এডিটার'স মেইলবক্স: বিবিসি বাংলার রেডিও সম্প্রচার নিয়ে স্মৃতি, আবেগ আর অভিযোগ

    • Author, সাবির মুস্তাফা
    • Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা

গত সপ্তাহের মত চলতি সপ্তাহেও পত্রলেখকদের মনে শুধু একটি বিষয়ই নাড়া দিচ্ছে, আর তা হল বিবিসি বাংলার রেডিও সার্ভিস বন্ধ করার ঘোষণা। তাই গত সপ্তাহের মত এবারের আলোচনাতেও থাকবে শুধু এই একটি বিষয়।

আজ যে চিঠি দিয়ে শুরু করবো সেটা লেখা হয়েছিল এ'মাসের পাঁচ তারিখে, দুর্গা পূজার দশমীর দিনে। লিখেছেন পঞ্চগড়ের বোদা থেকে রতন রঞ্জন রায়:

''আজ দেবী দুর্গা মায়ের বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের শেষ হচ্ছে৷ ঠিক এই ভাবে বিবিসি বাংলার ৮১ বছরের ঐতিহ্য এক ঘোষণা দিয়ে শেষ হতে যাচ্ছে ৷ যেই মানুষটা আমি প্রায় দুই যুগ ধরে বিবিসি বাংলার খবর শুনে আসছি, সেই মানুষটা আপনাদের মত এত নির্ভরশীল মাধ্যমে আর কোথাও খবর শুনতে পাব না৷

''হ্যাঁ, রেডিওতে আপনাদের শ্রোতা কমেছে ঠিকই কিন্তু আমার মত এফএম বা অনলাইনের শ্রোতা কিন্তু ছড়িয়ে রয়েছে সারাদেশে ৷ প্রয়োজনে রেডিও প্রচার বাদ দিলেও এফএম বা অনলাইনে বিবিসি বাংলা প্রচার করার জন্য আবারো অনুরোধ করছি৷''

বিবিসি বাংলার প্রতি এত গভীর আস্থা রাখার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ মি. রায়। তবে এখানে আপনার ছোট একটি বিভ্রান্তি দূর না করলেই নয়।

আমাদের রেডিও প্রচার বন্ধ মানেই হচ্ছে, এফ এম এবং অনলাইনে সেই অনুষ্ঠানগুলোর প্রচার বন্ধ হবে। কারণ, অনুষ্ঠান একটি, যেটি শর্ট ওয়েভ, এফ এম এবং অনলাইনে প্রচার করা হয়। সেই অনুষ্ঠান আর থাকবে না, কাজেই কোন মাধ্যমেই বিবিসি বাংলার রেডিও অনুষ্ঠান থাকবে না।

তবে আবারো স্মরণ করিয়ে দেই, রেডিও বন্ধ হলেও, আমাদের টেলিভিশন অনুষ্ঠান, অনলাইন আর সামাজিক মাধ্যম সবই থাকছে।

ঢাকায় সরকারের চাপ

দুটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে লিখেছেন রংপুরের বদরগঞ্জ থেকে মোহাম্মদ আব্দুল্লা আল মামুন:

''একটা আশঙ্কার কথাও না বলে পারছিনা। বিবিসি বাংলার সবাই যদি ঢাকা অফিসে চলে আসে, তাহলে সরকারি চাপ বা প্রভাব কি তারা সামাল দিতে পারবে? নাকি আর দশটা দেশি মিডিয়ার মত আপোষ করে চলবে?

''আরেকটি কথা, একজন সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে আমার কেন যেন মনে হয়, বিবিসি সব মিলিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াকে মাত্রাতিরিক্ত গুরুত্ব দেয়।''

আপনার পয়েন্ট দুটো যে কত গুরুত্বপূর্ণ তা আমরা সবাই উপলব্ধি করি মি. আল মামুন। আমি নিশ্চিত যে, বিবিসি বাংলার সম্পাদকীয় পরিচালনা ঢাকায় নেয়ার পর সাংবাদিকতা আর পরিবেশনার মান এবং মূল্যবোধ অটুট থাকবে।

বিভিন্ন মহলের চাপ প্রয়োগের চেষ্টা নতুন কিছু নয়, আগেও নানা সময়ে বিভিন্ন পটভূমিতে সেরকম প্রচেষ্টা হয়েছে। আমাদের সব সময় প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করেই নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হয়।

আর আপনি সামাজিক মাধ্যম সম্পর্কে যা বলছেন, তার সাথে কোন দ্বিমত নেই। বিবিসিও জোর দিচ্ছে নিজস্ব প্লাটফর্ম-এর ওপর, এবং সামাজিক মাধ্যমের ওপর আমাদের নির্ভরতা কমিয়ে আনা হবে।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

পুরনো সহকর্মীদের সন্ধানে

পরের চিঠি লিখেছেন সৌদি আরবের মদিনা থেকে মোহাম্মদ জসিম:

''বিবিসি বাংলা বন্ধের খবর শুনে আমি খুবই মর্মাহত। আমি আমার যেকোনো পরীক্ষার দিনেও বিবিসি শোনা বাদ দেইনি। তবে চিন্তা করতাম বিবিসি রেডিও নিয়ে আর কতদিন চলবে। এখন সেটাই সত্য হলো।

''যাই হোক, অনলাইনে থাকবেন এটাতে মনের প্রশান্তি মিলে। বিবিসির পুরানা কর্মকর্তাদের সম্পর্কে জানতে চাইলে কোন ফেসবুক আইডিতে যেতে হবে?''

আপনাকেও ধন্যবাদ মি. জসিম। তবে আমাদের পুরনো সহকর্মীদের নিয়ে কোন ফেসবুক পেজ নেই। আপনি বিবিসি বাংলাকে ফলো করতে পারেন আমাদের ফেসবুক পেজ-এর মাধ্যমে।

প্রবাসী বাংলাভাষীদের চাহিদা

আরো লিখেছেন সুইডেনের স্টকহোম থেকে সুজন আবু হানিফ:

''আমি গত ১০ বছর যাবত বিবিসি বাংলা শুনে আসছি, কিন্তু কখনোই রেডিওতে শুনি না। আপনাদের অনুষ্ঠান আমি সবসময় ওয়েবসাইট থেকে পরে সুবিধাজনক সময়ে শুনে থাকি।

''আপনারা যেহেতু ডিজিটাল মাধ্যমে সম্প্রসারণ করছেন, তাই আমার জিজ্ঞাসা, রেডিও বন্ধ করলেও আপনাদের অডিও অনুষ্ঠান কি ওয়েবসাইটে লাইভ করা যায় না? অথবা পরে রেকর্ড করে দেওয়া যায় না?

''আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি অডিও অনুষ্ঠান কখনো ডিজিটাল মাধ্যমে খবর পড়ার বিকল্প নয়। আমার মনে হয় বাংলাদেশের বাইরে আরো হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাভাষী মানুষ আছে যারা ওয়েব-এ আপনাদের খবর শুনে। বিবিসি কি এই বিষয়টি বিবেচনায় নিবে?''

আপনার সাথে আমি একমত যে প্রবাসে অনেক বাংলাভাষী আছেন যারা ইন্টারনেটে আমদের রেডিও অনুষ্ঠান শুনে থাকেন। কিন্তু সংখ্যাটি কিন্তু বিশাল নয়।

আর রেডিও অনুষ্ঠান তৈরির পেছনে যে লোকবল নিয়োগ করতে হয়, সেই ব্যয় বহন করা বিবিসির পক্ষে আর সম্ভব না। তাই, সকল শ্রম এখন ডিজিটাল মাধ্যমেই দেয়া হবে, কিন্তু সেখানে কোন দৈনিক অডিও সংবাদ অনুষ্ঠান থাকবে না।

আরো পড়ুন:

