ন্যান্সি পেলোসি: মার্কিন স্পিকারের সফরের পর চীনের সামরিক মহড়া, তাইওয়ানের সাধারণ মানুষ কীভাবে দেখছে

তাইওয়ান

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, তাইওয়ানের দু'জন জেলে কাজ করছেন

মার্কিন কংগ্রেসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির সংক্ষিপ্ত এবং বিতর্কিত তাইওয়ান সফর নিয়ে চীন এবং তাইওয়ানের মধ্যে যে উত্তেজনার আশঙ্কা করা হয়েছিল, ঠিক সেটিই ঘটেছে।

তাইওয়ানকে ঘিরে চীন ছয়টি স্থানে সামরিক মহড়া শুরু করেছে। এই মহড়ার সময় চীন অন্তত দুইটি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুঁড়েছে।

চীন এখন যে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, ঠিক একই ধরনের প্রতিক্রিয়া তারা দেখিয়েছিল ১৯৯৬ সালে। তখন তাইওয়ান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চেয়েছিল।

এটা পরিষ্কার যে চীনের সামরিক মহড়া তাইওয়ানকে ভয় দেখানোর জন্য।

কিন্তু চীনের এ ধরনের সামরিক মহড়া তাইওয়ানের সামুদ্রিক জাহাজ এবং বিমান চলাচলকে ব্যাপকভাবে ব্যাহত করছে।

তাইওয়ানের চারপাশে যে সমুদ্র রয়েছে সেটি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সমুদ্রপথ। এ পথে যেসব জাহাজ চলাচল করার কথা ছিল, সেগুলোকে এখন পথ পরিবর্তন করতে হচ্ছে।

তাইওয়ান

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, মার্কিন কাংগ্রেসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির (বামে) তাইওয়ান সফর নিয়ে উত্তেজনা হয়েছে

তাইওয়ানের উত্তর উপকূলে একটি মাছের বন্দরে বসে ছিলেন একজন মৎস্যজীবি। তার নিজের একটি মাছ ধরার ট্রলার আছে।

তিনি বলেন, "যখন রাজনীতিবিদরা লড়াই করে তখন আমাদের মতো ক্ষুদ্র মানুষজন সেটির খারাপ ফলাফল ভোগ করে।"

"কিন্তু আমরা কী করতে পারি? এখন ওদিকে মাছ ধরতে যাওয়া বিপদজনক," যোগ করেন তিনি।

তবে তিনি এও জানালেন যে পরিস্থিতি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন।

তার পাশেই ছিলেন তার স্ত্রী। বেশ বিমর্ষ তিনি।

তার কথায়, "এ ধরনের কাজ যখন হয় তখন আমাদের আর্থিক ক্ষতি হয়। আমরা মাছ ধরতে পারি না। কিন্তু ক্রুদের ঠিকই অর্থ দিতে হয়।"

তাইওয়ানের অধিকাংশ মানুষ মনে করেন চীন তাইওয়ান আক্রমণ করবে না।

"তারা হচ্ছে গ্যাংস্টার। ঐ কমিউনিস্টরা বড় বড় কথা বলে। কিন্তু তারা কিছু করতে পারবে না। আমরা গত ৭০ বছর যাবত তাদের হুমকির মধ্যে বসবাস করছি," বলছিলেন আরেকজন মৎস্যজীবী।

তাইওয়ান

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, তাইওয়ানের এক ব্যক্তি দেশটির উপকূলে বসে চীনের সামরিক মহড়া দেখার চেষ্টা করছেন

চীন তাদের সামরিক মহড়া গুটিয়ে নিয়ে আরও কিছুদিন সময় নেবে। চীনের জাহাজ তাইওয়ানের সমুদ্র সীমায়ও ঢুকতে পারে।

সবচেয়ে জোরালো আশঙ্কা হচ্ছে, চীন তাইওয়ানের উপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার জন্য তৈরি হচ্ছে।

এর কারণ হচ্ছে, সামরিক মহড়া করার করার জন্য চীন যেসব জায়গা বেছে নিয়েছে তার মধ্যে একটির অবস্থান তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে।

চীনের ভূখণ্ড থেকে ওই এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়লে সেটি তাইওয়ানের উপর দিয়ে যাবে। এভাবে মিসাইল ছুঁড়লে সেটি হবে তাইওয়ানের আকাশসীমার লঙ্ঘন।

এ রকম কাজ করেছিল উত্তর কোরিয়া ২০১৭ সালে।

তখন উত্তর কোরিয়ার ছোঁড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপের উপর দিয়ে গিয়েছিল।

ভিডিওর ক্যাপশান, ন্যান্সি পেলোসির সফর নিয়ে কী প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে?