ভারতীয় কাকের জ্বালায় অস্থির কেনিয়া

ছবির উৎস, BBC World Service
কেনিয়ার উপকূলীয় শহর মোম্বাসার বাসিন্দারা কাকের উপদ্রবে একেবারে নাজেহাল। আর এই কাক এসেছে ভারত উপমহাদেশ থেকে।
এরা ছোঁ মেরে নিয়ে যাচ্ছে খাবার, যেখানে সেখানে ছুঁড়ে ফেলছে এঁটো-কাঁটা।
এমনকি তাদের জ্বালায় অন্যান্য পাখি শহরে টিকতে পারছে না বলে জানাচ্ছেন মোম্বাসায় বিবিসি সংবাদদাতা।
তিনি বলছেন, মোম্বাসার আকাশে এখন শুধুই কাক আর কাক।
গবেষকরা বলছেন, ইন্ডিয়ান হাউস ক্রো নামের এই জাতের কাক পূর্ব আফ্রিকার আদি বাসিন্দা নয়। এদের আদি নিবাস ভারত উপমহাদেশে।
বর্জ্য সমস্যার বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ১৮৯০ সালের দিকে এই কাক পূর্ব আফ্রিকার বিভিন্ন শহরে ছেড়ে দেয়া হয়।
খাবারের প্রাপ্যতা আর যত্রতত্র আবর্জনা ফেলে রাখার সুবাদে এই কাকের জনসংখ্যায় বিস্ফোরণ ঘটে।
মুখরোচক খাবারেই শুধু ভরে মন
তবে ইদানিং ফেলে দেয়া খাবারের চেয়ে এইসব কাকের নজর এখন স্বাদু আর দামী খাবারের দিকে।
সমস্যা এতটাই বড় আকার ধারণ করেছে যে মোম্বাসার কোন কোন রেস্টুরেন্টে পেশাদার কাক-তাড়ুয়া নিয়োগ করতে হয়েছে।

ছবির উৎস, BBC World Service
''আমাদের রেস্টুরেন্টটি খোলামেলা জায়গায়,'' বলছেন মোম্বাসার এক রেস্টুরেন্ট মালিক ডনাল্ড শিপেঞ্জি, ''এই কাকেরা আমাদের খাবার ছিনিয়ে নেয় আর চেয়ারটেবিলের ওপর মলত্যাগ করে। আমাদের জন্য এরা একটা বড় সমস্যা।''
আকাশের আধিপত্য কাকের
অন্য পক্ষীকূলের প্রতি মোম্বাসার কাকদের আচরণ পরিবেশবাদীদের ভাবিয়ে তুলেছে।
তারা বলছেন, আগ্রাসী কাকের ঝাঁক স্থানীয় পাখিগুলোকে এলাকা-ছাড়া করছে আর ছোঁ মেরে মুরগির খামার থেকে মুরগির ছানা তুলে নিয়ে যাচ্ছে।
কাকের হামলা থেকে রক্ষার জন্য কোন কোন মুরগির ফার্ম তাদের মুরগিগুলিকে লাল, নীল হলুদ রঙে রাঙিয়ে দিচ্ছে।
চালাক কাকের জীবন সংগ্রাম
কেনিয়ার আরেকটি শহর মালিন্ডিতে কাকের উপদ্রব ঠেকানোর জন্য ১৯৯৯ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত স্টারলিসাইড নামে এক ধরনের পাখির বিষ ব্যবহার করা হতো।
এতে বেশ কাজ হয়েছিল এবং মালিন্ডিতে কাকের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে গিয়েছিল।

ছবির উৎস, BBC World Service
কিন্তু কেনিয়ার সরকার পরে এই বিষের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পর সেখানে কাকের সংখ্যা আবার বেড়ে যায়।
ফাঁদ ব্যবহার করে কাক ধরারও চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু কাকের বুদ্ধি সাথে টেক্কা দেয়া যায়নি।
কাকেরা শুধু সেই ফাঁদগুলো দেখলে চিনতেই পারতো না, যারা এগুলো বিক্রি করতে তাদেরও তারা চিনতে পারতো।