নীল খামে লন্ডন থেকে চিঠি

এবারে বিবিসি বাংলা ঘিরে কিছু স্মৃতি নিয়ে লিখেছেন খুলনার মুন্সিপাড়া থেকে মুনির আহাম্মদ:

''মনে আছে ১৯৬৬ সালের কথা। বাসায় একটা মার্ফি রেডিও ছিল। সেদিন বোনের বিয়ে উপলক্ষে অনেক মেহমান ছিল। আমার এক বড় ভাই রেডিওতে রাতের বেলা বিবিসির বাংলা অনুষ্ঠান শোনার চেষ্টা করে পেয়ে গেলেন। শুনতে পেলাম এক সময়ের বহুল পরিচিত একটা গানের সুর, যা সিগনেচার টিউন ছিল, আমিও শুনছিলাম।

''একটা ঘোষণা আমার কিশোর মনে দাগ কেটে গেলো। ডাকটিকেট চেয়ে আমিও একটা চিঠি লিখলাম। কিছুদিন পরে ডাকযোগে আমার চিঠির উত্তর কবে দেওয়া হবে সেটা জানিয়ে একটা নীল খামে লন্ডন থেকে চিঠি পেলাম।

''আর নির্ধারিত তারিখে অনুষ্ঠানে আমার নাম ঠিকানা শুনে ভীষণ খুশী হয়েছিলাম। সেই থেকে শুরু।

''মনে পড়ে বিবিসি বাংলা বিভাগ আয়োজিত একটা রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম হয়েছিলাম। বিজয়ী হিসেবে আমার নাম ঠিকানা ১৯৭১ সালের মার্চ এপ্রিলে প্রবাহ অনুষ্ঠানে বেশ কিছুদিন ঘোষণা হয়েছিলো।

''তখন ছিল এক সংকটময় পরিস্থিতি। স্মৃতি সব সময় কখনও হাসি আনন্দের কখনও বেদনার। নিজের এই বৃদ্ধ বয়সে শুধু স্মৃতি নিয়েই আগামী দিনগুলো কেটে যাবে হয়তো।''

আপনার স্মৃতি চারণ আমাদের মনেও দাগ কেটেছে মি. আহাম্মদ। সত্যি কথা বলতে, বেশ কঠিন সময়েই বিবিসি বাংলার রেডিও বন্ধ হতে যাচ্ছে।

একদিকে ইউক্রেনে রুশ হামলা ঘিরে বৃহত্তর যুদ্ধের আশঙ্কা, অন্যদিকে ২০২৩-২৪ সালের নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশে রাজনৈতিক উত্তাপ বৃদ্ধির সম্ভাবনা।

আর মাস দু-তিন পর থেকেই আমাদের সব প্রতিবেদন-বিশ্লেষণ অনলাইন আর চ্যানেল আইতে প্রচারিত বিবিসি বাংলার অনুষ্ঠানগুলোতেই থাকবে।

বিবিসি বাংলায় আরো আছে:

স্বামীর পছন্দের বিবিসি

আরো লিখেছেন সাতক্ষীরার প্রসাদপুর থেকে শামীমা আক্তার লিপি:

''আজ থেকে ২০ বছর আগে আমার বিয়ে হয়। কাকতালীয় ভাবে সেদিন বৃহস্পতিবার ছিল। গ্রামে রাত সাড়ে দশটা মানে অনেক রাত। বিয়ের দিনের সুবাদে বাড়িতে আত্মীয়স্বজন ভরা ছিল। সেই ভিড়ের মধ্যে আমার স্বামী ও শ্বশুর বসেছিল বিবিসি শুনতে। যোগ দিয়েছিলেন আত্মীয়স্বজনের মধ্যে অনেকেই।

"আমি কিছুটা বিরক্ত হলেও ওই রাতেই স্বামীর পছন্দের বিবিসি আমারও পছন্দের হয়ে যায়। আজও স্বামী ও বিবিসি দুটোকেই ভালবাসি। সেই স্বামী কিছুটা অসুস্থ হওয়ায় মন খারাপ, আবার শুনছি বিবিসিও বন্ধ হচ্ছে। একবার বুঝুন তো আমার মনের অবস্থা এখন কেমন?''

