রাজনীতিতে বিভক্তির সূচনা করেছিলেন জিয়াউর রহমান?

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সাথে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া

ছবির উৎস, Getty

ছবির ক্যাপশান, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সাথে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া
    • Author, কাদির কল্লোল
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে এ সপ্তাহেই।

তার দল বিএনপির দাবি তিনি রাজনীতি এবং রাষ্ট্রে নীতিগত দিক থেকে অনেক পরিবর্তন এনেছিলেন।

তবে, জামায়াতে ইসলামীসহ যারা ১৯৭১সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল,তাদের জিয়াউর রহমান পুনর্বাসন করেছিলেন। এমন সমালোচনাও রয়েছে।

ছবিটি বিএনপির ওয়েবসাইট থেকে নেয়া
ছবির ক্যাপশান, ছবিটি বিএনপির ওয়েবসাইট থেকে নেয়া

বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন বাংলাদেশে এখন রাজনীতিতে যে মতানৈক্য চলছে, তার বীজ জিয়াউর রহমান বপন করেছিলেন বলে অনেকে অভিযোগ করেন।

তার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি সমর্থিত পেশাজীবীদের একটি ফোরামের নেতা অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ বলছিলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী শেখ মুজিবের নেতৃত্বাধীন সরকারের শেষদিকে সংবিধানে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে একদলীয় শাসন বা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।

এর বিরুদ্ধের জনগণের অবস্থান অনুভব করে জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন বলে তিনি মনে করেন।

১৯৮১ সালে জিয়ার মৃত্যুর পরে রাজনীতিতে আসেন খালেদা জিয়া। ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ের পর তার মন্ত্রীসভায় স্থান পেয়েছিলেন মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ- এ দুজনরেই পরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

ছবির উৎস, AFP

ছবির ক্যাপশান, ১৯৮১ সালে জিয়ার মৃত্যুর পরে রাজনীতিতে আসেন খালেদা জিয়া। ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ের পর তার মন্ত্রীসভায় স্থান পেয়েছিলেন মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ- এ দুজনরেই পরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

তবে ১৯৭৭-৭৮ সালে বাংলা পত্রিকা দৈনিক বার্তার সম্পাদক ছিলেন কামাল লোহানী। তিনি মনে করেন, জিয়াউর রহমান নিজের রাজনীতি করার স্বার্থ থেকেই বহুদলীয় গণতন্ত্রের কথা বলে স্বাধীনতাবিরোধীদের সুযোগ দিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন,আওয়ামী লীগের বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ করে জিয়াউর রহমান নিজের শক্তিকে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন বলে তাঁর ধারণা।

বিএনপির মুখপত্র দৈনিক দিনকালের সাবেক সম্পাদক কাজী সিরাজ জিয়াউর রহমানের সময় জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক ছিলেন।

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান । তাকেই দলটির ভবিষ্যৎ নেতা মনে করা হয়।
ছবির ক্যাপশান, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান । তাকেই দলটির ভবিষ্যৎ নেতা মনে করা হয়।

তিনি বলেছেন,বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সে সময় প্রয়োজন ছিল। কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধীদের পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করে জাতীয় ঐক্যের শ্লোগান ভুল ছিল বলে তিনি মনে করেন।

তবে বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, রাজনীতি করার সুযোগ নিয়ে স্বাধীনতার বিরোধীরা ফুলে ফেঁপে ওঠায় রাজনীতিতে মতানৈক্য বাড়ছে। অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন,স্বাধীনতা বিরোধীরা এখন ক্ষমতারও অংশীদার হচ্ছে।

(এ বিষয়ে বিবিসি বাংলার বিশেষ প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে আজ সকালের অধিবেশনে। এটি পুন:প্রচার হবে রাতে পরিক্রমায়)