ঢাকায় খোলামাঠে ঈদের কাপড়ের বাজার

ছবির উৎস, bbc bangla
- Author, কাদির কল্লোল
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
বাংলাদেশে রাজধানী ঢাকায় এবার রোজার ঈদকে সামনে রেখে খোলা মাঠে, গ্যালারি বা কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে শাড়ি বা পোশাকের মেলার আয়োজন বাড়ছে।
ক্রেতাদের ভিড়ে এসব আয়োজন বেশ জমজমাট।
ক্রেতাদের অনেকেই বলেছেন, মেলাগুলোতে দেশীয় কাপড়ের অনেক বৈচিত্র্য তারা দেখতে পান।
অনেক মনে করেন, ব্রান্ডের কাপড়ের দোকান বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শপিং মলে ঈদের সময় কাপড়ের দাম চড়া থাকে। কিন্তু এসব মেলায় কিছুটা সস্তায় কেনা যায়।
নিম্ন আয়ের এবং মধ্যবিত্ত ক্রেতারা মূলত এসব মেলায় আসেন।
কাপড়ের মেলা বসেছে ঢাকার শ্যামলীতে শিশুদের খেলার মাঠে। তাঁবু খাটিয়ে ৫০টির মতো স্টল তৈরি করা হয়েছে।
শাড়ি, মেয়েদের সালোয়ার কামিজ, ছেলেদের পাঞ্জাবি এবং শিশুদের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে সেখানে।

ছবির উৎস, bbc bangla
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এই মেলায় গিয়ে দেখা যায়,ক্রেতাদের বেশ ভিড়।
শিশু কোলে নিয়ে স্টলে স্টলে ঘুরছেন সরকারি চাকরিজীবী জেসমিন আকতার। তিনি বলেছেন, শপিং মল বা ব্রান্ডের দোকানে দাম বেশি। মেলায় কম দামে কাপড় কিনতে পারবেন, সেই বিবেচনায় তিনি এসেছেন।
মোহাম্মদপুর থেকে মেলায় এসেছেন গৃহিনী মাফরুহা বেগম। ঈদের নতুন কাপড় কেনার জন্য তিনি গত কয়েকদিন বিভিন্ন শপিং মলে ঘুরেছেন। এখন মেলায় এসেছেন দেশী কাপড়ের স্বাদ পেতে।
তার মতে, “শপিং মলগুলোতে দেখেছি শুধু ভারতীয় কাপড়। দেশীয় সূতির কাপড় কিনতে এখানে এসেছি।”
জামদানি ও সূতির শাড়ি এবং পোশাকেও দেশীয় কাপড়ের দাপট রয়েছে মেলাগুলোতে। ডিজাইনে বৈচিত্র্য পাওয়া যায়।
অনেকে আবার ঢাকার রাস্তায় ট্রাফিক জ্যামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকে সময় নষ্ট করে শপিং মলে যেতে রাজি নন।
খোলা-মাঠের মেলায় অল্প পুঁজির ব্যবসায়ী যেমন রয়েছেন তেমনি বড় বড় দেশীয় টেক্সটাইল মিলগুলোও অংশ নিয়েছে।

ছবির উৎস, bbc bangla
একটি স্টলে বিক্রেতা মো: মনিরুজ্জামান বলেন, “বিক্রি প্রতিদিনই বাড়ছে। স্বল্প-আয়ের এবং মধ্যবিত্তরাই মূলত মেলায় আসছেন । উচ্চবিত্তদেরও অনেকে আসেন। সংখ্যায় অনেক কম। উচ্চবিত্তরা আসেন যাকাতের কাপড় কেনার জন্য।”
গ্যালারি এবং কমিউনিটি সেন্টারেও এখন জমজমাট কাপড়ের মেলা।
ধানমন্ডির একটি গ্যালারিতে কয়েকজন তরুণ ডিজাইনার তাদের কাপড়ের প্রদর্শনী করছেন।
ধানমন্ডিতেই নারীদের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কমিউনিটি সেন্টারে মেলায় স্টলে কাপড় নিয়ে বসেছেন কুটির শিল্পের সাথে জড়িত নারীরা।
তাদের মধ্যে আমেনা বেগম দুই মেয়েকে সাথে নিয়ে নিজেদের হাতে তৈরি কাপড় বিক্রি করছেন।
তিনি বলছিলেন,গতানুগতিক কাজের বাইরে তারা ভিন্ন ধরণের ডিজাইন করার চেষ্টা করেন। দামও কম রাখছেন। সেকারণে ক্রেতাদের যারাই মেলায় আসছেন, তারা কিছু না কিছু কিনছেন।