আপনার স্বামী অসুস্থ জেনে আমি দুঃখিত মিস আক্তার, আশা করি শীঘ্রই সুস্থ হয়ে উঠবেন । আর ইতোমধ্যে নিশ্চয়ই জেনে গেছেন যে বিবিসি বাংলা বন্ধ হচ্ছে না। শুধু রেডিও সম্প্রচার বন্ধ হচ্ছে।

তাহলে আপনার অবস্থা দ্রুত উন্নতি হবে বলে আশা করতে পারি।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য বিবিসি

এবারে ভিন্ন একটি প্রসঙ্গ টেনে লিখেছেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থেকে মোকলেস রহমান:

''রেডিও অনুষ্ঠান বন্ধ হলে অসুবিধা নাই, যদি অডিও অনুষ্ঠান অনলাইনে চালু থাকে। অর্থাৎ আমার অনুরোধ হলো অডিও অনুষ্ঠান যেন ওয়েব সাইটে থাকে। তাহলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও নিরক্ষর মানুষ বিবিসি-এর সংবাদ থেকে বঞ্চিত হবে না।''

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ তুলেছেন মি. রহমান। নিরক্ষর মানুষ নিশ্চয়ই এক সময় সাক্ষরতা অর্জন করবে। কিন্তু দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের কী হবে? রেডিওর মত করে কোন অনুষ্ঠান অনলাইনে সম্প্রচার সম্ভব না, সেটা আপনি বুঝতেই পারছেন।

তবে ডিজিটাল অডিও আগামীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠবে, যার মধ্যে পডকাস্টিং হবে একটি মাধ্যম। আমরা অবশ্যই ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় ডিজিটাল অডিওর কথা বিবেচনা করবো।

গ্রামের মুরব্বীদের জন্য বিবিসি

আরো লিখেছেন সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গাজী মোমিন উদ্দিন:

''গ্রামে গিয়েছিলাম মঙ্গলবার। এক পরিচিত মুরব্বী বললেন, এতটা বছর বিবিসি শুনে আসছি অথচ শুনছি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। খবরটি শোনার পর থেকে মন খারাপ আমার। তুমি তো প্রীতিভাজনেষুতে লেখ, ওখানে একটু লিখতে পারো যে বয়স্ক মানুষের জন্য বিবিসি ভীষণ আশীর্বাদ। তাদের কথা ভেবে বিবিসিটা চালু রাখা যায় না?''

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ মি. মোমিন উদ্দিন। আপনার গ্রামের মুরুব্বীদের সেন্টিমেন্টের সাথে সহানুভূতি আমাদের অবশ্যই আছে। অনেকের জন্যই রেডিওর বিদায় কঠিন হয়ে যাবে।

কিন্তু গত সপ্তাহে যা বলেছি, বিবিসি এই সিদ্ধান্ত অনেক ভেবেচিন্তে, ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে নিয়েছে। যারা ডিজিটাল মাধ্যমে বিবিসি পড়তে বা দেখতে পারবেন না, তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া আমার অন্য কোন পথ নেই।

ইউটিউবারের জন্য বিবিসি নয়

বিবিসি বাংলার রেডিও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একজনের বড় রকমের আর্থিক ক্ষতি হতে যাচ্ছে, তবে এ বিষয়টি আমাদের বিবেচনায় ছিল না। কীভাবে? তাহলে শোনা যাক মোহাম্মদ মামুন হোসেনের চিঠিতে, যিনি মুন্সিগঞ্জ সদরের বাসিন্দা:

''আমি একজন ইউটিউবার। আমি আপনাদের বিবিসি বাংলার খবরগুলি আমার ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করে থাকি। এতে করে আমার কিছু ইনকাম হয়। আর ওই ইনকাম দিয়ে আমি বউ বাচ্চা নিয়ে কোনমতে বেঁচে আছি।

''যখনই আপনাদের রেডিও বন্ধের এই খবরটি শুনলাম, তখন মনে হল যেন আমি দুনিয়া থেকে বিদায় নিচ্ছি। বুঝতে পারছি না আগামী দিনগুলো কীভাবে চলবে"

''আপনারা কি আমার ইনকাম দেখে এই বিবিসি রেডিও বন্ধ করে দিচ্ছেন?''

না মি. হোসেন, আপনার ইনকাম দেখে বিবিসি বাংলার রেডিও বন্ধ হচ্ছে না। তার কারণ ইতোমধ্যে আমি এই অনুষ্ঠানে ব্যাখ্যা করেছি। তবে আপনাকে একটা কথা না বলে পারছি না।

আপনি যে বিবিসি বাংলার অনুষ্ঠান আপনার ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করে অর্থ আয় করেছেন, সেটা আইন সম্মত ছিল না। আমাদের অনুমতি ছাড়া আপনি এ'কাজ করছেন যেটা মোটেই ঠিক হয়নি।

আমি দুঃখিত, হয়তো আমার কথাটা খুব কঠোর শোনাচ্ছে, কিন্তু আমাদের অনুমতি ছাড়া আমাদের কনটেন্ট ব্যবহার করার অধিকার কারও নেই।

আগামী নির্বাচন ও বিবিসি

এবারে ছোট একটি প্রশ্ন করেছেন পটুয়াখালীর মৌকরন থেকে শাহীন তালুকদার:

''সামনে জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত বিবিসি বাংলা পাবো কি?''

বিবিসি বাংলাকে অবশ্যই পাবেন মি. তালুকদার। তবে আমাদের রেডিও অনুষ্ঠান পাবেন না। আমাদের রেডিও সম্ভবত এই বছর শেষ হবার আগেই বন্ধ হয়ে যাবে।

তবে আমাদের টেলিভিশন অনুষ্ঠান বিবিসি প্রবাহ আর বাংলাদেশ ট্রেন্ডিং থাকবে, সাথে আমাদের অনলাইন পরিবেশনা এবং সামাজিক মাধ্যমে আমাদের উপস্থিতি।

শ্রোতাদের অর্থায়নে বিবিসি?

পরের চিঠি লিখেছেন সাতক্ষীরার নলতা থেকে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম রাশেদ:

''যদি বিবিসি কর্তৃপক্ষ বিবিসি বাংলা অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়, তাহলে কি বাংলাদেশের মানুষ তার নিজেদের অর্থায়নে বিবিসি বাংলার অনুষ্ঠান পুনরায় শুনতে পাবে?

''এই অনুষ্ঠানটা চালু থাকা প্রয়োজন, কারণ আমি মনে করি বাংলাদেশের প্রায় পাঁচ কোটির বেশি মানুষ এই অনুষ্ঠান শুনে থাকে।''

না মি. ইসলাম, বাংলাদেশের মানুষের অর্থায়নে বিবিসি বাংলা চলতে পারবে না। এর কারণ, বিবিসি ব্রিটিশ একটি প্রতিষ্ঠান, যার মালিক ব্রিটিশ জনগণ।

আর আপনার কেন মনে হয় বাংলাদেশে পাঁচ কোটি মানুষ বিবিসি বাংলা রেডিও শোনেন? আমাদের সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে বাংলাদেশে আমাদের রেডিওর শ্রোতা সংখ্যা মাত্র ২৬ লক্ষ।

বিদায় ঘণ্টার অশনি সংকেত

এবারে কিছু প্রস্তাব দিয়ে লিখেছেন কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী থেকে আব্দুল কুদ্দুস মাস্টার:

