একটাই পথ খোলা আছে।

বাখমুট থেকে ইউক্রেনীয় সৈন্যদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য তিনি প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে একটি বাড়ির ছাদের ওপর ধারণ করা ভিডিওতে মি. প্রিগোঝিন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির উদ্দেশ্যে বলেন, ইউক্রেনীয় সৈন্যদের জীবন বাঁচাতে হলে তাদেরকে সরিয়ে নিন।

কী বলছে কিয়েভ

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী স্বীকার করে নিয়েছে যে তাদের সৈন্যরা বাখমুট শহরে প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছে।

সেখান থেকে ইউক্রেনীয় সৈন্যদের সরিয়ে নেওয়া হতে পারে বলেও তারা ইঙ্গিত দিয়েছে।

এর আগে এই শহরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার জন্য সেখানে অতিরিক্ত সৈন্য পাঠানো হয়েছিল।

কিয়েভ বলছে, তাদের সৈন্যরা এখনও সেখানে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তবে তারা স্বীকার করেছে এ সপ্তাহে বাখমুটে তাদের অবস্থার অবনতি হয়েছে।

ন্যাশনাল গার্ড অব ইউক্রেনের একজন ডেপুটি কমান্ডার ভলোদিমির নাজারেঙ্কো ইউক্রেনীয় একটি টিভি চ্যানেলকে বলেছেন বাখমুটের পরিস্থিতি “গুরুতর” এবং “সারাক্ষণই সেখানে যুদ্ধ” হচ্ছে।

আরো পড়তে পারেন:
বাখমুটের কয়েকটি ত্রাণ কেন্দ্রে বেসমারিক লোকজন আশ্রয় নিয়েছে।

ছবির উৎস, AFP

ছবির ক্যাপশান, বাখমুটের কয়েকটি ত্রাণ কেন্দ্রে বেসমারিক লোকজন আশ্রয় নিয়েছে।

তিনি বলেন, “তাদের কতো প্রাণহানি ঘটছে সেটা তারা বিবেচনা করছে না। তারা এখন এই শহর দখল করতে চাইছে। আমাদের সৈন্যদের কাজ হচ্ছে শত্রুর যতো বেশি ক্ষতি করা যায়।”

ওয়াগনার গ্রুপের প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোঝিনও বলেছিলেন বাখমুট নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ইউক্রেনীয় সৈন্যরা ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে।

এই শহরে যুদ্ধে উভয়পক্ষের বেশ ক্ষয়ক্ষতি ও বহু সৈন্যের প্রাণহানি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

বলা হচ্ছে এই শহরটি দখল করে নিতে পারলে ইউক্রেন যুদ্ধের গত ছ’মাসে রাশিয়ার জন্য এটা হবে বড় ধরনের বিজয়।

‘একটি পথ খোলা’

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে ওয়াগনার গ্রুপের প্রধান জানিয়েছেন যে প্রায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাখমুট শহরটিকে তারা চারদিক দিকে ঘিরে ফেলেছেন। ইউক্রেনীয় সৈন্যদের বের হয়ে যাওয়ার জন্য শুধুমাত্র একটা পথ খোলা রাখা হয়েছে।

এই শহরের পশ্চিমাঞ্চলে রয়টার্সের সাংবাদিকরা দেখেছেন ইউক্রেনীয় সৈন্যরা প্রতিরক্ষার জন্য সেখানে নতুন করে পরিখা খনন করছে।

ওই শহরে গত কয়েকমাস ধরে যুদ্ধ করছে ইউক্রেনের এরকম একটি ড্রোন ইউনিটের কমান্ডার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে তাদেরকে সেখান থেকে চলে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানিয়েছেন ১১০ দিন ধরে তিনি সেখানে যুদ্ধ করছেন। তবে কেন তাদেরকে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেবিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

বাখমুট রক্ষার জন্য পরিখা খনন করছে ইউক্রেনীয় সৈন্যরা।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বাখমুট রক্ষার জন্য পরিখা খনন করছে ইউক্রেনীয় সৈন্যরা।

বাখমুট কেন গুরুত্বপূর্ণ

পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চলের দোনেৎস্ক ও লুহানস্কে রসদ-পত্র সরবরাহের জন্য একটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পথের ওপর এই বাখমুট শহরের অবস্থান।

এই শহরের নিয়ন্ত্রণ দখল করতে পারলে রাশিয়া এই এলাকাটিকে ক্রামাটরস্ক ও স্লোভিয়ানস্কের মতো দুটি বড় শহরের দিকে এগিয়ে যাবার জন্য ভিত্তি তৈরি করতে পারবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাখমুট শহরে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে রাশিয়ার পক্ষে পুরো ডনবাস অঞ্চল দখল করে নেওয়া আরো সহজ হয়ে উঠবে।

বাখমুট দখল করার জন্য লড়ছে রাশিয়ার ভাড়াটে বাহিনী ওয়াগনার গ্রুপ।

এই গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইয়েভগেনি প্রিগোঝিন। বহু রুশ কারাবন্দীকে এই বাহিনীতে সৈনিক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং তারা সহিংস যুদ্ধের জন্য সুপরিচিত। ইউক্রেনের যুদ্ধ ছাড়াও আফ্রিকার কিছু সংঘাতে তারা জড়িত।