বর্ধমান বিস্ফোরণের পেছনে মাদ্রাসার জঙ্গী

বর্ধমানের বোমা বিস্ফোরণ তদন্ত করছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি

ছবির উৎস, NIA India

ছবির ক্যাপশান, বর্ধমানের বোমা বিস্ফোরণ তদন্ত করছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি
    • Author, অমিতাভ ভট্টশালী
    • Role, বিবিসি বাংলা, কলকাতা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের একটি বিস্ফোরণের তদন্তে নেমে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে একটি মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে ওই জঙ্গীগোষ্ঠী কাজ করছিল।

পশ্চিমবঙ্গ আর আসামে এখনও যাঁরা ধরা পড়েছেন ওই ঘটনায়, তাঁদের অনেকেই বর্ধমানের মঙ্গলকোটের ওই মাদ্রাসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।

বর্ধমানের খাগড়াগড়ের একটি বাড়িতে বিস্ফোরণ আর তারপরে সেখান থেকে বিপুল সংখ্যায় তৈরী হওয়া বোমা ও বোমা তৈরীর সরঞ্জাম পাওয়ার পরে ভারতের জঙ্গী অপরাধ তদন্ত সংস্থা – ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এন আই এ তদন্তে নেমে এই মাদ্রাসাতে তল্লাশী চালাচ্ছে।

মঙ্গলকোট এলাকার ওই মাদ্রাসাটি থেকে যেসব জিনিষ উদ্ধার করা হয়েছে, তারমধ্যে বাংলা আর আরবীতে লেখা অনেক বই যেমন আছে, তেমনই ছররা গুলি, বক্সিং গ্লাভস, রোলার স্কেট – এসবও পাওয়া গেছে। পশ্চিমবঙ্গ আর আসাম মিলিয়ে ওই বিস্ফোরণে অন্তত ১২জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এবং দুই রাজ্যের পুলিশই জানিয়েছে যে ধৃতদের অনেকেই এই মাদ্রাসাটির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

বিস্ফোরণস্থল থেকে যে দুই মহিলা ধরা পড়েন, তাঁরাও যেমন প্রথমে এই মাদ্রাসার ছাত্রী ও পরে শিক্ষিকা ছিলেন, আবার আসাম থেকে যারা ধরা পড়েছেন, তাদের কয়েকজনও এই মাদ্রাসায় পড়তেন।

একটি মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে জঙ্গী তৎপরতার খবর সামনে আসায় পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসা সমন্বয় সমিতির প্রধান মৌলানা সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী বলছিলেন, “ওই মাদ্রাসার আড়াল নিয়ে, ধর্মের আড়াল নিয়ে এই তৎপরতা চলেছে। এটা হঠাৎ গজিয়ে উঠেছিল – ইসলামী নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করেই। ধর্মের কথা বলে এধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ কখনই ইসলাম সমর্থন করে না – এটা হারাম।।“

ওদিকে আসামের পুলিশ বলছে যে সেখান থেকে ধরা পড়া ব্যক্তিরা বাঙালী মুসলমান অধ্যুষিত বোড়োল্যান্ড এলাকার বাসিন্দা। বারে বারে বোড়ো জঙ্গীদের আক্রমনের শিকার হওয়ার ফলেই বদলা নিতে জঙ্গীগোষ্ঠীগুলির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন বলে জেরায় জানিয়েছেন তাঁদের কয়েকজন।

তবে বোড়োল্যান্ড এলাকার মুসলিম ছাত্র সংগঠন এ বি এম এস ইউ-র প্রেসিডেন্ট রকিবুল ইসলমাম বিবিসি বাংলাকে জানান, “কয়েক মাস আগে একসঙ্গে ৪৮ জন বাঙালী মুসলমানের ওপরে আক্রমন চালিয়ে হত্যা করেছে বোড়ো জঙ্গীরা। তা-ও কিন্তু আমরা কোনও বদলা নেওয়ার কথা বলি নি। কোনও জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কোনও কথা বলি নি।“

আসামে অনেক জঙ্গীগোষ্ঠী ঘাঁটি গাড়ছে বলে পুলিশ মাঝে মাঝেই জানায়, কিন্তু আসামে সেইসব জঙ্গীদের নেতা কে বা কারাই বা তার সদস্য – এটা কখনওই বলা হয় না, মন্তব্য রকিবুল ইসলামের।

“মুসলমান জঙ্গী যদি থাকে, তাদের খুঁজে বার করা হোক, আমরাও সাহায্য করব, কিন্ত জঙ্গীদের খুঁজে বার করতে গিয়ে যেন নিরীহ মুসলমানদের হেনস্থা না করা হয়, সেটা যেন প্রশাসন নিশ্চিত করে,” দাবী মি. ইসলামের।