আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
চামড়া নিয়ে সংকটের নেপথ্যে কী রয়েছে?
এবারের কুরবানির ঈদে চামড়া কেনাবেচা নিয়ে এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়েছে চামড়া সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
সংকট মেটাতে চামড়ার আড়তদার এবং ট্যানারি মালিকদের সাথে বৈঠকে হয়েছে আজ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
সেখানে আড়তদাররা আগামী কাল থেকে ট্যানারি মালিকদের কাছে চামড়া বিক্রি করতে রাজি হয়েছে।
কিন্তু এবারের ঈদে চামড়া নিয়ে কেন এমন সংকট অবস্থা তৈরি হল? এর নেপথ্যে কি রয়েছে?
ঈদ উল আযহা র পশু কুরবানির পরেই বিকাল নাগাদ সাধারণত পশুর চামড়া চলে যায় চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে।
এবারে হয়েছে এর ব্যতিক্রম। দেশের নানা স্থানে চামড়া বিক্রির ন্যায্য মূল্য না পেয়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা পশুর চামড়া মাটিতে পুতে ফেলে প্রতিবাদ জানিয়েছে। সেই ছবি ব্যাপক ভাবে আলোচিত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে।
মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বলছে সরকার নির্ধারিত যে দাম বেধে দিয়েছিল, তারচেয়ে অনেক কম দামে কিনতে যেয়ে নি:স্ব হতে হয়েছে তাদের।
কিন্তু এমন পরিস্থিতি কেন হল, এর নেপথ্যে কি রয়েছে?
চামড়ার ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন বলছিলেন ট্যানারি মালিকদের কাছে কয়েকশ কোটি টাকা পান তারা। ফলে এসব ট্যানারি মালিকরা পাওনা টাকা দেয়ায় চামড়া ব্যবসায়ীরা নতুন করে চামড়া কিনতে পারেননি।
এবার ঈদের আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর কাঁচা চামড়া ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় কেনার কথা ট্যানারি ব্যবসায়ীদের। ছাগলের চামড়ার ক্ষেত্রে দাম বেধে দেয় সরকার।
ব্যবসায়ীরা বলছেন যেহেতু এখানে মুক্তবাজার।
আরো পড়ুন:
তাই সরবরাহের উপর ভিত্তি করে তারা চামড়া কেনাবেচা করে থাকেন।
কিন্তু এবারের সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে কিনতে হয়েছে ব্যবসায়ীদের। ট্যানারি মালিকদের উপর বকেয়া পরিশোধ না করার যে অভিযোগ উঠেছে সে বিষয়ে জানতে কথা বলেছিলাম বাংলাদেশ ফিনিস্ড লেদার, লেদার গুডস এন্ড ফুটওয়ার এক্সপোর্টাস এসোসিয়েশনের নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ট্যানারির মালিক টিপু সুলতানের সাথে।
তিনি বলছিলেন "২০১৫ সাল থেকে ট্যানারি মালিকদের কাছে যে চামড়া মজুদ রয়েছে সেটা রপ্তানি করতে পারেনি। এখন নতুন চামড়া কিনে কি করবে!একই সাথে লালবাগ থেকে ট্যানারি সরিয়ে সাভারে ট্যানারি পল্লী তৈরি করা হচ্ছে সে কারণে ট্যানারি মালিকদের টাকার ঘাটতি রয়েছে। সে কারণে অনেকেই পাওনা টাকা দিতে পারেনি।"
চামড়ার এমন দরপতনের সংশ্লিষ্টরা একে অপরকে দোষারোপ করছেন।
মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা দোষারোপ করছেন পাইকারি ক্রেতাদের, পাইকারি ক্রেতারা বলছেন আড়তদাররা কম দামে চামড়া ক্রয় করছেন।
আড়তদার বলছেন ট্যানারি অ্যাসোসিয়েশন থেকে আমাদের বকেয়া পরিশোধ করেনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা এর দুটি কারণের কথা উল্লেখ করেন।
মিজ বিদিশা বলছিলেন "আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়া-জাত দ্রবের চাহিদা পড়তির দিকে। আরেকটা কারণ খুব গুরুত্বপূর্ণ সেটা হল কমপ্লায়েন্সের বিষয়। কেন্দ্রীয় শোধনাগার যেটা সাভারে রয়েছে সেটা এখনো কার্যকর হয়নি। তার ফলাফল স্বরূপ যেটা হয়েছে বিদেশী ক্রেতাদের কাছে চামড়া-জাত দ্রব্য বিক্রি করতে হয় তাহলে যে সার্টিফিকেট দরকার সেই সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রে অনেকটা সমস্যা হচ্ছে"।
এদিকে বকেয়া আদায়ের বিষয়ে আগামী ২২ আগস্ট আরেকটি বৈঠকের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা।