অলিম্পিকে কেন পদক পাচ্ছে না বাংলাদেশ?

শুটিংয়ে প্রাকটিস করছে মেয়েদের একটি দল
ছবির ক্যাপশান, শুটিংয়ে প্রাকটিস করছে মেয়েদের একটি দল
    • Author, আবুল কালাম আজাদ
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

১৯৮৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত নয়টি অলিম্পিক গেমসে অংশ নিলেও এখনো একটি পদকও পায়নি বাংলাদেশ।

এবারই প্রথম একজন অ্যাথলেট বিশেষ সুবিধা (ওয়াইল্ড কার্ড) ছাড়া অলিম্পিকে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

এর আগে বাংলাদেশের আর কোন অ্যাথলেটও এই যোগ্যতা অর্জন করেননি।

শুটিং থেকেই অলিম্পিকে একটা সাফল্য আসবে বারবারই সে প্রত্যাশা করা হয়েছে। কিন্তু এবারও সেটি হয়নি।

শুটার দম্পতি সাইফুল আলম রিংকি এবং সাবরিনা সুলতানা দুজনই অলিম্পিকে খেলেছেন। ২০০০ সালে সাবরিনা অংশ নেন সিডনি অলিম্পিকে। ১৯৯৭ সালে কমনওয়েলথ শুটিঙয়ে স্বর্ণ জয়ী হয়েছিলেন।

অলিম্পিকে কেন সফলতা পাননি এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ''আমি তো কোচই পাইনি বলতে গেলে। জার্মানিতে দেড় মাসের মতো ট্রেনিং করে দশদিনের মাথায় অলিম্পিক করতে চলে গিয়েছি। একটা ট্রেনিংয়ের পর শুটারকে সেটা নিয়ে ইউজড-টু হতে হয়, আমি সে সুযোগটাও পাইনি। আমার সাথে কোচ ছিল না, একটা অ্যাডভাইজরও ছিল না আমি যখন অলিম্পিকে গিয়েছি।''

বাংলাদেশে খেলাধুলার নিয়মিত চর্চ্চা থাকলেও, অলিম্পিকের মতো বড় কোন টুর্নামেন্টে কোন সাফল্য নেই
ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশে খেলাধুলার নিয়মিত চর্চ্চা থাকলেও, অলিম্পিকের মতো বড় কোন টুর্নামেন্টে কোন সাফল্য নেই

সাবরিনা বলেন, ''শুটিং একটা অত্যন্ত মনঃসংযোগের খেলা। এখানে আর্থিক এবং মানসিক সমর্থন খুবই দরকার। “খেলোয়াড়ের কিন্তু ভাল মন্দটা হয়ই। আজকে খারাপ হয়েছে, কালকে ভাল মারবে, পরশুদিন সে আরও ভাল করবে। তার ওপর প্রতিষ্ঠানের কনফিডেন্স থাকতে হবে।''

সাইফুল আলম রিংকি ১৯৯৬ সালের অলিম্পিকে বাংলাদেশের পতাকা বহন করেন। তার অভিজ্ঞতায় এখন আধুনিক সরঞ্জাম, ট্রেনিং সহজলভ্য হয়েছে। কিন্তু তাদের সময়ে চ্যালেঞ্জ ছিল অনেক বেশি।

তিনি বলেন, ''আমরা যাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেছি তারা যেসব ইকুইপমেন্ট ব্যবহার করতো সেটাতো আমরা পাইনি। সেই প্রশিক্ষণও না। কোচও না। যারা পদক যেতে তারা একটা অলিম্পিকের পর থেকেই পরের অলিম্পিকের প্রস্তুতি শুরু করে। অলিম্পিকের আগে অনেক আন্তর্জাতিক খেলা হয় সবগুলো খেলাতেই অংশগ্রহণ করা দরকার।''

নদীমাতৃক বাংলাদেশে সাঁতারে অর্জন সাউথ এশিয়ান গেমস পদক প্রাপ্তি পর্যন্তই।

২০০৪ অলিম্পিকে বাংলাদেশের হয়ে অংশ নেয় সাঁতারু জুয়েল আহমেদ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মাইকেল ফেলপস।