''আমরা বিবিসিভক্ত শ্রোতারা ইতোমধ্যেই বাংলা অনুষ্ঠানের অশনি সংকেত পেয়ে ভাবনার সাগরে নিমজ্জিত হয়ে হাবুডুবু খাচ্ছি। মাথায় যেন আকাশ ভেঙে তদুপরি বিদায় ঘণ্টার জন্যে যদি তৈরি হতেই হয়। তাহলে আমার নিম্নোক্ত প্রস্তাবটুকু বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি:

১) এ বছরের ডিসেম্বরে কিংবা আগামী জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারি নাগাদ বিবিসি বাংলার শ্রোতাদের নিয়ে ঢাকায় একটি বিদায়ী বা সর্বশেষ শ্রোতা সম্মেলন আয়োজন করবেন।

২) যেহেতু কোভিড-১৯ এর কারণে ৮০তম বার্ষিকীতে বিবিসি বাংলার কোনো স্মরণিকা প্রকাশিত হয় নি তাই আগামী জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারি মাসে বিবিসি থেকে সর্বশেষ একখানা স্মরণ পুস্তিকা প্রকাশের দাবী জানাচ্ছি।

৩) সব মাধ্যমে বিবিসি বাংলা বন্ধ হলেও অন্তত রাতের পরিক্রমা অনুষ্ঠানটির এফএম সম্প্রচারটুকু চালু রাখবেন।''

ঠিক একই ধরনের প্রস্তাব করে লিখেছেন ঢাকা সেনানিবাস থেকে সোহেল রানা হৃদয় আর এম আলম। আপনাদের তিনজনকেই ধন্যবাদ, তবে আপনাদের প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে দুঃখিত।

প্রথমত, বিবিসি বাংলা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না। তাই কোন বিদায়ী বা সর্বশেষ সম্মেলন করা বা সর্বশেষ স্মরণিকা প্রকাশ করার প্রশ্ন ওঠে না।

আর রেডিও যেহেতু বন্ধ হচ্ছে, তাই পরিক্রমা বলে কোন কিছু আর থাকছে না। এফএম তরঙ্গে কোন কিছু থাকবে না যেহেতু কোন রেডিও অনুষ্ঠান থাকবে না।

বিবিসি শুধু বেতারকেন্দ্র নয়

পরের চিঠি লিখেছেন ঝিনাইদহর কানুহরপুর হাজী আলী আক্কাস দাখিল মাদ্রাসা থেকে সাখাওয়াত হোসেন বিদ্যুৎ:

''বিবিসি শুধু একটি বেতার কেন্দ্র নয়, এটি আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের সাথী, বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের আশার প্রদীপ, অসংখ্য শ্রোতার ভালোবাসার জায়গা। কত স্মৃতি, কত আবেগ, কত ভালোবাসা জড়িয়ে আছে এর সাথে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পূর্ব থেকেই বাংলাভাষী মানুষের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠে বিবিসি বাংলা। সে সময় পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার আন্দোলনের খবর যেমন বিবিসি বাংলা রেডিওতে শোনা যেত, তেমনি মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্ভর যোগ্য খবরের জন্য বিবিসি বাংলা রেডিওই ছিল ভরসা।''

আপনাকে ধন্যবাদ মি. হোসেন, বিবিসি বাংলার সাথে দীর্ঘ আছেন এবং আশা করি আমরা রেডিও না থাকলেও টেলিভিশন আর ডিজিটাল মাধ্যমে আপনাকে আমরা পাবো।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

ঢাকা থেকে মোহাম্মদ ইমরান হোসেন খাঁন

পটুয়াখালীর বাউফল থেকে আল মামুন

ঢাকার দক্ষিণ বনশ্রী থেকে এমদাদুল হক বাদশা

রংপুর সদর মোহাম্মদ লিয়াকত আলী

ভোলার চরফ্যাশন থেকে মুহাম্মদ মাসুদুল হক মাশুক

চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর জয়নালপুর থেকে মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন

দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক

ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান

সৈয়দপুরের পীরগাছা থেকে সৈয়দ আতাউর রহমান