বাংলাদেশি সাহিত্যের যথেষ্ট ইংরেজি অনুবাদ হচ্ছে না কেন

বই মেলায় কিছু স্টলে ইংরেজি ভাষায় বই দেখা যায়।
ছবির ক্যাপশান, বই মেলায় কিছু স্টলে ইংরেজি ভাষায় বই দেখা যায়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাঠকদের কাছে সাহিত্য এবং অন্য যে কোন বিষয়ের বই পৌঁছে দেবার একটি বড় মাধ্যম হচ্ছে অনুবাদ।

কিন্তু বাংলা সাহিত্যের এমন বহু লেখা দেশটির পাঠকদের কাছে সমাদৃত হলেও সেগুলো অনুবাদের পরিমাণ খুবই কম।

লেখকরা বলছেন, ইংরেজিসহ অন্যভাষায় অনুবাদ না হবার কারণে বাংলাদেশের অনেক নামকরা সাহিত্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পৌঁছতে পারছে না।

একুশে বইমেলায় এমন অনেক বই আছে যেগুলো অন্যভাষা থেকে বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে।

এসব বইয়ের চাহিদা বাংলাদেশী পাঠকের কাছে একেবারে খারাপ নয়। কিন্তু বাংলা সাহিত্যের বই অনুবাদের পরিমাণ খুবই কম।

কবি আহমেদ মাজহার: আসলে আমরা আমাদের স্বপ্নের সীমানাকে অতদূর বিস্তৃত করিতে পারিনি। আমরা প্রকৃতপক্ষে আমাদের যারা পাঠক তাদের কাছেই তো ঠিকমতো পৌঁছতে পারিনি।
ছবির ক্যাপশান, কবি আহমেদ মাজহার: আসলে আমরা আমাদের স্বপ্নের সীমানাকে অতদূর বিস্তৃত করিতে পারিনি। আমরা প্রকৃতপক্ষে আমাদের যারা পাঠক তাদের কাছেই তো ঠিকমতো পৌঁছতে পারিনি।

বই মেলায় কথা হলো কবি আহমদ মাজাহারের সাথে। বলছিলেন, বই অন্য ভাষায় অনুবাদের আশা তিনি কখনো করেননি।

মি: মাজহার জানালেন, “আসলে আমরা আমাদের স্বপ্নের সীমানাকে অতদূর বিস্তৃত করিতে পারিনি। আমরা প্রকৃতপক্ষে আমাদের যারা পাঠক তাদের কাছেই তো ঠিকমতো পৌঁছতে পারিনি।”

কিন্তু এমন অনেক লেখক আছেন যারা চেয়েছিলেন যে তাদের বই ইংরেজিতে অনুবাদ হোক।

সে স্বপ্ন অনেকে ধারণ করলেও সেটি বাস্তব রূপ পায়নি। বাংলাদেশের একজন সুপরিচিত ছড়াকার এবং গদ্য লেখক লুৎফর রহমান রিটন।

তিনি মনে করেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের পাঠকদের কাছে পৌঁছানোর জন্য সব লেখকের আকাঙ্ক্ষা থাকে। সবাই চায় তার লেখা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ুক।

বাংলা সাহিত্যকে ইংরেজি অনুবাদের ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক ফখরুল আলম বেশ পরিচিত পেয়েছেন।

তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং জীবনানন্দ দাশের কিছু লেখা ছাড়াও সম্প্রতি মীর মোশারফ হোসেনের ‘বিষাদসিন্ধু’ ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন।

অধ্যাপক আলম বলেন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বড় প্রকাশনা সংস্থাগুলো বাংলা সাহিত্যের অনুবাদ করছেনা। এজন্য পাঠকও পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন এর দুটো কারণ রয়েছে।

প্রথমত: আন্তর্জাতিকভাবে বাংলা সাহিত্যের পরিচিতি খুব একটা নেই। তাছাড়া বাংলা সাহিত্য অনুবাদের ক্ষেত্রে ভালো অনুবাদকের সংকট রয়েছে বলে অধ্যাপক আলম উল্লেখ করেন।

একসময়ের নামকরা লেখকদের বাইরে সমসাময়িক বাংলা সাহিত্যিকদের লেখা অনুবাদ হয়েছে হাতে গোনা।

নামকরা প্রকাশনা সংস্থা থেকে সেসব লেখকদের অনুবাদের বই বের হয়েছে তাদের মধ্যে হুমায়ুন আহমেদ, তসলিমা নাসরিন, সেলিনা হোসেন এবং নাসরিন জাহান অন্যতম।

লেখকদের অনেকেই মনে করেন বাংলাসাহিত্য অনুবাদের ক্ষেত্রে বাংলা অ্যাকাডেমিকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

ছড়া ও গদ্য লেখক লুৎফর রহমান রিটন : যথাযথভাবে অনুবাদ হয়নি বলে তারা কিন্তু বৃহত্তর পাঠকের কাছে যেতেই পারলেন না।
ছবির ক্যাপশান, ছড়া ও গদ্য লেখক লুৎফর রহমান রিটন : যথাযথভাবে অনুবাদ হয়নি বলে তারা কিন্তু বৃহত্তর পাঠকের কাছে যেতেই পারলেন না।

বাংলা অ্যাকাডেমির অনুবাদ বিভাগের পরিচালক ড: মিজানুর রহমান বলেন সংস্থাটি আগে ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদের বিষয়টি বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।

সম্প্রতি তারা বাংলা সাহিত্যের ইংরেজি অনুবাদের প্রতি জোর দিচ্ছে। তিনি জানান সম্প্রতি বাংলা অ্যাকাডেমির উদ্যোগে শহিদুল্লাহ কায়সারের ‘সংশপ্তক’ ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত হবার জন্য শুধু বাংলা একাডেমি থেকে অনুবাদ গ্রন্থ বের হওয়াটা যথেষ্ট নয়।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নামকরা প্রকাশনা সংস্থাগুলো যদি বাংলা সাহিত্যের অনুবাদ প্রকাশ করে তাহলে সেটি বহু পাঠকের কাছে পৌঁছবে।

ছড়াকার ও গদ্য লেখক লুৎফর রহমান রিটন মনে করেন সমসাময়িক বাংলা সাহিত্যে অনেক লেখক আছেন যারা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসা অর্জন করতে পারে।

কিন্তু তাদের লেখা অনুবাদ না হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিকভাবে তাদের যথেষ্ট পরিচিতি গড়ে উঠেনি।

এ প্রসঙ্গে তিনি যাদের নাম উল্লেখ করেন তারা হচ্ছেন - আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, হাসান আজিজুল হক, সৈয়দ শামসুল হক এবং সেলিনা হোসেন।

মি: রিটন বলেন, “ যথাযথভাবে অনুবাদ হয়নি বলে তারা কিন্তু বৃহত্তর পাঠকের কাছে যেতেই পারলেন না।”

তিনি মনে করেন, ভালো অনুবাদ হলে বাংলাদেশের অনেক লেখকের বই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয় হবে।