তিনি বলছেন, ''বড় ইভেন্টে গিয়ে আমাদের মধ্যে জড়তা কাজ করে একধরনে ভীতি কাজ করে। তাদের মতো শারীরিক সক্ষমতা হয়তো আমরা অর্জন করতে পারবো না কিন্তু খাবার দাবার থেকে শুরু করে ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি এগুলো যদি দীর্ঘমেয়াদী এবং উন্নত মানের ব্যবস্থা করতে পারি তাহলে আমরা আরো ভাল করতে পারবো।''

শুটিংয়ের সাথে জড়িতরা বলছেন, যাদের সাথে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়, তাদের মতো সরঞ্জাম তারা পাননা
ছবির ক্যাপশান, শুটিংয়ের সাথে জড়িতরা বলছেন, যাদের সাথে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়, তাদের মতো সরঞ্জাম তারা পাননা

মাইকেল ফেলপস রিও অলিম্পিকেও দ্যুতি ছড়িয়েছেন কিন্তু জুয়েল আহমেদ অনেক আগে খেলা ছেড়ে এখন প্রশিক্ষক।

তিনি বলছেন, ''আমি যখন সাঁতারটা ছাড়ি তখন সাঁতার ছাড়ার কথা না। বয়স হয়ে গেছে আমার দ্বারা হবে এরকম কথাবার্তার কারণে আমি ডিমোরালাইজড হয়ে তাড়াতাড়ি খেলা ছেড়ে দেই।''

মিস্টার আহমেদ বলেন, ''আমি মনে করি আমাদের প্লেয়ারদের ক্ষেত্রে বর্তমানে এগুলো বন্ধ করা উচিত। যেটা ন্যায্য সেটা করা উচিৎ তা নাহলে তারা আগ্রহী হবে না। ভবিষ্যতে এগুতে হলে সবকিছু ফেয়ার করে সবকিছু আগাতে হবে।''

বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপি থেকেই বিভিন্ন ইভেন্টে দেশসেরা খেলোয়াড় বেরিয়ে আসছে। একটা পর্যায় পর্যন্ত তারা জাতীয় আন্তর্জাতিক পদক জিতছে।

কিন্তু এই ক্রীড়াবিদরা অলিম্পিকে কেন সাফল্য আনতে পারে না?

বিকেএসপির উপপরিচালক প্রশিক্ষণ শামীমা সাত্তার মিমু বলেন, ''আমাদের এখান থেকে বেরিয়ে যাবার পর যারা তাদের দায়িত্ব নিচ্ছে তারা সে দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করলেই তারা আরো বড় মাপের খেলোয়াড় হতে পারবে।''

নদীমাতৃক বাংলাদেশে সাঁতারে বাংলাদেশের অর্জন সাউথ এশিয়ান গেমসে পদক প্রাপ্তি পর্যন্ত
ছবির ক্যাপশান, নদীমাতৃক বাংলাদেশে সাঁতারে বাংলাদেশের অর্জন সাউথ এশিয়ান গেমসে পদক প্রাপ্তি পর্যন্ত

জাতীয় পর্যায়ে ২২টি স্বর্ণজয়ী অ্যাথলেট মিস মিমু অলিম্পিকে ব্যর্থতার পেছনে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের অভাব দেখছেন।

তিনি বলেন, ''অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন এবং ফেডারেশনগুলো মিলে একসাথে যদি চার বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা করে তাহলে আমরা নিশ্চয়ই অলিম্পিকে পদক আনতে পারবো।''

ফেডারেশনের কারণে যেন খেলোয়াড়রা ক্ষতিগ্রস্ত না হন সে বিষয়টি সামনে আনলেন এই ক্রীড়াবিদ। “খেলাধুলা এমন একটা জিনিস আমি বলতে চাই সেখানে রাজনীতি মুক্ত থাকা উচিত।

অলিম্পিক আসরে সব দেশই প্রতিটি ইভেন্টে তাদের সেরা খেলোয়াড় পাঠিয়ে থাকে। বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে সব ক্ষেত্রে সেটি হচ্ছে না।

আর্চারিতে সজীব সেরা র‍্যাংকিংয়ে থেকেও ২০১২ সালে অলিম্পিকে অলিম্পিকে অংশ নিতে পারেনি। সাউথ এশিয়ান গেমসে দুটি স্বর্ণজয়ী মাহফুজা আক্তার শিলা অলিম্পিকে যেতে না পারায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয় বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে।